শনিবার, ১১ জুন, ২০১১

মেয়েদের মাসিক কালীন ব্যথায়...


মাসিকের সময় তলপেটের ব্যথায় নীল হয়নি এমন মেয়েদের সংখ্যা খুব কম। সাধারণত মাসিক শুরু হওয়ার পর থেকেই কোনো কারণ ছাড়াই মাসিককালীন ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়াও কিছু রোগের কারণে মাসিক হতে পারে ব্যথাযুক্ত। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ডিসমেনোরিয়া। ডিম্বাণু নিষিক্ত না হলে অনিষিক্ত ডিম্বাণু ও জরায়ুর ভেতরের স্তর মাসিকের সময় জরায়ুর সংকোচনের মাধ্যমে দেহের বাইরে চলে আসে। এ সংকোচনের ফলে জরায়ুর রক্তনালিগুলোও সংকুচিত হয়। জরায়ুর কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। এ সময় জরায়ু থেকে কিছু কিছু কেমিক্যাল নিঃসৃত হয়। এগুলো ব্যথার জন্য দায়ী। আবার সংকোচন বাড়ানোর জন্য দেহ প্রোস্টাগ্গ্নান্ডিন নিঃসরণ করে। এটিও ব্যথা বাড়ায়। এটি কিন্তু স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাই মাসিকের সময় ব্যথা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যথা চরম আকার ধারণ করে।

 ডিসমেনোরিয়া বা মাসিককালীন ব্যথা দু'প্রকার। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়াতে জরায়ুতে কোনো রোগ থাকে না। মাসিক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা শুরু হয়। ২-৩ দিন ব্যথা থাকে। বেশিরভাগ মেয়েই এ ধরনের ব্যথায় ভোগেন। জীবনের প্রথম মাসিকের সময় থেকেই এ ব্যথা শুরু হয়। সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া সাধারণত সন্তান জন্মদানের পর মেয়েদের প্রজননতন্ত্রে ইনফেকশনের কারণে দেখা যায়। এ ছাড়াও ফাইব্রয়েড, অ্যান্ডোমেট্রিওসিস, অ্যাডেনোমায়োসিসও হতে পারে সেকেন্ডারি মাসিককালীন ব্যথা। এ ক্ষেত্রে মাসিকের আগে ও পুরো মাসিকের সময়জুড়ে ব্যথা থাকে। মাসিকের পর ধীরে ধীরে ব্যথা কমতে থাকে। সাধারণত প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়ায় আক্রান্তদের তেমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে না। সেকেন্ডারিতে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় করার জন্য হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াব সিএস, সারভাইক্যাল সোয়াব, ইউরিন কালচার, আলট্রাসনোগ্রামের প্রয়োজন পড়ে।
 

চিকিৎসা :  প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সন্তান ধারণ করলে এ ব্যথা আপনাআপনি ভালো হয়ে যায়। ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত, তারা প্রতি সাইকেলে ব্যথা হলে ব্যথানাশক এনএসআইডি যেমন আইবুপ্রোফেন সেবন করলে ভালো ফল পাবেন। এ ছাড়াও ৩-৪ সাইকেল ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল সেবন করে এ সমস্যা মুক্ত হওয়া সম্ভব। ওজন বেশি থাকলে তা কমাতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে। ধূমপান বা মদপানের অভ্যাস থাকলে পরিত্যাগ করতে হবে। সেকেন্ডারি ক্ষেত্রে কোন কারণে মাসিকের সময় ব্যথা হচ্ছে, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে। 

৫টি মন্তব্য:

  1. মাসিকে কি শরীর দুর্বল হতে পারে।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. হ্যা, স্বাভাবিকের চেয়ে শরীর দুর্বল হতে পারে।

      মুছুন
  2. masicar somye blooding khub elpo porimane hole kono semoshy aache ki?

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. সবসময় হলে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু হঠাৎ করে কম এবং বেশ কিছু দিন চললে, তখন একজন গাইনীর চিকিৎসকের সাথে আলাপ করবেন।
      তবে, আপনি কিন্তু আপনার বয়স বলেননি। ৪০ এর পর অনিয়মিত হতে পারে।এজন্য ঘাবড়াবার কিছু নাই।

      মুছুন