কোমর ব্যথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কোমর ব্যথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৪

কোমর ব্যথা তাড়ানোর সহজ উপায়

কোমর ব্যথা তাড়ানোর সহজ উপায়

কোমরে ব্যথা অল্প বিস্তর সব মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। এটি তাড়ানোর জন্য ব্যয়াম যেমন জরুরী তেমনই বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বনও প্রয়োজন। তাই কোমর ব্যথা তাড়ানোর ১০টি উপায় রইল আপনাদের জন্য। 


১. মাটি থেকে যদি কিছু তুলতে হয় তবে নীচু হয়ে তোলার চাইতে হাঁটু গেড়ে বসুন তারপর তুলুন, তাতে কোমড়ের উপর চাপ কম পড়বে ফলে ব্যথা অনুভব হবে না।

২. ঘাড়ে ভারী কিছু তুলবেন না, এতে কোমরে ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। যদি পিঠে ভারী কিছু

সোমবার, ৭ মে, ২০১২

কোমর ব্যথায় অপারেশনবিহীন চিকিত্সা


কোমর ব্যথার একটি বড় কারণ ডিস্ক প্রলাস্প আর এতে অপারেশনের বিকল্প হচ্ছে ম্যানুয়াল ও ম্যানুপুলেশন থেরাপি। ডিস্ক হচ্ছে মেরুদণ্ডের দুটি কশেরুকার মধ্যবর্তী একটি বিশেষ পদার্থ, যা একটি মেরুদণ্ডের হাড়কে অপর একটি হাড় থেকে বিভক্ত রাখে, যাতে একটির সঙ্গে আরেকটির ঘর্ষণ না লাগে এবং স্প্রিংয়ের মতো কাজ করে।

শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০১১

কোমর ব্যথায় করণীয়

লো ব্যাক পেইন বা কোমর ব্যথায় ভোগেননি এমন লোকের সংখ্যা কম। সাধারণত মহিলারা কোমর ব্যথায় বেশী ভোগেন। মেনোপোজের পর অধিকাংশ মহিলা কোমর ব্যথায় বেশী ভুগে থাকেন। কিছু নিয়ম মেনে চললে সাধারণতঃ বেশ সুস্থ থাকা যায়। যেমন-
শরীর সামনে বাঁকাবেন না : শরীরকে সামনের দিকে বাঁকানো যাবে না। কোন কিছু নিচ থেকে তোলার সময় শরীর না বাঁকিয়ে হাঁটু ভেঙ্গে বসে পড়ুন। এক হাতে কোন ভারী জিনিস বহন করবেন না। এতে করে যে হাতে বহন করবেন, সে পাশের স্পাইনের মাংসপেশিতে টান লাগবে।

কোমর সোজা রেখে বসুন : চেয়ারে বসার সময় কোমর সোজা রেখে বসুন। এজন্য দু’একটি ছোট কুশন কোমরের নিচের অংশে রেখে বসতে পারেন। এতে কোমর সোজা হয়ে থাকবে। দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকবেন না। হেঁটে আসুন কিছু সময়ের জন্য বা দাঁড়িয়েও থাকতে পারেন।

দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকবেন না : যদি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহ’লে এক জায়গায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে না থেকে একটু হাঁটাচলা করতে পারেন। এক পা একটি ছোট টুল বা উঁচু কোন কিছুর উপর রেখে অন্য পায়ে দাঁড়াতে পারেন। এতে আরাম বোধ করবেন।

দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করবেন না : দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেন বা গাড়িতে বসে থাকলে ঝাঁকুনিতে কোমর ব্যথা আরও বেড়ে যায়। এজন্য দীর্ঘ যাত্রাপথে দু’এক ঘণ্টা পর থেমে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে আবার যাত্রা করুন।

শক্ত বিছানায় ঘুমান : শক্ত বিছানায় ঘুমানোর অভ্যাস করুন। এতে পুরো শরীর যেমন সাপোর্ট পায়, তেমনি নিচের দিকের স্পাইনগুলোতে চাপ কমে যায়। শক্ত বিছানা বলতে কিন্তু খালি কাঠ নয়, আমরা যে তোষক ব্যবহার করি সেটি হ’লেই হবে। কাত হয়ে অথবা চিৎ হয়ে শোবেন কিন্তু উপুড় হয়ে শোবেন না।

অতিরিক্ত ওযন হ্রাস করা : অতিরিক্ত ওযন বহনের কারণে কোমরে চাপ পড়ে কোমর ব্যথা বেড়ে যায়। এজন্য শরীরের অতিরিক্ত ওযন কমিয়ে ফেলা অতি যরূরী।

নিয়মিত ব্যায়াম : কোমর ব্যথার জন্য সবচেয়ে ভাল প্রতিশেধক হ’ল ব্যায়াম। সামনের দিকে ঝুঁকে কোন ব্যায়াম করবেন না। এতে ব্যথা আরও বেড়ে যাবে। প্রথমে সহজ ব্যায়াম দিয়ে শুরু করুন। প্রতিদিন অল্প অল্প করে ব্যায়াম করুন। এ ক্ষেত্রে নিচের ব্যায়ামগুলো করা যেতে পারে। 
ক.
১। উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত দু’টি পাশে রেখে দিন। ২-৩ মিনিট রিলাক্স করুন। 
২। কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে শরীরের উপরের অংশ (যতটুকু পারেন) আস্তে আস্তে উপরে তুলুন। ২-৩ মিনিট এভাবেই থাকুন। 
৩। উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাতের তালুর উপর ভর দিয়ে শরীরের উপরের অংশ আস্তে আস্তে উপরে তুলুন। এভাবে ২-৩ মিনিট থাকুন। আবার আস্তে আস্তে সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন। 

খ.
উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাতগুলো শরীরের পাশে রেখে দিন। হাতের উপর ভর না দিয়ে ডান পা সোজা রেখে শ্বাস নিতে নিতে আস্তে আস্তে উপরের দিকে তুলুন। যতটুকু পারেন উপরে তুলে ধরে রাখুন। নিঃশ্বাস বন্ধ করে মনে মনে ১০ পর্যন্ত গুনুন। শ্বাস নিতে নিতে আস্তে আস্তে নিচে নামান। একইভাবে বাঁ পা উপরে তুলে ধরে রাখুন। এবার দুই পা একসঙ্গে সোজা করে উপরে তুলে ১০ পর্যন্ত গুনুন। আস্তে আস্তে নামান। এবার হাতের উপর ভর না দিয়ে দুই পা ও কোমরের উপরের অংশ একসঙ্গে ধীরে ধীরে উপরের দিকে তুলুন। ১০ সেকেন্ড ধরে রেখে ধীরে ধীরে নিচে নামান। এভাবে পাঁচবার করে দিনে তিনবার করুন।

দুশ্চিন্তা দূর করুন : গবেষণায় দেখা গেছে, দুশ্চিন্তার কারণে কোমর ব্যথা বেড়ে যায়। তাই কমিয়ে ফেলুন মানসিক চাপ।

শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১০

সাবধান,ভারী জিনিস তুলছেন ?



একবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসছি। ট্রেনে বসে আছি। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেন ছাড়বে। এক ভদ্রলোক হাঁপাতে হাঁপাতে ট্রেনে উঠলেন। তাঁর ভারী ব্যাগটা হ্যাঁচকা টান দিয়ে তুললেন ট্রেনের তাকে রাখবেন বলে। হঠাৎ চিৎকার করে কোমরে দুই হাত চেপে বসে পড়লেন সিটে। প্রচণ্ড ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন। স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়েই তাঁর কাছে গেলাম। জানতে চাইলাম, কোথায় ব্যথা হচ্ছে? তিনি বললেন, কোমরের নিচের দিকে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে, যা পা পর্যন্ত ছড়াচ্ছে আর ঝিনঝিন করছে। বুঝলাম, এটা স্লিপ ডিস্ক না হয়ে যায় না। ইতিমধ্যে ট্রেনও ছেড়ে দিয়েছে। অ্যাটেনডেন্ট ও গার্ডকে ডেকে বললাম, ট্রেন থামিয়ে দুটো ইনজেকশন আনার ব্যবস্থা করতে। তাঁরা পাহাড়তলী স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে ইনজেকশন দুটো আনিয়ে নিলে ভদ্রলোককে তা পুশ করে দিলাম।
আরও কিছু ওষুধ প্রেসক্রাইব করে ঢাকায় গিয়ে কোমরের একটা এক্স-রে করার পরামর্শ দিয়ে ঢাকা মেডিকেলের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগে দেখা করতে বললাম। বাসায় গিয়ে সপ্তাহ খানেক পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলে দিলাম। স্লিপ ডিস্ক হচ্ছে এমন একটা দুর্ঘটনা, যা হঠাৎ ভারী বস্তু অসাবধানে ওঠাতে গিয়ে যে কেউ যেকোনো সময় আক্রান্ত হতে পারেন। আজকে স্লিপ ডিস্ক নিয়ে একটু দরকারি আলোচনা করব।
স্লিপ ডিস্ক কীভাবে বুঝবেন
 ভারী জিনিস তোলার ইতিহাস থাকবে। এমনকি জোরে হাঁচি-কাশি দিলেও ডিস্ক প্রান নাশের আশঙ্কা থাকবে।
 কোমরে অসহ্য ব্যথা হবে, যা ঝিনঝিন করবে। হাঁটতে, দাঁড়িয়ে কাজ করতে মারাত্মক কষ্ট হবে।
 ব্যথা এতই প্রবল হতে পারে যে রোগী বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে যেতে পারেন। এমনকি শুয়ে পাশ ফিরতেও কষ্ট হবে।
 ব্যথার কারণে রাতে ঘুমাতে পারবেন না।

কেন হয়?
মেরুদণ্ডের কশেরুকার অন্তর্বর্তী অংশে চাকতির মতো অংশ থাকে বলে ইন্টার ভার্টিব্রাল ডিস্ক। এই ডিস্কের আবার দুটি অংশ থাকে। বাইরে ইলাস্টিকের মতো অংশকে বলা হয় অ্যানুলাস ফাইব্রোসাস। ভেতরের জেলির মতো অংশকে বলে নিউক্লিয়াস পালপোসাস। যদি মেরুদণ্ডে খুব বেশি চাপ পড়ে, তবে ভেতরের জেলির মতো অংশটি বাইরের আবরণী ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে। ফলে মেরুদণ্ডের স্নায়ুরজ্জুতে চাপ পড়ে। তাই প্রচণ্ড ব্যথা হয়। কোমরে এমআরআই করা হলে খুব স্পষ্টভাবে ছবিটা দেখা যায়।

চিকিৎসা
 পূর্ণ বিশ্রাম। চলাফেরা করলেই ব্যথা বাড়বে। তাই কমপক্ষে সপ্তাহ খানেক বিশ্রামে থাকতে হবে।
 ব্যথার ওষুধ বা পেইন কিলার।
 কোমরের বিশেষ কিছু ব্যায়াম করলে কোনো উপকার পাওয়া যায়।
 কোমরে বেল্ট বা স্পাইনাল ব্রেস দিতে হবে, যা খুব বেশি আঁটসাঁট করে বাঁধা যাবে না। মাঝেমধ্যে খুলে রাখবেন।
 হিট থেরাপি খুব কাজ দেয়। যেমন, হট ওয়াটার ব্যাগে গরম পানির সেক, আন্ট্রমনিক থেরাপি, ইন্টারফেরেনশিয়ান থেরাপি, শর্ট ওয়েব ও মিডিয়াম ওয়েব ডায়াথার্মি ইত্যাদি নিলে আরাম লাগবে।
 খুব বেশি তিংক প্রলাজম হলে অস্ত্রোপচার করা যেতে পারে।
ল্যামিনেকটমি বা ডিসকোটমি করলে এ ধরনের অস্ত্রোপচারে রোগী ভালো হয়ে উঠতে পারে।

যা করা বারণ
 ঝুঁকে কোনো কাজ করা যাবে না।
 মেঝেতে বসবেন না।
 সিঁড়ি বেয়ে ওঠা যাবে না।
 পায়খানা নরম রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রচুর পানি ও সবজি খাবেন। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে ইসবগুলের ভুসির শরবত কিংবা ল্যাকটুলোজ জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন।
 শক্ত চেয়ারে মেরুদণ্ড সোজা করে বসবেন।
 ভারী জিনিস তোলা নিষেধ।
 দৌড়ঝাঁপ করতে হয় এমন খেলা নিষেধ।
 বেশি ব্যথা নিয়ে ব্যায়াম করতে যাবেন না।