নাক-কান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নাক-কান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

কানের সমস্যায় করণীয়


নাক কান ও  গলা  শরীরের এই  তিনটি অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি হতে পারে। সাধারণ হাঁচি-সর্দি থেকে শুরু করে গলার ক্যান্সার সবই রয়েছে এই তালিকায়। স্বল্পপরিসরে সেইসব রোগের কয়েকটি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হল।
কানপাকা রোগ: কানের রোগগুলোর অন্যতম। কান পাকা রোগ দুই ধরনের। একটি হচ্ছে নিরাপদ ধরনের, অন্যটি মারাত্মক ধরনের। নিরাপদ ধরনের কানপাকা রোগে কান থেকে কানের পর্দা ছিদ্র থাকে। কান দিয়ে পুঁজ পড়ে। কানেব্যথা হয়, কান চুলকায়, কানে কম শোনা যায়। প্রাথমিক অবস্থায় কিছু ওষুধ ব্যবহার করে ও উপদেশ মেনে চলে রোগ নিরাময় করা যায়। তবে  এতে কানের পর্দা জোড়া লাগেনা। তবে অপারেশন করে কানের পর্দা জোড়া লাগানো যায়। মারাত্মক ধরনের কানপাকা রোগে কান দিয়ে সবসময় একটু করে কষের মত ঝরে। কানের এই কষ পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা এই দুর্গন্ধ থেকেই রোগটির ধরণ বুঝতে পারেন। মারাত্মক ধরনের কানপাকা রোগে অপারেশনই হচ্ছে প্রকৃত চিকিত্সা। উভয় ধরনের কানপাকা রোগ জটিল হয়ে কানের পুঁজ মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। এ ধরনের জটিলতায় কানে অপারেশন লাগে। অনেক ক্ষেত্রে রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য এই অপারেশন করতে হয়। কান পাকা রোগ নিয়ে কখনোই হেলা ফেলা করা উচিত নয়।
মধ্যকর্ণে প্রদাহ: এই সমস্যা শিশুদের বেশি হয়ে থাকে। তবে বড়দেরও হয়ে থাকে। সাধারণত উর্ধ্বশ্বাসনালীর প্রদাহ, টনসিলের ইনফেকশন, এডিনয়েড নামক গুচ্ছ লসিকা গ্রন্থির বৃদ্ধি ইত্যাদি থেকে এই ইনফেকশন হয়ে থাকে। এই রোগে কানে বেশ ব্যথা হয়, কান বন্ধ মনে হয়। সঠিক সময়ে এই রোগের চিকিত্সা না করলে কানের পর্দা ফুটো হয়ে রোগটি কান পাকা রোগে রূপ নিতে পারে। এন্টিবায়োটিক ও নাকের ড্রপসহ অন্যান্য ওষুধ হচ্ছে এই রোগের চিকিত্সা।
মধ্যকর্ণে পানির মত তরল জমা: এই রোগের কারণও  উপসর্গ অনেকটা মধ্যকর্ণে প্রদাহের মতই। তবে উপসর্গসমূহের তীব্রতা অনেক কম থাকে। সাধারণ ওষুধেই এ রোগ সারে। অনেক সময় ছোট্ট অপারেশন করে মধ্যকর্ণে জমে থাকা পানি বের করে দিতে হয়।
কানে ফাঙ্গাস ও কানে ক্ষত: কানের মধ্যে অনেক সময় ফাঙ্গাস এবং ক্ষত হয়। সাধারণত কান খোঁচানোর জন্য কানের মধ্যে ফাঙ্গাস হয়ে থাকে। কান পরিষ্কার করা কিংবা কান খোঁচানো অনেক সময় একই বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এসব কাজে ব্যবহার করা হয় কটনবাড থেকে মুরগির পালক, কলমের মুখ, চুলের ক্লিপ ইত্যাদি। এসব কিছুই কানের এই রোগটির জন্য দায়ী। কানে ফাঙ্গাস হলে কান মূলত চুলকায়। সাথে ইনফেকশন বেড়ে প্রদাহ হলে ব্যথা হয়, কষ ঝরে ও কান বন্ধ হয়ে থাকে। অনেক সময় কানের ভিতরে ক্ষত হয়ে ফাঙ্গাসের সাথে কানের বাইরের পথটিতে ক্ষত সৃষ্টি হলে ব্যথা মারাত্মক আকার ধারন করে। তবে চিকিত্সায় পুরো সেরে যায়। তবে ওষুধের চিকিত্সা শুরুর আগে ইএনটি বিশেষজ্ঞ দিয়ে কান পরিষ্কার করিয়ে নিতে হবে।
কানে ওয়াক্স বা খোল: কানে ওয়াক্স বা খোল অতি পরিচিত সমস্যা। এই খোল অনেকেই পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। নিজে এটি পরিষ্কার করা ঠিক নয়। নিজে পরিষ্কার করতে গেলে জমে থাকা খোলের বেশিরভাগই ভিতরে চলে যায়। ফলে বিপত্তি আরো বাড়ে। কানে খোল আটকে গেলে কানে ব্যথা হয়, কানে কম শোনা যায় কান বন্ধ থাকার কারণে। ইএনটি স্পেশালিস্ট কান দেখে এটি পরিষ্কার করে দিতে পারেন। তাবে পরিষ্কার করা সম্ভব না হলে খোল গলানোর ওষুধ রয়েছে। তাতেও কাজ না হলে কিংবা অবস্থা বেশি খারাপ হলে অজ্ঞান করে কান পরিষ্কার করে দিতে হয়। যাদের কানে খোল হওয়ার প্রবনতা রয়েছে তারা নিয়মিত কানে ৪/৫ ফোঁটা করে অলিভ অয়েল দিতে পারেন।

শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

শীতে নাক কান ও গলায় সমস্যা

শীতকালে যাতে ঠাণ্ডা না লাগে সে জন্য গরম কাপড় পরতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যত্ন নিতে হবে। শীতকালে গলায় ব্যথা হলে টনসিলের তীব্র প্রদাহ হতে পারে। তীব্র প্রদাহের জন্য গলাব্যথা, জ্বর এবং ঢোক গিলতে অসুবিধা হয়। যদি ভাইরাসজনিত হয় তাহলে লবণ-পানি দিয়ে গড়গড়া করলে এবং প্যারাসিটামল খেলে ভালো হয়ে যায়। ব্যাকটেরিয়াজনিত টনসিল প্রদাহ হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণমতো সঠিক সময় ও সঠিক মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। অনেক সময় ঠাণ্ডা লেগে কণ্ঠনালিতে ইনফেকশন হতে পারে বা গলার স্বর পরিবর্তন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যান্টিহিস্টামিন এবং মেন্থলের ভাব নেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগলে শিশুদের শ্বাসনালিতে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে এমনকি নিউমোনিয়া হতে পারে। তাই শিশুদের অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নেওয়া উচিত। শিশুদের নাকের পেছনে এক ধরনের টনসিল থাকে, যাকে এডিনয়েড বলা হয়। এডিনয়েড বড় হয়ে গেলে নাক বন্ধ হয়ে যায়। নাক বন্ধ হয়ে গেলে নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নিতে পারে না। তাই রাতে শিশুরা মুখ হা করে নিঃশ্বাস নেয়। এডিনয়েড অতিরিক্ত বড় হয়ে গেলে শিশুদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং রাতে ঘুমের সময় নাক ডাকে। এতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। এডিনয়েডজনিত কারণে শিশুদের মধ্যকর্ণে পানি জমে যেতে পারে। তখন শিশুরা কম শুনতে পায়। ফলে দেখা যায় শিশুরা পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং রেডিও-টেলিভিশনের ভলিউম বাড়িয়ে দেয়। এ ধরনের সমস্যা হলে নিকটস্থ নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কোনো রকম এলার্জেন যেমন_ ধুলাবলি, গাড়ির ধুয়া, নাকে ঢুকে যায় তাহলে নাকে অ্যালার্জিজনিত প্রদাহ হতে পারে। এতে নাকে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ ইত্যাদি উপসর্গ হতে পারে। বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে এবং যে কারণে নাকে সর্দি অ্যালার্জি হয় তা থেকে দূরে থাকলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
সাধারণত দীর্ঘদিন নাকে অ্যালার্জি থাকলে নাকে পলিপ হতে পারে। পলিপ দেখতে আঙুর ফলের মতো দেখায়। নাকের পলিপে নাক বন্ধ হয়ে যায় এবং সঙ্গে সাইনাসের ইনফেকশন হয়ে মাথাব্যথা হতে পারে। এ সমস্যার চিকিৎসা হলো অপারেশন। প্রচলিত নিয়মে অপারেশনে আবার পলিপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু আধুনিক এন্ডোস্কপিক সাইনাস সার্জারির মাধ্যমে সফলভাবে অপারেশন করা যায়। বর্তমানে আমাদের দেশে বড় বড় হাসপাতালে এন্ডোস্কপিক সাইনাস সার্জারি নিয়মিত হচ্ছে। শীতকালে নাকের দুই পাশের সাইনাসে ইনফেকশন দেখা দেয়, যাকে সাইনুসাইটিস বলা হয়। সাইনুসাইটিস এর জন্য নাকের দু'পাশে ব্যথা এবং মাথাব্যথা হতে পারে। সাইনাসের এক্স-রে করলে রোগ নির্ণয় করা যায়। তীব্র অবস্থায় ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। দীর্ঘমেয়াদি সাইনাস প্রদাহে ওয়াশ এবং শেষ পর্যায়ে এন্ডোস্কপিক সাইনাস সার্জারি লাগতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া ভালো।

শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১১

নাকে কানে কিছু ঢুকলে

তীক্ষষ্ট এবং ছোট আকারের যে কোনো বস্তু শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন
ক'দিন ধরেই ৪ বছরের কন্যাশিশু সুমনার নাক দিয়ে দুর্গন্ধ আসছে। সেই সঙ্গে এক নাক বন্ধ, বন্ধ নাক দিয়ে কিছুটা শ্লেষ্মা ঝরছে। এমনটি আগে কখনও হয়নি। এ নিয়ে মা কিছুটা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। ইতিমধ্যে সপ্তাহখানেক পেরিয়ে গেছে, কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক ও সর্দি কমানোর সাধারণ ওষুধে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। বরং দুর্গন্ধ কিছুটা কমে গিয়ে আবার বেড়েছে। সেই সঙ্গে দুর্গন্ধযুক্ত নাসারন্ধ্র দিয়ে মাঝে মধ্যে পুঁজের মতো বেরিয়ে আসছে। কখনও কখনও পুঁজের সঙ্গে সামান্য রক্তও মিশ্রিত থাকছে। এ অবস্থায় সুমনাকে নেওয়া হলো নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে। ডাক্তার নাক পর্যবেক্ষণ করে বললেন, সম্ভবত নাকের মধ্যে কোনো কিছু ঢুকিয়েছে শিশুটি। তিনি নাকের এক্স-রে করতে বললেন। এক্স-রে থেকে নাকের মধ্যে ধাতব কিংবা রঞ্জনরশ্মি অভেদ্য কোনো বস্তুর উপস্থিতি দেখা গেল না। কাজেই নাকের মধ্যে এক্স-রে করলে বোঝা যায় না এমন কোনো বস্তু নাকে ঢুকেছে বলে নিশ্চিত নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ। আর তাই সিদ্ধান্ত হলো নাকের ভেতর ঢোকানো বস্তুটাকে বের করতে হবে। এদিকে সুমনার মা-বাবা ভাবছেন নাকের মধ্যে কী ঢোকাতে পারে সুমনা? প্রত্যেক বাবা-মা এমনটি ভাবেন। কিন্তু শিশুরা সহজাতভাবেই এটা-ওটা নাক বা কানের মধ্যে ঢোকাতে পারে। নাক কান ও গলায় বাইরের কোনো বস্তু ঢুকে গেলে সেই বস্তুটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ফরেন বডি। সাধারণত যেসব জিনিস শিশুরা নাকের মধ্যে ঢোকায় যে কোনো ধরনের শস্যদানা ও বনজ : যেমন_ ছোলা, মটর, বাদাম, শিমের বিচি, তেঁতুল বিচি, পাতার অংশ, ধান। অন্যান্য জিনিস : যেমন_ পুঁতি বা ছোট্ট বল, ছোট পাথরের টুকরা, বোতাম ব্যাটারি, শার্টের বোতাম, কাগজ, মুড়ি, টিস্যু পেপার, পেন্সিলের ইরেজার, ফোমের খণ্ড ইত্যাদি নাকে ঢোকাতে পারে শিশুরা। জীবিত কীটপতঙ্গের মধ্যে : মশা-মাছি, উকুন ইত্যাদি ঢুকতে পারে।
নাকের মধ্যে যে ধরনের সমস্যা দেখা যায়
নাকের মধ্যে কোনো কিছু ঢোকানোর ঘটনা সাধারণত শিশুদের মধ্যেই দেখা যায়। এ কারণে কোনো শিশুর নাক দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত শ্লেষ্মা ঝরলে প্রথমেই তার কারণ হিসেবে নাকের মধ্যে বাইরের কোনো বস্তু দায়ী কি-না সেটা দেখা উচিত। শিশুরা খেলাচ্ছলে কিংবা অবসরে হাতের কাছে এ ধরনের বস্তু পেলেই নাসারন্ধ্র দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়। নাকের মধ্যে শরীরের অংশ নয় এমন কিছু ঢুকলে তার বাইরে শ্লেষ্মা জড়িয়ে নাকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সেখানে জীবাণু বাসা বাঁধার কারণে ইনফেকশন হয়। তখন নাক থেকে একই সঙ্গে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ বেরিয়ে আসে। অনেক সময় এসব বস্তু নাকের ভেতরের নিঃসরণের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পাথরের সৃষ্টি করে। যাকে বলা হয় রাইনালিথ বা নাকের পাথর। তবে এর বাইরে নাকে আঘাত কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে নাকের মধ্যে বাইরের বস্তু নাক ফুটো করে ভেতরে ঢুকে থাকতে পারে।
নাকে কোনো কিছু ঢুকলে যেভাবে বুঝবেন
সাধারণত অভিভাবকরাই প্রথমে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে চিকিৎসকের কাছে আসেন। অনেক সময় শিশু নিজেই বিষয়টি বাবা-মাকে বলে থাকে।
উপসর্গ
সাম্প্রতিককালে নাকের একদিকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে থাকলে। বন্ধ নাক দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত শেল্গষ্মা বেরিয়ে এলে। নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হলে। নাকের মধ্যে বাইরের কোনো বস্তু ঢুকলেই নাকে ব্যথা হতে পারে। নাকের মধ্যে বাইরের বস্তু ঢোকার জন্য নাকে হাঁচি হতে পারে।
শিশুর আশপাশে মেঝেতে নাকের ভেতর ঢোকাতে পারে সে রকম আরও কিছু বস্তুর উপস্থিতি মিলবে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা :অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ নাক পর্যবেক্ষণ করে নাকে বাইরের বস্তুর উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে থাকেন। তবে ধাতব এবং রঞ্জনরশ্মি অভেদ্য জিনিসের ক্ষেত্রে এক্স-রে করে নাকের মধ্যে বাইরের কোনো বস্তু আছে কি-না তা দেখা যায়।
চিকিৎসা
নাকে কোনো কিছু ঢুকলে প্রথম কাজ হবে সেটিকে নাক থেকে বের করে আনা। নাক থেকে বাইরের বস্তুটিকে বের করার জন্য অনেক সময় শিশুটিকে অজ্ঞান করার দরকার পড়ে। কখনও কখনও অচেতন না করেই বের করা যায়। তবে এটি বের করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ দক্ষ সার্জনের দরকার পড়বে। নাকের এসব বস্তু বের করার জন্য দেরি করা উচিত নয়। দেরি করলে ঘুমের মধ্যে কিংবা অন্য সময়ে নাক থেকে বস্তুটি ফসকে গিয়ে বাইরের বস্তুটি শ্বাসনালিতে গিয়ে অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
নাকের মতো কানের মধ্যে বাইরের বস্তু ঢুকতে পারে। কানের মধ্যে বলতে সাধারণত বহিঃকর্ণকেই বোঝানো হয়ে থাকে। এগুলোর কোনো কোনোটি শিশুরা নিজেরাই বহিঃকর্ণে ঢোকায়। যে কোনো ধরনের শস্যদানা ও বনজ : ছোলা, মটর, পাতার অংশ, ধান। অন্যান্য জিনিসের মধ্যে আছে : পুঁতি বা ছোট বল, ছোট পাথরের টুকরা, শার্টের বোতাম, কাগজ, মুড়ি ইতা্যদি। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবিত কীটপতঙ্গ যেমন_ পিঁপড়া, তেলাপোকা, মশা ইত্যাদি কানের মধ্যে ঢুকে পড়ে। আর কিছু ক্ষেত্রে অসাবধানতাবশত কানে ঢুকে যায়। কানের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে অনেক সময় ধান কানে ঢুকতে দেখা যায়।
কানের মধ্যে কোনো কিছু ঢুকলে কী হয়?
রোগী নিজেই প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেন। কানের মধ্যে বাইরের কোনো কিছু ঢুকলে বস্তুর ধরন অনুযায়ী উপসর্গ দেখা দেয়। কীটপতঙ্গ ঢুকলে খুব ব্যথা হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে কান বন্ধ হয়ে যায়, কান দিয়ে পুঁজ পড়ে, দুর্গন্ধ হয়। কানের মধ্যে অস্বস্তি তো আছেই।
যেভাবে বুঝবেন
কানের মধ্যে কোনো কিছু ঢুকলে কান পর্যবেক্ষণ করেই বুঝতে পারেন নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ। অনেক সময় অটোস্কোপির মাধ্যমে কান পর্যবেক্ষণ করলে আরও ভালোভাবে বহিঃকর্ণের ভেতরটা দেখা যায়।
কানে কিছু ঢুকলে করণীয়
কী করতে হবে সেটি নির্ভর করে কানে কী ঢুকেছে তার ওপর। কানের মধ্য থেকে কোনো কিছু বের করার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে অচেতন করে নিতে হয়। বিশেষ করে শিশুদের অচেতন করে নেওয়াই ভালো কারণ অচেতন না করে কানের মধ্যে কাজ করতে গেলে কান আঘাতপাপ্ত হতে পারে। কানের মধ্য থেকে কোনো কিছু বের করতে কখনোই কোনো হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত নয়। একইভাবে নিজেরাও বের করা চেষ্টা করা উচিত নয়। অদক্ষ হাতে, দরকারি যন্ত্রপাতি ছাড়া এ ধরনের কাজ করতে গেলে বহিঃকর্ণ এবং কানের পর্দা আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। অযাচিত অজ্ঞতাবশত খোঁচাখুঁচির জন্য বাইরের বস্তুটি কানের পর্দা ফুটো হয়ে মধ্যকর্ণে ঢুকে যেতে পারে। তখন এটি বের করে আনা আরও জটিল হয়ে যায়।