পোশাকের মাধ্যমে আমাদের পুরো শরীরই ঢেকে রাখি, কেবল মুখটাই খোলা থাকে। তাই মুখের যত্ন নেয়াটা বেশি জরুরি। কেননা পুরো শরীরের মধ্যে মুখটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাজারে ত্বকের জন্য ব্যবহৃত যেসব কেমিক্যাল প্রোডাক্ট পাওয়া যায়, সেগুলোর বেশিরভাগই ব্যবহারের পর ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। প্রাকৃতিক উপায়ে অর্থাত্ হারবাল পদ্ধতিতে ত্বকের যত্নের কোনো বিকল্প নেই। কেননা হারবাল পদ্ধতিতে যেসব প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয় সেসব ত্বককে ভালো রাখে। ত্বক রাখে উজ্জ্বল, মসৃণ ও প্রাণবন্ত। হারবাল পদ্ধতিতে রূপচর্চার প্রথম কথা হলো—শরীরের ভেতর এবং বাইর উভয়ের যত্ন নিতে হবে। অর্থাত্ আপনার খাদ্যাভ্যাসও এর মধ্যে পড়ে। শুধু ত্বকে বা মুখে কিছু ব্যবহার করলেই নয়, সেই সঙ্গে আপনার খাদ্যাভ্যাসেও কিছু নিয়ম-কানুন মানতে হবে, বললেন রূপবিশেষজ্ঞ হাসিনা মমতাজ— আজকাল বেশিরভাগ মেয়েকেই বিভিন্ন কাজে বাইরে যেতে হয়, তার ফলে ত্বকে দেখা দেয় সানবার্ন অর্থাত্ রোদের তাপে ত্বকটা পুড়ে যায়। তাই বাইরে থেকে এসে মুখটা পরিষ্কার করতে ১ টেবিল চামচ তিল, ১ চা-চামচ পুদিনা পাতা, ১ চা-চামচ মধু, ১ টেবিল চামচ চালের গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে মুখমণ্ডলে লাগাতে হবে। এ মিশ্রণটি মুখে একটানা ২ সপ্তাহ লাগালে সানবার্ন চলে যাবে। এছাড়া সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করতে হবে। মৌসুমি ফল এবং রসাল ফল খেতে হবে। স্ট্রেস কম নিতে হবে এবং ভালোমতো ঘুমাতে হবে, তাহলেই আপনার ত্বক থাকবে সানবার্নমুক্ত। সবচেয়ে জরুরি বিষয় যেটি সেটি হলো— সরাসরি রোদে যাওয়া চলবে না, সেক্ষেত্রে আপনি ছাতা ব্যবহার করতে পারেন। রোমকূপের গোড়া যেন পরিষ্কার থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা রোমকূপে ডেডসেল জমে রোমকূপের মুখটা বন্ধ করে ফেলে আর তখনই দেখা দেয় ব্রণ ও পিম্পলসসহ নানা সমস্যা। সঠিক পদ্ধতিতে আমরা যদি বিউটিফিকেশন না করি তাহলে ভালোর চেয়ে খারাপই হয় বেশি। সেক্ষেত্রে আমাদের ত্বকের ধরনটা আগে বুঝে নিতে হবে। সাধারণত চার ধরনের ত্বক হয়—ড্রাই, অয়েলি, নর্মাল ও কম্বিনেশন। ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন করাটা জরুরি। তাহলেই ত্বক থাকবে ভালো। ত্বক অনুযায়ী প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। সেটি ময়েশ্চারাইজারই হোক কিংবা ক্রিমই হোক। ত্বক ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি ধাপ মেনে চলা খুবই জরুরি। ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজিং এবং প্রোটেকশন। দিনে ২-৩ বার পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। বাইরে থেকে ফিরে মেকআপ তুলতে হবে। কুসুম গরম পানি দিয়ে ক্লিনজার মেখে ভালোমত পরিষ্কার করতে হবে। রাতেও যদি মেকআপ করতে হয় সেক্ষেত্রেও বাড়ি ফিরে একইভাবে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। এরপর আসে ময়েশ্চারাইজিং। ময়েশ্চারাইজিং করাটা ত্বকের জন্য খুবই জরুরি। ক্লিনজিং করার পর মুখটা জ্বালাপোড়া করে, টানে। তাই ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাটা জরুরি। তবে অবশ্যই ত্বকের চাহিদা অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজ করতে হবে। ত্বকের তৈলাক্ততা ও শুষ্কতার ওপর নির্ভর করে ময়েশ্চারাইজার ক্রয় করতে হবে। ত্বক সুরক্ষিত রাখা মানেই সূর্যের তাপ, বাতাসের আর্দ্রতা, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা, দূষিত বাতাস থেকে ত্বককে নিরাপদ রাখা। বর্তমানে ঘর থেকে বের হতে হলে এ সমস্যাগুলোর মধ্যে কমবেশি সবাইকে পড়তে হয়। বাইরে বের হওয়ার আগে সান প্রোটেকশন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সান প্রোটেকশন ব্যবহার না করাই ভালো। অনেক সময় এসব ব্যবহারে হিতেবিপরীত হয়ে যায়। তবে স্কিন বুঝে সান প্রোটেকশন ব্যবহার করা ভালো, তাতে ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকে। বাইরে বের হলে ছাতা এবং সানগ্লাস অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বক এবং চোখ দুটোই ভালো থাকবে। |
গরম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গরম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১১
গরমে শিশুর বাড়তি যত্ন
ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদল হয় আবহাওয়াও। চৈত্র পেরিয়ে কালবৈশাখীর মত্ত হাওয়া আমরা কজনই বা মানিয়ে নিতে পারি? জীবন ধারণের ক্ষেত্রে পরিবেশ অনেক বড় ভূমিকা রাখে। বড়রা যদিও কিছুটা মানিয়ে নিতে পারে পরিবর্তনশীল ঋতু প্রক্রিয়ার সঙ্গে তবে শিশুদের ক্ষেত্রে হয় নানা সমস্যা। কারণ তাদের শারীরিক অবস্থা এতটা শক্তিশালী নয় যে আবহাওয়া পরিবর্তনে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নেবে। তাই তো ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর দেখা দেয় বিভিন্ন সমস্যা। কিছু কমন রোগ রয়েছে, যা ঋতু পরিবর্তনেরই ফল। শিশুরা সহজেই আক্রান্ত হয় এমন কিছু রোগ ও এর প্রতিরোধ সম্পর্কে জানাচ্ছেন আফরিন জাহান।
তাপমাত্রা, বাতাসের আর্দ্রতার হঠাত্ পরিবর্তন অনেক সময়ই শিশুদের শরীর মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে আক্রান্ত হয় বিভিন্ন অসুখে। তা ছাড়া এই হঠাত্ পরিবর্তন বাতাসে ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাসদের বেড়ে উঠতে সহায়তা করে। তাই এ সময়ে শিশুর চট করে ঠাণ্ডা লাগে, কাশি হয়, গায়ে র্যাশ বের হওয়া ছাড়াও আরও কিছু রোগ দেখা দিতে পারে।
যেমন—
জ্বর : এ সময়ে শিশুদের ভাইরাসজনিত জ্বর হতে পারে। এ জ্বর থাকে ৫-৭ দিন। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় বোঝা যায় না শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া উচিত কি না। ফলে জ্বর ১০০ ডিগ্রি হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে পারেন। এ সময়ে শিশুকে গায়ে সুতার পাতলা জামাকাপড় পরাবেন। ঘরের ফ্যান চালিয়ে রাখুন। জ্বর বেশি হলে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।
কাশি : অনেক সময় কাশি হলে বোঝা যায় না এটার কারণ কী। তাই অল্প কাশি হলে দু-এক দিন হালকা গরম পানি দিয়ে শিশুকে গার্গিল করান। সঙ্গে নাক-গলা বন্ধ হয়ে গেলে স্টিম নিতে বলতে পারেন। আর এতেও যদি কাজ না হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
র্যাশ : বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস শিশুর শরীরে র্যাশ তৈরি করতে পারে। মনে রাখবেন র্যাশ মানেই হাম বা চিকেন ফক্স নয়। র্যাশে ত্বক চুলকালে প্রথমে শিশুকে অ্যান্টিঅ্যালার্জিক খাওয়াতে পারেন। কাজ না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে—
* এই গরমে শিশুর গায়ে বেশি জামাকাপড় পরাবেন না, এতে গায়ে ঘাম বসে অন্য সমস্যাও হতে পারে।
* শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়ান।
* মৌসুমি ফল যেমন—আপেল, শসা, তরমুজ, আঙুর, বাঙ্গি এ সময়ে খাওয়ানো খুবই ভালো।
* শিশু সংক্রামক রোগে ভুগলে এই সময় তার শরীরে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমে যায়। সে ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে প্রচণ্ড রোদ ও ধুলোময়লা থেকে দূরে রাখতে। দোকান ও বাজারে নিয়ে যাবেন না। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।
* আর অবশ্যই শিশুকে ৬টি রোগ প্রতিষেধক টিকা দিয়ে নিন।
সুতরাং আপনার সন্তানের সুস্থতা নির্ভর করে আপনার ওপর। তাই এ সময়ে তার প্রতি বাড়তি যত্ন নিন।
শুক্রবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১১
হেলথ টিপস : তীব্র রোদ থেকে সাবধান
এখন বৈশাখ মাস। প্রচন্ড গরম পড়ছে। তবে প্রখর সূর্যতাপ যাতে সরাসরি শিশুদের গায়ে না লাগে, সে দিকে সবার লক্ষ রাখা দরকার। প্রখর সূর্যতাপে ত্বকের বেশ ক্ষতি হয়। তারা কোথাও গেলে, তাদের হ্যাট বা এ জাতীয় ক্যাপ পরিয়ে রাখুন। সুতি কাপড়ের পোশাক পরাবেন। সম্ভব হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন। তবে সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে দুই ঘন্টা পরপর সেগুলো পরিষ্কার করে নতুন করে ব্যবহার করবেন। ক্রিম বা বেবি অয়েলে শিশুদের ত্বক উজ্জ্বল ও নরম মনে হলেও সেগুলো সূর্যের প্রখর তাপ থেকে রক্ষা করে না।
বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০১১
গরমে কীভাবে সুন্দর ও সতেজ থাকা যায়
গরমে ত্বকের যত্ন
অতিরিক্ত গরমে ত্বক আর্দ্রতা হারায় এবং শুষ্ক হয়ে পড়ে। জন্মগতভাবে ত্বক তিন ধরনের হয়ে থাকে। স্বাভাবিক ত্বক, শুষ্ক ত্বক ও তৈলাক্ত ত্বক। রোদ ও ধুলোবালি স্নিগ্ধ ও সতেজ ত্বকের বড় শত্রু। রোদের পোড়াভাব ত্বকে খুব তাড়াতাড়ি বসে যায়। লোমকূপে ময়লা জমে মুখে ব্রণ হয় এবং রোদের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ঘাম থেকে ঘামাচিসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার কখনও কখনও র্যাশ হতেও দেখা যায়। ত্বক শুষ্ক হলে ত্বকের নমনীয়তা কমে যায়, আর নমনীয়তা কমে গেলে ত্বকে সূক্ষ্ম ফাটল ধরে এবং বার্ধক্যের ছাপ ফুটে ওঠে চেহারায়।
সমাধান
রূপের স্নিগ্ধতা ধরে রাখতে ময়শ্চারাইজারের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ব্যবহারে ত্বক হয়ে ওঠে কোমল ও সজীব। ময়শ্চারাইজার ত্বককে রাখে নরম ও সুন্দর। এর ব্যবহারে শুষ্ক অবস্থা থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তাই ময়শ্চারাইজারের ব্যবহার জরুরি।
ফেসিয়াল
গরমে পুরো মুখে তেল জমবে এটাই স্বাভাবিক। আর এই তৈলাক্ত অবস্থার কারণে ত্বকে নানা রকমের সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে ফেসিয়াল প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচ্য। নিয়মিত ফেসিয়ালের ফলে ত্বক সুন্দর ও লাবণ্যময় হয়ে ওঠে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে ফেসিয়ালের বিকল্প নেই।
ফেসিয়াল কেন জরুরি?
গরমে ঘামে ধুলোবালি ময়লা মুখে জমে মুখের সৌন্দর্যহানি ঘটায়। সেই সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে ফেসিয়ালের গুরুত্ব অপরিসীম। গরমে ময়লা আর ঘামে ত্বকের কোষগুলো সরাসরি সূর্যরশ্মির প্রখরতায় নানা বর্ণ ধারণ করে। ত্বক পুড়ে যায়। কখনও কখনও ত্বকে মেস্তা, কালো দাগ, হোয়াইটহেড, ব্ল্যাকহেডসহ নানা সমস্যার উদ্ভব হয়। তাই ত্বকের এসব সমস্যার সমাধান পেতে এবং ত্বকের পুষ্টি জোগাতে ফেসিয়াল করা জরুরি। এছাড়াও ত্বকের প্রশান্তির জন্য ফেসিয়াল গুরুত্বপূর্ণ। ফেসিয়াল দ্বারা মুখে জমে থাকা ময়লা লোমকূপের গভীর থেকে পরিষ্কার করা সম্ভব। ত্বকের মরা চামড়া সরে গিয়ে কোষগুলোকে উজ্জীবিত করে তোলে। ত্বকের ধরন বুঝে ফেসিয়াল করতে হবে। ফেসিয়ালের পাশাপাশি মাস্ক ও ফেসপ্যাকের ব্যবহার জরুরি। যদিও এর ব্যবহার স্বল্পস্থায়ী, তবুও ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে দীর্যস্থায়ী ভালো ফল পাওয়া যায়। যাদের ত্বকে বেশি সমস্যা মনে হয় তারা ১৫ দিনে একবার ফেসিয়াল করাতে পারেন। তবে অবশ্যই বিউটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে, নতুবা মাসে একবার করলেই হবে। ফেসিয়ালের সময় অভিজ্ঞ কারও দ্বারা ফেসিয়াল করাবেন। এতে ত্বকের কোষগুলো সজীব হয়ে মুখের আর্দ্রতা ফিরে আসবে। অনেকে না জেনে না বুঝে ফেসিয়াল করান। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাই থাকে বেশি। তাই অভিজ্ঞ বিউটিশিয়ান দ্বারা ফেসিয়াল করানো উচিত।
ফেসিয়াল টিপস
সাধারণ পোশাক বদলে ফেসিয়ালের পোশাক পরে ফেসিয়াল করুন। এতে আপনার ম্যাসাজে সুবিধা হবে।
চুল খোলা না রেখে ফেসিয়াল বেল্ট দিয়ে ভালোভাবে আটকে রাখুন। এতে ফেসিয়াল করার সময় চুল মুখে ও কপালের ওপর এসে পড়বে না।
ফেসিয়াল করার আগে হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন, এরপর গলা, ঘাড় ও মুখে ম্যাসাজ ক্রিম লাগিয়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে নিন ৮/১০ মিনিট সময় নিয়ে। ক্লিনজিং করে মুখ পরিষ্কার করে তুলা দিয়ে মুখের ময়লা তুলে নিন। নিয়মিত ফেসিয়াল করার ফলে ত্বকের বিভিন্ন রস নিঃসরণকারী গ্রন্থি শান্ত ও ঠাণ্ডা হয় ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। তাই নিয়ম করে ফেসিয়াল করুন।
বাড়িতে বসে স্টিম ফেসিয়াল করতে পারেন। একটি পাত্রে ফুটন্ত গরম পানি নিন। এরপর এর ভাপ মুখে নিন। ভাপ নেয়ার সময় চোখ দুটো বন্ধ রাখুন। এভাবে ১০ মিনিট করুন। তারপর ভাপ নেয়া শেষ হলে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে সারামুখ ধুয়ে ফেলুন।
ত্বকের যত্নে টিপস
গরমে ত্বক সুন্দর ও মসৃণ রাখার প্রথম ধাপ ডিপ ক্লিনজিং। এ সময়ে ক্রিম জাতীয় প্রসাধনী ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। রোদে অবশ্যই ছাতা ও সানগ্লাস ব্যহার করুন। প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খেতে হবে, যাতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। এই গরমে আলফা হাইড্রোক্সি এসিডসমৃদ্ধ (অঐঅ) ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। এতে ত্বক থাকবে তরতাজা। তবে দিনে একবারের বেশি ব্যবহার করা ঠিক হবে না।
এ সময়ের কার্যকর খাবার
শুধু বাহ্যিক যত্নেই ত্বক ভালো থাকে না। প্রচণ্ড এই দাবদাহে ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখার জন্য প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ যত্নও। আর তাই ফলের রস, টাটকা সালাদ প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।
তিতা খাবার খাবেন এবং এস্ট্রিনজেন্টসমৃদ্ধ সবজি খাবেন ও বিভিন্ন ঠাণ্ডা খাবার যেমন—বার্লি, ব্রাউন রাইস এবং যব খেতে পারেন।
এ সময়ে আমাদের পরিপাকতন্ত্র দুর্বল থাকে, এ জন্য গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলুন। টক, ভাজাপোড়া এবং খুব বেশি গরম খাবার খাবেন না। খাওয়ার আগে লেবুর রসে চিনি মিলিয়েও খেতে পারেন, এতে হজম ক্ষমতা বাড়ে। পচাবাসি খাবার এড়িয়ে চলুন।
এ গরমে শুধু একটু সচেতনতা আর বাড়তি যত্ন আপনার ত্বককে করে তুলতে পারে সতেজ ও সজীব। আপনার ত্বক থাকতে পারে ফুলেল স্নিগ্ধতায় পরিপূর্ণ।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হচ্ছে সব কিছুরই মূলমন্ত্র। তাই বাইরে থেকে ফিরে স্বাভাবিক নিয়মে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেবেন। ত্বক পরিষ্কার করতে ত্বকের সঙ্গে মানানসই ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নেবেন অথবা স্ক্রাবের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পেস্ট করে তা দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে পারেন। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা স্ক্রাব ব্যবহারের পর ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নেবেন। এছাড়া উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক পেতে প্রয়োজন একটু বাড়তি রূপচর্চার। একটু সময় নিয়ে অনায়াসে আপনি ঘরে বসেই করতে পারেন। গোলাপের পাপড়ি পানিতে জ্বাল দিয়ে সেই গোলাপজল বোতলজাত করে ফ্রিজে অথবা বরফ করে রেখে দিতে পারেন। পরে বাইরে থেকে এসে ঠাণ্ডা গোলাপজল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে ত্বকের স্নিগ্ধতা বাড়িয়ে তুলবে। পাশাপাশি ত্বক স্নিগ্ধ ও সতেজ লাগবে। যাদের ত্বক সাধারণ তৈলাক্ত তারা কাঁচাহলুদ, মসুরের ডাল এবং কাঁচা দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর স্বাভাবিক পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু’দিন এভাবে রূপচর্চা করলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল। যাদের মুখে ঘামাচি আছে তারা বৃষ্টির পানি জমিয়ে ফ্রিজে রেখে নিয়মিত মুখ ধুলে উপকার পাবেন। রোদে পোড়া কালো দাগ দূর করতে কমলার খোসা বেটে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন। তারপর মুখ ধুয়ে ফেলুন। লোমকূপের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করার জন্য মাসে অন্তত একবার ভালোমানের কোনো পার্লার থেকে ত্বকের ধরন বুঝে ফেসিয়াল করে নিতে পারেন। কথায় আছে, সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। তাই আপনাকে সময়ের সঙ্গে মিতালি করতে হবে, চলতে হবে তাল মিলিয়ে। হতে হবে সময় সম্পর্কে সচেতন এবং রাখতে হবে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা। গ্রীষ্মের সূর্যের প্রখরতা, গরমের অস্বস্তি এবং ধুলোবালির জন্য ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দেয়। এর সহজ সমাধানের জন্য এখনই আপনাকে সচেতন হতে হবে। এ ঋতুতে প্রখর রোদ, ঘাম আর ধুলোবালিতে মাখামাখি হয়ে আপনার ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। এই গরমে কীভাবে সুন্দর ও সতেজ থাকা যায়, সে সম্পর্কে কিছু তথ্য।
গরমে ত্বকের সমস্যা
অতিরিক্ত গরমে ত্বক আর্দ্রতা হারায় এবং শুষ্ক হয়ে পড়ে। জন্মগতভাবে ত্বক তিন ধরনের হয়ে থাকে। স্বাভাবিক ত্বক, শুষ্ক ত্বক ও তৈলাক্ত ত্বক। রোদ ও ধুলোবালি স্নিগ্ধ ও সতেজ ত্বকের বড় শত্রু। রোদের পোড়াভাব ত্বকে খুব তাড়াতাড়ি বসে যায়। লোমকূপে ময়লা জমে মুখে ব্রণ হয় এবং রোদের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ঘাম থেকে ঘামাচিসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার কখনও কখনও র্যাশ হতেও দেখা যায়। ত্বক শুষ্ক হলে ত্বকের নমনীয়তা কমে যায়, আর নমনীয়তা কমে গেলে ত্বকে সূক্ষ্ম ফাটল ধরে এবং বার্ধক্যের ছাপ ফুটে ওঠে চেহারায়।
সমাধান
ময়শ্চারাইজার
রূপের স্নিগ্ধতা ধরে রাখতে ময়শ্চারাইজারের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ব্যবহারে ত্বক হয়ে ওঠে কোমল ও সজীব। ময়শ্চারাইজার ত্বককে রাখে নরম ও সুন্দর। এর ব্যবহারে শুষ্ক অবস্থা থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তাই ময়শ্চারাইজারের ব্যবহার জরুরি।
ফেসিয়াল
গরমে পুরো মুখে তেল জমবে এটাই স্বাভাবিক। আর এই তৈলাক্ত অবস্থার কারণে ত্বকে নানা রকমের সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে ফেসিয়াল প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচ্য। নিয়মিত ফেসিয়ালের ফলে ত্বক সুন্দর ও লাবণ্যময় হয়ে ওঠে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে ফেসিয়ালের বিকল্প নেই।
ফেসিয়াল কেন জরুরি?
গরমে ঘামে ধুলোবালি ময়লা মুখে জমে মুখের সৌন্দর্যহানি ঘটায়। সেই সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে ফেসিয়ালের গুরুত্ব অপরিসীম। গরমে ময়লা আর ঘামে ত্বকের কোষগুলো সরাসরি সূর্যরশ্মির প্রখরতায় নানা বর্ণ ধারণ করে। ত্বক পুড়ে যায়। কখনও কখনও ত্বকে মেস্তা, কালো দাগ, হোয়াইটহেড, ব্ল্যাকহেডসহ নানা সমস্যার উদ্ভব হয়। তাই ত্বকের এসব সমস্যার সমাধান পেতে এবং ত্বকের পুষ্টি জোগাতে ফেসিয়াল করা জরুরি। এছাড়াও ত্বকের প্রশান্তির জন্য ফেসিয়াল গুরুত্বপূর্ণ। ফেসিয়াল দ্বারা মুখে জমে থাকা ময়লা লোমকূপের গভীর থেকে পরিষ্কার করা সম্ভব। ত্বকের মরা চামড়া সরে গিয়ে কোষগুলোকে উজ্জীবিত করে তোলে। ত্বকের ধরন বুঝে ফেসিয়াল করতে হবে। ফেসিয়ালের পাশাপাশি মাস্ক ও ফেসপ্যাকের ব্যবহার জরুরি। যদিও এর ব্যবহার স্বল্পস্থায়ী, তবুও ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে দীর্যস্থায়ী ভালো ফল পাওয়া যায়। যাদের ত্বকে বেশি সমস্যা মনে হয় তারা ১৫ দিনে একবার ফেসিয়াল করাতে পারেন। তবে অবশ্যই বিউটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে, নতুবা মাসে একবার করলেই হবে। ফেসিয়ালের সময় অভিজ্ঞ কারও দ্বারা ফেসিয়াল করাবেন। এতে ত্বকের কোষগুলো সজীব হয়ে মুখের আর্দ্রতা ফিরে আসবে। অনেকে না জেনে না বুঝে ফেসিয়াল করান। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাই থাকে বেশি। তাই অভিজ্ঞ বিউটিশিয়ান দ্বারা ফেসিয়াল করানো উচিত।
ফেসিয়াল টিপস
সাধারণ পোশাক বদলে ফেসিয়ালের পোশাক পরে ফেসিয়াল করুন। এতে আপনার ম্যাসাজে সুবিধা হবে।
চুল খোলা না রেখে ফেসিয়াল বেল্ট দিয়ে ভালোভাবে আটকে রাখুন। এতে ফেসিয়াল করার সময় চুল মুখে ও কপালের ওপর এসে পড়বে না।
ফেসিয়াল করার আগে হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন, এরপর গলা, ঘাড় ও মুখে ম্যাসাজ ক্রিম লাগিয়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে নিন ৮/১০ মিনিট সময় নিয়ে। ক্লিনজিং করে মুখ পরিষ্কার করে তুলা দিয়ে মুখের ময়লা তুলে নিন। নিয়মিত ফেসিয়াল করার ফলে ত্বকের বিভিন্ন রস নিঃসরণকারী গ্রন্থি শান্ত ও ঠাণ্ডা হয় ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। তাই নিয়ম করে ফেসিয়াল করুন।
বাড়িতে বসে স্টিম ফেসিয়াল করতে পারেন। একটি পাত্রে ফুটন্ত গরম পানি নিন। এরপর এর ভাপ মুখে নিন। ভাপ নেয়ার সময় চোখ দুটো বন্ধ রাখুন। এভাবে ১০ মিনিট করুন। তারপর ভাপ নেয়া শেষ হলে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে সারামুখ ধুয়ে ফেলুন।
ত্বকের যত্নে টিপস
গরমে ত্বক সুন্দর ও মসৃণ রাখার প্রথম ধাপ ডিপ ক্লিনজিং। এ সময়ে ক্রিম জাতীয় প্রসাধনী ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। রোদে অবশ্যই ছাতা ও সানগ্লাস ব্যহার করুন। প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খেতে হবে, যাতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। এই গরমে আলফা হাইড্রোক্সি এসিডসমৃদ্ধ (অঐঅ) ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। এতে ত্বক থাকবে তরতাজা। তবে দিনে একবারের বেশি ব্যবহার করা ঠিক হবে না।
এ সময়ের কার্যকর খাবার
শুধু বাহ্যিক যত্নেই ত্বক ভালো থাকে না। প্রচণ্ড এই দাবদাহে ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখার জন্য প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ যত্নও। আর তাই ফলের রস, টাটকা সালাদ প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।
তিতা খাবার খাবেন এবং এস্ট্রিনজেন্টসমৃদ্ধ সবজি খাবেন ও বিভিন্ন ঠাণ্ডা খাবার যেমন—বার্লি, ব্রাউন রাইস এবং যব খেতে পারেন।
এ সময়ে আমাদের পরিপাকতন্ত্র দুর্বল থাকে, এ জন্য গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলুন। টক, ভাজাপোড়া এবং খুব বেশি গরম খাবার খাবেন না। খাওয়ার আগে লেবুর রসে চিনি মিলিয়েও খেতে পারেন, এতে হজম ক্ষমতা বাড়ে। পচাবাসি খাবার এড়িয়ে চলুন।
এ গরমে শুধু একটু সচেতনতা আর বাড়তি যত্ন আপনার ত্বককে করে তুলতে পারে সতেজ ও সজীব। আপনার ত্বক থাকতে পারে ফুলেল স্নিগ্ধতায় পরিপূর্ণ।
গরমে ত্বকের সমস্যা
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)