রক্তচাপ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রক্তচাপ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১১

উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ

heart-disease
 উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের সম্পর্ক কী?
উচ্চ রক্তচাপ বা অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ দীর্ঘ সময় থাকলে হৃদপিণ্ডের রক্তনালিতে চর্বির আস্তর জমে ব্লকেজ হতে পারে এবং রক্তপ্রবাহ বাধা পাওয়ার ফলে Ischemic heart disease হতে পারে, যা হৃদপিণ্ডের একটি ভয়াবহ রোগ।
 উচ্চ রক্তচাপে হৃদপিণ্ডের কী কী ধরনের হূদেরাগ হয়?
উচ্চ রক্তচাপে হৃদপিণ্ডের রক্তনালিতে চর্বির আস্তর পড়ে Ischemic heart disease ছাড়াও হৃদপিণ্ডের দেয়াল মোটা হয়ে হাইপারটেনসিভ হার্ট ডিজিজ, হার্ট ফেইলর হতে পারে।
 রক্তচাপ কী?
রক্ত চলাচলের সময় রক্তনালিতে যে চাপ দেয়, তাকেই রক্তচাপ বলে।
 উচ্চ রক্তচাপ কী?
রক্তচাপ ধমনি, শিরা তথা রক্তনালির আকারের ওপর নির্ভর করে, আর রক্তনালি সংকীর্ণতর হলে শরীরের বিভিন্ন অংশে একই পরিমাণে রক্ত সরবরাহের জন্য হৃদপিণ্ডকে অপেক্ষাকৃত বেশি কাজ করতে হয়। এ রকম অবস্থায় হৃদপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ দিয়ে রক্ত সরবরাহ বজায় রাখতে হয়। আর এ বেশি চাপ দেওয়ার অবস্থাকেই উচ্চ রক্তচাপ বলে।
 উচ্চ রক্তচাপ কী কী কারণে হতে পারে?
৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়। পুরুষের উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা ও প্রকটতা নারীদের চেয়ে বেশি। গর্ভকালীন ও জন্মনিরোধক ওষুধ গ্রহণকালে নারীদের উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। যাঁদের ওজন উচ্চতার তুলনায় বেশি, তাঁদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কাও বেশি। পরিবারে কোনো আত্মীয়ের (যেমন: বাবা-মা) উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও উচ্চ রক্তচাপ রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
 উচ্চ রক্তচাপ আমাদের শরীরে কী ক্ষতি করে?
উচ্চ রক্তচাপ জীবনের হুমকিস্বরূপ। উচ্চ রক্তচাপ আমাদের শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে যেসব সমস্যা হয় তা হলো—১. স্ট্রোক (মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ), ২. হার্ট অ্যাটাক, ৩. হার্ট ফেইলর, ৪. কিডনির ফেইলর হওয়ার আশঙ্কা থাকে, ৫. চোখের রক্তনালির ক্রমাগত চাপ বাড়ে ও তা স্ফীত হয়ে যায়, ৬. রক্তনালির বাইরে দেয়ালে ক্ষত সৃষ্টি ও শক্ত হওয়া, ৭. রক্তনালির ভেতরের দেয়ালে চর্বি ও অন্যান্য পদার্থ জমে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং ৮. যৌনকাজে অক্ষমতা।
 উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ কী কী?
৫০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা যায় না এবং অন্য কারণে চিকিত্সকের কাছে গিয়ে প্রেশার মাপার পর সহসা উচ্চ রক্তচাপের উপস্থিতি জানা যায়—১. মাথাব্যথা: তীব্র মাথাব্যথা, সকালের দিকে হয়, অল্প কয়েক দিন ধরে হয়, বমি বমি ভাব, ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে আসে; ২. মাথা ঝিমঝিম ভাব; ৩. ঘুম কম হওয়া; ৪. শ্বাসকষ্ট এবং ৫. নাক দিয়ে রক্ত পড়া।
 উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জীবনব্যবস্থায় কী কী পরিবর্তন করতে হয়?
আজীবন চিকিত্সা চালিয়ে যেতে হবে। সুস্থবোধ করলেই চিকিত্সা বাদ দেওয়া যাবে না। ওজন কমাতে হবে। খাদ্যতালিকায়—অতিরিক্ত সোডিয়াম লবণ, চর্বিযুক্ত মাংস, কোলেস্টেরলসমৃদ্ধ খাদ্য বর্জন করতে হবে। বিশ্রাম নিতে হবে—ঘুমের মাধ্যমে, যোগব্যায়ামের মাধ্যমে কিংবা সবকিছু সহজভাবে গ্রহণ করে বিশ্রাম নেওয়া যাবে। ব্যায়াম করতে হবে, তবে অতিরিক্ত ব্যায়াম করা যাবে না এবং ক্লান্ত হওয়ার আগেই ব্যায়াম বন্ধ করতে হবে। নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে, ডায়াবেটিস থাকলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর পর চিকিত্সকের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে হবে, ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
 উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কি প্রতিদিন প্রেশার মাপতে হবে?
না, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে প্রতিদিন প্রেশার মাপার প্রয়োজন নেই। প্রেশার অনিয়ন্ত্রিত থাকলে প্রথম দিকে এক দিন পর পর, পরে সপ্তাহে এক দিন এবং পরবর্তী সময়ে দুই সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার প্রেশার মাপা উচিত।
 উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কী কী পরীক্ষার প্রয়োজন আছে?
উচ্চ রক্তচাপ থাকলে উচ্চ রক্তচাপের কারণ নির্ণয় করার জন্য এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রভাব দেখার জন্য কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন আছে।
 উচ্চ রক্তচাপের কারণে হূদেরাগ হলে কী কী পরীক্ষার প্রয়োজন?
উচ্চ রক্তচাপের কারণে হূদেরাগ হলে হূদেরাগের মাত্রা নিরূপণের জন্য ইসিজি, ইকো (কালার ডপলার) ইটিটি, সিএক্সআর, পি/এ ভিউ পরীক্ষাগুলো করা প্রয়োজন।
 উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে হূদেরাগ থাকলে কী কী ওষুধ ব্যবহার করা যায়?
উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে অর্থাত্ হৃদপিণ্ডের রক্তনালিতে ব্লক থাকলে আমরা অ্যাসপিরিন-জাতীয় ওষুধ, বিটা ব্লকার ওষুধ, নাইট্রেট-জাতীয় ওষুধ স্ট্যাটিন গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করি।
 উচ্চ রক্তচাপ ও হূদেরাগ, যেমন—হাইপারটেনসিভ হার্ট ডিজিজ অর্থাত্ হৃদপিণ্ডের দেয়াল মোটা হলে কী কী ওষুধ ব্যবহার করা যায়।
উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে হৃদপিণ্ডের দেয়াল মোটা হলে আমরা এসিই ইনহিবিটর বা এ আর বি গ্রুপের ওষুধ দিই। 
নেট থেকে

মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০১১

আপনি কি উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগছেন??

রক্তচাপ বা blood pressure হচ্ছে রক্ত কতৃক ধমনীর বা আর্টারীর গায়ে প্রয়োগকৃত চাপ। এই চাপকে দুটি টার্মের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়; ১. সিসটোলিক রক্তচাপ (হৃৎপিন্ড বা heart সংকোচনের সময় ধমনীর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে রক্ত ধমনীর গায়ে যে চাপ প্রয়োগ করে), ২. ডায়াসটোলিক রক্তচাপ (প্রতিবার সংকোচনের পর হৃৎপিন্ড আবার প্রসারিত হয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসার সময় ধমনীর দেয়ালে প্রয়োগকৃত চাপ)। 

যারা ডাক্তার দেখিয়েছেন বা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন দেখেছেন তারা ১২০/৮০ mmHg (millimeters of mercury) জাতীয় লেখা দেখে থাকবেন। উল্লেখ্য এখানে প্রথম সংখ্যাটি সিসটোলিক ও দ্বিতীয় সংখ্যাটি ডায়াসটোলিক প্রেসার নির্দেশ করে। হৃৎপিন্ডের সংকোচনের সময় রক্তচাপ সবসময় বেশি থাকে অর্থাৎ সিসটোলিক প্রেসার সর্বদাই ডায়াসটোলিক প্রেসার অপেক্ষা বেশি। 

স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ mmHg, কিন্তু বিভিন্ন সময় এই চাপ বেড়ে যেতে পারে, যেমনঃ শারীরিক পরিশ্রম, উত্তেজনা, দুঃশ্চিন্তা। এই পর্যায়গুলো কেটে গেলে সাধারণত ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসে। কিন্তু যদি তা না আসে এবং বর্ধিত রক্তচাপ পারসিস্ট করে তবে বুঝতে হবে আপনি উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনে ভুগছেন।

স্বাভাবিক রক্তচাপঃ ১২০/৮০ mmHg এর কম।
প্রিহাইপারটেনশনঃ ১২০/৮০ mmHg থেকে বেশি ১৪০/৯০ এর কম।
উচ্চ রক্তচাপঃ ১৪০/৯০ এর বেশি।

কারণঃ

মজার ব্যাপার হচ্ছে ৯০-৯৫% রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কারণ জানা যায়না। একে বলা হয় প্রাথমিক বা এসেনশিয়াল উচ্চ রক্তচাপ।

আর যে কারণগুলো রয়েছে তার মধ্যে এথেরোস্কেলোরোসিস বা রক্তনালীর ভেতরে চর্বি জমে যাওয়া, কিডনীর বিভিন্ন রোগ, এড্রেনাল গ্রন্থি টিউমার, করটিসন (স্টেরয়েড জাতীয় এক প্রকার ঔষধ) ও গর্ভনিরোধক ঔষধ দীর্ঘদিন যাবত ব্যবহার অন্যতম।

কিছু ফ্যাক্টসঃ

* উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
* যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের আশংকা সাধারণ রক্তচাপ বিশিষ্ট লোকের চেয়ে দ্বিগুন বা তিনগুন বেশি। স্ট্রোকের আশংকা তিনগুন বেশি থাকে।
* শারীরিক ওজনের সাথে উচ্চ রক্তচাপের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
* সোডিয়াম অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে অনেকের রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
(শরীরের চাহিদা পূরণের জন্য দৈনিক ৫০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম দরকার। কিন্তু বিভিন্ন খাবারের সাথে আমরা নিয়মিত প্রায় ১০ থেকে ২০ গুন বেশি সোডিয়াম খেয়ে থাকি। এক চা চামচ পরিমান লবনে ২৩০০ মিঃ গ্রাম সোডিয়াম থাকে। দিনে ৫০০০ মিঃ গ্রামের বেশি লবন খাওয়া উচিত নয়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের অতিরিক্ত লবনযুক্ত খাবার না খওয়াই ভাল।)

** নিচের খাবার গুলোতে অতিরিক্ত লবন বা সোডিয়াম থাকে তাই এগুলো পরিহার করুনঃ

@ পনির
@ টমেটো সস্‌
@ যেকোন ধরণের টিনজাত খাবার
@ মাখন
@ সব ধরণের মাংস ও মাংসজাত খাদ্য
@ বেকারীজাত খাবার (কেক, পেস্ট্রি, বিস্কুট, পাউরুটি, চিপস্‌, ক্র্যাকার্স ইত্যাদি)
@ সামুদ্রিক খাবার (প্রানীজ বা উদ্ভিজ্ব)

** নিচে একটি কম সোডিয়ামযুক্ত পথ্যতালিকা দেয়া হল যা উচ্চ রক্তচাপ বিশিষ্ট রোগীদের কাজে লাগতে পারেঃ

------------------------------------------------------------------------------
টোটাল ক্যালোরীঃ ১০০০, সোডিয়ামের মাত্রাঃ ৪০০০ মিঃ গ্রাম (প্রায়)
------------------------------------------------------------------------------

সকালের নাস্তাঃ
--------------------------------------------------
আটার রুটি (২টা, ছোট সাইজের)
ডিম ভাজি (কুসুম ছাড়া, ১টা)
ফল (আনারস, পেয়ারা, জাম্বুরা ইত্যাদি- যেকোন ১টি)
বি.দ্র. কলা খাওয়া নিষেধ

বেলা ১১টায়
--------------------------------------------------
ছোট ফল যেকোন একটা

দুপুরে
--------------------------------------------------
ভাত (১ কাপ পরিমান)
মাছ বা মুরগীর মাংস (ছোট ২ টুকরা)
সালাদ (প্রচুর পরিমানে)
পাতলা করে রান্না ডাল (১ কাপ)
রান্না সব্জি (১ কাপ)
বি.দ্র. আলু খাবেন না

বিকালেঃ
-------------------------------------------------
২৫০ মিলিলিটার দুধ

রাতেঃ
-------------------------------------------------
আটার রুটি (২টা, ছোট সাইজের)
মাছ বা মুরগীর মাংস (ছোট ২ টুকরা)
সালাদ (প্রচুর পরিমানে)
রান্না করা সব্জি (১ কাপ)

রান্নার ক্ষেত্রে ৩ চা চামচের বেশি ভোজ্যতেল ব্যবহার করা উচিত নয়।

# ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার, যেমনঃ ননি ছাড়া দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খেতে পারেন।
# সুপারী, শুকনো সিমের বিচি, শালগম, শষ্য জাতীয় খাবার, গাঢ় সবুজ শাক সব্জিতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম থাকে। ম্যাগনেশিয়াম যুক্ত খাবার গ্রহন করুন।
# প্রানিজ চর্বি খাবেন না।
# আঁশ জাতীয় খাবার বেশি খাবেন, যেমনঃ গম, ভুট্টা।

** জীবন-যাপন প্রনালীতে পরিবর্তন আনুনঃ

১. নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
২. ধুমপান বর্জন করুন।
৩. পান খাওয়ার অভ্যাস থাকলে জর্দা, খয়ের, সাদা পাতা, দোক্তা এড়িয়ে চলুন।
৪. কফি খাবেননা।
৫. মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করুন।
৬. দুই বছরের অধিক করটিসোন এবং জন্ম নিরোধক ঔষধ সেবন করবেন না, প্রয়োজনে জন্ম বিরতিকরণের অন্য উপায় অবলম্বন করুন।
৭. নিজেকে হাসিখুশি রাখুন, বন্ধুদের সাথে সময় কাটান।
৮. ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে নিয়মিত চেকআপ করান ও চিকিৎসা গ্রহন করুন।
৯. আবেগ, উত্তেজনা, দুঃশ্চিন্তা পরিহার করুন।
১০. সুষম খাদ্য গ্রহন করুন।

যেকোন স্বাস্থ্য সমস্যায় ডাক্তার দেখান, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ খাবেননা।

নেট থেকে

শনিবার, ১৪ মে, ২০১১

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে ভুল ধারণা

অনেকে মনে করেন, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ একবার খেলে সারা জীবন খেতে হবে। তাই অনেক রোগী ওষুধ খেতে চান না। এটি ঠিক নয়। কেননা শরীর যদি নিজে থেকে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাহলে অবশ্যই ওষুধের সাহায্য নিতে হবে। অন্যথায় আপনি বিলম্ব করলেও বাড়তি রক্তচাপ আপনার ক্ষতিসাধন করতে মোটেও বিলম্ব করবে না।
কাঁচা লবণ খেলে প্রেসার বাড়ে। তাই লবণ ভেজে খাওয়া ভালো। এটিও একদম ভুল কথা। লবণ ভেজে খান আর তরকারিতে খান, মাথাপিছু প্রতিদিন গৃহীত লবণের পরিমাণ যেন ছয় গ্রাম বা পূর্ণ এক চামচের বেশি না হয়।
প্রেসার কমে গেলে ওষুধ ছেড়ে দেওয়ায় কোনো ক্ষতি নেই। এটিও একটি বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত। মনে রাখতে হবে, ওষুধ খেয়েই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আছে। তাই ওষুধ ছেড়ে দেওয়া মানেই স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া।
একবার প্রেসার বেশি পাওয়া মানেই যে প্রেসারের রোগী বনে যাওয়া তা নয়। পরপর তিন দিন সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায় যদি প্রেসার বেশি পাওয়া যায় তবেই ধরে নিতে হবে আপনার প্রেসার স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। বিভিন্ন কারণে হঠাৎ এক-আধটু প্রেসার বাড়তে পারে। বিশ্রাম নিলে এ ধরনের অসুস্থতা আস্তে আস্তে কেটে যায়।
ঘাড়ে ব্যথা মানেই প্রেশার কখনোই নয়। স্নায়ুর রোগ, হাড়ের রোগ এসব কারণে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। খুব কম ক্ষেত্রেই প্রেসারের আধিক্যে ঘাড়ে ব্যথা হয়ে থাকে।
সবার ধারণা প্রেসার শুধু বড়দের মধ্যেই দেখা দিয়ে থাকে। একেবারে ভুল ধারণা। পারিবারিক কারণ, স্থূলতা, কিডনি রোগ, হরমোনের রোগ এসব কারণেও শিশু বয়সে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে।

শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১১

ব্যায়ামে রক্তচাপ কমে

উচ্চরক্তচাপ আমেরিকার মত দেশে তিন জনে একজনের হলেও আমাদের দেশেও কম নয়। সঠিক পরিসংখ্যাণ নেই তবে উচ্চরক্তচাপের রোগী যে কত তা গুণে শেষ করা কঠিন। উচ্চরক্তচাপ হলে বাড়ে হূদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি। ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর আহার হলো উচ্চরক্তচাপ প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উপায়। উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও ব্যায়াম করলে উচ্চরক্তচাপের ওষুধের কার্যকারিতা অনেক বেড়ে যায়।
উপভোগ্য হোক ব্যায়াম: যে সব ব্যায়ামে মজা লাগে সেসব ব্যায়াম সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে করলে ভালো হয়। দৈনন্দিন গৃহকর্ম, বাগান করা, জানালা ধোয়া, সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠা, মুদির দোকান থেকে জিনিসপত্র বহন করে আনা, হাঁটা, সাইকেল চালানো সবই আনন্দের ব্যায়াম, হূদহিতকরও বটে। গাড়ি কিছু দূরে পার্ক করে হেটে অফিস যাওয়া, বাসে গেলে এক স্পট আগে নেমে হেটে অফিস যাওয়া বেশ হিতকর।
জিমে যেতে পারেন কেউ কেউ: জিমে ব্যায়াম করতে হবে এমন নয়। তবে অনেকে জিম পছন্দ করেন। জিমে ব্যায়াম করতে স্বস্থি বোধ করেন। ভালোও লাগে। ট্রেনার জিমের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে শেখাবেন যাতে আহত না হতে হয়।
হার্টকে করুন মজবুত: সাধারণ ভার উত্তোলন, ওজন যন্ত্রপাতি এসব দিয়ে বারবেল, মুগুর এসব দিয়ে শক্তিশালী করার জন্য বা রেজিস্ট্যান্স ব্যায়াম বা পেটের ব্যায়াম, উঠ-বস কুন্ডলী পাকানো এসব ব্যায়াম সপ্তাহে দুই/তিনদিন করলে হূদস্বাস্থ্য উন্নত হয়। রেজিস্ট্যান্স ব্যায়ামে রক্তচাপ কমে, পেশি বাড়ে, বাড়ে বিপাক হার।
ব্যায়ামে শরীর খুব গরম হয়, সাঁতার করুন: হার্টের পাম্নকর্ম বাড়ানোর জন্য ও ব্যায়াম হলো রক্তচাপ কমানোর দাওয়াই। তবে গরম সহ্য না হলে সাঁতার কাটুন ৩০ মিনিট। কমে যাবে শরীরে চলমান হরমোন এড্রিনালিন এবং শিথিল হবে রক্তনালী। সাতার কাঁটলে নাড়িঘাতও হ্রাসপায়, কমে যায় রক্তচাপও।
কতটুকু ব্যায়াম চাই: রক্তচাপ মাঝারি বাড়লে ৩০ মিনিট দ্রুত হাটা বেশ উপকারী। ওষুধ তখন নাও লাগতে পারে। যদি উচ্চরক্তচাপের ইতিমধ্যে ওষুধ খাওয়া হয়ে থাকে তাহলে ৩০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম অর্থাত্ ব্যায়াম করে হূদঘাত হার বাড়িয়ে, ঘেমে নেয়ে উঠা সম্ভব হলে, ওষুধের কার্যকারিতা বেশ বেড়ে যায়। উচ্চরক্তচাপ না থাকলেও শরীরর্চ্চা করলে রক্তচাপ থাকে স্বাভাবিক।
শুরু করুন: ব্যায়াম করা হয়নি তেমন। চর্চানেই; ধীরে ধীরে শুরু হোক। ধাতস্থ হলে সময় বাড়ানো যাবে। মজা লাগে এমন ব্যায়াম প্রথমে ১০-১৫ মিনিট, যেমন হাটা, ট্রেডমিল বা সাইকেল চালানো। এভাবে প্রতিদিন একটু একটু করে সময় বাড়িয়ে পৌঁছে যান দিনে আধ ঘন্টার ব্যায়াম। ব্যায়ামে নতুন হলে ধীরে সুস্থে শুরু করা ভালো। রয়ে সয়ে। প্রথমে কম থেকে মাঝারি ধরণের ব্যায়াম যেমন যোগ ব্যায়াম, সাইকেল চালানো, বাগান করা, হাটা, পানিতে জলকেলি। এরপর বাড়ান গতি ও সময়।
ব্যায়াম হোক সুবিধার ও স্বস্তির: ব্যায়াম যেন দিনরাতে কর্মব্যস্ততার সঙ্গে মানানসই হয়। বাচ্চারা যখন খেলে অথবা স্কুলে, কাজের আগে বা পরে, দুপুরের খাওয়ার বিরতিতে করা যায় ব্যায়াম। যদি বাড়ি থেকে একেবারে বের না হওয়া যায় তাহলে ঘরে নিশ্চলবাইক বা ট্রেডমিলে ব্যায়াম। সন্ধ্যার খবর দেখতে দেখতে সে ব্যায়াম করা যায়।
মিনি ব্যায়ামও চলে: ১০ মিনিটের মিনি ব্যায়াম, কর্মব্যস্ত দিনের ফাকে হোক না এমন ব্যায়াম দিন জুড়ে। যেমন যথাস্থানে জগিং ১০ মিনিট, ক্যালসথেনিকস্ বা ঘর দোয়ার মোছা। তিনবার দশ মিনিটের ব্যায়াম দিনে আধ ঘন্টা, হূদস্বাস্থ্যর জন্য ভালো।
ঘরেও গড়া যায় জিম: ব্যায়াম করতে চান তবে জিমে যেতে পারেন না। ঘরেও তৈরি করুন জিম। ঢালু একটি বেঞ্চ, ফ্রি ওয়েট, মুগুর, ডামবেল, ব্যায়াম ব্যাঙ্গ বা টিউব, যোগাসনের ব্যবস্থা ও বল। সিন্দুকে রাখুন বা কোনও লকার বা ক্লজেটে। একটি ট্রেডমিল বা নিশ্চল বাইক রাখুন শরীরের মেদ পোড়াবার জন্য বা ধৈর্য্য বাড়ানোর জন্য।
গরম হন, শীতল হন: আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের মতে যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এরা ব্যায়ামের আগে শরীর গরম করলে এবং ব্যায়ামের পর শরীর শীতল করলে ভালো। এতে হূদঘাত হার ক্রমে ক্রমে বাড়ে ও ক্রমে ক্রমে কমে। ট্রেডমিলে বা যথাস্থানে ১০ মিনিট দৌঁড়ানো ওয়ার্ম আপের জন্য ভালো। শীতল হওয়ার জন্যও।
হূদঘাত হার মাপার ঘড়ি ব্যবহার করুন: হার্টরেট ওয়াচ দিয়ে লক্ষ্য করা যায়, দ্রুত নাডির স্পন্দন। সার্টের নিচে বুকে বেধে ফেলুন ব্যান্ডটি। ব্যায়ামের সময় ঘড়ি নজর করলে জানা যাবে হূদঘাত হার। ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন টার্গেট হার্ট রেট কত হবে আপনার।
ওষুধ ও হূদঘাত হার: হার্টের কিছু ওষুধ যেমন বিটা ব্লকারস্ বা ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকারস হ্রাস করতে পারে হূদঘাত হার। তাই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া ভালো ব্যায়ামের আগে।
জেনে নিন নিরাপত্তা টিপস: যে ব্যায়ামই করুন না কেন, নিজের সীমাবদ্ধতা জানা ভালো। ব্যায়াম বা শরীরচর্চায় আহত হলে, একে তখন বন্ধ করা ভালো। মাথা ঝিমঝিম করলে, বা বুকে, বাহুতে, গলায় অস্বস্তি লাগলে বন্ধ করা ভালো।  ভাপসা গরমে ধীরে ব্যায়াম ভালো।
ডাক্তার দেখাবেন নিয়মিত: ডাক্তারকে দিয়ে চেক আপ। শরীরর্চ্চা শুরুর আগে ডাক্তারের অনুমতি নিতে হয়, যদি কেউ হন শুয়ে বসে জীবন যাপনে অভ্যস্ত লোক, খুব ভারি ওজনের বা হূদরোগের বা ক্রনিক রোগের খুব ঝুঁকি সম্প্রন্ন মানুষ।
ব্যায়ামের পরও ড্যাশ ডায়েট: ড্যাশ ডায়েট অনুসরণ করে সিসটোলিক রক্তচাপ ৮-১৪ পয়েন্ট কমানো যায়। ড্যাস ডায়েট মূলত: ২০০০ ক্যালোরি ডায়েট, ফল সবজি, গোটাশস্য, ডাল, বীচি, কম চর্বি দুধ সম্বদ্ধ খাদ্য বিধি। ৫০ উর্দ্ধ মানুষের জন্য সিসটোলিক চাপ ১৪০ এর বেশি হলে হূদরোগের ঝুঁকি বেশি, ডায়াসটেলিক (নিচেরটা) চাপের তুলনায়।
হ্রাস করুন ১০ পাউন্ড ওজন: দেখা গেছে ওজন মাত্র ১০ পাউন্ড কমালে, যদি ওজন বেশি হয়, তাহলে রক্তচাপ কমানো যায়। তাই নিতে হবে কম ক্যালোরি। এ জন্য ডাক্তার ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন। লবণ দিনে ২৪০০ মিলিগ্রাম মাত্র, অর্থাত্ ১ চামচ লবণ । মদ্যপান বর্জন করা শ্রেয়।