স্ট্রোক, আজকাল আমাদের দেশে খুব পরিচিত একটি ব্যাধি। আরেকটু ভালো ভাবে বললে এখন সম্ভবত এমন কোন পরিবার পাওয়া যাবে না যেখানে স্ট্রোকের ইতিহাস নেই। সধারনত আমরা ধরে নেই এটা বয়স্কদের সমস্যা কিন্তু সত্যটা হোল ৭৫ বছরের একজনের যেমন স্ট্রোক হতে পারে, তেমনি একজন ৫৬ বছর বা ১৭ বছরের কিশোর/কিশরির ও স্ট্রোক হতে পারে।
ষ্ট্রোক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ষ্ট্রোক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রবিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১১
সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০১১
ব্রেন স্ট্রোক
স্ট্রোক’ – টার্মের সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত, কিন্তু এই টার্ম নিয়ে আমাদের বোঝার কিছু ভুল রয়েছে। এই যেমন অনেক সময় সনেককে ব্যবহার করতে দেখা যায় – হার্ট স্ট্রোক টার্মটি। কিন্তু মেডিকেল এ হার্ট স্ট্রোক টার্ম বলে কোনো শব্দ নেই। স্ট্রোক একটি ব্রেন এর সমস্যা।
ব্রেন স্ট্রোক কি?
ব্রেন এর সমস্যা যা প্রধানত রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে ব্রেনের কোনো অংশ অকার্যকর হয়ে তৈরি হয়।
কিভাবে হয়?
সাধারনত রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে এই সমস্যা হয়, কিন্তু রক্ত চলাচল কিভাবে বন্ধ হলো তার উপর ভিত্তি করে প্রধানত ২ ভাগে স্ট্রোক-কে ভাগ করা হয়। এই ভাগ করার পেছনে রয়েছে কিভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হবে সেই প্রনালী নির্ধারন। কেননা এক ধরনের স্ট্রোকের চিকিৎসা আরেক ধরনের স্ট্রোক-এ দেয়া হলে সেটা আরো খারাপ হয়ে যায়।
প্রকারভেদ -
* ইশকেমিক স্ট্রোক
* হেমোরেজিক স্ট্রোক
ইশকেমিক স্ট্রোক -
সাধারনত ব্রেন এ রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে এই ধরনের স্ট্রোক হয়ে থাকে।
কিভাবে - রক্তে হাইপারলিপিডেমিয়া (রক্তে লিপিড এবং কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া) হলে রক্তনালীর চারদিকে লিপিড জমে তা সংকুচিত হয়ে আসে, কখনো কখোনো এর মাত্রা বেড়ে গিয়ে রক্ত নালী বন্ধ হয়ে যেতে পারে, আবার কখনো বা কোনো রক্তনালীতে জমে থাকা এমন লিপিড (Atherosclerotic plaque) ছুটে গিয়ে কোনো তুলনামূলক ছোট রক্তনালী বন্ধ করে দিয়ে এমনটি করতে পারে!
হেমোরেজিক স্ট্রোক -
সাধারনত ব্রেন এ কোনো রক্তনালী ছিড়ে গিয়ে এই ধরনের স্ট্রোক হয়ে থাকে।
কিভাবে - যাদের উচ্চরক্তচাপ অনেকদিন থেকে থাকে এবং সাধারনত কন্ট্রোল এর বাইরে থাকে তাদের রক্তনালী হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে ছিড়ে যেতে পারে। তাছাড়া অনেক সময় হঠাৎ কোনো সাইকোলোজিকাল কারনেও রক্ত চাপ -এ পরিবর্তন হয়ে এমনটি হতে পারে।
তাছাড়া ডায়াবেটিস এর রোগীদের এই দুই ধরনের ই স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্যদের তুলনায় বেশি থাকে।
রিস্ক ফ্যাক্টর -
* ডায়াবেটিস থাকা
* উচ্চ রক্তচাপ থাকা
* হাইপারলিপিডেমিয়া থাকা
* ইশকেমিক হার্ট ডিজিস বা ভাল্ভুলার হার্ট ডিজিস থাকা
* ওজন স্বাভাবিক এর তুলনায় বেশি যাদের
* ধূমপান করা
উপসর্গ – স্ট্রোক হলে কিভাবে বুঝা যাবে?
ব্রেন স্ট্রোক হলে এর উপসর্গ সাধারনত নির্ভর করে ব্রেন এর কোনো অংশে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়ে স্ট্রোক হলো।
* হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলা
* শরীরের কোনো এক দিকে দূর্বলতা বোধ করা
* শরীরের কোনো এক দিক নাড়াতে না পারা
* মুখ একদিকে বেকে যাওয়া
* প্রচন্ড মাথা ব্যথা হওয়া
* কথা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া
* বমি বমি ভাব ছাড়া বমি হওয়া
* দৃষ্টি শক্তি কমে যাওয়া
স্ট্রোক হয়ে গেলে কি করতে হবে?
অতি দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সাধারনত স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ইমার্জেন্সি ভাবে ব্রেন-এর সিটি স্ক্যান করা হয় – কেননা আগেই বলেছি - যেহেতু ২ ভাবে স্ট্রোক হয় এবং এক ধরনের স্ট্রোকের চিকিৎসা অন্য ধরনের স্ট্রোককে আরো খারাপ করে তুলতে পারে তাই সিটি স্ক্যান এর মাধ্যমে নির্ধারন করা হয় কোন ধরনের স্ট্রোক হয়েছে!!
“স্ট্রোক-এর পর সিটি স্ক্যান এ কোনো সমস্যা দেখা গেলো না, অথচ পরের দিনের এম আর আই এ বলা হলো ইশকেমিক স্ট্রোক!” তবে কি সিটি স্ক্যান ভুল ছিলো বা তখনই এম আর আই করানো ভালো ছিলো না????
- না, কেননা হেমোরেজিক স্ট্রোক হলে তখন ই সেটা রেডিওলোজিক টেস্ট (সিটি স্ক্যান বা এম আর আই) এ ধরা পড়ে, কিন্তু হেমোরেজিক স্ট্রোক হলে সেটা রেডিওলোজিক্যালি ধরা পড়তে বেশ কিছু ঘন্টা সময় নেয়। কিন্তু তারপরও ইমার্জেন্সি ভাবে সিটি করা হয় আলাদা করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার জন্য।
২৪ ঘন্টার ভিতর যেই স্ট্রোক সম্পূর্ণ ঠিক হয়ে যায় - টি আই এ – ট্রানজিএন্ট ইশকেমিক এট্যাক
টিআইএ এমন এক ধরনের স্ট্রোক যা কিনা ২৪ ঘন্টার ভিতর সম্পূর্ণ ঠিক হয়ে যায়, তবে কারো টি আই এ হয়ে থাকলে তার পরবর্তিতে যে কোনো নিউরোলোজিস্ট এর আন্ডারে নিয়মিত চেক আপ এ থাকা উচিত।
ব্রেন স্ট্রোক কি?
ব্রেন এর সমস্যা যা প্রধানত রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে ব্রেনের কোনো অংশ অকার্যকর হয়ে তৈরি হয়।
কিভাবে হয়?
সাধারনত রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে এই সমস্যা হয়, কিন্তু রক্ত চলাচল কিভাবে বন্ধ হলো তার উপর ভিত্তি করে প্রধানত ২ ভাগে স্ট্রোক-কে ভাগ করা হয়। এই ভাগ করার পেছনে রয়েছে কিভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হবে সেই প্রনালী নির্ধারন। কেননা এক ধরনের স্ট্রোকের চিকিৎসা আরেক ধরনের স্ট্রোক-এ দেয়া হলে সেটা আরো খারাপ হয়ে যায়।
প্রকারভেদ -
* ইশকেমিক স্ট্রোক
* হেমোরেজিক স্ট্রোক
ইশকেমিক স্ট্রোক -
সাধারনত ব্রেন এ রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে এই ধরনের স্ট্রোক হয়ে থাকে।
কিভাবে - রক্তে হাইপারলিপিডেমিয়া (রক্তে লিপিড এবং কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া) হলে রক্তনালীর চারদিকে লিপিড জমে তা সংকুচিত হয়ে আসে, কখনো কখোনো এর মাত্রা বেড়ে গিয়ে রক্ত নালী বন্ধ হয়ে যেতে পারে, আবার কখনো বা কোনো রক্তনালীতে জমে থাকা এমন লিপিড (Atherosclerotic plaque) ছুটে গিয়ে কোনো তুলনামূলক ছোট রক্তনালী বন্ধ করে দিয়ে এমনটি করতে পারে!
হেমোরেজিক স্ট্রোক -
সাধারনত ব্রেন এ কোনো রক্তনালী ছিড়ে গিয়ে এই ধরনের স্ট্রোক হয়ে থাকে।
কিভাবে - যাদের উচ্চরক্তচাপ অনেকদিন থেকে থাকে এবং সাধারনত কন্ট্রোল এর বাইরে থাকে তাদের রক্তনালী হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে ছিড়ে যেতে পারে। তাছাড়া অনেক সময় হঠাৎ কোনো সাইকোলোজিকাল কারনেও রক্ত চাপ -এ পরিবর্তন হয়ে এমনটি হতে পারে।
তাছাড়া ডায়াবেটিস এর রোগীদের এই দুই ধরনের ই স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা অন্যান্যদের তুলনায় বেশি থাকে।
রিস্ক ফ্যাক্টর -
* ডায়াবেটিস থাকা
* উচ্চ রক্তচাপ থাকা
* হাইপারলিপিডেমিয়া থাকা
* ইশকেমিক হার্ট ডিজিস বা ভাল্ভুলার হার্ট ডিজিস থাকা
* ওজন স্বাভাবিক এর তুলনায় বেশি যাদের
* ধূমপান করা
উপসর্গ – স্ট্রোক হলে কিভাবে বুঝা যাবে?
ব্রেন স্ট্রোক হলে এর উপসর্গ সাধারনত নির্ভর করে ব্রেন এর কোনো অংশে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়ে স্ট্রোক হলো।
* হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলা
* শরীরের কোনো এক দিকে দূর্বলতা বোধ করা
* শরীরের কোনো এক দিক নাড়াতে না পারা
* মুখ একদিকে বেকে যাওয়া
* প্রচন্ড মাথা ব্যথা হওয়া
* কথা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া
* বমি বমি ভাব ছাড়া বমি হওয়া
* দৃষ্টি শক্তি কমে যাওয়া
স্ট্রোক হয়ে গেলে কি করতে হবে?
অতি দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সাধারনত স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ইমার্জেন্সি ভাবে ব্রেন-এর সিটি স্ক্যান করা হয় – কেননা আগেই বলেছি - যেহেতু ২ ভাবে স্ট্রোক হয় এবং এক ধরনের স্ট্রোকের চিকিৎসা অন্য ধরনের স্ট্রোককে আরো খারাপ করে তুলতে পারে তাই সিটি স্ক্যান এর মাধ্যমে নির্ধারন করা হয় কোন ধরনের স্ট্রোক হয়েছে!!
“স্ট্রোক-এর পর সিটি স্ক্যান এ কোনো সমস্যা দেখা গেলো না, অথচ পরের দিনের এম আর আই এ বলা হলো ইশকেমিক স্ট্রোক!” তবে কি সিটি স্ক্যান ভুল ছিলো বা তখনই এম আর আই করানো ভালো ছিলো না????
- না, কেননা হেমোরেজিক স্ট্রোক হলে তখন ই সেটা রেডিওলোজিক টেস্ট (সিটি স্ক্যান বা এম আর আই) এ ধরা পড়ে, কিন্তু হেমোরেজিক স্ট্রোক হলে সেটা রেডিওলোজিক্যালি ধরা পড়তে বেশ কিছু ঘন্টা সময় নেয়। কিন্তু তারপরও ইমার্জেন্সি ভাবে সিটি করা হয় আলাদা করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার জন্য।
২৪ ঘন্টার ভিতর যেই স্ট্রোক সম্পূর্ণ ঠিক হয়ে যায় - টি আই এ – ট্রানজিএন্ট ইশকেমিক এট্যাক
টিআইএ এমন এক ধরনের স্ট্রোক যা কিনা ২৪ ঘন্টার ভিতর সম্পূর্ণ ঠিক হয়ে যায়, তবে কারো টি আই এ হয়ে থাকলে তার পরবর্তিতে যে কোনো নিউরোলোজিস্ট এর আন্ডারে নিয়মিত চেক আপ এ থাকা উচিত।
শুক্রবার, ১৮ মার্চ, ২০১১
স্ট্রোক প্রতিরোধে ...
স্ট্রোকের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মস্তিষ্কের নির্দিস্ট এলাকা
ধূমপান ও মদপান পরিহার করুন : গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। ধূমপানের ফলে রক্তনালিতে চর্বি জমা হয়ে রক্তনালি বন্ধ করে দেয়। ফলে মস্তিষ্কে পরিমিত রক্ত পেঁৗছতে পারে না। সিগারেটের নিকোটিন রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, রক্তে কার্বন-ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয় ও রক্তের ঘনত্ব বাড়িয়ে রক্তপিণ্ড তৈরিতে ভূমিকা পালন করে। যে কোনো বয়সেই ধূমপান ত্যাগ করা হোক না কেন তা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
নিয়ন্ত্রণ করুন উচ্চরক্তচাপ : রক্তচাপ স্বাভাবিকের মধ্যে রাখুন। এ জন্য অতিরিক্ত লবণ পরিহার করুন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিয়মিত ওষুধ সেবন করুন।
হার্টের রোগের চিকিৎসা নিন : হার্ট অ্যাটাক, অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন, হার্ট বড় হয়ে গেলে, ভাল্বের সমস্যা ইত্যাদি কারণে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। তাই এ রোগগুলোর চিকিৎসা করান। রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে আপনাকে অ্যাসপিরিন খেতে হতে পারে। এ ব্যাপারে আপনার চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন : ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রোকের সময় রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকলে মস্তিষ্কে কোষ বেশি পরিমাণে ধ্বংস হয়। এ ছাড়া ডায়াবেটিসের কারণে রক্তনালিতে চর্বি জমে যায়। ফলে রক্তনালি সরু হয়ে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণমতো খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ওষুধ সেবন আর শৃঙ্খলা মেনে চলুন, মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খান ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
পুষ্টিকর খাবার খান : প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খান। প্রতিদিনের খাবারে পাঁচ ভাগের এক ভাগ ফলমূল ও শাকসবজি খান। রেড মিট যেমন_ গরু, ছাগল, ভেড়ার মাংস খাবেন না। চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন। এতে বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যেটা ধমনীতে চর্বির আস্তরণ পড়তে সহায়তা করে। লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। লবণ খাবেন না। আঁশযুক্ত খাবার বেশি বেশি করে খান। কমিয়ে ফেলুন শরীরের অতিরিক্ত ওজন। অতিরিক্ত খাবার খাবেন না। এতে শরীরে মেদ জমবে। খাবার খান শারীরিক পরিশ্রমের সঙ্গে মিল রেখে। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন_ সবুজ শাকসবজি, সয়াবিন তেল, মাছের যকৃৎ খান।
ব্যায়াম করুন : গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে ৫ দিন ব্যায়াম করেন তাদের রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। হাঁটা ভালো ব্যায়াম। হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় মেনে হাঁটুন। সপ্তাহে কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ মাইল হাঁটুন। এ ছাড়া সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, নাচা, টেনিস, গলফ খেলতে পারেন। ব্যায়ামের সময় বুকে ব্যথা, মাথা ঝিম ঝিম ও শ্বাসকষ্ট হলে ব্যায়াম বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মানসিক চাপ কমান : রাগ কমান, কমিয়ে ফেলুন মানসিক চাপ। জোর করে হলেও হাসুন প্রাণ খুলে। মেডিটেশন করতে পারেন। এতে কমবে মানসিক চাপ, বাড়বে আত্মবিশ্বাস।
রক্তে কোলেস্টেরল কমিয়ে ফেলুন : রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালিতে চর্বি জমে রক্তনালি বন্ধ হয়। নিয়ন্ত্রণে রাখুন কোলেস্টেরলের মাত্রা। তাই স্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার যেমন গরু, খাসি, চিজ, বিভিন্ন ধরনের কেক, আইসক্রিম, ইয়োগাট, কনডেন্সড মিল্ক ও কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবার ডিমের কুসুম, চুপড়ি আলু, বিভিন্ন প্রাণীর মস্তিষ্ক, যকৃৎ, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন। যদি রক্তে কোলেস্টেরল না কমে তবে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খেতে হবে।
জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল : পিল রক্তকে ঘন ও জমাট বেঁধে ফেলতে পারে। সেইসঙ্গে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। পিল সেবনের আগে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১১
যানবাহনের শব্দ দূষণে ষ্ট্রোকের ঝুঁকি
যানবাহনের শব্দ দূষণে ষ্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে ৬৫ কিংবা এরচেয়ে বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরো বেশি। বুধবার ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা যায়। গবেষণায় বলা হয়েছে, ৫০ হাজারেরও বেশি লোকের ওপর এক জরিপ শেষে দেখা গেছে অতিরিক্ত প্রতি ১০ ডেসিমেল শব্দের জন্য ষ্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে ১৪ শতাংশ। এ ঝুঁকি গড়ে সব বয়সীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু ৬৫ বছরের বেশী বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ ডেসিমেল শব্দে ষ্ট্রোকের ঝুঁকি ২৭ শতাংশ বাড়ে। গবেষকরা বলছেন, ৬০ কিংবা এর চেয়ে বেশি ডেসিমেল শব্দের জন্য ষ্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে আরো বেশি হারে। একটি ব্যস্ত সড়কে সাধারণত ৭০ কিংবা ৮০ ডেসিমেল মাত্রার শব্দ তৈরি হয়। তুলনামূলকভাবে একটি ঘাসকাটার যন্ত্র শব্দ তৈরি করে ৯০ কিংবা ১শ ডেসিমেল। এছাড়া একটি জেট বিমান অবতরণকালে ১২০ ডেসিমেল শব্দ উৎপন্ন করে। ড্যানিশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রধান গবেষক মেটি সোরেনসিনা বলেন, ‘যানবাহনের শব্দের সঙ্গে উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগের সম্পর্কের বিষয়টি আগের গবেষণা থেকেই জানা গেছে। নতুন এ গবেষণায় দেখা গেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন শব্দের কারণে ষ্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।’ গবেষণায় বলা হয়েছে, সবধরনের ষ্ট্রোকের ক্ষেত্রে ৮ শতাংশ এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশের জন্য দায়ী যানবাহনের অতিরিক্ত শব্দ। তারা আরো বলেন, শব্দের কারণে চাপ তৈরি হয় এবং তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এর ফলে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। গবেষণায় আরো বলা হয়, যানবাহনের শব্দের ঝুঁকির সঙ্গে সামাজিক শ্রেনীগত অবস্থানেরও একটি সম্পর্ক রয়েছে। কারণ সম্পদশালীরা সাধারণত অধিকতর শান্ত এলাকায় বসবাস করে। উলে¬খ্য যে ৫০ হাজার লোকের ওপর জরিপ চালানো হয়েছে তারা সকলে নগরবাসী।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)