দাঁত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দাঁত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৩

মুখে দুর্গন্ধ



যদি আপনার মুখে দুর্গন্ধ থাকে তাহলে জানবেন এই সমস্যায় শুধু আপনি একা নন ,আপনার আশেপাশের অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন। আমাদের দেশের শতকরা ৮৫ ভাগ ভাগ লোক কোন না কোনভাবে এই সমস্যার স্বীকার।
দন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার এই সমস্যাকে হ্যালিটোসিস বলে।
যে সব কারনে আমাদের মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে??

দাঁতের স্কেলিং কী এবং কেন আপনার প্রয়োজনীয়???

 
স্কেলিং কি???
স্কেলিং দাঁতের এক বিশেষ পরিষ্কার পদ্ধতি যা আপনার দাঁতের গোঁড়ায় জমে থাকা প্লাক ক্যালকুলাস(দাঁতের চারপাশে জমা পাথর) এক বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে দূর করে। দীর্ঘদিন এরকম জমে থাকা প্লাক ক্যালকুলাস যদি দূর করা না যায় তবে তা দাঁতে সংক্রমণের সৃষ্টি করে ফলে মাড়ি নরম হয়ে যায় যার পরিনতিতে জিনজিভাইটিস

মাড়ি দিয়ে রক্ত পরা ও তার প্রতিকার

 
কেন মাড়ি হতে রক্ত পরে??
মাড়ির প্রদাহ (Inflammation)জনিত কারনে মাড়ি থেকে রক্ত নির্গত হয়ে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষায় বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই এ রোগে ভুগে থাকে। মূলত নিয়মিত সঠিক পদ্ধতিতে দাঁত পরিষ্কার না করা অর্থাৎ দাঁতের অপরিচ্ছন্নতাই এ রোগের প্রধান কারণ।
মাড়িতে প্রদাহ হওয়ার কী কারন???
আমরা যখন খাবার খাই ,সেই খাবার আমাদের দাঁতের আনাচে কানাচে জমে থাকে।পরবর্তীতে ওই জমে থাকা খাবার আমাদের মুখের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে "ডেন্টাল প্লাক" তৈরি করে। প্লাক আবরণটি আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁত ও মাড়ির মধ্যস্থানে শক্ত অবস্থান নেয়। সাধারন অবস্থায় ব্রাশ করে এই প্লাক অপসারণ করা যায় না, ফলে মাড়িতে প্রদাহ(Inflammation)

আপনার দাঁত কি লাল,হলুদ না বাদামি?????

 
আমাদের মুখের সৌন্দর্য অনেকটা নির্ভর করে আমাদের দাঁতের উপর। দাঁতের স্বাভাবিক রং পরিবর্তিত হলে তা অবশ্যই আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্যেও প্রভাব ফেলে। দাঁতের রং পরিবর্তন স্বাভাবিক ভাবেই আমরা ভাবি আমাদের দেখতে খারাপ লাগছে আবার অনেক ক্ষেত্রে হাসতেও খারাপ লাগছে।এখন প্রশ্ন হল দাঁতের স্বাভাবিক রং কি?? কেনই বা এই পরিবর্তন? এর থেকে সমাধানের উপায় কি?? দাঁতের স্বাভাবিক রং কি??

মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

আপনার দাঁত কি লাল,হলুদ না বাদামি?????

আমাদের মুখের সৌন্দর্য অনেকটা নির্ভর করে আমাদের দাঁতের উপর। দাঁতের স্বাভাবিক রং পরিবর্তিত হলে তা অবশ্যই আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্যেও প্রভাব ফেলে। দাঁতের রং পরিবর্তন স্বাভাবিক ভাবেই আমরা ভাবি আমাদের দেখতে খারাপ লাগছে আবার অনেক ক্ষেত্রে হাসতেও খারাপ লাগছে।এখন প্রশ্ন হল দাঁতের স্বাভাবিক রং কি?? কেনই বা এই পরিবর্তন? এর থেকে সমাধানের উপায় কি?? 

সোমবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১২

দাঁত তোলা যখন বিপজ্জনক


চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক ধারণায় দাঁত তোলা একটি দুর্ভাগ্যজনক এবং ধ্বংসাত্মক চিকিৎসা পদ্ধতি। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানের বাস্তবিক প্রয়োগ এতটাই অগ্রসরমান যে, দাঁতের ফিলিং, রুটক্যানাল, পাল্প ক্যাপি, পাল্পোটমি, এপেক্সিফিকেশন, এপেক্সোজেনেসিস ইত্যাদি আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দাঁত তোলার প্রয়োজন হয় না। তথাপি ক্ষেত্রবিশেষে রোগাক্রান্ত দাঁত চিকিৎসার প্রয়োগে ব্যর্থতার কারণেও দাঁত তোলার প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে দাঁত তোলাকে যত হালকা করেই দেখা হোক না কেন মনে রাখতে হবে, এটি একটি অপারেশন।

শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১২

টুথপেস্ট ও মাউথওয়াশে মুখের আলসার


মুখের আলসার সত্যিই অত্যন্ত বিড়ম্বনাকর এক অনুভূতি। এর চিকিৎসায় বিভিন্ন ধরনের স্থানীয়ভাবে প্রয়োগকারী মলম থেকে শুরু করে ভিটামিন গ্রহণ, কোন কিছুই বাদ যাচ্ছে না। কিন্তু রোগীদের মনে প্রশ্ন ‘মুখের আলসার ভালো তো হচ্ছে না’। মুখের আলসার থেকে

শনিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১২

দাঁত তোলা যখন বিপজ্জনক

চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক ধারণায় 'দাঁত তোলা' একটি দুর্ভাগ্যজনক এবং ধ্বংসাত্মক চিকিৎসা পদ্ধতি। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানের বাস্তবিক প্রয়োগ এতটাই অগ্রসরমান যে, দাঁতের ফিলিং, রুটক্যানাল, পাল্প ক্যাপি, পাল্পোটমি, এপেক্সিফিকেশন, এপেক্সোজেনেসিস ইত্যাদি আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দাঁত তোলার প্রয়োজন হয় না। তথাপি ক্ষেত্রবিশেষে রোগাক্রান্ত দাঁত চিকিৎসার প্রয়োগে ব্যর্থতার কারণেও দাঁত তোলার প্রয়োজন দেখা দেয়।

রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০১১

নি:শ্বাসে দুর্গন্ধ




মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি পায় যোগাযোগের মধ্য দিয়ে। আর এ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হলো কথা। আমরা কোথায় কথা বলিনা? আড্ডা থেকে শুরু করে অফিসিয়াল মিটিং। সবক্ষেত্রে সাবলীল উপস্থিতি যেমন আপনার প্রতি অন্যের নজর কাড়তে সাহায্য করে, তেমনি মুখের দুর্গন্ধ বেশ বিরক্তির উদ্রেগ করে। নিয়মিত দাঁতের যত্ন নিলেও অনেকের মুখের দুর্গন্ধ থেকে যায়। দাঁতের গোড়ায় ক্যালকুলাস জমার কারণে এটা হয়ে থাকে। ক্যালকুলাস হলো দাঁতে জমে থাকা খাদ্যকণা, লালার খণিজ অংশ আর ব্যাকটেরিয়া দেহাংশের মিলিত ফল। এটা দাঁতের গোড়ায় জমাট বেঁধে শক্ত হয়ে লেগে থাকে। 
কী করা উচিত :
সাময়িক পরিত্রান পেতে-
১. মোলায়েমভাবে আপনার জিহ্বার উপরিভাগে টুথব্রাশ দিয়ে ব্রাশ করুন। নিশ্চিত হোন যেন ব্রাশ জিহ্বার পেছন পর্যন্ত পৌছাতে পারে।
২. প্রতিদিন নূন্যতম দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন এবং ফ্লস দিয়ে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাদ্য কণা পরিস্কার করুন - বিশেষত: খাবরের পর।
৩. দ্রুত এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে মাউত স্প্রে, সুগন্ধী মশলা কিংবা মিন্ট, কমলা বা আপেল ইত্যাদি খাবার খেতে পারেন।
৪. মাউথওয়াশ দিয়ে কুলি করতে পারেন।
 অনেকদিনের সমস্যা হলে:
১. যদি আপনার মুখের দুর্গন্ধের সাথে দাঁত ব্যথাও থাকে; সেক্ষেত্রে হয়তো দাঁতে ক্ষয় কিংবা মাড়িতে ফোড়া হয়ে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে একজন ডেন্টিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন।
২. এক সপ্তাহ যাবৎ নিয়মিত দাঁত ব্রাশ, ফ্লসের সাহায্যে খাদ্যকণা পরিস্কার করা স্বত্তেও যদি আপনার মুখের দুর্গন্ধ রয়ে যায়, এবং কি কারণে এই দুর্গন্ধের উৎপত্তি সেটা বোঝা না যায় সেক্ষেত্রে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
৩. আপনার দাঁতের মাড়িতে যদি ব্যথা থাকে এবং সেখান থেকে রক্তপাত হয়, সেক্ষেত্রে সেটা মাড়ির অসুখ হয়ে থাকবে।
৪. মুখে দুর্গন্ধ হবার সাথে যদি আপনার জ্বরও থাকে, কাশি থাকে এবং কাশির সাথে সাদা থকথকে শ্লেষ্মা বের হয় সেক্ষেত্রে এটা হয়তো আপনার গলায় কিংবা ফুসফুসের কোন ক্ষত বা ফোড়া হওয়ার লক্ষণ।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন :
১. প্রতিদিন নূন্যতম দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন এবং ফ্লস দিয়ে দাঁতের ফাঁক থেকে খাদ্যকণা পরিস্কার করুন।
২. আপনার জিহ্বাতেও দিনে অন্তত একবার ব্রাশ করুন। মনে রাখবেন, জিহ্বাতে লেগে থাকা খাদ্যাংশ থেকে মুখে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
৩. আপনার দাঁত বছরে অন্তত একবার একজন ডেন্টিস্ট বা দন্ত চিকিৎসককে দিয়ে মুখের ক্যালকুলাস পরিস্কার করিয়ে নিন এবং একজন ডেন্টিস্টকে দিয়ে পরীক্ষা করে নিন।
৪. ধুমপানের অভ্যাস থাকলে, ছেড়ে দিন।
৫. চিনি কম খাবেন, কফি, এবং এ্যালকোহল বা মদ; মশলা জাতীয় খাবার যেমন রসুন, ঝাল মরিচ ইত্যাদি এবং কড়া গন্ধযুক্ত খাবার যেমন শুঁটকি মাছ ইত্যাদি খাওয়া কমিয়ে দিন।
৬. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। 

নেট থেকে

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১১

ডায়াবেটিস ও মাড়ির রোগ

ডায়াবেটিস রোগটির সাথে মাড়ির রোগের সম্পর্ক এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য। ইতিমধ্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বেশ উল্লেখযোগ্য মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। একজন ডায়াবেটিস রোগীর মুখের ভেতরে নানান ধরনের রোগ হতে পারে, যেমন- ডেন্টাল ক্যারিজ, মাড়ির রোগ, মুখের বিভিন্ন ধরনের সাদা ঘা, দাঁতের ক্ষয়, কোষ প্রদাহ, আঁকাবাঁকা দাঁত ইত্যাদি। এই সমস্ত রোগ দাঁতের বা মুখের অসুস্থতার কারণেই শুধু নয়, দেহের অন্য কোন রোগ, অপুষ্টি বা বিপাকজনিত কারণেও হতে পারে। তাই অনেক সময় দেহের অন্যান্য রোগের লক্ষণ মুখের ভেতরে লক্ষ্য করা যায়। মুখের রোগগুলোর মধ্যে ডেন্টাল ক্যারিজ ও মাড়ির প্রদাহই পৃথিবীর সব দেশে বেশী। একজন ডায়াবেটিকের যদি রক্তের শর্করা স্বাভাবিকের চাইতে বেশী থাকে তবে তার পূর্বের ধারণকৃত ডেন্টাল প্লাকের কারণে প্রদাহটি আরও বাড়তে থাকে, ফলে ডায়াবেটিকদের মাড়ির এই প্রদাহজনিত রোগ অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় বেশী দেখা যায়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের জন্য সৃষ্ট ৫টি জটিলতা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে সামপ্রতিক গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মাড়ির এই রোগকে ষষ্ঠ জটিলতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

ডায়াবেটিস রোগীদের মাড়ির প্রদাহ বেশী হওয়ার কারণ হলো -

(১) দেহে ইনসুলিন ঘাটতি হলে আমিষেরও ঘাটতি হয় ফলে কোষকলার স্বাভাবিক বৃদ্ধি, সংস্কার ও উত্পাদন ব্যাহত হয়। তাই মুখের কোন স্থানে ঘা হলে ও প্রদাহ থাকলে শুকাতে বিঘ্ন ঘটে।

(২) দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে আসে ফলে দাঁতের গোড়ায় প্লাক জমা থাকলে সহজেই মাড়ির প্রদাহ শুরু হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ রোগ হতে পারে তার কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন-

(ক) মুখের লালার সাথে গ্লুকোজ মুখে এক ধরনের অণুবীক্ষণিক জীবানুর সাথে মিশে অম্ল বা এ্যাসিড তৈরী করে। এই অম্ল দাঁতের শক্ত আবরণ এনামেলকে ক্ষয় করতে থাকে এবং ধীরে ধীরে দাঁতের ভেতরে গর্তের সৃষ্টি করে।

(খ) মুখের লালার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয় এবং পরিমাণ কমে যায় ফলে মুখের অতিরিক্ত শুকনো পরিবেশে আহারের কণাগুলো ধুয়ে মুছে যেতে পারে না। এই খাদ্য কণাগুলো দীর্ঘদিন দাঁতের গায়ে বা ফাঁকে জমে থেকে দাঁতের ক্ষয়রোধের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ডেন্টাল প্লাক কি: 
মুখে খাদ্যকণা জমে থেকে যে আবরণ সৃষ্টি হয় এর নাম ডেন্টাল প্লাক। এই ডেন্টাল প্লাক লক্ষ লক্ষ অণুবীক্ষণিক জীবাণুর সমষ্টি। মুখের দুই প্রধান রোগ ডেন্টাল ক্যারিজ ও মাড়ির প্রদাহে ডেন্টাল প্লাকই দায়ী। ডায়াবেটিস রোগীদের যে কারণে ডেন্টাল প্লাক বৃদ্ধি পেতে পারে সেগুলো হচ্ছে-

(১) ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয়ার পূর্বেই যাদের মাড়ির প্রদাহ বা দন্তাবরক প্রদাহ থাকে তাদের প্রদাহ নিঃসৃত রস বৃদ্ধি পায় ফলে ডেন্টাল প্লাকও বাড়তে থাকে।

(২) বৃহত্ ক্ষুদ্র লালা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস বৃদ্ধি পায় এবং তা খাদ্যকণার সঙ্গে মিশে প্লাক তৈরী করে।

(৩) দাঁত দিয়ে খাদ্যদ্রব্য চিবানোর কর্মক্ষমতা যাদের কমে যায় (ডায়াবেটিস রোগীর মাড়ির সংক্রমণ) তাদের মুখেও প্লাকের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য নিয়ন্ত্রিত হয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মাড়ির ও দাঁতের ধারণ শক্তি ও প্রতিরোধ শক্তি কমে যায় ফলে খাওয়ার সময় বাধা অনুভূত হয়, তাই চিবিয়ে খাবার প্রবণতাও হ্রাস পায়। এ সবের জন্যে ডায়াবেটিস রোগীদের প্লাক বৃদ্ধিও তাড়াতাড়ি হয়।

ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব সময়ই তিনটি উ-এর কথা বলতেন যথা-উ-উরবঃ, উ-উত্ঁম, উ-উরংপরঢ়ষরহব অর্থাত্ প্রতিটি রোগীই যদি নিয়মিত ব্যায়াম, ওষুধ ও রক্ত পরীক্ষা এই তিনটি নীতিকে নিষ্ঠার সাথে পালন করেন তবে তারা অবশ্যই স্বাভাবিকের কাছাকাছি ও সুন্দর জীবন যাপন করতে পারবেন। তেমনি ডায়াবেটিস রোগীদের মুখের রোগ প্রতিরোধ তিনটি উ মেনে চলা প্রয়োজন।

খাদ্য:প্রথমেই উরবঃ বা খাদ্য নিয়ে আলোচনা করা যাক। বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে শর্করা বা চিনি জাতীয় খাদ্য গ্রহণের পর মুখ পরিষ্কার না হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই এক ধরনের অম্ল বা এসিড তৈরী হয় এবং তা দাঁতকে ক্ষয় করতে থাকে। এই ক্ষয় পদ্ধতির নামই ডেন্টাল ক্যারিজ। তাছাড়া খাদ্যকণা জমে থাকায় যে আবরণ বা প্লাক সৃষ্টি হয় সেই প্লাক ধীরে ধীরে মাড়িকে আক্রমণ করে ফলে মাড়ির প্রদাহ বা দন্তাবরক প্রদাহ শুরু হয়।

ওষুধ:ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেমন নিয়মিত ইনসুলিন বা ট্যাবলেট জাতীয় ওষধ ব্যবহার করা প্রয়োজন তেমনি দন্তক্ষয় রোগ প্রতিরোধ বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কার ফ্লুরাইড ব্যবহারের মাধ্যমে। আমাদের দেশে ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেষ্টই একমাত্র সহায়ক।

প্লাক প্রতিরোধ:
১. মূল আহার গ্রহণের (সকালের নাস্তা-দুপুরের খাবার-রাতের খাবার) মধ্যবর্তী সময়গুলোতে চিনি বা শর্করা জাতীয় খাদ্য (যেমন চকলেট, বিস্কুট, লজেন্স, কেক, টফি, চুইংগাম, আইসক্রিম, মন্ডা মিঠাই) খাওয়া বন্ধ করা প্রয়োজন।

২. আহার গ্রহণের সাথে সাথেই ভালোভাবে কুলিকুচি, মুখ পরিষ্কার ও দুই বেলা সকালে ও রাতে দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন।

৩. ডিসক্লোজিং ট্যাবলেট পানিতে গুলে নিয়ে ঐ পানিতে কুলিকুচি করলে খাদ্যকণাগুলোর রঙ পরিবর্তন হবে (লাল রঙ) তখন প্লাক সনাক্ত করে খাদ্যকণাকে ব্রাশ বা মেছওয়াক করলে সহজেই পরিষ্কার করা যায়।

ডেন্টাল ক্যারিজ প্রতিরোধ: ১.নিয়মিত দুই বেলা সকালে ও রাতে (আহারের পর) ফ্লুরাইডমিশ্রিত টুথপেষ্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

২. ফ্লুরাইড ট্যাবলেট, ফ্লুরাইড জেল অথবা ফ্লুরাইড মিশ্রিত পানি গ্রহণ করা (অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিমাণে)। পানিতে সাধারণত: ফ্লুরাইডেশন করা হয় ১ মিলিয়ন এর মধ্যে ১ ভাগ ফ্লুরাইড যুক্ত করে। কারণ নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশী ফ্লুরাইড গ্রহণ দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক।

দাঁত ও মাড়ির রোগ প্রতিরোধ শৃংখলা :

১. দুইবেলা সকালে ও রাতে (আহারের পর) দাঁত পরিষ্কার-এর সময় আঙুল এর সাহায্যে অন্তত ২/৩ মিনিটকাল মাড়ি মালিশ করা, যাতে মাড়ির ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা খাদ্যকণাগুলো চাপে বেরিয়ে আসে ও রক্ত সঞ্চালন বেগ স্বাভাবিক থাকে।

২. রোগ প্রতিরোধ আহারের মধ্যবর্তী সময়ে শর্করা বা চিনি জাতীয় খাদ্য পরিহার করা প্রয়োজন (খেলেও সাথে সাথে দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করে ফেলা)।

৩. নিয়মিত একজন দন্তরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে (বছরে দুইবার ৬ মাস অন্তর) দাঁত, মাড়ি ও মুখগহ্বরের অবস্থা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। এর ফলে প্রাথমিক অবস্থায় রোগের লক্ষণ ধরা পড়তে পারে এবং অল্প ও সহজ চিকিত্সায় ভালো হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু মাড়ির প্রদাহ বা দন্তক্ষয় রোগ অতিমাত্রায় বাড়তে থাকলে চিকিত্সা জটিল হয় এবং ব্যয় দ্বিগুণ হয়। পরবর্তীতে দাঁত হারানোর সম্ভাবনাও বেশী থাকে। যদি ডায়াবেটিস রোগীরা এই ত্রিরত্নের (তিনটি ডি) সাথে পরিচিত হয়ে যান এবং নিয়মিতভাবে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখেন তবে দাঁত ও মাড়ি সব সময় সুস্থ থাকবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য দাঁত বা মুখের যত্নের কয়েকটি সতর্কীকরণ ইঙ্গিত:

১.সর্ব প্রথমেই ডায়াবেটিস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা প্রয়োজন। রক্তের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখাই হচ্ছে দাঁত ও মাড়ির রোগ প্রতিরোধের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ। মাড়ির অতিরিক্ত প্রদাহ অনেক সময় ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রিত রাখতে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি করে। যদি কোন ভাবে কখনো দাঁত ও মাড়ির প্রদাহ শুরু হয় তবে ঐ ঘা শুকাতে সার্জন এর কাছ থেকে আপনার মুখের যত্নের জন্যে কি কি করা প্রয়োজন তাও জেনে নেয়া প্রয়োজন।

২. প্রতি ছয় মাস অন্তর একজন ডেন্টাল সার্জনকে দিয়ে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ডেন্টাল সার্জনকে অবশ্যই আপনার ডায়াবেটিস রোগের কথা বলে রাখবেন। যাতে আপনার দাঁত ও মাড়ি সুস্থ থাকে সে জন্য ডেন্টাল সার্জন-এর কাছ থেকে আপনার মুখের যত্নের জন্যে কি কি করা প্রয়োজন তাও জেনে নেয়া প্রয়োজন।

৩. প্রতিদিন দুইবেলা সকালে ও রাতে দাঁত ব্রাশ এবং মাড়ির জন্যে প্রয়োজন একটি নরম টুথপেষ্ট। ব্রাশটিকে উপরের পাটির দাঁত থেকে নিচের পাটির দাঁত ব্রাশ আবার নিচের পাটি থেকে উপরের পাটির দিকে ব্রাশ, এভাবেই ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার করা বিজ্ঞান সম্মত।

৪. সম্প্রতি গবেষণায় দেখা যায় যে, টুথ পেষ্ট এর বদলে ডেন্টাল ফ্লস (সূতা) দিয়ে দাঁতের ভিতরের ময়লা পরিষ্কার করা অনেক উপকারী অতএব দুই দাঁতের ফাঁক থেকে খাদ্যকণা বের করে দেবার জন্যে ডেন্টাল ফ্লস বা এক ধরনের সূতা ব্যবহার করা ভালো।

৫. তবে একটি কথা বলে রাখা ভালো যে, কখনো যদি আপনার মাড়ি থেকে দাঁত ব্রাশ এর সময় বা খাবার খাওয়ার সময় রক্ত বের হয় তবে তা মাড়িতে প্রদাহের পূর্ব লক্ষণ কিনা বুঝবার জন্য অবশ্যই একজন ডেন্টাল সার্জন-এর পরামর্শ গ্রহণ ও স্কেলিং করা প্রয়োজন। মনে রাখবেন প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধই শ্রেয়, সস্তা ও নিরাপ
দ। 
সুত্রঃ ইন্টারনেট থেকে

শুক্রবার, ৮ এপ্রিল, ২০১১

দাঁতের যত্নে করনীয়

অনাবিল সুন্দর হাসির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দাঁত। শুধু কি সৌন্দর্য, মুখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও দাঁতের যত্ন নেওয়া জরুরি। শুধু দু'বেলা দাঁত মাজলেই তো দাঁতের যত্ন শেষ হয়ে যায় না, জানতে হবে আরও কিছু।
কোমল পানীয় কোমল নয় : কোমল পানীয় দাঁতের দাগ ফেলে সৌন্দর্য নষ্ট করে। দাঁতকে সুরক্ষা দেয় যে এনামেল তারও ব্যাপক ক্ষতি করে। কোমল পানীয় খেলে তাই মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। আর সুযোগ থাকলে করে ফেলুন ব্রাশ।
আপেল আর গাজরের যত গুণ : আপেলকে বলা হয় প্রাকৃতিক টুথ ব্রাশ। খাবারের শেষে দাঁত ব্রাশ সম্ভব না হলে বিকল্প হিসেবে আপেল খেতে পারেন। আপেলের মতো গাজরের আছে দাঁত পরিষ্কারের প্রাকৃতিক ক্ষমতা। এগুলো খাবার অভ্যাস গড়ূন। দাঁত যেমন পরিষ্কার থাকবে, পুষ্টি চাহিদাও মিটবে।
সবুজ চায়ের আসল তৃপ্তি : সবুজ চায়ে থাকে পলিফেনল, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। উপাদান দুটি দাঁতের গায়ে প্লাক জমতে বাধা দেয়। ফলে দাঁত বেঁচে যায় সব অনাবশ্যক ক্ষতি থেকে।
সাঁতারুদের যত বিপদ : সুইমিংপুলের ক্লোরিন দাঁতে অনাবশ্যক দাগ যেমন ফেলে, দাঁত ক্ষয়েও ওস্তাদ ক্লোরিন। নিয়মিত সাঁতারুদের তাই সাঁতার শেষ করেই করতে হবে দাঁত ব্রাশ। আর পুলের জল মুখে না নেওয়ারও অভ্যাস করতে হবে।
স্ট্র ব্যবহার করুন নিয়মিত : কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক কিংবা জুস। এগুলোতে থাকে সাইট্রিক আর ফসফরিক এসিডের মিশেল। এগুলো দ্রুত ক্ষয় করে দাঁতের এনামেল। মুখরোচক পানীয় গ্রহণের সময় ব্যবহার করুন স্ট্র।
কমলার রসে যত গুণ : ভিটামিন 'সি'-এ সমৃদ্ধ কমলা। তৃষ্ণা মেটাতে বেছে নিন ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফলগুলো। ভালো থাকবে মাড়ি এবং সুস্থ থাকবে দাঁত।

দাঁতের রোগ

দাঁতের সাথে আঁতের সর্ম্পক আছে এ কথা কম বেশি সবাই শুনেছেন । আর আজ সাধারণ ভাবে পরিচিত দাঁতের পোকা নিয়ে আলোচনা করব । তবে আলোচনার শুরুতেই বলে দিতে চাই দাঁতে পোকা হয় না; হয় দন্তক্ষয় । দাঁতের যে রোগটি নিয়ে জনমনে সবচেয়ে ভুল ধারণা আসন গেড়ে বসেছে তার নাম হলো দাঁতের ক্ষয় রোগ। দন্ত চিকিৎসকরা একে ডেন্টাল ক্যারিজ বলে থাকেন কিন্তু অনেকেই একে দাঁতের পোকা হিসেবে অভিহিত করেন। অথচ দাঁতে কোনো পোকা হয় না বরং এসিডের কারণে ডেন্টাল ক্যারিজ মানে দাঁতের ক্ষয়রোগ ঘটে থাকে।
দন্তক্ষয়ের ফলে দাঁতে যে ধরনের ক্ষুদ্র গর্তের সৃষ্টি হয় সেখান থেকে পোকা বের করে দেখানো হয় অথচ কথিত এই পোকার দাতের ওই ক্ষুদ্র গর্তে মোটেও জায়গা হওয়ার কথা নয় । অথচ অনেকেই এই অতি ক্ষুদ্র গর্ত থেকেই এক বা একাধিক পোকা বের করে দেখান । আমাদের গা গরম থাকে । গরম থাকে আমাদের মুখগহববরও। কাজেই আমাদের মুখের মধ্যে যে স্বাভাবিক তাপ থাকে অথবা আমরা যখন গরম কোনো খাবার দাবার বা চা, দুধ ইত্যাদি পান করি সে অবস্হায় ওই ধরনের পোকা বেঁচে থাকতে পারবে না। দাঁতের রোগ কেবল আমাদের দেশে হয়না পৃথিবীর সব দেশের লোকেরই দন্ত বা মাড়ি সংক্রান্ত রোগের জন্য অনেক ক্ষেত্রে দাঁত উঠিয়ে ফেলতে হয় । বিভিন্ন ডেন্টাল হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এ ধরনের দাঁত উঠিয়ে ফেলার কাজ নিয়মিত হচ্ছে । অথচ উঠিয়ে আনা দাঁতের মধ্যে কেউ কোনোদিন কোনো পোকা দেখতে পায় নি । আলোচনার শুরুতেই তাই স্পষ্ট ভাষায় আমরা বলে দিতে চাই, জীবিত মানুষের দাঁতে কখনো কোনো অবস্থায়ই পোকা হয় না । দাঁতে যা হয় তার নাম দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ । অতি ধীরে ধীরে অব্যাহত গতিতে এই রোগের বিকাশ হয় । কেনো এই রোগ দেখা দেয় ? হ্যাঁ সে কথার জবাব দিতে যেয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, মুখে জমে থাকা খাদ্যদ্রব্য বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার মুখগহ্বরের বিভিন্ন রোগজীবাণু ভেংগে ফেলে যাকে বিপাক ক্রিয়া বলা হয়। আর এই ক্রিয়ার উপজাত হিসেবে ল্যাকটিক এসিড, এসিটিক এসিড, পাইরোভিক এসিড সহ নানা ধরনের এসিড তৈরি হয়। এ সব ফলে আমাদের মুখের ভেতরে এসিডের আক্রমণ ঘটে । এসিডের এই আক্রমণের ফলে দাঁত থেকে ক্যালসিয়াম, ফসফরাসের মত গুরুত্বপুর্ণ খনিজসমুহ দাঁতের উপরিভাগের অংশ এনামেল থেকে বের হয়ে যায়। আর এভাবেই দাঁতের ক্ষয়রোগ দেখা দেয়।

এই রোগকে অনেকেই দাঁতের পোকা বলে অভিহিত করে থাকেন। তবে বংশগত কারণেও দাতের ক্ষয়রোগ হতে পারে । মুখের অস্বাস্থ্যকর অবস্থা অর্থাৎ নিয়মিত মুখ পরিস্কার করা না হলে এই রোগ দেখা দেয়। এই বিবরণ থেকে আমরা বুঝতে পারছি যে দাঁতে কোনো পোকা হয় না। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অন্যতম পুরান এবং অভিজাত দন্ত চিকিৎসা কেন্দ্র ঢাকা ডেন্টার ক্লিনিকের মালিক ডা.আবদুল্লাহ খানের সাথে আমরা দন্ত রোগের ব্যাপারে আলাপ করেছি । নিয়মিত দাঁত পরিস্কার করা হলে মুখে স্বাস্থ্য বজায় থাকে । প্রথমত রাতে শোয়ার সময় অবশ্যই দাঁত পরিস্কার করতে হবে । আর সকালে নাস্তা খাওয়ার পর দাঁত পরিস্কার করতে হবে । কোনো অবস্থায় এই কাজে গাফলতি করা চলবে না। দাত পরিস্কার করার জন্য এলোমেলো ভাবে ব্রাশ চালালে হবে না। বরং প্রতিটি দাঁতের গোড়ার ময়লা যেনো বের করে আনতে পারে সেজন্য সঠিক ভাবে ব্রাশ চালাতে হবে । এই কাজটি সঠিক ভাবে করা না হলে দাঁত পরিস্কার করা উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে না । ফলে দাঁতের ফাকে জমে থাকা ময়লা থেকে দাঁত ক্ষয় রোগের সূচনা ঘটনার মতো কারণ দেখা দিতে পারে।

যাদের মাত্র দাঁত উঠছে তাদের দাঁতের যত্ন নিতে হবে কিনা ? এমন একটি প্রশ্ন অনেকের মনে দেখা দেয়। আবার অনেকেই শিশুদের দাঁতের যত্নের ব্যাপারে আদৌও মনোযোগী হন না। অথচ বাস্তবতা হলো ছোট শিশু যার মুক্তার দানার মত দাঁত যার মাত্র গজাচ্ছে সে দাঁতেও ক্ষয় রোগ আক্রমণ করতে পারে। আর এই ক্ষয় রোগের মূল কারণটি হলো সময় মতো সঠিক ভাবে দাঁত পরিস্কার না করা। বিশেষ করে শিশু যদি দুধ খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়ে তা হলে তার দাতের ফাকে আটকে থাকা দুধ এবং ব্যাকেটেরিয়ার কারণে দন্তক্ষয় দেখা দিতে পারে । শিশু নিজে দাঁতের যত্ন নিতে পারে বলে শিশুর অভিভাবক অর্থাৎ পিতা মাতার এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া একান্ত ভাবে প্রয়োজন। তা হলে শিশুর দাঁত শেষ পর্যন্ত দন্তক্ষয় রোগের আক্রমণের শিকার হবে। কষ্ট পাবে আদরের ছোট্টমনিটি। দন্তক্ষয়ের লক্ষণগুলো কি? হ্যাঁ এমন প্রশ্নের জবাব দিতে যেয়ে ডা. আবদুল্লাহ খান আমাদের বলেছেন, দন্তক্ষয়ের প্রথম দিকে এক বা একাধিক দাঁত স্পর্শ কাতর হয়ে উঠতে পারে, দাঁত শির শির করতে পারে। এরপর দাতে ছোট আকারের দাগ বা ফাটল দেখা দিতে পারে। তবে এ সময়ও যদি চিকিৎসকের কাছে কেউ না যান, তা হলে অবস্থার আরো অবনতি ঘটতে থাকবে। দাঁতে ব্যাথা হতে থাকবে। বিশেষ করে রাতের ঘুম নষ্ট হওয়ার মতো ব্যাথা হতে থাকবে। এরপর চিকিৎসকের কাছে না গেলে ক্ষয় দাঁতের ভেতরের মজ্জাকে আক্রমণ করবে। দাঁতের এই মজ্জাকে চিকিৎসকরা পাল্প বলে থাকেন। দন্তক্ষয়ের এ পর্যায়ে যে ব্যাথা হবে তা বেশ যন্ত্রনাদায়ক হয়ে উঠবে। এরপর দাঁতে সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং দাতে পূঁজ জমতে পারে ।এ ছাড়া ক্যারিজ বা দন্তক্ষয়ের কারণে আর সে সব জটিলতা দেখা দিতে পারে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে দাঁতের মাড়ি বা চোয়ালে সংক্রমণ ঘটা, ভাঙ্গা দাঁতের কারণে জিভে ঘা হওয়া । জিভের এই ঘা মোটেও ভাল কিছু নয়। এ ছাড়া দাঁতে সংক্রমণের কারণে হৃৎরোগ হতে পারে। দন্তক্ষয়ের জন্য চিকিৎসা হিসেবে ফিলিং এবং রুট ক্যানেল করা হয়। এ সব চিকিৎসার কোনোটাই ব্যয়বহুল নয়। কেবল চিকিৎসা সময় মতো শুরু করতে হয়।
কিন্তু দন্তরোগের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাঁত ফেলে দেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। অনেকেই মনে করে, দাঁত ফেলে দিলে চোখের জ্যোতি কমে যায়। প্রকৃতপক্ষে ব্যাপারটা অন্যরকম। কতগুলো ভালো আপেলের সঙ্গে যদি একটি খারাপ আপেল থাকে তবে খারাপ আপেলটি অন্য ভালো আপেলগুলোকেও ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। তেমনি একটি খারাপ দাঁত আশপাশের ভালো দাঁতকে নষ্ট করে ফেলতে পারে। এছাড়া একটি খারাপ দাঁতে সাধারণত অসংখ্য জীবাণু থাকে। এসব জীবাণু শরীরের রক্তের সঙ্গে মিশে যায় এবং শরীরের গুরুত্বপুর্ণ অংশ যেমন চোখ, কান, কিডনি, হৃৎপিন্ড ইত্যাদিতে মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করে। কাজেই খারাপ দাঁত পুষে রেখে অযথা ক্ষতির আশংকা বাড়ানো মোটেপও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আর সে দাঁত ফেলে দিলে চোখের জ্যোতি কমে যায় এ ধরণের লোক কথার কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই।