ডায়াবেটিস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ডায়াবেটিস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১২

ডায়াবেটিস এবং এক্সারসাইজ

ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে ভুগছে না এমন পরিবারের সংখ্যা দিনে দিনে খুব কমে আসছে, যদি আপনি এমন পরিবারের সদস্য না হয়ে থাকেন তবে আপনি ভাগ্যবানদের একজন বলাই যায়, কেননা এই ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে শরীরের প্রধান প্রধান অঙ্গকে আক্রমন করে!

আমাদের টার্গেট হবে, যদি ডায়াবেটিস হয়েও যায়, তবুও রক্তে গ্লুকোজ এর লেভেল মেইন্টেইন করে একে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা, কেননা

রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০১১

ডায়াবেটিক রোগীর রোজা পালন

 
পৃথিবীতে প্রায় দেড়শ' কোটি মুসলমান আছে, যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৮ থেকে ২৫%। বর্তমানে পৃথিবীতে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৪.৬ মিলিয়ন। ২০২০ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৫০০ মিলিয়নে। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মানুষরা রোজা রাখে সাধারণত। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৪.৬% ডায়াবেটিসে ভুগছে। সে হিসাবে দাঁড়াচ্ছে, প্রতি রমজান মাসে ৪-৫ কোটি ডায়াবেটিক রোগী রোজা রাখছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীদের ৪৩% এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগীদের ৭৯% রমজান মাসে রোজা রাখে। আমাদের দেশে সেহরি ও ইফতারের মধ্যবর্তী সময় সর্বোচ্চ ১৬ ঘণ্টা হতে পারে। এ দীর্ঘ সময় একজন ডায়াবেটিক রোগীর না খেয়ে থাকা উচিত হবে কি-না তা নিয়ে অনেক বছর ধরে বহু বিতর্ক হয়েছে। কোরআন শরিফে রোগাক্রান্তদের রোজা রাখা থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে। অন্য যে কোন ধরনের অসুখের চেয়ে ডায়াবেটিস নিয়মিত ও পরিমিত খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। ডায়াবেটিক রোগীর বিপর্যস্ত বিপাকীয় তন্ত্রের কারণে দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকলে শারীরিক নানা সমস্যা হতে পারে। এর পরও কিছু ডায়াবেটিক রোগী রমজান মাসে রোজা রাখতে জেদ করেন। কিন্তু কোনো ডায়াবেটিক রোগী যদি ধর্মীয় প্রচণ্ড আগ্রহের কারণে রোজা রাখতে চান তবে তাকে নিষেধ করাও কারও পক্ষে সম্ভব নয়। এখানে আমরা ডায়াবেটিক রোগীর রোজা রাখার কারণে যেসব সমস্যা হতে পারে এবং তা থেকে যতটা সম্ভব সতর্ক থাকার পদ্ধতি আলোচনা করা হলো।
রোজা রাখার সময় ডায়াবেটিক রোগীর ঝুঁকিসমূহ :
রক্তের গল্গুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া
অনেকক্ষণ যাবৎ খাদ্য গ্রহণে বিরত থাকলে রক্তে গল্গুকোজের পরিমাণ কমতে থাকে। রক্তে গল্গুকোজের পরিমাণ ডায়বেটিক রোগীর রোজা রাখার সময় এতটাই কমে যেতে পারে যে, তাকে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত করতে হতে পারে। টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে এরূপ হাইপোগল্গাইসেমিয়া হওয়ার আশঙ্কা ৪.৭ গুণ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ৭.৫ গুণ বেশি।
রক্তে গল্গুকোজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া
রোজা রাখার কারণে টাইপ-১ ও টাইপ-২ উভয় ধরনের ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রেই রক্তে গল্গুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কিছুটা ঝুঁকি থাকে। তবে টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে তা মারাত্মক হতে পারে।
ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস
টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্তের গল্গুকোজ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়া বা কিটোনবডি বেড়ে যাওযার কারণে সংকটাপন্ন অবস্থা হতে পারে, বিশেষ করে যাদের রক্তের গল্গুকোজ রোজা শুরুর আগে সঠিক মাত্রায় ছিল না।
পানিশূন্যতা ও থ্রম্বোসিস
দীর্ঘসময় পানি বা পানীয় জাতীয় খাদ্য গ্রহণে বিরত থাকার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) দেখা দিতে পারে। আর গরম ও বেশি আর্দ্র আবহাওয়ায় পানিশূন্যতা আরও প্রকট হতে পারে। যাদের রোজা রেখে কঠোর শারীরিক শ্রম দিতে হয়, তাদেরও পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া রক্তে বেশি মাত্রায় গল্গুকোজ থাকলে শরীর থেকে পানি ও খনিজ পদার্থ বের হয়ে যাওয়ার হার অনেক বেড়ে যায়। এতে করে বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘুরতে পারে। বিশেষত যাদের ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিয়েছে তাদের এ সময় সহসা জ্ঞান হারানো, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া, আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া, হাড় ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি ঘটতে পারে। দেহের পানিশূন্যতার কারণে রক্ত জমাট বা থ্রম্বোসিস হতে চোখের রেটিনার কেন্দ্রীয় শিরা বন্ধ হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনা ঘটেছে মধ্য প্রাচ্যের দেশসমূহে।
এ ক্ষেত্রে করণীয় বিষয় হলো
ঁপ্রত্যেক রোজাদার ডায়াবেটিক রোগীর অবস্থা তার স্বাতন্ত্র্যসহ বিবেচনা করতে হবে।
ঁঘন ঘন রক্তের গল্গুকোজের মাত্রা দেখতে হবে। প্রতিদিন বেশ ক'বার (কমপক্ষে তিন বার) রক্তে গল্গুকোজের মাত্রা দেখতে হবে। শেষভাগে অবশ্যই রক্তের গল্গকোজ দেখার ব্যবস্থা থাকতে হবে। আর টাইপ ১ ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে খুব সতর্কতার সঙ্গে রক্তের গল্গুকোজ লক্ষ্য রাখতে হবে।
ঁপ্রতিদিনের খাদ্যের পুষ্টিমান অন্যান্য সময়ের মতোই রাখার চেষ্টা করতে হবে। স্বাভাবিক দৈহিক ওজন ধরে রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে। গবেষণায় দেখা যায় ২০-২৫% ডায়াবেটিক রোগীর দৈহিক ওজন কমে বা বাড়ে। ইফতারে চর্বিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং তেলে ভাজা খাবার গ্রহণ করা থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকতে হবে। কেননা এসব হজম হতে সময় লাগবে। কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীর ইফতারের পরপরই যত দ্রুত সম্ভব রক্তে গল্গুকোজ সরবরাহ করার ব্যবস্থা করতে হবে। সে জন্য জটিল শর্করা জাতীয় খাবার সেহরির সময় খেতে হবে। আর ইফতারে সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে। প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে হবে। সেহরির খাবার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে খেতে হবে এবং এরপর প্রচুর পানি পান করা বাঞ্ছনীয়।
ঁশারীরিক শ্রম বা ব্যায়াম, স্বাভাবিক শারীরিক কর্মকাণ্ড চালানো যেতে পারে এ সময়। তবে খুব বেশি কঠোর শ্রম বা ব্যায়াম না করাই ভালো। এতে করে হাইপোগল্গাইসেমিয়া হতে পারে। আর কঠোর শ্রম বিকেল বেলায় তো করা যাবেই না। আর তারাবির নামাজ পড়লে তাকে শারীরিক শ্রম হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। কিছু ডায়াবেটিক রোগী (বিশেষত টাইপ ১), যাদের রক্তের গল্গুকোজ ঠিকমতো রাখা যাচ্ছে না, তাদের ক্ষেত্রে হাইপোগল্গাইসেমিয়ার ঘটনা প্রায়ই মারাত্মক হয়।
ঁপ্রতিটি ডায়াবেটিক রোজাদারকে এ কথাটি খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে যে, যখনই হাইপোগল্গাইসেমিয়ার কোনো লক্ষণ শরীরে দেখা দেয় এরপর যতটা সম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে গল্গুকোজ/চিনি/মিষ্টি কোনো খাদ্য/সরবত ইত্যাদি যে কোনো একটি খেয়ে নিতে হবে। যাদের হাইপোগল্গাইসেমিয়া হয়েছে, তারা তো খুব সহজেই এর প্রাথমিক উপসর্গ চিনতে পারবে। আর যাদের তেমন অভিজ্ঞতা হয়নি, তাদের বুক ধড়ফড়ানি, মাথা ফাঁকা ফাঁকা লাগা, ঘাম হওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, চোখে অন্ধকার দেখা, মাথা ঘোরা ইত্যাদির এক বা একাধিক লক্ষণ দেখা দেবে। তখন হাইপোগল্গাইসেমিয়া (রক্তের গল্গুকোজ এ সময় সাধারণত ৩.৩ মিলিমোল/লিটার) হয়েছে ধরে নিতে হবে। আবার দিন শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যদি রক্তের গল্গুকোজ ৩.৯ মিলিমোল/লিটার বা তার চেয়ে কমে যায় তাহলেও কিছু খেয়ে নেওয়া জরুরি। আর যারা ইনসুলিন, সালফুনাইল ইউরিয়া ও মেগিল্গটিনইড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করছেন তাদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটার আশঙ্কা বেশি। আবার রক্তের গল্গুকোজ ১৬৭ মিলিমোল/লিটারের বেশি হলেও রোজা রাখা সম্ভব হবে না।
প্রাক-রমজান মূল্যায়ন
যেসব ডায়াবেটিক রোগী সব ঝুঁকির কথা জেনেও রোজা রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তাদের রোজা শুরুর কমপক্ষে ১ মাস আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। এর মধ্যে আছে খালি পেটে ও খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর (মোট ৬ বার) রক্তের গল্গুকোজ, খালি পেটে রক্তের লিপিড, লিভার, কিডনি ও হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং এইচবিএ১সি ইত্যাদি পরীক্ষা করে নিতে হবে।
সবাইকে নিজের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। চিকিৎস
রা এ ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করবেন।  
নেট থেকে

বুধবার, ২ মার্চ, ২০১১

হাইপোগ্লাইসেমিয়া - ডায়াবেটিস রোগের হঠাৎ করে দেখা দেয়া সমস্যা

“আর দশটা সাধারন রাতের মতই ছিলো সেই রাতটা, মিসেস কামাল পরদিনের যাত্রার জন্য সব কিছু গুছিয়ে নিলেন, এবারের ট্যুরটা বেশ দেরিতেই হচ্ছে, মাঝে তার ছেলে মেয়েদের পরীক্ষা গেলো আর হঠাৎ বেড়ে যাওয়া অফিসের চাপও আরেকটা ব্যপার, যাই হোক, রাতের ট্রেনে চট্টগ্রাম, সেখানে ফয়েজ লেক ঘুরে আসল যাত্রা কক্সবাজার, মি কামাল ও এবার বেশ কিছুদিন পর ছুটি পেলেন বলে কথা, রাতে খাওয়ার আগে মিসেস কামাল ঔষধ খেয়েই খেতে বসবেন (ডায়াবেটিস এর ঔষধ খেয়ে নেয়াটা এখন তার স্বাভাবিক জীবনের অংশে পরিনত হয়েছে), ঠিক এসময় একটা ফোন, অফিসের কলিগের ফোন, - মেইলটা নাকি যায়নি, এখনি পাঠাতে হবে, তাছাড়া সামনের এক সপ্তাহ যে পাঠাতে পারবেন না!!

অগত্যা খেতে না বসে বসে পড়তে হলো ডেস্কটপের সামনে, মিনিট দশের মধ্যেই মেইল পাঠানো হয়ে গেলো, কিন্তু ট্রেন তো আর ১০ মিনিট দেরি করে ছাড়বে না, তাই না খেয়েই তিনি পরিবার সহ রওনা দিলেন কমলাপুরের উদ্দেশ্যে।

স্বাভাবিক ভাবেই ট্রেন চললো, সবাই মিলে ট্যুর নিয়ে নানাবিধ আলোচনা... এভাবেই সবাই কখন যেন ঘুমিয়ে গেল, মি কামাল এর ঘুম টা গভীর রাতে হঠাৎ ভেঙ্গে ওঠে, ঘুম ভাঙ্গতেই তিনি হতবাক!! উনার সামনে মিসেস কামালের ঘুমের মাঝেই খিচুনির মত হচ্ছে, ধরে ধাক্কা দিতেই দেখেন ঘামে পুরা শরীর ভিজে আছে... মি কামাল কিছু বুঝে উঠতে পারলেননা, ধাক্কা দিয়ে স্ত্রীর ঘুম ভাঙ্গালেন- এবার আরো খারাপ কিছুর সন্মুখীন হলেন, মিসেস কামাল যে কাউকেই চিনিতে পারছেন না, বরং কি সব উল্টা পাল্টা বকছেন!!!!!...

এভাবেই কিছুক্ষন চলে যায়, সবাই মিলে সামনের স্টেশানে নেমে পড়েন, মিসেস কামাল কে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান তারা, সেখানে চিকিৎসার পর সকালের দিকে সুস্থ হয়ে উঠেন তিনি, কিন্তু এবারের মতো তাদের ট্যুরটা আর হয় না, পরিবার সমেত তারা ঢাকা ব্যাক করেন, আরো পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসার জন্য!!!”

উপরে বর্ণিত ঘটনা এবং চরিত্র গুলো কাল্পনিক হলেও এমন ঘটনা ডায়াবেটিস রোগীদের জীবনে অনেকবারই ঘটে থাকে, অথচ সাধারন কিছু সচেতনতাই এমন সব অবস্থা থেকে তাদের রক্ষা করতে পারে!!!

~ ~ ~


ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যে রোগ চিকিৎসার মাধ্যমে মুক্ত করা যায় না, বরং যা একটি নির্দিষ্ট সীমার ভেতর রেখে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হয়।

ডায়াবেটিস এর সমস্যা ২ ভাবে হয় – ১ম হঠাৎ করে কিছু সমস্যা হয়, যার ব্যপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়, ২য়, ধীরে ধীরে শরীরে কিছু সমস্যা তৈরি হয়।

যদিও দুই ধরনের সমস্যাই সমান ভাবে গুরুত্ব দিতে হয়, তবুও হঠাৎ যেই অসুস্থতা তৈরি হয়, তার সমাধান দ্রুতই করতে হয়!!

# প্রধানত কি কি ধরনের অসুস্থতা হঠাৎ করে দেখা দেয়??

হাইপোগ্লাইসেমিয়া
ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস
হাইপার ওসমোলার নন কিটোটিক কোমা


# হাইপোগ্লাইসেমিয়া -
হাইপোগ্লাইসেমিয়া ডায়াবেটিস রোগীদের কমপ্লিকেশান গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হওয়া কমপ্লিকেশান।

হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলতে বুঝায় রক্তে গ্লুকোজের পরিমান সাধারন মাত্রার থেকে নিচে নেমে যাওয়া, সাধারনত রক্তে গ্লুকোজ এর পরিমান ৩ mmol/L এর নিচে নেমে যাওয়াকে আমরা হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলি!!

# উপসর্গ -
মাথা ব্যাথা হওয়া
কনফিউশান
বুক ধড়ফড় করা
বেশি ক্ষুধা লাগা
বমি বমি ভাব হওয়া
ঘাম হওয়া
টেনশান হওয়া
অস্থিরতা
কাউকে চিনতে না পারা
জ্ঞান হারিয়ে ফেলা

সকল ক্ষেত্রে সব উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। তবে সাধারনত হাইপোগ্লাইসেমিয়াতে উপসর্গ দেখা যায়।

# কারন -

কোনো বেলার খাবার না খাওয়া
প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডায়াবেটিস – এর ঔষধ কিংবা ইন্সুলিন গ্রহন করা
হঠাৎ অতিরিক্ত পরিশ্রম করা
কোনো সময় খুব ক্ষুধা পাওয়ার পরও খাবার না খাওয়া

# চিকিৎসা -

হাইপোগ্লাইসেমিয়া-এর চিকিৎসা খুব সহজ, তবে যেটা বেশি জরুরি এক্ষেত্রে তা হচ্ছে সময়, যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা গ্রহন করা যায়, ফলাফল ততই ভালো!

দ্রুত রোগীকে গ্লুকোজ খায়িয়ে দেয়া
গ্লুকোজ পাওয়া না গেলে চিনি বা মিষ্টি ধরনের কিছু কাইয়ে দেয়া
যদি রোগীর জ্ঞান না থাকে বা কোনো ভাবে খাওয়ানো সম্ভব না হয়, তবে ইনজেকশানের মাধ্যমে তার চিকিৎসা করতে হবে - ২ অ্যাম্পুল ২৫% গ্লকোজ ইনজেকশান দিয়ে দিতে হবে যত দ্রুত সম্ভব।

*** সচেতনতাই যথেষ্ট ***

হাইপোগ্লাইসেমিয়া এর সমস্যা এড়িয়ে চলার জন্য সচেতনতাই যথেষ্ট!!
ডায়াবেটিস এর রোগীরা সব সময় কাছে গ্লুকোজ রাখতে পারেন, না হলে মিষ্টি জাতীয় দ্রব্যাদি যেমন চকোলেট ও রাখা যেতে পারে - যেন হঠাৎ প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহার করা যায়!!

ডায়াবেটিস এর চিকিৎসার জন্য শৃক্ষলা মাফিক জীবন যাপনই যথেষ্ট!
আর ডায়াবেটিস এর সবচেয়ে কমন সমস্যা - হাইপোগ্লাইসেমিয়ার চিকিৎসার জন্য সঠিক জ্ঞান আর সচেতনতাই যথেষ্ট!!



শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১১

ডায়াবেটিস নিয়ে ভুল ধারণা

 
প্রচলিত ভুল ধারণা : চিনি বেশি খেলে ডায়াবেটিস হয়।
বাস্তব সত্য : না, এটি সত্য নয়। জিনগত এবং কিছু অজানা প্রভাবক টাইপ-১ ডায়াবেটিসের কারণ। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কারণ জিনগত এবং জীবনযাত্রার ধরন। ওজন বেশি হলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে এবং বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার, তা চিনি বা চর্বি যেখান থেকেই আসুক না কেন, ওজন বাড়ায়। কারও যদি ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস থাকে, তবে তার উচিত হবে স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন ঠিক রাখা।
প্রচলিত ভুল ধারণা : শুধু বেশি ওজনের বা মোটা মানুষই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়।
বাস্তব সত্য : মাত্রাতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার একটি ঝুঁকি মাত্র, এক্ষেত্রে অন্যান্য ঝুঁকি, যেমন পারিবারিক ইতিহাস, জাতিসত্তা, বয়স ডায়াবেটিসে আক্তান্ত হওয়ার জন্য নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেকেই এই ধারণা পোষণ করেন যে, বেশি ওজনই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার একমাত্র ঝুঁকি। অনেক মোটা মানুষেরই ডায়াবেটিস নেই। আবার অনেক ডায়াবেটিক রোগীর ওজনই স্বাভাবিক, এমনকি স্বাভাবিকের চেয়ে কম।
প্রচলিত ভুল ধারণা : ডায়াবেটিক রোগীদের বিশেষ ডায়াবেটিক খাবার খেতে হয়।
বাস্তব সত্য : ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য একটি খাবার তালিকা সুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকা থেকে ভিন্নতর কিছু নয়। কম চর্বি, পরিমিত লবণ আর চিনি; এর সঙ্গে পূর্ণদানাযুক্ত খাদ্য, শাকসবজি ও ফলমূল_ এগুলোর মিশ্রণই হতে পারে আদর্শ খাবার। তথাকথিত ডায়াবেটিক খাবারে অতিরিক্ত কোনো উপকার পাওয়া যায় না।
প্রচলিত ভুল ধারণা : ডায়াবেটিক রোগী মিষ্টি জাতীয় কোনো কিছু বা চকোলেট খেতে
পারবে না।
বাস্তব সত্য : যদি স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য তালিকার সঙ্গে উপযুক্ত শরীরচর্চার যোগ ঘটানো যায়, তবে ডায়াবেটিক রোগীরাও মিষ্টি জাতীয় খাবার ও ফলাহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে ডায়াবেটিক রোগী এবং সুস্থ মানুষের মধ্যে কোনো সীমারেখা নেই। মিষ্টি জাতীয় খাবার একদম বাদ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই, শুধু পরিমাণটা সীমার মধ্যে থাকা চাই। মিষ্টি জাতীয় খাবারে যে শুধু ক্যালরিই থাকে তা নয়, এতে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে, যা রক্তের গ্গ্নুকোজের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। রক্তের গ্গ্নুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু কম শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়ার পরই ফলাহার করা উচিত।
প্রচলিত ভুল ধারণা : ডায়াবেটিক রোগীদের কেবল অল্প পরিমাণ শর্করাসমৃদ্ধ খাবার, যেমন_ রুটি, আলু ও পেস্তা খেতে হবে।
বাস্তব সত্য : শর্করাসমৃদ্ধ খাবার একটি স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য তালিকার অংশ। এখানে পরিমাণটাই মূল বিবেচ্য বিষয়। লাল-আটার রুটি, ভাত, সিরিয়াল, পেস্তা এবং শর্করাসমৃদ্ধ সবজি, যেমন_ আলু, মটরদানা, ভুট্টা খাবার তালিকায় থাকতে পারে। অন্যান্য ধরনের খাবারের সঙ্গে শর্করার অনুপাত ঠিক রাখতে হবে। ডায়াবেটিক রোগীদের দিনে তিন থেকে চারবার শর্করাসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যুক্তিযুক্ত। প্রচলিত ভুল ধারণা :ফল স্বাস্থ্যকর খাদ্য, তাই যত ইচ্ছা ফল খাওয়া যেতে পারে।
বাস্তব সত্য : অবশ্যই ফল স্বাস্থ্যকর খাদ্য। এতে আঁশ ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে; কিন্তু ফলে শর্করাও থাকে, যাকে অবশ্যই খাদ্য তালিকার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। প্রয়োজনে ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে আলাপ করে ঠিক করুন কোন ফল কত বার, কী পরিমাণে খাবেন।
প্রচলিত ভুল ধারণা : আপনার অতি সামান্য বা অল্প পরিমাণ ডায়াবেটিস থাকতে পারে।
বাস্তব সত্য : সামান্য পরিমাণ ডায়াবেটিস বলে কোনো কথা নেই, হয় আপনার ডায়াবেটিস আছে অথবা নেই_ এর মাঝামাঝি কিছু নেই।

শনিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১০

আপনার ডায়াবেটিস হয়নি তো?

জীবনে ঝুঁকি নিতে হয়। সে জন্য ডায়াবেটিসের লক্ষণকে অগ্রাহ্য করার মতো ঝুঁকি নেওয়ার মধ্যে বাহাদুরি নেই।

নীরব ঘাতক এই ‘ডায়াবেটিস’, ঠিকমতো চিকিৎসা না হলে কেড়ে নেয় মানুষের অর্থ, স্বাস্থ্য, সময় ও স্বপ্ন। নীরব ঘাতক বলছি এ জন্য যে এ রোগ শরীরের ভেতরে থেকে যেতে পারে অনেক বছর, অজান্তে। অসংখ্য মানুষ পৃথিবীজুড়ে ডায়াবেটিস হওয়ার অপেক্ষায় আছে, একে বলা হচ্ছে ‘প্রি-ডায়াবেটিস’। এদের রক্তে সুগারের মান স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলেও ডায়াবেটিস হিসেবে ঘোষণা করার পর্যায়ে আসেনি।

যার ডায়াবেটিস হয় কেবল তাকেই যে ডায়াবেটিসের আক্রমণ সইতে হয় তা নয়, যে শিশুর ডায়াবেটিস, তার মা-বাবাকেও পরিচর্যার অংশীদার হতে হয়, যে জীবনসঙ্গী সাথির পরিচর্যা করেন, যে ছেলে বা মেয়ের মা বা বাবা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদেরও অংশীদার হতে হয়।

যে ধরনের ডায়াবেটিস বেশি হচ্ছে সেটি হলো টাইপ-২ ডায়াবেটিস। ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ লোকের এ ধরনের ডায়াবেটিস হয়।

এ ধরনের ডায়াবেটিসে শরীর কিছুটা কম ইনসুলিন তৈরি করে বা তৈরি করলেও শরীর তা ব্যবহার করতে পারে না। ইনসুলিন হরমোনটি নিঃসৃত হয় অগ্ন্যাশয়ের বিটাকোষপুঞ্জ থেকে। খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তর করতে এর প্রয়োজন। রক্তে সুগারের মান মেপে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

এজন্য স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। সহজে আঙুলের ডগায় ল্যানসেট দিয়ে রক্তের ফোঁটা বের করে একটি টেস্ট স্ট্রিপে লাগানো এবং গ্লুকোমিটার যন্ত্রে যথাস্থানে বসানো, অবিলম্বে স্ক্রিনে ভেসে উঠবে রক্তের গ্লুকোজের মান। আট ঘণ্টা উপবাসের পর এ রক্ত নিলেই হলো।

কী জানা যাবে?

রক্তের সুগার বেড়েছে কতখানি? মাঝারি বৃদ্ধি, নাকি বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে?

– গ্লুকোজের মান যদি প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ১০০ মিলিগ্রামের কম থাকে, তাহলে তা স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে, রক্তের গ্লুকোজের মান হলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকির একটি সূচক মাত্র। এ ছাড়া ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস, গোষ্ঠীগোত্র, বয়স, রক্তচাপের মান, কোলেস্টেরলের মান-ডায়াবেটিসের সামগ্রিক ঝুঁকি বিবেচনার সময় এসব ঝুঁকিকেও গুনতে হয়।

– গ্লুকোজের মান যদি ১০০ থেকে ১২৫ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকে, এটিও স্বাভাবিক নয়। একে বলে প্রি-ডায়াবেটিস, যে অবস্থা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। যাদের প্রি-ডায়াবেটিস, তাদের হৃদরোগ ও রক্তনালির রোগের ঝুঁকিও বেশি। অথচ জীবন যাপনে পরিবর্তন এনে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোধ করা যায়, নিদেনপক্ষে ডায়াবেটিস হওয়াকে দেরি করিয়ে দেওয়া যায়।

তাই কারও প্রি-ডায়াবেটিস হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, যাতে সামগ্রিক ঝুঁকির মূল্যায়ন করা যায়।

– উপবাসী রক্তে গ্লুকোজের মান যদি ১২৬ মিলিগ্রাম বা এর বেশি হয়, তাহলে এটি ডায়াবেটিস নির্দেশ করে। এর ত্বরিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। চিকিৎসা না করে থাকলে হতে পরে পরিণতিতে নানা জটিলতা। যেমন-মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক), হৃদরোগ, অন্ধত্ব-এ রকম নানা ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়। একে ব্যবস্থাপনার জন্য পরামর্শ নিতে হয় চিকিৎসকের।

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ৪৫ এবং এর ঊর্ধ্ব যাঁরা, এঁদের রক্তের গ্লুকোজ মাপা উচিত তিন বছর অন্তর অন্তর। পূর্ণবয়স্ক লোক, যাঁদের রক্তচাপ বেশি বা যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, এঁদেরও ডায়াবেটিসের জন্য স্ক্রিন করা উচিত। আছে কি ডায়াবেটিস হওয়ার মতো ঝুঁকি? বের করতে হবে। আট ঘণ্টা উপবাসে থেকে সকালে গ্লুকোজ পরিমাপের জন্য রক্ত দিতে হবে।