হেপাটাইটিস-বি এক ধরনের ভাইরাস, যা মূলত লিভারকে আক্রমণ করে। এর সংক্রমণের ফলে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার হতে পারে। এ রোগের উপসর্গ এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে বোঝা যায় না। এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে ফ্লুর মতো মাথাব্যথা, গা শিরশির ও জ্বর হয়। এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে হতে পারে জন্ডিস, ক্ষুধামন্দা, ডায়রিয়া, বমি ও জ্বর। এ রোগে বিশ্রাম খুব প্রয়োজন। পরিবারের অন্যদের কাছে-সাহচর্য এড়িয়ে চলতে হয়। টয়লেট, গ্লাস, থালা, কাপ ইত্যাদি ব্যবহারে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা থাকতে হয়। প্রতিরোধের উপায় হলো ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা। ইনজেকশন ব্যবহারের সময় ডিসপোসিবল সিরিঞ্জ ব্যবহার করা। দাঁতের চিকিৎসার সময় জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া। হেপাটাইটিস-বি’র টিকা চারটি ডোজ নিতে হয়। প্রথম তিনটি একমাস পরপর এবং চতুর্থ ডোজটি প্রথম ডোজের এক বছর পর।
হেপাটাইটিস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হেপাটাইটিস লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রবিবার, ২৯ মে, ২০১১
শনিবার, ১৪ মে, ২০১১
হেপাটাইটিস
'হেপাটাইটিস' একটি সাধারণ পরিভাষা, যার অর্থ যকৃতের প্রদাহ। আর এই যকৃতের প্রদাহ ভাইরাস সংক্রমণ, অ্যালকোহল-জাতীয় পানীয় পান, ক্ষতিকারক ওষুধ সেবন, বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ অথবা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অব্যবস্থাপনার কারণে ঘটে থাকে। পরিসংখ্যানে জানা যায়, প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ লোক এ ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন জটিলতায় ভোগে। পেশাদার রক্তদাতাদের মধ্যে হেপাটাইটিসের হার সবচেয়ে বেশি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। মাদকসেবীদের মধ্যে একই সুচ অনেকে ব্যবহারের ফলে এবং সেলুনে একই বেল্গড দিয়ে কয়েকজনে শেভের কারণে ইদানীং হেপাটাইটিস বাড়ছে। তার মতে, হেপাটাইটিস বি ও সি উভয়ই মারাত্মক। কারণ এ থেকে সৃষ্ট লিভার বা যকৃতের রোগের জটিলতা, যেমন_ লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিওর অথবা লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মানুষ পরবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করে। তাই সচেতনতার বিকল্প নেই। আর এ সম্পর্কে গণসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতি বছর ১৯ মে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস পালন করা হয়।
হেপাটাইটিস বি'র লক্ষণ
উদরে বিশেষ করে যকৃতের আশপাশে ব্যথা, প্রস্রাবের রঙ ঘন হওয়া, অস্থির সংযোগস্থানগুলোতে ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, বিতৃষ্ণাবোধ এবং বমি করা, দুর্বলতা এবং অবসাদ, চামড়া আর চোখের সাদা অংশ হলদে হয়ে যাওয়া।
হেপাটাইটিস সি'র লক্ষণ
উদরে ব্যথা, প্রস্রাবের বর্ণ ঘন হওয়া, অস্থির সংযোগস্থানগুলোতে ব্যথা, শরীর চুলকানো, জন্ডিস, অবসাদ, মাংসপেশিতে ব্যথা।
সংক্রমণের উৎসগুলো হলো
পরীক্ষা ছাড়াই রক্ত গ্রহণ করলে।
যন্ত্রপাতি নির্বীজ না করে সার্জিক্যাল বা ডেন্টাল অস্ত্রোপচার করলে, কান ফুটো করা বা উল্কি আঁকা হলে।
শিশু জন্মের সময় সংক্রমিত মা থেকে শিশুর মধ্যে।
মাদক নেওয়ার সময় বা অন্য কোনো সময় সুচ ও সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করলে।
ট্রুথব্রাশ, বেল্গড ও অন্যান্য গেরস্থালি দ্রব্য সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ার করলে।
অনিরাপদ সহগমনে।
নির্বীজ না করা হয়ে থাকলে যে যন্ত্রপাতি থাকবে সেগুলো দিয়ে।
হেপাটাইটিস প্রতিরোধে করণীয়
নিরাপদ যৌনাচার (কনডম ব্যবহার)।
রক্ত ও রক্তজাত দ্রব্য স্পর্শ করার পর হাত ভালো করে ধোয়া।
কাউকে ফার্স্ট এইড দেওয়ার সময় রক্ত বা দেহ তরল পরিষ্কার করার সময় হাতে গল্গাভস পরা।
টুথব্রাশ, রেজর, সুচ, সিরিঞ্জ, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য কাপড় অন্য কেউ ব্যবহার না করা।
ইনজেকশন দেওয়া-নেওয়ার সময় একবার ব্যবহার্য (ডিসপোজেবল) সুচ-সিরিঞ্জ ব্যবহার।
শেভ করার সময় একবার ব্যবহার্য বেল্গড-রেজর ব্যবহার।
ব্যক্তিগত ব্যবহার্য যেমন টিস্যু, স্যানিটারি প্যাড, ব্যান্ডেজ-সিল করা ব্যাগে ভরে যথাযথ স্থানে ফেলা।
আরও যা জানতে হবে
বিশিষ্ট পরিপাকতন্ত্র ও লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ফারুক আহমেদের মতে, নিম্নলিখিত ব্যাপারগুলো জানা খুবই প্রয়োজন :
হেপাটাইটিসের চিকিৎসায় কোনো গাছ বা শেকড়ের প্রয়োজন নেই, এগুলো বিষাক্ত এবং খুব ক্ষতিকর।
জন্ডিস ধোয়া, কোনো পানি পড়া, মালা পড়া এসবে হেপাটাইটিস সারে না।
এইচবিএসএজি পজিটিভ হলে টোটকা ওষুধ খেয়ে প্রতারিত হবেন না। ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে আপনা থেকেই এটা ভালো হয়ে যায়। এ সুযোগই গ্রহণ করে হাতুড়ে ডাক্তাররা।
হেপাটাইটিস বি'র টিকা নিলে এ থেকে মুক্ত থাকা যায়।
তাইওয়ানে একসময় প্রচুর মানুষের হেপাটাইটিস ছিল; কিন্তু ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণ আর জনসাধারণের সচেতনতায় তারা অনেকটাই এ রোগ কমিয়ে এনেছে। আমরাও সবাই সচেতন হলে এ ভয়াবহ রোগ থেকে মুক্তি পাব নিশ্চিত।
হেপাটাইটিস বি'র লক্ষণ
উদরে বিশেষ করে যকৃতের আশপাশে ব্যথা, প্রস্রাবের রঙ ঘন হওয়া, অস্থির সংযোগস্থানগুলোতে ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, বিতৃষ্ণাবোধ এবং বমি করা, দুর্বলতা এবং অবসাদ, চামড়া আর চোখের সাদা অংশ হলদে হয়ে যাওয়া।
হেপাটাইটিস সি'র লক্ষণ
উদরে ব্যথা, প্রস্রাবের বর্ণ ঘন হওয়া, অস্থির সংযোগস্থানগুলোতে ব্যথা, শরীর চুলকানো, জন্ডিস, অবসাদ, মাংসপেশিতে ব্যথা।
সংক্রমণের উৎসগুলো হলো
পরীক্ষা ছাড়াই রক্ত গ্রহণ করলে।
যন্ত্রপাতি নির্বীজ না করে সার্জিক্যাল বা ডেন্টাল অস্ত্রোপচার করলে, কান ফুটো করা বা উল্কি আঁকা হলে।
শিশু জন্মের সময় সংক্রমিত মা থেকে শিশুর মধ্যে।
মাদক নেওয়ার সময় বা অন্য কোনো সময় সুচ ও সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করলে।
ট্রুথব্রাশ, বেল্গড ও অন্যান্য গেরস্থালি দ্রব্য সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ার করলে।
অনিরাপদ সহগমনে।
নির্বীজ না করা হয়ে থাকলে যে যন্ত্রপাতি থাকবে সেগুলো দিয়ে।
হেপাটাইটিস প্রতিরোধে করণীয়
নিরাপদ যৌনাচার (কনডম ব্যবহার)।
রক্ত ও রক্তজাত দ্রব্য স্পর্শ করার পর হাত ভালো করে ধোয়া।
কাউকে ফার্স্ট এইড দেওয়ার সময় রক্ত বা দেহ তরল পরিষ্কার করার সময় হাতে গল্গাভস পরা।
টুথব্রাশ, রেজর, সুচ, সিরিঞ্জ, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য কাপড় অন্য কেউ ব্যবহার না করা।
ইনজেকশন দেওয়া-নেওয়ার সময় একবার ব্যবহার্য (ডিসপোজেবল) সুচ-সিরিঞ্জ ব্যবহার।
শেভ করার সময় একবার ব্যবহার্য বেল্গড-রেজর ব্যবহার।
ব্যক্তিগত ব্যবহার্য যেমন টিস্যু, স্যানিটারি প্যাড, ব্যান্ডেজ-সিল করা ব্যাগে ভরে যথাযথ স্থানে ফেলা।
আরও যা জানতে হবে
বিশিষ্ট পরিপাকতন্ত্র ও লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ফারুক আহমেদের মতে, নিম্নলিখিত ব্যাপারগুলো জানা খুবই প্রয়োজন :
হেপাটাইটিসের চিকিৎসায় কোনো গাছ বা শেকড়ের প্রয়োজন নেই, এগুলো বিষাক্ত এবং খুব ক্ষতিকর।
জন্ডিস ধোয়া, কোনো পানি পড়া, মালা পড়া এসবে হেপাটাইটিস সারে না।
এইচবিএসএজি পজিটিভ হলে টোটকা ওষুধ খেয়ে প্রতারিত হবেন না। ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে আপনা থেকেই এটা ভালো হয়ে যায়। এ সুযোগই গ্রহণ করে হাতুড়ে ডাক্তাররা।
হেপাটাইটিস বি'র টিকা নিলে এ থেকে মুক্ত থাকা যায়।
তাইওয়ানে একসময় প্রচুর মানুষের হেপাটাইটিস ছিল; কিন্তু ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণ আর জনসাধারণের সচেতনতায় তারা অনেকটাই এ রোগ কমিয়ে এনেছে। আমরাও সবাই সচেতন হলে এ ভয়াবহ রোগ থেকে মুক্তি পাব নিশ্চিত।
সোমবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
দেশের আট ভাগ মানুষ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত
দেশে মোট জনসংখ্যার আট ভাগ মানুষ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত। সচেতনতার অভাবে এ নীরব ঘাতক ব্যাধিতে শিশুরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্বে প্রতিবছর যে পরিমাণ লোক এইচআইভি/এইডসে মৃত্যুবরণ করে, তার চেয়েও অনেক বেশি লোক প্রতিদিন হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ ভাইরাসজনিত লিভার রোগে মৃত্যুবরণ করে। হেপাটাইটিস ‘বি’ এইচআইভি/এইডসের তুলনায় ১০০ ভাগ বেশি সংক্রামক। এ কারণে হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ ভাইরাসকে নীরব ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। হেপাটাইটিস যকৃৎ (লিভার) প্রদাহজনিত একটি রোগ। এ রোগে মা আক্রান্ত হলে শিশুর সংক্রমণের আশংকা থাকে। এছাড়া রক্ত পরিসঞ্চালন, জীবাণু সংক্রমিত সুচ বা রেজার ব্যবহারের মাধ্যমেও এই ভাইরাসটি ছড়ায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক এই তথ্য স্বীকার করে বলেন, এটা মারাত্নক রোগ হলেও সচেতন থাকলে এ রোগ থেকে পরিত্রাণ সম্ভব। বর্তমান সরকার এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দেশে ৫-৬ বছর ধরে নবজাতককে সঠিক সময়ে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের টিকা দেয়া হচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনায় বলা আছে, জšে§র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের টিকা দিতে হবে। পরে দিলে শিশুর দেহে ভাইরাস সংক্রমণের আশংকা থাকে। অথচ দেশে এই টিকা দেয়া হচ্ছে জ্ন্মর ছয় সপ্তাহ পর। ২০০৫ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের টিকা অন্তর্ভুক্তির পর থেকে এটাই প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান। চিকিৎসকরা বলছেন, শিশু এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার দীর্ঘমেয়াদি যকৃৎরোগ হওয়ার আশংকা থাকে। পরিণামে অকাল মৃত্যু ঘটে ওই শিশুর। ওয়ার্ল্ড হেপাটাইটিস এলায়েন্সের তথ্য মতে, বিশ্বে প্রতি ১২ জনে ১ জন হেপাটাইটিস ‘বি’ অথবা ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্বে প্রতিবছর এই দুই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা প্রায় এক দশমিক পাঁচ মিলিয়ন। হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের প্রতিষেধক ব্যয়বহুল হওয়ায় দরিদ্র মানুষ টিকাদান কর্মসূচির আত্ততায় আসতে পারছে না। এর ভয়াবহতা কমাতে ভাইরাসটির টিকার ব্যয় আরও কমিয়ে তা সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
রাজধানীর একটি হাসপাতালে কথা হয় এই ভাইরাসে আক্রান্ত ৩৭ বছর বয়সী সাত্তার মিয়ার সঙ্গে । তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন দু’বছর ধরে। মাসে ওষুধের জন্য তার খরচ হচ্ছে প্রায় ছয় হাজার টাকা। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হেপাটাইটিস-বি ইমিউনাইজেশন : আইডেন্টিফাইং দি আইডিয়াল সিডিউল শীর্ষক এক উত্থাপিত পত্রে বলা হয়েছে, ছয় সপ্তাহ বয়সে টিকা দেয়ার কারণে ৬০ শতাংশ নবজাতক এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থেকে যাচ্ছে। সূত্র বলছে, জ্ন্মর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে টিকা দেয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে ৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিও গঠন করেছে সরকার। দেশের বেশির ভাগ শিশুর বাড়িতে হয়। সে ক্ষেত্রে এ বিপুলসংখ্যক নবজাতককে কিভাবে সময়মতো টিকা দেয়া যায়, তা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি কাজ করছে। সূত্র মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সঠিক সময়ে টিকা দেয়ার ব্যাপারে বারবার জোর দিয়েছে। নির্দেশনা ছাড়াও হেপাটাইটিস বিষয়ে গত বছর ডিসেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী পরিষদের (এক্সিকিউটিভ বোর্ড) সভার প্রতিবেদনে জ্ন্মর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে টিকা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কমিটির সদস্য লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব মোহাম্মদ আলী বলেন, বিশ্বের একাধিক দেশে জ্ন্মর২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুরা এ টিকা পাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে বছরের পর বছর ভুল সময়ে টিকা দেয়ায় মারাত্নক ক্ষতি হচ্ছে শিশুর স্বাস্থ্য। তিনি বলেন, সরকার হেপাটাইটিস-‘বি’ প্রতিরোধে ২০০৪ সালের জুলাই মাস থেকে ‘ইপিআই’ প্রোগ্রামে হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন যুক্ত করেছে। জ্ন্মর ৬ সপ্তাহ থেকে শিশুকে তিন ডোজ ডিপিটি টিকার সঙ্গে তিন ডোজ হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে (৬, ১০ ও ১৪তম সপ্তাহে)। দেশে গর্ভবতী নারীদের তিন দশমিক পাঁচ ভাগই এ রোগে আক্রান্ত। দেশের অনেক মানুষ ভাইরাসটি বহন করলেও তারা এ সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না। মানুষকে রোগটি সম্পর্কে জানাতে হবে। এই ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা ব্যয়বহুল হওয়ায় তাদের অনেকেই এ টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হেপাটাইটিস ভাইরাসের টিকার ব্যয় আরও কমিয়ে তা সাধারণ মানুষের আয়ত্তে নিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে যদি দেশেই হেপাটাইটিসের-বি টিকা উৎপাদন করা যায়, তবে সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, সব সুবিধাবঞ্চিত গরিব ও ইপিআই কার্যক্রমবহির্ভূত শিশুদের টিকাদান, হেপাটাইটিস প্রতিরোধে প্রতিষেধক টিকাকে সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা এবং দেশে একটি ভ্যাকসিন প্লান্ট স্থাপন, লিভার রোগের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ওষুধ দেশে তৈরির ব্যবস্থা করে সহজলভ্য ও রোগীদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে হবে। যা লিভার রোগের প্রতিরোধ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণার কাজে সহায়ক হবে।
রাজধানীর একটি হাসপাতালে কথা হয় এই ভাইরাসে আক্রান্ত ৩৭ বছর বয়সী সাত্তার মিয়ার সঙ্গে । তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন দু’বছর ধরে। মাসে ওষুধের জন্য তার খরচ হচ্ছে প্রায় ছয় হাজার টাকা। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হেপাটাইটিস-বি ইমিউনাইজেশন : আইডেন্টিফাইং দি আইডিয়াল সিডিউল শীর্ষক এক উত্থাপিত পত্রে বলা হয়েছে, ছয় সপ্তাহ বয়সে টিকা দেয়ার কারণে ৬০ শতাংশ নবজাতক এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থেকে যাচ্ছে। সূত্র বলছে, জ্ন্মর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে টিকা দেয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে ৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিও গঠন করেছে সরকার। দেশের বেশির ভাগ শিশুর বাড়িতে হয়। সে ক্ষেত্রে এ বিপুলসংখ্যক নবজাতককে কিভাবে সময়মতো টিকা দেয়া যায়, তা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি কাজ করছে। সূত্র মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সঠিক সময়ে টিকা দেয়ার ব্যাপারে বারবার জোর দিয়েছে। নির্দেশনা ছাড়াও হেপাটাইটিস বিষয়ে গত বছর ডিসেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী পরিষদের (এক্সিকিউটিভ বোর্ড) সভার প্রতিবেদনে জ্ন্মর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে টিকা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কমিটির সদস্য লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব মোহাম্মদ আলী বলেন, বিশ্বের একাধিক দেশে জ্ন্মর২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশুরা এ টিকা পাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে বছরের পর বছর ভুল সময়ে টিকা দেয়ায় মারাত্নক ক্ষতি হচ্ছে শিশুর স্বাস্থ্য। তিনি বলেন, সরকার হেপাটাইটিস-‘বি’ প্রতিরোধে ২০০৪ সালের জুলাই মাস থেকে ‘ইপিআই’ প্রোগ্রামে হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন যুক্ত করেছে। জ্ন্মর ৬ সপ্তাহ থেকে শিশুকে তিন ডোজ ডিপিটি টিকার সঙ্গে তিন ডোজ হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে (৬, ১০ ও ১৪তম সপ্তাহে)। দেশে গর্ভবতী নারীদের তিন দশমিক পাঁচ ভাগই এ রোগে আক্রান্ত। দেশের অনেক মানুষ ভাইরাসটি বহন করলেও তারা এ সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না। মানুষকে রোগটি সম্পর্কে জানাতে হবে। এই ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা ব্যয়বহুল হওয়ায় তাদের অনেকেই এ টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হেপাটাইটিস ভাইরাসের টিকার ব্যয় আরও কমিয়ে তা সাধারণ মানুষের আয়ত্তে নিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে যদি দেশেই হেপাটাইটিসের-বি টিকা উৎপাদন করা যায়, তবে সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, সব সুবিধাবঞ্চিত গরিব ও ইপিআই কার্যক্রমবহির্ভূত শিশুদের টিকাদান, হেপাটাইটিস প্রতিরোধে প্রতিষেধক টিকাকে সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা এবং দেশে একটি ভ্যাকসিন প্লান্ট স্থাপন, লিভার রোগের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ওষুধ দেশে তৈরির ব্যবস্থা করে সহজলভ্য ও রোগীদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে হবে। যা লিভার রোগের প্রতিরোধ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণার কাজে সহায়ক হবে।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)