সৌন্দর্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সৌন্দর্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১১

মুখের কালো দাগে বিটা ক্যারোটিন


সম্প্রতি এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী বিটা ক্যারোটিন রোদে পোড়া দাগ কমিয়ে আনতে কার্যকর। এছাড়াও একটি উৎকৃষ্ট এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে এটি ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ পড়তে দেয় না।
বিটা ক্যারোটিনের উৎস ও এর পরিমাণ হল
খাদ্য বিটা ক্যারোটিন মি. গ্রাম
ব্রোকলি (১/২ কাপ সিদ্ধ) ৬৪৫.৮৪
গাজর (১/২ কাপ সিদ্ধ) ৬,২৭৯.৪৬
পালংশাক (১/২ কাপ সিদ্ধ) ৪৩৮৬.১৫
মিষ্টি আলু (১/২ কাপ সিদ্ধ) ১৩,০৯২.০০
স্কোয়াশ (১/২ কাপ কাচা) ৪২৭০.১৫
রক ওয়াটার মিল (১/২ কাপ) ১,৫৩৬.০০
জার্মান গবেষক পরিচালিত সাতটি মেটা-এনালাইসিসে বিটা ক্যারোটিন গ্রহণে রোদে পোড়ার ঝুঁকি কমে যাওয়ার ব্যাপারে তারা একই রকম ফল পেয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল পেতে কমপক্ষে ১০ সপ্তাহ এবং এর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে আরও এক মাস বেশি বিটা ক্যারোটিন গ্রহণ প্রয়োজন। 
সানস্ক্রিন অপেক্ষা বিটা ক্যারোটিনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা কম শক্তিশালী হলেও এটি ত্বকে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষাকারী পর্দা হিসেবে কাজ করে। গবেষকদের মতে, বিটা ক্যারোটিন দ্বারা এ প্রতিরোধী কার্যকারিতাকে সানস্ক্রিনের কার্যকারিতার সঙ্গে প্রতিযোগী হিসেবে উপস্থাপন করা নয় বরং পরিপূরক হিসেবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। এদের সমন্বয় হওয়া উচিত বলেই তারা মত প্রকাশ করেন।
মুখের কালো দাগ দূর করতে আমরা বাহ্যিকভাবেও বিটা ক্যারোটিনের উৎস ব্যবহার করতে পারি। ৫০ গ্রাম গাজর, ১০ গ্রাম কাঁচা হলুদ, ২০ মি. লি. মধু বা ভাতের মাড়ের সঙ্গে মিশিয়ে প্যাকে সংরক্ষণ করতে পারি এবং সপ্তাহে দুইদিন পর পর তিন বার ব্যবহার করতে পারি। এটি আমাদের ত্বকের কালো দাগ দূর করতে ও রঙ উজ্জ্বল করতে সাহায্য করবে। 
নেট থেকে

শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১১

মুখে অস্বাভাবিক লোম


মহিলাদের মুখে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লোম দেখা দিলে তাকে ‘হিরসুটিজম’ বলে। যে কোন বয়সের মহিলার ক্ষেত্রেই বিষয়টি অত্যন্ত বিরক্তিকর। এটি কোন কোন ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ বলেও ধরে নেয়া হয়। তবে অনেক সময় কোন রোগ ছাড়াও মুখে বাড়তি মাত্রায় লোম থাকতে পারে। 
 বংশগত কারণেই এমনটি বেশি হয়ে থাকে। মহিলাদের শরীরে ‘এন্ড্রোজেন’ নামক হরমোনের আধিক্যই এ রোগের কারণ। এ জন্য দুটি গ্রন্থিকে দায়ী করা হয়। একটি হল অ্যাডরিনাল এবং অপরটি নারীর ডিম্বাশয় বা ওভারী। অবিবাহিত মহিলাদের এ সমস্যা হলে তার অনিয়মিত মাসিক থেকে এমনটি হতে পারে। বিবাহিত হলে অনিয়মিত মাসিক এবং এর সঙ্গে সন্তান হওয়া বা না হওয়ার সম্পর্ক জড়িত। এ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় লোমকে ইলেকট্রিক মেশিনের সাহায্যে স্থায়ীভাবে নির্মূল করার পদ্ধতি ‘ইলেকট্রইপিলেশন’ করা হয়ে থাকে। যদিও লেজার প্রযুক্তি আসার পর এখন অনেকের আর এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় না। লেজার পদ্ধতি ব্যবহার করা এখন সময়ের দাবি। এতে সফলতা শতভাগ। 


লেজার দিয়ে চিকিৎসা : এটি একটি কসমেটিক চিকিৎসা। অত্যাধুনিক এ পদ্ধতি বাংলাদেশেও সফলভাবে করা হচ্ছে। এটি লোমের আস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধ করে চুলকে অঙ্কুরেই নষ্ট করে দেয়। এ থেকে নির্গত আলোকরশ্মি ত্বকের কোন ক্ষতি না করে ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে চুলকে ধ্বংস করে। 


ইনটেন্স পালস লাইট : এটি আইপিএল নামে পরিচিত। এ লেজার দুটি ভিন্ন ধরনের মিশ্রিত রশ্মির সৃষ্টি করে যা ত্বকের গভীরে ও উপরিভাগে অবস্থিত চুলকে অঙ্কুরেই নষ্ট করে। এ পদ্ধতিতে সময় অনেক কম লাগে। কারণ এ যন্ত্রের চিকিৎসা স্পট অনেক বড়। সাধারণত ৪ সপ্তাহ পরপর ৪টি সিটিংয়ের প্রয়োজন হয়। এটি ব্যথামুক্ত, রক্তপাতবিহীন পদ্ধতি। এটি লোম দূরীকরণে শতভাগে কার্যকর একটি লেজার চিকিৎসা পদ্ধতি। বর্তমানে এ পদ্ধতি একটি যুগান্তরকরী কার্যকর পদ্ধতি। 


কিউসুইচড, এনডিইয়াগ : এটিও উপরের নিয়মে কাজ করে এবং সমানভাবে কার্যকরী। 
নেট থেকে

শুষ্ক ত্বকের যত্ন আত্তি


সাজসজ্জার মধ্যে মেকাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; কিন্তু অনেকের ত্বক আবার শুকিয়ে মলিন হয়ে যায়। এই ত্বকের মেকাপের ক্ষেত্রে রয়েছে আবার আলাদা যত্নআত্তি। 


পানি কম খাওয়ার কারণে অনেকের ত্বক মলিন দেখায়। এ জন্য কমলালেবুর খোসা শুকিয়ে রেখে দিতে পারেন। তারপর তা বেটে ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের নি®প্রাণ ভাব কেটে যাবে। প্রয়োজনে এই বাটা কমলার খোসার সঙ্গে কাঁচা দুধ মিশিয়ে নিতে পারেন। রোদে ত্বক পুড়লে সাধারণত দুই গালের ওপর বেশি পোড়ে। মুখে বিভিন্ন রেখা ও ছোপ ছোপ দাগ দূর করতে ছাঁকা ময়দা আর মধু পানি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার এই প্যাকটা মুখে মাখুন। শুকিয়ে গেলে হালকা পানি দিয়ে ভিজিয়ে ভালো করে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এটা একদিন পর পর করতে পারেন। দাগ হালকা হয়ে যাবে। এ ছাড়া ত্বকের উজ্জ্বলতা আনতে এবং নি®প্রাণ ভাব দূর করতে ত্বকের ধরন বুঝে বাড়িতে এই ফেস প্যাকগুলো লাগাতে পারেন। স্বাভাবিক ত্বকের জন্য চন্দন বাটা ১ টেবিল চামচ, টমেটোর রস ১ চা চামচ, শসার রস ১ চা চামচ একত্রে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য পেস্তাবাদামের পেস্ট ১ টেবিল চামচ, মধু ১ চা চামচ, ডিমের কুসুম ১টি একত্রে মিশিয়ে পুরো মুখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মুলতানি মাটি ১ টেবিল চামচ, গোলাপজল ১ চা চামচ, লেবুর রস ১ চা চামচ একত্রে মিশিয়ে পুরো মুখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। 
নেট থেকে

শনিবার, ৯ জুলাই, ২০১১

সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে মৌসুমি ফল





গরম পড়ছে ঠিকই, কিন্তু এটিকে পুষিয়ে দিতে প্রকৃতি উজাড় করে দিয়েছে নানা মৌসুমি ফলের ভাণ্ডার। তরমুজ আর বাঙ্গি এ সময়ের ফল। খেতে মজা তো বটেই, ত্বকের জন্যও ভালো। 
তরমুজ ভিটামিন এ, বি, সি সমৃদ্ধ একটি ফল। এটি ত্বককে সজীব করে, পাশাপাশি উজ্জ্বল ও নরম রাখে। তরমুজ দিয়ে বানানো যায় নানা রূপচর্চার উপকরণ। 

ক্লিনজার 
তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরা এ ক্লিনজার ব্যবহারে উপকার পাবেন। এটি বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। তাহলে কিছুদিন অনায়াসে ব্যবহার করতে পারবেন। তৈরি করতে লাগবে তরমুজের রস ও লেবুর রস।
  
ত্বক ঠাণ্ডা রাখার পাশাপাশি ত্বককে নরম করে তরমুজ। অন্যদিকে লেবু প্রাকৃতিক পরিষ্কারক। অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকে এটি প্রতিদিন সকালে লাগান। ক্লিনজার হিসেবে দুটি মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ভালো ফল পাবেন। অল্প ম্যাসাজ করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

মাস্ক 
যেসব উপকরণ লাগবে : মটর ডালের বেসন, তরমুজ, সয়াবিনের গুঁড়ো। তবে চালের গুঁড়ো বা ময়দা দিয়েও এটি বানাতে পারেন। একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। উপকরণগুলো আলাদাভাবে কৌটায় ভরে রাখুন। কারণ হাতের ছোঁয়ায় বারবার ফ্রিজ থেকে বের করলে এর গুণাবলী অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। ব্যবহারের সময় মিশিয়ে নিন। 
তরমুজের সঙ্গে সয়াবিনের গুঁড়ো মিশিয়ে লাগান। ত্বকে টানটান ভাব আসবে। 
শুষ্ক ত্বকের অধিকারীদের জন্যও আছে তরমুজের রূপচর্চা। তরমুজ, পাকা কলা, সয়াবিনের গুঁড়ো নিন। এখানেও সয়াবিন গুঁড়োর বদলে চালের গুঁড়ো বা ময়দা ব্যবহার করা যাবে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। 

হাত ও পায়ের যত্ন 
তরমুজের রস, লেবুর রস, চালের গুঁড়ো, টক দই, গোলাপ জল—সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। হাত-পায়ের পাশাপাশি পুরো শরীর ব্যবহার করুন। এটিকে স্ক্রাব হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। সব রকম ত্বকের ক্ষেত্রেই এটি ভালো কাজ করবে। 

বাঙ্গির জাদু 
বাঙ্গি হলো প্রাকৃতিক ব্লিচ। ত্বকে এটি ফেয়ার পলিশের কাজ করে। ত্বকের কালো ভাব দূর করে। অথচ এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। 




ক্লিনজার 
বাঙ্গির সঙ্গে টক দই মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। 

মাস্ক 
মটর ডাল বাটা, সয়াবিন গুঁড়ো অথবা চালের গুঁড়ো বা ময়দার সঙ্গে বাঙ্গি মিশিয়ে নিন। একটু ম্যাসাজ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক উজ্জ্বল থাকবে। 

ত্বকের ভাঁজ পড়া কমাতে 
বাঙ্গির খোসা (পাল্প), মটর ডাল বাটা, ডিমের কুসুম, কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত মুখে লাগিয়ে রাখুন। এরপর পানি দিয়ে ধুুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিনদিন ব্যবহার করবেন। আস্তে আস্তে ত্বকের ভাঁজ পড়া ভাব কমে ত্বক হয়ে উঠবে সতেজ। 

প্রাকৃতিক ব্লিচ 
বাঙ্গির সঙ্গে লেবুর রস ও সয়াবিনের গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। সপ্তাহে তিনদিন ১০ মিনিট করে লাগিয়ে রাখুন। এটি ব্যবহারে ত্বকের কালচে ভাব চলে যাবে। 

সকালের নাশতায় 
শুধু ত্বকে লাগিয়ে গেলেই কাজ হবে না, মৌসুমি ফলও খেতে হবে। তরমুজ ও বাঙ্গি ছোট টুকরা করুন সারা রাত মধু দিয়ে রেখে দিন। সকালের নাশতার তালিকায় এটিও রাখুন।  
কৃতজ্ঞতা: জুমানার ব্লগ 

মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১১

অল্প পয়সায় বলতে গেলে একদম বিনে পয়সায় আপনি ও পেতে পারেন সৌন্দর্যে ভরপুর এক নতুন জীবন !!!

প্রাকৃতিক ভাবে-
নিজেকে অন্যান্যদের কাছে আরো আকর্ষনীয় প্রানবন্ত করে ঊপস্থাপন করার মত ইচ্ছে যদি কখনও মনের গহীন কোনে ঊকি মারে তাহলে
এই পদ্ধতি অবলম্বন করে দেখতে পারেন।
ঠিক এই রকম চিন্তা ভাবনা ছারাও চাইলে করতে পারেন।
কেনোনা-
এটাতে হলে ঊপকার হবে কিন্তু কোন প্রকার ক্ষতি হবে না।


ত্বকের হলুদাভ আভা মানুষকে আকর্ষণীয় করে তোলে। সুস্থতার বার্তাও বহন করে এ আভা। গবেষকরা প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হয়েছেন, গাজরসহ রঙিন শাক-সবজি ও ফলমূল মানুষের ত্বকে এ আভা এনে দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাজ্যের সেন্ট অ্যান্ড্রুস ও ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ত্বকের রং এবং আকর্ষণীয়তার মধ্যে সম্পর্ক বিষয়ে গবেষণা করছেন। গাজর ও এ ধরনের অন্যান্য সবজি বা ফলের রং (ক্যারোটিনয়েডস) চামড়ায় হলুদ আভা আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবী ৫১ জনের স্কটিশ ককেশীয় মানুষের চেহারা তীক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানী ইয়ান স্টিফেন জানান, ত্বকের হলুদ আভা ও ক্যারোটিনয়েডসের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়ার বিষয়টি তরুণদের ফল ও শাক-সবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করবে। এ ধরনের খাবার গ্রহণের দুই মাসের মধ্যেই ফল পাওয়া যায়।
গবেষণার ফল আগামী মার্চে 'ইভোলিউশন অ্যান্ড হিউম্যান বিহেভিয়ার' নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হবে বলে জানায় ব্রিটেনের 'দ্য গ্রোসার' সাময়িকী।

"গাজরে ত্বকে আসে হলুদ আভা " আর এই জন্য যত বেশি সম্ভব...........খাবেন।


সুত্রঃ- ক্লিক করুন

বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১০

পর্যাপ্ত ঘুমে সৌন্দর্য বাড়ে

রাতে ভালো ঘুম না হলে সকালে উঠে শরীরটা কেমন কেমন লাগে, তাই না? অনেকে আবার দিবানিদ্রাটাও ঠিকমত না হলে মেজাজ খারাপ করে থাকেন। এতদিন ধরে এটা ছিল স্রেফ মানুষের অভিজ্ঞতা। তবে এখন বিজ্ঞানও সুর মেলাচ্ছে মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে। সুইডিশ বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ‘বিউটি স্লিপ’ বা চমত্কার একটা ঘুম আপনাকে ‘শরীর কেমন কেমন করা’ থেকে তো মুক্ত রাখবেই, পাশাপাশি আপনার চেহারায় ঔজ্জ্বল্য ও মনের সজীবতা দুটোই বাড়াবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।
এর আগে অবশ্য বিজ্ঞানীরা ভালো ঘুম না হওয়াটা মানুষের জন্য মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলেও হুশিয়ার করে দিয়েছেন। এমনকি কোনো অসুখ থেকে দ্রুত সেরে ওঠার ব্যাপারেও ভালো ঘুমের ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। আর এখন সুইডিশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু শরীর ঠিক রাখাই নয়, শারীরিক সৌন্দর্য ও বয়স ধরে রাখার ক্ষেত্রেও বিউটি স্লিপের অবদান রয়েছে।
সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় এটা প্রতিভাত হয়েছে, রাতে যারা নিশ্চিন্তে প্রচুর ঘুমোতে পারে তাদের জন্য সে ঘুম চমত্কার ফলদায়ক হয়। এই ঘুমের পরিমাণ হতে হবে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। যারা নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম থেকে নিজেদের বঞ্চিত রাখেন বা রাখতে বাধ্য হন, তাদের ক্ষেত্রে ওই চমত্কার ফলাফল উপভোগ করাটা সম্ভব হয় না।
ব্যাপারটা প্রমাণের জন্য তারা ১৮ থেকে ৩১ বছর বয়সী ২৩ জন স্বাস্থ্যবান লোক বেছে নেন। তাদের প্রথমে ৮ ঘণ্টা ঘুমোতে দিয়ে তারপর তাদের ছবি তোলা হয়। ৩১ ঘণ্টা পর তাদের আবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য ঘুমোতে দেয়া হয়। এ ছবিগুলো এরপর ৬৫ জন সাধারণ দর্শককে দেখতে দেয়া হয়। তারা ৮ ঘণ্টা ঘুমানোদের ছবি আর ৩১ ঘণ্টা পর সামান্য কয়েক ঘণ্টা ঘুমানোদের ছবির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য বের করে ফেলেন। সামান্য সময়ের মধ্যে একই মানুষের দু’রকম ছবি হওয়ার কারণ হিসেবে গবেষকরা সরাসরি ঘুমাতে পারা আর না পারাকেই দায়ী করেন।
এটাই সুইডিশ বিজ্ঞানীদের পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করে। তারা বলেন, ‘বিউটি স্লিপ’ ধারণা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের অভাব আছে সত্যি। তবে শারীরিক প্রতিক্রিয়া বিচার করলে এর প্রয়োজনীয়তা ঠিকই উপলব্ধি করা যায়।

রবিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১০

হাত-পা ঘামছে?

শীতে আসলে অনেকেরই হাত-পা ঘামে । ফলে পোহতে হয় নানা দুর্ভোগ। আবার পা ঘেমে যাওয়ার কারনে এ থেকে সৃষ্টি হতে-পারে দুর্গন্ধ। এ নিয়েও অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় অনেককে।
হাত-পা ঘামলে..
হলিফ্যামিলি হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক আফজালুল করিম বলেন, হাত-পা কেন ঘামে তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো বের করা যায়নি। তবে বংশগতভাবে এ রোগ থাকা, শরীরের ভেতরের ভারসাম্যহীনতা, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা প্রভৃতি কারনে হাত-পা ঘামতে পারে। সাধারণত তিনভাবে হাত-পা ঘামা কমানো যেতে পারে। এক হলো অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত এক ধরনের বিশেষ লোশন হাত-পায়ে ব্যবহার কারলে হাত-পা ঘামা কমে যায়। আর একটি হলো বিশেষ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রে হাত-পা সেঁকে নিলে হাত-পা ঘামা কমে যাবে। পরবর্তী সময়ে এটি দেখা দিলে আবার একইভাবে সেই বৈদ্যুতিক যন্ত্রে হাত-পা সেঁকে নিতে হবে। এসব পদ্ধতি ছাড়াও একটি বিশেষ ধরনের নার্ভের অস্ত্রোপচার করেও হাত-পা ঘামা কমানো যায়। এই অপারেশন নিউরো সার্জনরা করিয়ে থাকেন। তবে হাত-পায়ের ঘাম রোধে যা-ই করা হোক না কেন, তা করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
পায়ের দুর্গন্ধের কারণ
পায়ের দুর্গন্ধের প্রধান কারণ পায়ের ঘাম। আফজালুল করিম জানালেন, ঘেমে যাওয়া পায়ে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে। এ ছাড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জুতার ভেতর থেকে ঘাম বেরোতে পারে না। অনেকক্ষণ এমন অবস্থায় থাকার ফলে পা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ ছাড়া জুতা ও মোজা নিয়মিত না পরিষ্কার করলেও পা ও জুতা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে।
কী করবেন
পা থেকে দুর্গন্ধ দূর করতে কী করবেন? এ নিয়ে জানালেন ছেলেদের সৌন্দর্য চর্চার প্রতিষ্ঠান রেজরস এন সিজরসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সব সময় পা পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে এসে পায়ে শ্যাম্পু লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পরিষ্কার করে শুকনো তোয়ালে দিয়ে পা মুছে ফেলতে হবে।
প্রতিদিন ব্যবহার করা মোজা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে ব্যবহার করতে হবে। জুতাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। জুতার মধ্যে পাউডার দিতে পারেন। প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে এসব রোদে দেওয়া যেতে পারে। সুতি মোজা ব্যবহার করাই ভালো কারণ এতে পা কম ঘামে ও ঘাম শোষণ করে। আর যাঁদের পা বেশি মাত্রায় ঘামে, তাঁরা বেশি ঘাম শোষণ করতে পারে এমন জুতা কিনতে পারেন।

ত্বকের যত্নে ভেষজ উপাদান

এমন একটা সময় ছিল যখন মানুষ ত্বকের যত্নের ব্যাপারে খুব একটা সচেতন ছিল না। পুরুষরা তো নয়ই এমনকি নারীরাও। কিন্তু যুগ যত আধুনিক হচ্ছে, ততই মানুষ সচেতন হচ্ছে তাদের ত্বকের ব্যাপারে। সর্বোপরি রূপচর্চার ব্যাপারে। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে, রূপচর্চা বলতে এখনও অনেকেই বুঝে থাকেন বাজারে বিক্রিত বিভিন্ন কোম্পানির রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহারকে। কিন্তু এসব দ্রব্য তথা কসমেটিক্স সাময়িকভাবে ত্বককে সুন্দর করলেও পরবতর্ীতে কতটা ক্ষতি করে, এটা অনেকেরই জানা নেই। অথচ একটু মনোযোগী হলেই এমন একটি দ্রব্য দিয়ে রূপচর্চা করা যায়, যা ত্বকের কোনরকম ক্ষতি করে না। এই দ্রব্যটির নাম ভেষজ। অর্থাৎ ভেষজ উপকরণ বা উপাদান। ভেষজ উপাদান দিয়ে কিভাবে রূপচর্চা, বিশেষ করে ত্বকের যত্ন নিতে হয়, এটা জানা নেই অনেকেরই। রূপবিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে তেমনি কিছু পদ্ধতি এখানে জানিয়ে দেওয়া হলো_

টোনার

অনেকের ত্বকই অতি মাত্রায় তৈলাক্ত। ত্বকের এই তৈলাক্তভাব দূর করতে হলে, যে পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা জরুরি, সেটি হলো টোনার। টোনার ত্বকের তৈলাক্তভাব ততটা কমিয়ে আনতে সহায়তা করে, যতটা ত্বকের জন্যে দরকারি। তৈলাক্ত ত্বকের জন্যে তেঁতুলের জুস, মধু ও সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে পাঁচ মিনিট রেখে টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। কমলার রস এবং দুধ মেশালেও ভালো টোনারের কাজ করে। আর এটি শুধু তৈলাক্ত ত্বকের জন্যেই না, মিশ্র-ত্বকের জন্যেও কাজ করে। তবে এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সতর্কতা_ সেটি হলো, টোনার বেশি সময় ধরে ত্বকে রাখা যাবে না। তাহলে ত্বকের ক্ষতি হবে। এমনও হতে পারে, ত্বক অতি মাত্রায় রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।

ক্লিনজিং

শুধু তৈলাক্ত ত্বক কিংবা রুক্ষ ত্বকই নয়, সব ধরনের ত্বকের জন্যেই ক্লিনজিং মানানসই এবং উপকারী। ক্লিনজিং পদ্ধতিতে আপনি নানা উপায়ে ত্বকের যত্ন নিতে পারেন। যেমন ছোলার ডালের গুঁড়ার সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। অনেকের ত্বকই এমন হয়ে যায় যে, মনে হয় রোদে পুড়ে গেছে। রোদেপোড়াভাব দূর করতে হলে ব্যবহার করতে পারেন টকদই এবং গোলাপজল। গোলাপজলে টকদই ছেঁকে মিশিয়ে এক সপ্তাহ পর্যন্ত ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। আমলকির পেস্টও সব ধরনের ত্বকের জন্যে ক্লিনজিংয়ের কাজ করে। মুলতানি মাটির গুঁড়া এবং গোলাপজল একসঙ্গে ডিপ-ক্লিনজিংয়ের কাজ করে। এটা শুকানো পর্যন্ত রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। শুকানো পর্যনত রাখতে হবে এই জন্যে, যেহেতু শুকানোর আগে ধুয়ে ফেললে ভেতর থেকে ময়লা পরিষ্কার হয় না। তৈলাক্ত ত্বকে শসার রসও মেশানো যেতে পারে। এতে ত্বকের তৈলাক্তভাব দূর হওয়ার পাশাপাশি ত্বক হবে আরো কোমল এবং সুন্দর।

স্ক্রাব

স্ক্রাব সবচেয়ে, যে প্রয়োজনীয় কাজটি করে থাকে তা হলো, এটি ত্বক থেকে মৃতকোষ দূর করে। স্ক্রাব কিভাবে তৈরি করবেন? জি্ব, জানিয়ে দিচ্ছি। চালের গুঁড়া, শসা অথবা গাজরের রস ও টকদই তৈলাক্ত এবং মিশ্র ত্বকের জন্যে স্ক্রাব তৈরি করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে, টকদইয়ের ক্ষেত্রে দুধ ব্যবহার করবেন। এছাড়া মুলতানি মাটি ও শসা বা গাজরের রসের মিশ্রণও ভালো স্ক্রাবের কাজ করে। স্ক্রাব করতে হবে সাত থেকে দশ দিন পর পর।

ময়েশ্চারাইজার

উপরোক্ত শব্দগুলো সবার কাছে পরিচিত না হলেও ময়েশ্চারাইজার শব্দটি সবার কাছেই পরিচিত। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং ত্বকে মসৃণভাব আনতে ময়েশ্চারাইজারের কোনো বিকল্প নেই। গিস্নসারিন, জনসন ওয়েল বা নারকেল তেল অথবা অলিভ ওয়েলের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ময়েশ্চারাইজ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তৈলাক্ত ত্বকে আর তেল ব্যবহার করা উচিত নয়। তেলের পরিবর্তে লেবু ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

কিছু প্রয়োজনীয় ভেষজ উপাদান

কিছু ভেষজ উপাদান সব সময়ের জন্যেই প্রয়োজনীয়। যেমন_

হলুদ : হলুদ ত্বকের জীবানু নাশ করতে সহায়তা করে। এছাড়া ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি করে।

মধু : মানব দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের জন্যেই মধু দরকারি। তবে ত্বকের জন্যে এর প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি। মধু ত্বককে সতেজ এবং পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি রাখে জীবানুমুক্ত।

লবণ : লবণ এমনিতে কিছুরোগীর জন্যে ক্ষতিকর হলেও যাদের ত্বকে সমস্যা আছে, তাদের জন্যে বেশ উপকারি। কারণ লবণ ত্বকের মৃতকোষ বের করে আনতে সহায়তা করে।

লেবু : ত্বকে এসিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করতে লেবু কাজ করে থাকে।

জায়ফল : মুখের ব্রণের দাগ দূর করতে জায়ফলের কোনো জুড়ি নেই।

কিছু টিপস

 
শুষ্ক ত্বকে মাস্ক হিসেবে সপ্তাহে একদিন তিল ও সাদা সরষে গুঁড়া ১ টেবিল চামচ করে পানিতে গুলিয়ে ত্বকে ১৫ থেকে ২০মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে পারেন। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে প্রতিদিন ময়দা, মধু ও দুধ মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। ত্বকের উজ্জলতা বাড়াতে চাইলে সপ্তাহে একদিন আলুসেদ্ধ ব্যবহার করতে পারেন। হলুদ, টকদই এবং লেবুর রসের মিশ্রণ প্রতিদিন একবার করে ত্বকে লাগাতে পারেন। অনেকের ত্বকেই এলার্জি থাকে। যাদের ত্বকে এলার্জি আছে তারা এসব উপাদান ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নেবেন। নইলে সমস্যা হতে পারে।

হাত ও নখের যত্ন

নখের কোণে লুকিয়ে থাকা জীবাণু দূর করতে হালকা কুসুম গরম পানিতে একটু লিকুইড সোপ মিলিয়ে নিন, হাতে একটু ম্যাসাজ ক্রিম বা অলিভ ওয়েল অথবা অ্যাযারোমা এসেনসিয়াল অয়েল মেকে পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখুন সাত-আট মিনিট। এরপর নেইল ব্রাশ দিয়ে ঘষে নখ পরিষ্কার করে নিন। এতে নখের কোণে লুকিয়ে থাকা জীবাণু সব বেরিয়ে যাবে। পরিষ্কার সাধারন পানিতে হাত ধুয়ে শুকনো তোয়ালে চেপে মুছে নিন। এবার হাতে ময়েশ্চারাইজার লাগান। এতে আপনার হাত হবে মসৃণ।

-হাতের ত্বকের মসৃণতা ফিরিয়ে আনতে ঘরে তৈরি করতে পারেন এই প্যাকটি; চন্দনের গুঁড়া, মুলতানি মাটির সাথে একটু মধু ও আলুর রস। এই প্যাকটি হাতে লাগিয়ে ১০-১২ মিনিট রেখে শুকিয়ে গেলে লেবুর রস এবং অল্প শ্যাম্পু মিশ্রিত কুসুম গরম পানিতে হাত ধুয়ে ফেলুন। পরিষ্কার সাধারন পানিতে হাত ধুয়ে শুকনো তোয়ালে চেপে মুছে নিন। এরপর হাতে লাগিয়ে নিন ভালো কোনো ময়েশ্চারাইজার।

পুরুষের রুপচর্চা

প্রতিটি ছেলেই চায় আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে। এ জন্য সে যদি হঠাৎ একদিনেই বিউটি ট্রিটমেন্ট, ডায়েট, এক্সারসাইজ সব এক সঙ্গে শুরু করে দেয় তাহলে কিন্তু হবে না। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা এবং অনুশীলনের। এসব নিয়ে সুপার কাট ম্যান অ্যান্ড ওমেন সেলুনের বিউটি এক্সপার্ট সাইফুল ইসলাম রচির সঙ্গে কথা বলেছেন

মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের ত্বকের জন্যও প্রয়োজন নিয়মিত যত্নের। কেননা অফিস বা বাড়ির কেনাকাটা, গুরুত্বপূর্ণ খবরা-খবর পেঁৗছানো ইত্যাদি কাজ ছেলেরাই করে থাকে। ফলে রোদে পুড়ে, ধুলা-বালির প্রলেপে ত্বকের রং তামাটে ও রুক্ষ হয়ে যায়। ত্বকের এই রুক্ষতা দূর করতে প্রয়োজন নিয়মিত যত্নের। আজকাল অনেক ছেলেই ত্বকের যত্নের ব্যাপারে বেশ সচেতন। চুল কাটানোর পাশাপাশি তারাও আজকাল মেনিকিউর, পেডিকিউর, হেয়ার কালার, ফেসিয়াল ইত্যাদি করাচ্ছে। তবে ত্বকের যে প্রতিদিন বিউটি এক্সপার্টের কাছেই যেতে হবে, তা কিন্তু নয়। ঘরে বসেই সাধারণ ঘরোয়া জিনিসের সাহায্যে নিতে পারেন আপনার ত্বকের যত্ন। চাল মিহি করে, নিম পাতা গুঁড়ো করে একটি কৌটায় রেখে দিতে পারেন। সপ্তাহে একদিন এ মিশ্রণটি টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। চমৎকার স্ক্রাবের কাজ করবে।

ত্বকের ড্রাইসেল উঠানোর জন্য ব্যবহার করতে পারেন আধা চা চামচ আতপ চাল, শসার রস এবং লেবুর রসের মিশ্রণ। এতে মুখের ড্রাইসেল উঠে গিয়ে ত্বক পরিষ্কার, উজ্জ্বল এবং সতেজ দেখাবে। ত্বক সতেজ রাখতে পেঁপেও খুব উপকারী। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করুন। বাইরে যাওয়ার আগে এবং বাইরে থেকে ফিরে গোসল করুন। প্রতিবার গোসলের পর শরীর নরম তোয়ালে দিয়ে এমনভাবে চেপে মুছুন, যেন ভেজা ভাব বজায় থাকে। এতে শরীরে এক ধরনের প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়বে। শীতের এই রুক্ষ আবহাওয়ায় যদি ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ে তবে নিয়মিত এর যত্ন নিন। শুষ্কতা দূর করতে সপ্তাহে একদিন দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে পরিষ্কার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শীতে ত্বকের ক্লিনজিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং এই তিনের প্রয়োজন হয় খুব বেশি। প্রথমে ত্বকে ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। তুলা টোনারে ভিজিয়ে ত্বকে লাগান এবং সব শেষে ময়েশ্চারাইজিং লোশন দিয়ে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন। এছাড়াও মাসে একবার বিউটি এক্সপার্টের কাছে গিয়ে ফেসিয়াল করান। বাইরে বেশি ঘোরাঘুরি করার ফলে ছেলেদের ত্বকে দেখা দেয় সানট্যানের কালো কালো ছোপ। সানট্যানের কালো ছোপ দূর করতে ঘরে বসেই নিতে পারেন কিছু যত্ন_ ত্বকের জন্য টমেটোর রস একান্ত জরুরি। মুখে লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। আপনার ত্বক হয়ে উঠবে সুস্থ ও সতেজ। টমেটোর রসের সঙ্গে শসার রসও ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণ ত্বকের জন্য শসা কুচির সঙ্গে দই মিশিয়ে মুখে লাগান। ৫মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। বাঁধাকপির রস ২ চা চামচ পানিতে ফুটিয়ে ভেজা মুখে ৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পানি গরম করে তাতে এক মুঠো পুদিনা পাতা সেদ্ধ করে নিন। এই পানি ঠাণ্ডা করে নিয়মিত মুখে লাগালে সানট্যান কমে আসবে। নিয়মিত জুতা ব্যবহারের ফলে অনেক ছেলের পায়েই দুর্গন্ধ হয় সে ক্ষেত্রে নিয়মিত পেডিকিউর করান। সুতির মোজা ব্যবহার করুন। ঘাম এবং দুর্গন্ধ কমানোর জন্য বাজারে ফুটক্রিম এবং পারফিউম পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। গোড়ালির শক্ত চামড়া তুলতে ক্যাস্টার ওয়েল, অলিভ ওয়েল ও নারকেল তেল সমপরিমাণে নিয়ে দুই চা চামচ লেবুর রসের সঙ্গে মিশান। মিশ্রণটি পায়ের শক্ত চামড়ায় ঘষতে থাকুন, এক সময় তা নরম হয়ে উঠে আসবে। সারাদিন বাইরে থাকার ফলে এক ধরনের ক্লান্তি যেন ভর করে শরীরে। সেই ক্লান্তি দূর করতে ঠাণ্ডা পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে তোয়ালে ভিজিয়ে পায়ের পাতায় চেপে ধরুন। দেখবেন ধীরে ধীরে দূর হয়ে যাচ্ছে সব ক্লান্তি। মনে রাখুন, বাইরে বের হওয়ার সময় বড় হ্যাট ও সানগ্লাস ব্যবহার করুন। যতটা সম্ভব ফুলহাতা পোশাক পরার চেষ্টা করুন। হাত-পা ও ঘাড়ে সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না। এক ঘণ্টার বেশি সময় রোদে থাকলে দ্বিতীয়বার অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগিয়ে নেবেন। পকেটে অবশ্যই একটি লিপজেল রাখতে ভুলে যাবেন না। শুধু ত্বকের যত্নই সব নয়, সেই সঙ্গে প্রয়োজন শরীরের যত্নও। দিনে অন্তত ৮ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করবেন। নিয়মিত মৌসুমি ফল খাওয়ার চেষ্টা করবেন। বেশি পিঁয়াজ-রসুন দিয়ে রান্না করা মাংস এড়িয়ে পাতলা ঝোল করে রান্না করা মাংস খাওয়া ভালো। ঠাণ্ডা দুধে গোলাপ জল মিশিয়ে খেলে শরীরও থাকে ঠাণ্ডা, ত্বকও হয় উজ্জ্বল এবং মসৃণ। এছাড়া দুধ চায়ের বদলে লাল চা পান আপনাকে এনে দেবে অনেক স্বস্তি।

এসব কিছু মেনে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন আকর্ষণীয়, রুচিশীল, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন পুরুষ।

মেয়েদের দাড়ি-গোঁফ হয় না কেন?

প্রকৃতি কতগুলো নিজস্ব বিচিত্র নিয়ম মেনে চলে। কোনো জীবের সারা শরীরে রোম, কারো বা দুটো পাখা। মোটামুটি স্তন্যপায়ী জীবের শরীরে রোম আর পাখিদের হয় পাখা। একদিকে চুল যেমন শরীরের উষ্ণতাকে বজায় রাখে তেমনি আবার রোদের ঝলসানি থেকেও বাঁচায়। স্পর্শের অনুভবে সাহায্য করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পুরুষদের দাড়ি গোঁফ হয় কেন, আর মেয়েদের হয় না? এর উত্তরটা দেখা যাক। জন্মের সময় বাচ্চাদের শরীরের হালকা রোম থাকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ তা কড়া হয়ে উঠে। ছেলেমেয়েদের যৌবনোদ্গম ঘটে এগারো থেকে ১৩ বছর বয়সের মধ্যে। এই বয়সেই দেহের বিভিন্ন যৌন গ্রন্থীগুলো বাড়তে দেখা যায়। পুরুষদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ আর অন্যান্য যৌনগ্রন্থি এন্ড্র্রোজেন (androgen) নামে এক রকম যৌন হরমোন তৈরি করে শরীরে ছাড়তে থাকে। মেয়েদের বেলায় তাদের অণ্ডাশয় থেকে যে যৌন হরমোন বের হয় তার নাম এস্ট্রোজেন (oestrogen)। যৌবনোদ্গমে এন্ড্রোজেনের কাজ হলো মুখে, বুকে চুল দাড়ির জন্ম দেওয়া, কণ্ঠস্বর ভারি করে তোলা। আর এস্ট্রোজেনের কাজ হলো মেয়েদের স্তনের আকার বড় করা। স্ত্রী-পুরুষ উভয়েরই শরীরে এই হরমোনগুলো অনেক অদল-বদল ঘটায়। একদিকে মেয়েদের শরীর যেমন কমনীয় হয়ে উঠে, অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে হয় কিছুটা কর্কশ। এক ধরনের এস্ট্রোজেনের নাম হলো প্রোজেস্ট্রোজেন (progestrogen) যার কাজ হলো গর্ভ নিয়ন্ত্রণ করা। তাহলে দেখা যাচ্ছে, এন্ড্রোজেন ক্ষরণ না হওয়ার ফলে মেয়েদের দাড়ি গোঁফ হয় না।

ঠোঁট, চুল ও ত্বক

ত্বকের কাজ শুধু শরীরের হাড়, মাংসকে আগলে রাখাই নয়; মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করাও। তাই ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া আবশ্যক। অন্যদিকে চুলের কাজও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। তবে অযত্ন অবহেলায়, অসময়েই চুলে পাক ধরতে পারে অথবা চুল ঝরে যেতে পারে। পাশাপাশি এই উৎসবে আপনার ঠোঁটে চাই বাড়তি যত্ন। আসুন জেনে নিই সেই যত্নের ব্যাকরণ।

ত্বকের যত্ন

ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি যে বিষয়টি তা হলো নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করা। সে জন্যে নির্দিষ্ট একটা বিরতি দিয়ে দিয়ে মুখ ধুতে হবে। বিশেষ করে যখন বোঝা যাবে ত্বকে কোনো ময়লা লেগেছে তখন অবশ্যই ধুয়ে নিতে হবে। আর এ ধোয়া যেন শুধু পানি দিয়ে ধোয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। ধুতে হবে ফেসওয়াশ দিয়ে। বিশেষ করে সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া আবশ্যক। বিজ্ঞাপনে কোনো সাবানকে যত ভালোই বলা হোক না কেন, এছাড়া সাবানটি এমনিতে যত নরম কোমলই হোক না কেন, তাতে ত্বকের জন্যে ক্ষতিকর অনেক উপাদান থাকে। ফলে নিয়মিত সাবান ব্যবহারের কারণে মুখের ত্বকে বলিরেখা পড়তে পারে। তাই মুখের ত্বকে খুব বেশি সাবান ব্যবহার না করাই ভালো। সাবানের পরিবর্তে ফেসওয়াশ ব্যবহার করলেও, ফেসওয়াশটি আসলেই মানসম্পন্ন কিনা যাচাই করে নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন যেকোন স্ক্রাব দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। ত্বক তৈলাক্ত হলে সেটি আরেক সমস্যা। তাই খেয়াল রাখুন ত্বকে যাতে তেল না জমে। মনে রাখবেন, ত্বকে তেল জমলে সেখানে সহজেই ময়লা লেগে যায়। তখন পুরো মুখ ভরে যায় ব্রণে। তবে যাদের ত্বক এমনিতেই তৈলাক্ত তারা এই তেলতেলে ভাব কাটাতে কমপ্যাক্ট পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। বরফ দিয়ে ম্যাসাজ করলেও উপকার পাবেন। খেয়াল রাখবেন ত্বকে ব্যবহূত সামগ্রী যেন ভালো ব্র্যান্ডের হয়।



চুলের যত্ন

প্রতিদিন ভালোভাবে চুল ধুতে হবে। যারা বাইরে কাজ করেন তাদের চুলে বেশি ধুলোবালি লাগে। তাই তারা প্রতিদিনই শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোবেন। সম্ভব হলে কন্ডিশনারও ব্যবহার করবেন। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন চুলে গরম তেল ম্যাসাজ করুন। নারকেল তেল চুলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। তাই এই তেল সারারাত চুলে লাগিয়ে রেখে পরদিন ধুয়ে ফেলুন। এতে রাতে আপনার ভালো ঘুম হবে। তেলের সঙ্গে যেকোনো প্রোটিনসমৃদ্ধ প্যাকও লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে ডিম, আমলা, টকদই এসব দিয়ে তৈরি প্যাক চুলের জন্যে খুব উপকারি। রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে চুল ভালোভাবে আচড়ে নিন। চুল ভেজা থাকলে সেটা ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে তবেই ঘুমুতে যান। নইলে ঠান্ডা লেগে যাবে। চুল বেশি লম্বা হলে পাতলা স্কার্ফ দিয়ে মুড়িয়ে নিতে পারেন। এতে চুল নিরাপদ থাকবে। খুশকি থেকে বাঁচতে চুল সবসময় পরিষ্কারও শুকনো রাখুন। দিনে যখন কোথাও বের হবেন, চুল বেঁধে রাখবেন। এতে চুল কম ময়লা হবে। চুল অপরিচ্ছন্ন থাকলে উকুনও হতে পারে। উকুন আবার অন্য কারো মাথা থেকেও আসতে পারে। তাই অপরিচ্ছন্ন চুলের কারো সাথে মেশার সময় সাবধান থাকতে হবে। আপনি যে বালিশে ঘুমুবেন, চুলের যত্নের কথা ভেবে হলেও সেই বালিশটি পরিষ্কার রাখবেন। কারণ অপরিচ্ছন্ন বালিশ থেকেও চুলে ধুলো ময়লা লেগে থাকে।

শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১০

সৌন্দর্য চর্চায় লেবু

রূপচর্চার জন্য লেবু একটি শ্রেষ্ঠতম উপাদান। সৌন্দর্য চর্চায় লেবুর ব্যবহার আজ থেকে হয়নি। প্রাচীন মিশর এবং গ্রীস্মের রাজকুমারীরাও লেবুর সমাদর করতেন। লেবুকে তারা তাদের রূপচর্চার একটি বিশেষ উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতেন। এজন্য চীন দেশে লেবুকে বলা হতো ‘লিমুং’। অর্থাৎ মেয়েদের জন্য উপকারী। চীনের উপকথায় আছে- কোন এক রূপসী সম্রাজ্ঞী লেবু থেকে তার রূপচর্চার উপকরণ তৈরি করতেন এবং তার সৌন্দর্যের তথ্যটি গোপন রেখেছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর ব্যাপারটি জানাজানি হয়ে গেল। আর তখন থেকে মেয়েরা রূপচর্চায় লেবু ব্যবহার করে আসছেন।

আমাদের দেশে লেবু অতি সহজেই পাওয়া যায়। সৌন্দর্য বাড়াতে লেবুর কার্যকারিতা অনেকখানি। প্রসাধন সামগ্রী হিসেবে আপনি যে মেকআপ ব্যবহার করছেন তাতে আপনার মুখে যে পরিচ্ছন্নতা বা সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, তা সাময়িক। কিন্তু প্রাকৃতিক সামগ্রীর ব্যবহারে সৌন্দর্য হয় স্থায়ী।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই যদি একগ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেকটা পাতি লেবুর রস সামান্য মধু অথবা চিনি দিয়ে মিশিয়ে খান তাহলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় যাবে। শরীরের চামড়ার ফুটে উঠবে আভা। চোখ-মুখে বিবর্ণতা মুছে গিয়ে ত্বকের ঔজ্জ্বলতা বাড়বে বহুগুণ। আপনার চামড়া যদি তৈলাক্ত হয় তাহলে দিনের মধ্যে কয়েকবার লেবুর রস পান করুন। চামড়ার তেলতেলে ভাব কয়েকদিন পরই কমে আসবে। মুখে শ্রী বাড়ানোর জন্য এক টুকরো লেবুর রসের সাথে দু’চামচ দুধ মিশিয়ে তুলার সাহায্যে মুখে প্রলেপ লাগাবেন। পনেরো-বিশ মিনিট এই প্রলেপ রাখার পর ধুঁয়ে ফেলবেন। যাদের মুখে ব্রণ আছে তারা দুধ বাদ দিয়ে শুধু লেবুর রসই লাগাবেন। মনে রাখবেন মুখের ব্রণ এবং ব্রণের দাগ সরানোর জন্য লেবুর রস ত্বকে মাখা একান্তভাবেই দরকার। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। লেবু কিংবা গাজরের রস অল্প একটু চিনির সাথে মিশিয়ে খেলে এর হাত থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়। শুষ্ক ও রুক্ষ্ম ত্বকের কমনীয়তা আনার জন্য লেবুর রস, গোলাপ পানি ও শসার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে ঘাড়, গলা ও দেহের অন্যান্য অংশে মাখুন। পনেরো-বিশ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ডিমের সাদা অংশের সাথে অর্ধেকটা লেবুর রস ও কুসুম গরম পানি পেস্টের মতো করে মিশিয়ে নিন। এই প্রলেপটি আস্তে আস্তে ত্বকে মাখুন। শুকিয়ে যাবার পর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। তেলতেলে ত্বকের পক্ষে এটি ভীষণ উপকারী। লেবুর রস ও শসার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে নিন। ব্যস, হয়ে গেল অ্যান্ট্রিনজেন্ট লোশন তৈরি। এটি ত্বকে লাগেিয় দেখুন। কয়েকদিনের মধ্যেই ত্বকের তেলতেলে ভাব কমে যাবে। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে ১ চামচ দুধের সরের সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ধীরে ধীরে তা ত্বকে মালিশ করে নিন। সকালে উঠেই তা ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উপরি দাগগুলো উঠে যাবে। দেহ ত্বককে কোমল এবং দাগমুক্ত রাখার জন্য লেবু একটি চমৎকার উপাদান। ত্বকে অনেক সময় কালো দাগ দেখা যায়। এক্ষেত্রে একটি ছোট শসার সাথে একটি পাতি লেবুর রস, ১ চামচ ব্রান্ডি ও ১ চা চামচ ডিমের সাদা অংশ, দু’চামচ গোলাপ পানি মিশিয়ে ত্বকে ধীরে ধীরে মালিশ করবেন। কালো দাগতো দূর হবেই, সেই সাথে ত্বক হবে আকর্ষণীয়, কোমল ও উজ্জ্বল। হাতের কনুই, হাঁটু, পায়ের গোড়ালি এসব জায়গায় বেশি ময়লা জমে। এ নিয়ে অনেকেরই দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। আধা টুকরো লেবু নিয়ে এই জায়গাগুলোতে ভাল করে ঘষে নিলে ময়লা উঠে গিয়ে ঝকঝকে হয়ে উঠবে। পায়ের রুক্ষভাব দূর করতে লেবুর রসের সাথে অল্প মিহি চিনি মিশিয়ে মালিশ করে নেবেন। দশ মিনিট পর হাত ধুয়ে নিন কুসুম গরম পানিতে। দেখবেন হাত-পা কেমন পেলব কোমল মসৃণ হয়ে উঠেছে।

ঘরের কাজ যেমন কাপড় কাচা, বাসন মাজা, ঘর মোছা, এসব কাজ করতে করতে হাতে কড়া পড়ে যায়। হাতের মোলায়েম ভাব নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে গোলাপ পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে হাতের পাতায় মাখুন। এছাড়া হাতের রুক্ষ্মতা দূর করার জন্য নিয়মিত টমেটোর রস, লেবুর রস ও কাঁচা দুধ একসাথে মিশিয়ে গোসলের আগে পনেরো-বিশ মিনিট ত্বকে মেখে নেবেন।

মুখের মেছতা বা অন্যান্য দাগ দূর করতে স্কীনের উপর ভ্যাপার নেবার পর ১ চামচ মুলতানি মাটি ও আদা চামচ ট্যালকম পাউডার গোলাপ পানির সাথে মিশিয়ে সেই মিশ্রণে কয়েক ফোটা গ্লিসারিন ও লেবুর রস মেশান। মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে কুসুম কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এই মিশ্রণটি ৩/৪ দিন ব্যবহার করবেন।

অতুলনীয় সৌন্দর্যময় কেশরাজির পরিচর্যায় লেবুর প্রয়োজন সর্বাধিক। প্রতিদিন গোসলের আগে একটা লেবু চিপে রস বের করে সেই রস চুলের গোড়ায় বিলি কেটে কেটে ঘষে লাগিয়ে দিন। এতে চুলের গোড়া পরিষ্কার ও শক্ত চুলের খুসকি দূর হয়। এ ছাড়া চায়ের পানি ছেঁকে সেই পানিতে একটা লেবুর রস মিশিয়ে শ্যাম্পু করার পর সেই পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেললে চুলের রুক্ষ্মভাব কেটে চুল হবে রেশমের মতো কোমল-মসৃণ-উজ্জ্বল।