হৃদরোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হৃদরোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০১৪

রক্ত পরীক্ষায় হার্ট অ্যাটাক শনাক্ত করা যায়

হার্ট অ্যাটাক শনাক্ত করার জন্য একটি অতি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা করা যেতে পারে। এমন একটি গবেষণা লব্ধ তথ্য দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। বুকে ব্যথা হলেই হাসপাতাল, ইসিজি, এনজিওগ্রামসহ নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা, ইনডাইজেশন, পেটে গ্যাস হওয়া ইত্যাদি কারণে বুকে ব্যথা হতে পারে। 

গবেষকগণ বলছেন, সুইডেনে একটি বড় স্টাডিতে দেখা গেছে শুধু একটি ইসিজি ও ব্লাড টেস্ট ট্রপোনিন পরীক্ষায় শতকরা ৯৯ ভাগ ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক শনাক্ত করা যায়। 

এ ব্যাপারে স্টকহোমের
 ইউনিভার্সিটি হসপিটালের বিশেষজ্ঞ ড. নাদিয়া ব্যান্ডসটেইন মনে করেন, এই দুটি সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমে শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ হাসপাতাল এডমিশন পরিহার করা যায়। তবে গবেষকগণ স্বীকার করেছেন, হার্ট অ্যাটাক হয়েছে অথচ এমন ২ ভাগ রোগীকে ভুলবশত: বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে।

রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২

আর নয় হার্ট-এটাক্...সবাই শুরু করুন......মৃত্যু ঝুকি কমান...


আমার বন্ধু, হঠাৎ একদিন বুকে প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেল। ডাক্তার এনজিওগ্রাম করল এবং চারটা ব্লক ধরা পরল, ডাক্তার রিং বসাতে পরামর্শ দিল। কিন্তু পর্যাপ্ত টাকার অভাবে রিং পরাতে পারল না। কিছু দিন পর

বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১১

""হার্টএটাক" কে জানুন , "হার্টএটাক" থেকে বাঁচুন

প্রথম কথাঃ
এমন একটা সময় ছিল যখন মানুষের হৃদরোগ হৃদরোগ হতনা। জীবন যাত্রা জটিল থেকে জটিলতর আকার ধারন করার পরেই এই রোগ শুরু হয়। তবে কম লোকই এই রোগের শিকার হতেন। যুগ যন্ত্রনা এবং তার সংগে জীবন যন্ত্রনা বাড়ার সংগে সংগে মৃত্যুর হার বাড়তে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বয়স্ক ব্যক্তিরাই এই রোগে আক্রান্ত হতেন। সেদিনের তুলনায় আজ রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। আসুন, আমরা জানি, কিভাবে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায় ।

আমাদের হৃদপিন্ডঃ

আমাদের হৃদপিন্ডের বাইরের দিকে (গায়ে) করোনারী আরটারী নামে দু’টো বেশ মোটা ধমনী এবং তাদের অজস্র শাখা-প্রশাখা আছে। ১২/১৩ বছর বয়স থেকেই এই ধমনির ভেতরের দিকে “তেল” জমতে থাকে। ডাক্তারী পরিভাষায় এই তেলের নাম সিরাম কোলেস্ট্রল এবং সিরাম ট্রাইগ্লিসারাইডস। জীবদেহের চর্বি থেকে যে তেল আসে তার নাম কোলেস্ট্রল এবং উদ্ভিদ থেকে যে তেল আসে তার নাম ট্রাইগ্লিসারাইডস।আমাদের দেশে একজন মানুষের সাধারনতঃ দৈনিক ১৮ গ্রামের বেশি তেলের প্রয়োজন হয়না। অথচ প্রতিদিন আমরা এর চেয়ে অনেক অনেক বেশি তেল গ্রহন করি। ফলে প্রতি দিনই অল্প অল্প করে তেল ধমনী এবং তাদের শাখা-প্রশাখার ভেতরের গায়ে জমা হতে থাকে।সাধারনতঃ এই পথের কোন কোন অংশে বেশি বেশি করে তেল জমে। তবে পথের শতকরা ৭০ ভাগ অবরুদ্ধ হলেও আমরা টের পাইনা। এর বেশি হলেই আমরা বুঝতে পারি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বুকের বাদিকে ব্যাথা শুরু হয়। এই ব্যাথা বা দিকে সরে গিয়ে বা হাতে গিয়েও পৌছাতে পারে। কোন কোন রোগী বুকের মাঝখানেও ব্যাথা অনুভব করেন। কালে-ভদ্রে বুকের ডান দিকেও ব্যাথা হয়ে থাকে। হাটতে শুরু করলে যদি এই ব্যাথা বাড়ে এবং বিশ্রাম নিলে যদি কমে যায় তাহলে বুঝতে হবে এটি হৃদরোগের ব্যাথা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই ব্যাথাকে বলে “এঞ্জাইনা” ।
আগেই বলেছি, করোনারী ধমনীতে বা এর শাখা-প্রশাখার এক বা একাধিক জায়গায় অবরোধ হতে পারে। শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ অবরোধ হলে আমরা ভাল ভাবেই চলাফেরা করতে পারি। শতকরা ৯৫ ভাগ পর্যন্ত অবরোধ হলেও আমরা বেঁচে থাকতে পারি। এর বেশি অবরোধ হওয়ার অর্থ মৃত্যু খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছে।
বিভিন্ন কারনে আমাদের রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যেতে পারে। এর পর অনেক সময় রক্তের মধ্যে ছোট ছোট ডেলা সহ রক্ত যখন অবরুদ্ধ ধমনী বা শাখা ধমনির ভেতর দিয়ে যেতে থাকে তখন বিপত্তি ঘটে। বুকে চাপ অনুভূত হয়। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, ব্যাথা হয়, ঘাম হয়। এটি হৃদরোগের প্রাথমিক অবস্থা।অধিকাংশ ক্ষেত্রে যেখানে অবরোধ হয়েছে তার কাছাকাছি হার্টের মাংসপেশী শতকরা ৫ থেকে ১০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে হার্টের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা শতকরা ৫ থেকে ৬ ভাগ কমে যায়।
প্রথম যখন বুকে ব্যাথা শুরু হয় তখন অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি পরিক্ষা-নিরিক্ষা করে দেখবেন কি কারনে ব্যাথা হয়েছে। কারন,ব্যাথা হওয়া মানেই হার্টের রোগ নয়।প্রাথমিক পরীক্ষায় রোগীর হার্টের রোগ বোঝা গেলে ই সি জি , টি এম টি, রক্তের লিপিড প্রোফাইল এবং সুগার পরীক্ষা করা হয়।
ধরে নেওওয়া যাক রোগটি হার্টেরই, অর্থাৎ ব্যাথাটি এঞ্জাইনার ব্যাথা। অধিকাংশ সময় ডাক্তার সাহেবরা এর জটিল মেকানিজম বোঝাতে যান না। বলেন, রোগীর অবস্থা তেমন ভাল মনে হচ্ছেনা । ২/১ দিনের মধ্যে এঞ্জিওগ্রাফ করাতে হবে। সম্ভব হলে আজি হাসপাতালে ভর্তি করে দিন। রোগী যদি বলে সংগে করে তো টাকা পয়সা নিয়ে আসিনি। ডআক্তার সাহেব বলবেন তাকা বড় কথা নয়, বড় কথা আপনার সু-চিকিৎসা। টাকা কাল বা পশু দেবেন । আজ ভর্তি হয়ে যান, কাল বেড নাও পেতে পারেন। রোগী ভাববে দেশে তাহলে এমন আন্তরিক ডাক্তারও আছেন।
হৃদরোগ চিকিৎসার গতানুগতিক চিন্তা ধারার ডাক্তার সাহেবরা এমতাবস্থায় রোগীকে বাইপাস সার্জারি বা এনঞ্জিওপ্লাস্টি করার পরামর্শ দেন। এতে রোগীর প্রচুর টাকা খরচ হয়, অথচ রোগ স্থায়ি ভাবে ভাল হয় না । সাময়িক উপশম হয় মাত্র । কিছুদিন পর আবার একই সমস্যা দেখা দেয় । কারন - অপারেশনে রোগের মূল কারন কে দূর করা হয় না।
সত্তরের দশকেও এই রোগের জন্য অপারেশন শুরু হয়নি। কেবল ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হত, আশির দশকে শুরু হয় বাইপাস সার্জারি। সবাই ভেবেছিলেন ব্লকের স্থায়ি সমাধান পাওয়া গেছে। নব্বই এর দশকে শুরু হয় এঞ্জিওপ্লাস্টি। তখন লোকে বলেছে এটাই শ্রেষ্ঠ সমাধান। কিন্তু দু’টো পদ্ধতিরই ক্ষতিকর সাইড এফেক্ট দেখা দিল। প্রিয় পাঠক চলুন সংক্ষেপে হার্টব্লকেজ ও এর চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আলোচনা করি।

হৃদরোগের কারনঃ

হৃদরোগের অনেক কারন আছে। প্রাথমিক জ্ঞানের জন্য আমরা এখানে প্রধান কারনগুলো উল্লেখ করবো ,
1. তেলযুক্ত খাদ্য গ্রহন।
2. মানসিক চাপের মধ্যে থাকা।
3. রক্তে এল ডি এল (খারাপ) কোলেস্ট্রলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং এইচ ডি এল (ভাল) কোলেস্ট্রলের মাত্রা কমে যাওয়া।
4. খাদ্যে এন্টি অক্সিডেন্টের অভাব।
5. উচ্চ রক্তচাপ,ডায়াবেটিস এবং মদ খাওয়া।
6. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও ওজন বৃদ্দি।
7. তামাক (বিড়ি,সিগারেট,গুল,জর্দা) খাওয়া।
এগুলোর মধ্যে মনসিক চাপ এমন একটি ক্ষতিকর প্রক্রিয়া যা একাই হৃদরোগ সৃষ্টি করতে পারে। মানসিক চাপের ফলে অনেক সময়ইঃ
1. রক্তের চাপ বেড়ে যায়।
2. হৃদপিন্ডের স্পন্দন বেরে যায়।
3. রক্তের তেল(ফ্যাট) জমা হওয়ার কাজ দ্রুততর হয়।
4. রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়।
5. করোনারী এবং অন্যান্য ধমনীগুলো অধিক ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে।
6. রক্তে “ক্লট” তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
7. ধমনীগিলোর ভিতরের দিকে(গায়ে) কোলেস্ট্রল ও ট্রাইগ্লিসারাইড জমা হতে থাকে।
হার্ট এটাকঃ

করোনারি আরটারীতে রক্ত প্রবাহ অস্বাভাবিক ভাবে কমে গেলে হার্টের পেশির কোন কোন অংশ অকেজো হয়ে পড়ে। সে কারনে হার্টের কার্যক্ষমতা কমে গেলে তাকে “হার্ট এটাক” বলে । চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর নাম “মায়ো কারডিয়াল ইনফারকশন”।
হার্ট এটাক হয় সাধারনত করোনারি আরটারি ডিজীজের কারনে। করোনারি আরটারির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে পলির মতো কোলেস্ট্রল ও ট্রাইগ্লিসারাইড জমে এর ভেতরটা বন্ধ হয়ে যায়। এটাই হলো করোনারি আরটারি ডিজীজের অন্যতম প্রধান কারন।
বিপধের আশঙ্কা দেখা দেয়,যদি করোনারি আরটারির ভেতরটা শতকরা ৭০ ভাগের অধিক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এবং রক্তের ক্লট বা রক্তের ডেলা করোনারি আরটারির ভেতরটা বন্ধ করে দেয় ফলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় । এবং যা অঞ্চলে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়, সেখানকার অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাব ঘটে , ওখানকার পেশিগুলো নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে তখন হার্ট এটাক হয়।
যাদের হার্ট এটাক হয় তাদের শতকরা ৯০ জন পুরুষ। ধমনীর অবরুদ্ধ জায়গায় রক্তের ক্লট বা ডেলা আটকে গিয়ে হার্টের মাংসপেশির শতকরা ৫ থেকে ১০ ভাগ এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হলে তাকে মৃদু হার্ট এটাক বা মায়ো কারডিয়াল ইনফারকশন বলে। এসব ক্ষেত্রে অধিকাংশ রোগী বেঁচে যান।
ধমনী অবরোদের ফলে হার্টের ৩০ থেকে ৪০ ভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে তাকে মারাত্মক হার্ট এটাক (সিভিয়ার) বলে। সিভিয়ার হার্ট এটাক হলে তিন ভাগের একভাগ রোগী বাড়ীতেই মারা যায়। গ্রামে মারা যান শতকরা ১০০ জন। হাসপাতালে বা ডাক্তার সাহেবের কাছে পৌছাবার আগে মারা যান তিন ভাগের এক ভাগ। বাকী তিন ভাগের এক ভাগের মধে অনেকে আবার হাসপাতালেই মারা যান।শতকরা ৯৫টি ক্ষেত্রে অজ্ঞানতার কারনে হৃদরোগ হয়। অর্থাৎ কেন হৃদরোগ হয় এবং এই রোগকে কি ভাবে আটকানো যায় তা না জানার কারনেই হৃদরোগ হয়ে থাকে। ১০ জন রোগির মধ্যে ৯ জন রোগির হার্টের মাংসপেশীতে রক্ত সঞ্চালন সঠিকভাবে হয় না।সাধারনতঃ একটু বেশি বয়সে হৃদরোগ হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সেও এই রোগ দেখা যায় । তবে মানসিক চাপ অত্যাধিক হলে ২৫ বছর বয়সেও এই রোগ হতে পারে।

হার্ট এটাক এড়াবার উপায়ঃ

ধরুন আপনার এঞ্জাইনা হয়েছে। এর অর্থ আপনার করোনারী আরটারী বা তার কোন শাখায় একটি বা একাধিক ব্লকেজ আছে। আপনি নিশ্চয়ই চাইবেননা , আপনার হার্ট এটাক না হোক। সেক্ষেত্রে কি করবেন আপনি? সহজ পরামর্শ হচ্ছে - “অবরোধকে আপনি বাড়তে দেবেন না। আপনি যদি এটাকে কম করে আনতে পারেন ,তাহলে হার্ট এটাক আর কখনো হবেনা”।
আপনি ব্যায়াম করবেন। তার সংগে যোগাসন ও ধ্যান, নিয়মিত এবং সুবিধা মত। উচ্চতা অনুসারে ওজন ঠিক রাখবেন। ধুমপান একধম নয়। নয় মদ্যপান। মানসিক চাপের উপর নিয়ন্ত্রন রাখবেন। নিরামিষ খাবেন। মাংস একদম নায়। দুধ ও দুগ্ধজাত জিনিস খাবেন না। কোন প্রকার তেল খাবেন না। প্রচুর পরিমানে সালাদ আর ফল খাবেন। ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি ফল খাবেন না। খেয়াল রাখতে হবে-
1. কোলেস্ট্রল যেন 120 থেকে 130 mg/dl এর মধ্যে থাকে।
2. ট্রাইগ্লিসারাইড থাকতে হবে 60 থেকে 100 mg/dl এর মধ্যে।
3. এইচ ডি এল 40 থেকে 60 mg/dl এর মধ্যে এবং এল ডি এল কে রাখুন 70 mg/dl এর মধ্যে।
4. খালি পেটে ব্লাড সুগার 70mg/dl থেকে 100mg/dl এবং খাবার 2 ঘন্টা পরে 140mg/dl চেয়ে কম রাখতে হতে ।
5. রক্তচাপ যেন 120/80 mm Hg থাকে।  



নেট থেকে

শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০১১

হার্ট এট্যাক ও উষ্ণ পানি পানের উপকারিতা




খাওয়ার পর শুধু উষ্ণ পানি পানের উপকারিতা নয়, বরং হার্ট এট্যাকের
ব্যাপারেও আপনাকে জানানোর জন্য এই পোস্ট। চীনা ও জাপানী'রা তাদের খাওয়ার সময় ঠান্ডা পানি নয়, উষ্ণ চা পান করে। খাবার সময় ঠান্ডা পানি পান করার আমাদের যে অভ্যাস, এই পোস্ট পড়ার পর হয়তো আমরা তা বদলাতেও পারি।


আসলে যারা খাওয়ার সময় ঠান্ডা পানি পান করেন, এই পোস্ট'টা তাদের জন্য।
খাবার পর এক গ্লাস ঠন্ডা পানি সত্যিই সুপেয়। কিন্তু এই ঠান্ডা পানি, আপনি খাবারের সাথে যে তৈলাক্ত জিনিসগুলো মাত্র গলাধকরণ করেছেন, তা জমিয়ে শক্ত করে দেবে। ফলে হজমপ্রক্রিয়া শিথিল হয়ে যাবে। এই শক্ত তৈলাক্ত পদার্থ এ্যাসিডের সংস্পর্শে আসলে তা বিক্রিয়ায় ভেঙ্গে যাবে আর ক্ষুদ্রান্তে কঠিন খাদ্যদ্রব্যের চেয়ে দ্রুতগতিতে শোষিত হবে।
এই শোষিত দ্রব্যসমূহ ক্ষুদ্রান্তের গায়ে জমতে থাকবে। শীঘ্রই এগুলো চর্বিতে রুপান্তরিত হবে আর ক্যানসারের দিকে ধাবিত হবে।
এই জন্য খাওয়ার পর গরম স্যুপ অথবা হালকা গরম পানি পান করা শ্রেয়।

হার্ট এ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণসমূহ:
এটা সবার জান থাকা উচিত যে, সব হার্ট এট্যাকের লক্ষণই কিন্তু বাঁ বাহু'র ব্যাথা নয়। নীচের চোয়ালের প্রচন্ড ব্যাথার ব্যাপারেও সজাগ থাকুন!

প্রথম হার্ট এ্যটাকে আপনি হয়তো বুকে ব্যাথা না ও অনুভব করতে পারেন।

বমি-বমি ভাব ও অতিরিক্ত ঘাম হওয়াও হার্ট এ্যাটাকের কিছু সাধারণ লক্ষণ।

ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হার্ট এ্যাটাক হলে ৬০% রোগী আর জেগে উঠতে পারেন না। ঘুমের মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকে।
চোয়ালে ব্যাথা হলে তা আপনাকে গভীর ঘুম থেকেও জাগিয়ে তুলতে পারে। এ ব্যাপরে সজাগ ও সতর্ক থাকুন।

যত বেশী আমরা জানবো, তত বেশী আমাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা জেগে থাকবে। তাই সবার সাথে এই তথ্যগুলো শেয়ার করুন। 

নেট থেকে

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১১

হার্ট এট্যাক হলে কি করবেন?

সারাদিনের কর্মব্যস্ত কাজের শেষে বিকেলে যখন আপনি বাসায় ফিরছেন তখন হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন সাথে খুব ঘাম এবং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা । সেই তীব্র ব্যথা ক্রমাগত মুখের চোয়াল হয়ে আপনার বাম হাতে ছড়িয়ে পড়ছে। আপনি খুব অস্থির অনুভব করছেন। যারা হার্ট এট্যাকের রোগী তাদের নিকট এই অভিজ্ঞতা খুব সাধারণ। হার্ট এট্যাক হলে হাসপাতালের নেবার পূর্ব পর্যন্ত যদি কিছু টিপস মেনে চলা যায় তাহলে অপ্রত্যাশিত মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। তাই হার্ট এট্যাকের রোগীদের জন্য এবং যাদের হার্ট এট্যাকের মত এরকম অভিজ্ঞতা হতে পারে তাদের জন্য কিছু করনীয় বিষয় উল্লেখ করছি।

হার্ট এট্যাক হলে ভয় পাবেননা। আমাদের হার্ট যখন অপর্যাপ্ত এবং অনিয়মিতভাবে রক্তসঞ্ছালন করে তখনই হার্ট এট্যাক হয়। হার্ট এট্যাকের ১০ সেকেন্ডের মধ্যে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে আপনি খুব দ্রুত জোরে এবং ঘন ঘন কাশি দিবেন যেন কাশির সাথে কফও বের হয়ে আসে। প্রতিবার কাশি দেবার পূর্বে দীর্ঘশ্বাস নিন। এভাবে ঘন ঘন কাশি এবং দীর্ঘশ্বাস প্রতি দুই মিনিট পর পর করতে থাকুন। এতে করে আপনার হার্ট কিছুটা হলেও নিয়মিতভাবে রক্তসঞ্চালন করবে।

হার্ট এট্যাকের প্রত্যেক রোগীর জন্য এই টিপস জেনে নেওয়া আবশ্যক। কারণ হাসপাতালে নেবার পূর্বে এই টিপস অনেকখানি সাহায্য করবে রোগীকে। কারণ দীর্ঘশ্বাসের ফলে আমাদের শরীরে অক্সিজেন পরিবহন বেশি হয়। আর ঘন ঘন এবং জোরে কাশি দেবার ফলে বুকে যে চাপের সৃষ্টি হয় এতে করে হার্ট পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ভাবে রক্তসঞ্চালনের জন্য প্রস্তুত হয়।
কেবল ত্রিশ বছরের বেশি বয়স্কদের জন্য হার্ট এট্যাকের ঝুঁকি নয়, বরং আজকাল জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হওয়াতে যেকারও হার্ট এট্যাকের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাই সবারই এব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।
 সুত্রঃ ইন্টারনেট থেকে

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১

বুক ব্যথার কারণ


বুকে ব্যথা এক ধরনে জটিল সমস্যা। এই সমস্যা এতো জটিল হয় যার জন্য কোন ব্যক্তিকে হাসপাতালের জরুরী  বিভাগে যেতে হয়। বিভিন্ন কারণে  বুকে ব্যথা হয়ে থাকে। প্রথমে দেখতে  হবে বুকে ব্যথা  আঘাত জনিত  কারণে  না আঘাত বিহীন কারণে। যদি আঘাত  বিহীন কারণে বুকে ব্যথা হয় তাহলে  প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে হূদরোগ জনিত কারণে না অন্য কোন কারণে বুকে ব্যথা হচ্ছে। এই কারণ নির্ধারনের জন্য রোগীর কাছ থেকে রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত ইতিহাস জানতে হবে এবং এর পর শারীরিক ও ল্যাব পরীক্ষা করে সঠিক রোগ নির্ণয় করলে বেশীর ভাগ বুকের ব্যথা ভাল করা সম্ভব।
যে যে কারণে বুকে  ব্যথা হয়  তা হল:
১। হূদরোগ জানিত  কারণ
২। ফুসফুস জানিত  কারণ
৩। মাংশ পেশী জনিত  কারণ (Musculoskeletal Pain)
৪। খাদ্যনালী জানিত কারণ
৫। মানসিক কারণ
৬। আর ও অন্যন্য কারণ
প্রথমে  বুকের ব্যথা কোন স্থানে: বুকের মাঝখানে, না বাম বা ডান পার্শ্বে

ম বন্ধ হয়ে আসে এমন  বা অনুভূতিহীন যেমন হূদরোগ জনিত কারণ।
বুকে ব্যথার প্রকৃতি: চাপ চাপ ব্যথা, মনে হয়  বুকের মাঝ খানে পাথর  বসিয়ে রেখেছে  এমন, 
তীব্র ব্যথা, ছুড়ি দিয়ে আঘাত করলে যেমন মনে হয়, পোড়ানো ব্যথা, শ্বাস নেবার সাথে সাথে তীব্র ব্যথা, ফুসফুস জানিত কারণ যেমন- নিমোনিয়া, পালমোনারী অ্যামবলিজম, হূদ যন্ত্রের প্রদাহ।
হঠাত্ তীব্র পীড়াদায়ক ব্যথা বুকের  সামনে থেকে পিছনের দিকে চলে যায় Aortic Desection (ধমনী ছেঁড়া জনিত কারণ)
যদি বুকের ব্যথা পরিশ্রম করিলে, দুঃচিন্তা  করলে, ঠান্ডা আবহাওয়ার সংস্পে আসলে, দুঃস্বপ্ন দেখিলে বাড়ে কিন্তু বিশ্রাম নিলে, জিহবার  নীচে নাইট্রেট জাতীয় ওষুধ দিলে কমে তাহলে হূদ রোগ হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। খাবার পর, শোবার সময়, গরম খাবার, মদ পান করলে  এবং খালী পেটে যদি ব্যথা বাড়ে, এ্যান্টাসীড জাতীয় ওষুধ খেলে  কমে যায়, তাহলে খাদ্য নালী জানিত  কারণ।
বুকের ব্যথার সাথে শ্বাস কষ্ট হলে হূদরোগ, পালমোনারী অ্যামবলিজম  নিমোনিয়া নিউমোথোরাক্স হয়েছে  বলে সন্দেহ করা হয়।
পরিশ্রম শুরু  করার কিছুক্ষণ পর থেকে ব্যথা শুরু হয়, বিশ্রাম নিলেও ব্যথা থাকে,  ব্যথা নিরাময় জাতীয় ওষুধ জাতীয় ওষুধ থেকে ব্যথা  কমে তাহলে  মাংশপেশী জনিত কারণ হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়।
বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা, হঠাত্ কোন শব্দ হলে বুকের ব্যথা বেড়ে যায় ও বুক ধড়পড় করে, কোন মৃত্যুর সংবাদ শুনলে বুকে  ব্যথা শুরু হয়, বিভিন্ন ধরনের দুঃচিন্তা করলে বুকে ব্যথা বেড়ে যায় তাহলে মানসিক কারণে হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয় ।
জরুরী বিভাগের বুকের ব্যথা জনিত কারণে যেসব রোগী আসে  তার শতকর ১০ ভাগের বেশী আসে মানসিক  বা দুংচিন্তা জনিত কারণে। অনেক সময় পেটে  ব্যথা সাথে সাথে বুকে ব্যথা থাকতে  পারে যেমন  পিত্তথলীতে পাথর অথবা Pancreatitis, কারণে হয়। যে কারণেই বুকে হোক না কেন রোগী অবশ্যই চিকিত্সকের শরণার্পন্ন হতে হবে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা যেমন  ইসিজি জাতীয় পরীক্ষা করে দ্রুত রোগ নির্ণয় করতে হবে এবং সঠিক চিকিত্সা করলে বেশীর ভাগ রোগী ভাল হয়ে যায় এবং অনেক সময় দ্রুত হূদরোগ নির্ণয়  করা যায় এবং সঠিক চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব। সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কোন রোগের কারণ না পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে রোগীকে সঠিক উপদেশ দিয়েও বুকের ব্যথা ভাল করা সম্ভব।

শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০১১

বুকে ব্যথার কারণ



বুকে ব্যথা এক ধরনের জটিল সমস্যা। এ সমস্যায় যে কোন ব্যক্তিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হয়। বিভিন্ন কারণে বুকে ব্যথা হয়ে থাকে। প্রথমে দেখতে হবে বুকে ব্যথা আঘাতজনিত কারণে না আঘাতবিহীন কারণে। যদি আঘাতবিহীন কারণে বুকে ব্যথা হয় তাহলে প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে এটি হƒদরোগজনিত কারণে না অন্য কোন কারণে হয়েছে। এ কারণ নির্ধারণের জন্য রোগীর কাছ থেকে রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত ইতিহাস জানতে হবে। এর পর শারীরিক ও ল্যাব পরীক্ষা করে সঠিক রোগ নির্ণয় করলে বেশিরভাগ বুকের ব্যথা ভালো করা সম্ভব।


যে কারণে বুকে ব্যথা হয়
১. হƒদরোগজনিত কারণ
২. ফুসফুসজনিত কারণ
৩. মাংসপেশিজনিত কারণ
৪. খাদ্যনালীজনিত কারণ
৫. মানসিক কারণ
৬. আরও অন্যান্য কারণ


প্রথমে বুকের ব্যথা কোন স্থানে বুকের মাঝখানে, না বাম বা ডান পাশে।
বুকে ব্যথার প্রকৃতি : চাপ চাপ ব্যথা, মনে হয় বুকের মাঝখানে পাথর বসিয়ে রেখেছে এমন, দম বন্ধ হয়ে আসে এমন বা অনুভূতিহীন ব্যথা হƒদরোগজনিত কারণ।


তীব্র ব্যথা, ছুরি দিয়ে আঘাত করলে যেমন মনে হয়, পোড়ানো ব্যথা, শ্বাস নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ব্যথা, ফুসফুসজনিত কারণ যেমন নিউমোনিয়া, পালমোনারি অ্যামবলিজম, হƒদযন্ত্রের প্রদাহ।
হঠাৎ তীব্র পীড়াদায়ক ব্যথা বুকের সামনে থেকে পেছনে চলে যায় অড়ৎঃরপ উবংবপঃরড়হ (ধমনী ছেঁড়াজনিত কারণ)
যদি বুকে ব্যথা পরিশ্রম করলে, দুশ্চিন্তা করলে, ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সংস্পর্শে এলে, দুঃস্বপ্ন দেখলে বাড়ে কিন্তু বিশ্রাম নিলে, জিহ্বার নিচে নাইট্রেট জাতীয় ওষুধ দিলে কমে তাহলে হƒদরোগ হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। খাবার পর, শোবার সময়, গরম খাবার, মদ পান করলে এবং খালি পেটে যদি ব্যথা বাড়ে, অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ খেলে কমে যায়, তাহলে খাদ্যনালীজনিত কারণ।
বুকের ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে হƒদরোগ, পালমোনারি অ্যামবলিজম, নিউমোনিয়া, নিউমোথোরাক্স হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়।
পরিশ্রম শুরু করার কিছুক্ষণ পর থেকে ব্যথা শুরু হয়, বিশ্রাম নিলেও ব্যথা থাকে, ব্যথা নিরাময় জাতীয় ওষুধ (যেমন উরপষড়ভবহ) জাতীয় ওষুধ খাওয়ার পর ব্যথা কমে তাহলে মাংসপেশিজনিত কারণে হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়।
বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা, হঠাৎ কোন শব্দ হলে বুকের ব্যথা বেড়ে যায় ও বুক ধড়ফড় করে, কোন মৃত্যুর সংবাদ শুনলে বুকে ব্যথা শুরু হয়, বিভিন্ন ধরনের দুশ্চিন্তা করলে বুকে ব্যথা বেড়ে যায় তাহলে মানসিক কারণে হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। জরুরি বিভাগে বুকের ব্যথাজনিত কারণে যেসব রোগী আসে তার শতকরা ১০ ভাগের বেশি আসে মানসিক বা দুশ্চিন্তাজনিত কারণে। অনেক সময় পেটে ব্যথার সঙ্গে সঙ্গে বুকে ব্যথা থাকতে পারে যেমন পিত্তথলিতে পাথর । যে কারণেই বুকে ব্যথা হোক না কেন রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা যেমন বুকের ইসিজি জাতীয় পরীক্ষা করে দ্রুত রোগ নির্ণয় করতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা করালে বেশিরভাগ রোগী ভালো হয়ে যায় এবং অনেক সময় দ্রুত হƒদরোগ নির্ণয় করা যায় এবং সঠিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও যদি কোন রোগের কারণ না পাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে রোগীকে সঠিক উপদেশ দিয়েও বুকের ব্যথা ভালো করা সম্ভব।

সোমবার, ২০ জুন, ২০১১

কষ্ট পুষে রাখলে হার্টের সমস্যা


হার্টের ডাক্তাররা বলেন, কেউ যদি মনে কষ্ট পুষে রাখেন এবং চিন্তায় পড়ে যান তাহলে তার হার্টের সমস্যা হতে পারে। এর জন্য অবশ্য উদ্বেগ আর অহেতুক টেনশন দূর করার চিকিত্সা করা জরুরি। কিন্তু উদ্বেগ বা চিন্তাকে দূরে রাখতে বললেই তা চলে যায় না। আমাদের চারপাশের নানা কর্মকাণ্ড এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তার উদ্ভব হয়। চিন্তা মানসিক স্বাস্থ্যকে নষ্ট করে। একদিকে চিন্তা থেকে মেন্টাল ডিসঅর্ডার বা মানসিক জটিলতা তৈরি হয়, অন্যদিকে এর মধ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে বুকের ব্যথা। 
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়াম মানুষের চাপ বা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। তবে চিন্তা যেমন বেশি করা ভালো নয়, ব্যায়ামও তেমনি বেশি করা ভালো নয়। বেশি ব্যায়াম মনের চাপ কমালেও শরীরের ওপর আবার চাপ তৈরি করতে পারে। সকালে ব্যায়াম সবচেয়ে ভালো। কারণ তা 
মনকে সারাদিন সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
চা, কফি বা চকোলেট জাতীয় দ্রব্য মানুষের স্নায়ুকে উত্তেজিত করে। বেশিরভাগ মানুষ এসব না খেয়ে চলতেও পারে না। এগুলো যতটা কম গ্রহণ করা যায় ততই উদ্বেগ নিরসনে কার্যকর। চিনি হচ্ছে রিফাইন বা প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট। এ ধরনের খাবার শরীরে সরাসরি বেশি গেলে তা উদ্বিগ্নতা বা উদ্বেগ বাড়াতে পারে। বেশি পরিমাণ ভিটামিন জাতীয় খাবার শরীরের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি চাপ কমায় এবং ভিটামিন বি নার্ভকে স্বাস্থ্যবান রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাছের তেলে ওমেগা থ্রি আছে। অনেকের মতে, এটা অ্যান্টি-ডিপ্রেসনার বা মানসিক উদ্বিগ্নতার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
উদ্বেগ মানুষকে ভীত এবং দুর্বল করে দেয়, এ সময় কোনো কাজের মধ্যে ডুবে যাওয়া ভালো। কেউ যদি অপরাধ করে ফেলে তাহলে সে চিন্তিত হতে থাকে। তাহলে তার মনের মধ্যে অপরাধ বোধ এবং ভয় কাজ করতে থাকে। চিন্তা করা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তবে দুশ্চিন্তা মানুষের শরীরের ও মনের ক্ষতির কারণ। দুশ্চিন্তা কমিয়ে আনতে থাকুন। আনন্দে থাকুন, ভালো থাকুন।

শনিবার, ১১ জুন, ২০১১

হৃদরোগ নির্ণয়ে এনজিওগ্রাম

Angioplasty of left common iliac artery এনজিওগ্রাম একটি হৃদরোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি। এ পরীক্ষার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে (করোনারি আর্টারি) কোনো ব্লক বা স্টেনোসিস থাকলে তা নির্ণয় করা যায়। কুঁচকির কাছে ফিমোরাল ধমনীর মাধ্যমে এ পরীক্ষা করা হয়। তবে হাতের রেডিয়াল বা আলনার ধমনীর মাধ্যমেও এনজিওগ্রাম করা হয়। এনজিওগ্রাম করার জন্য রোগীকে অজ্ঞান করার প্রয়োজন পড়ে না। শুধু কুঁচকির কাছে ওষুধ দিয়ে অবশ করা হয়। এটি সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত পরীক্ষা। সাধারণত এনজিওগ্রাম করতে ১০-১৫ মিনিট সময় লাগে। এ জন্য রোগীকে ১২-২৪ ঘণ্টার জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। তবে রেডিয়াল বা আলনার ধমনীর মাধ্যমে এনজিওগ্রাম করলে রোগী হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন পড়ে না। 
এনজিওগ্রামে যদি রক্তনালিতে ৭০% ব্লক ধরা পড়ে, তবে তা তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে এনজিওগ্রাম করতে সেন্টার ভেদে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার টাকা খরচ হয়।
এনজিওগ্রাম যাদের করা হয়
হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তি, রক্তনালির ব্লক দেখার জন্য ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য এনজিওগ্রাম করা হয়। তা ছাড়া যাদের ইটিটি পজিটিভ হয় অর্থাৎ করোনারি হার্ট ডিজিজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তাদেরও এনজিওগ্রাম করা হয়।
এনজিওগ্রাম করার আগে পরীক্ষা
এনজিওগ্রাম করার আগে রোগীর উপযুক্ততা যাচাইয়ের পরীক্ষা করা হয়। রোগীর সিবিসি, বিটি, সিটি, ব্লাড ইউরিয়া, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, সিরাম ইলেকট্রলাইট, বুকের এক্স-রে, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, এইচবিএসএজি, ভিডিআরএল, অ্যান্টি এইচসিভি, এইচআইভি, ব্লাড গ্রুপিং করা প্রয়োজন।
এনজিওগ্রামে ঝুঁকি
এনজিওগ্রামে অল্প বা বেশি রক্তক্ষরণ হতে পারে। তা ছাড়া কুঁচকির জায়গায় রক্ত জমাট বাঁধতে পারে, বেশি পরিমাণে ব্যথার কারণে ভ্যাসো ভ্যাগাল অ্যাটাক, করোনারি ও পায়ের ধমনীতে ডিসেকশন বা ছিঁড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া রোগীর রক্তচাপ কমে যেতে পারে ও অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন হতে পারে। তবে আধুনিক কার্ডিয়াক সেন্টারে রক্তপাত ছাড়া অন্য সমস্যাগুলো হয় না বললেই চলে
 

রবিবার, ২২ মে, ২০১১

হৃদরোগের বিকল্প চিকিৎসা এখন হাতের মুঠোয়

বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে অনেক আলোচনাই হয়। প্রচারণার দিক দিয়ে এনজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস সার্জারি অনেক এগিয়ে। যারা এ চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন তাদের সাথে আলাপ করলেই এর ভালো-মন্দ দিক বেরিয়ে আসে। অপারেশন ছাড়াও যে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীর ব্লকের চিকিৎসা করা যায়, এটা কোনো কোনো চিকিৎসক মানতেই চান না। এ ক্ষেত্রে যুক্তি বিবেচনা ও আন্তর্জাতিক অগ্রগতির তথ্যপ্রমাণের তারা ধার ধারেন না। অথচ দেখুন, দেশের একজন শীর্ষস্খানীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ কী বলেছেন। বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃৎ জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার অব: আবদুল মালিক সম্প্রতি কোয়ান্টামের মুক্ত আলোচনায় প্রদত্ত ভাষণে বলেন, ‘হৃদরোগের অনেক আধুনিক চিকিৎসা এখন বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। কিন্তু এনজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস অপারেশনসহ এ সব চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুলও বটে। এ ছাড়া ওষুধের পেছনেও হৃদরোগীদের খরচ খুব একটা কম নয়। আর এ সব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তো আছেই। তাই হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে মেডিটেশন এবং লাইফস্টাইল-ভিত্তিক বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। আমেরিকার ডা. ডিন অরনিশের চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ব্যায়াম ও মেডিটেশনের মাধ্যমে হাজার হাজার হৃদরোগী অপারেশন ও এনজিওপ্লাস্টি ছাড়াই সুস্খ হয়ে উঠেছেন।’
শ্রদ্ধেয় জাতীয় অধ্যাপকের এ বক্তব্যের সাথে সবিনয়ে আমি দুটো পয়েন্ট যোগ করব। সেই সাথে এই লেখায় একাধিক কেস স্টাডির উল্লেখও থাকবে। উল্লেখিত হৃদরোগীদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বরসহ তুলে দেয়া হচ্ছে। যে কেউ সহজেই প্রমাণ করতে পারবেন, আমরা ঠিক বলছি, নাকি মানুষকে বিভ্রান্ত করছি।
এবার আসা যাক ওই দু’টি পয়েন্টে। এক. চিলেশন থেরাপি; দুই. ইসিপি। দুটোই হচ্ছে হৃদরোগের বিকল্প চিকিৎসার ব্যথাহীন আধুনিকতম পদ্ধতি। প্রথম পদ্ধতিতে স্যালাইনের মতো শিরায় তরল ওষুধ সেবন করতে হয়। আবিষ্কারের খবরটি বিভিন্ন দেশের অনেক চিকিৎসাবিষয়ক পত্রিকায় স্খান পেয়েছে। ফলে ১৯৭৩ সালে চিকিৎসকদের হৃদরোগের চিকিৎসায় ইডিটিএ চিলেশন থেরাপির ব্যবহার শেখাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমেরিকান কলেজ ফর অ্যাডভান্সমেন্ট ইন মেডিসিন, এসিএএম।
আর দ্বিতীয়টি ইসিপি ব্লাডপ্রেসার মাপার সময়ে যে কাপড় জড়াতে হয়, সে রকমই বস্তু দুই পায়ে জড়িয়ে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এটাকে বলা হয় ইসিপি। এই যন্ত্রটি সমান্তরাল রক্ত-চ্যানেল সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মেশিনটি কৃত্রিমভাবে ধমনীতে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। মেশিনের এক ঘন্টার সহায়তায় এই সমান্তরাল আর্টারি/ক্যাপিলারি সিস্টেম চালু করে দেয় এবং হৃৎপিণ্ডের পেশিতে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চালন শুরু করে। সম্পূর্ণরূপে প্রাকৃতিক চ্যানেল চালু করার জন্য এই মেশিনের মাধ্যমে পঁয়ত্রিশটির মতো সেশনের প্রয়োজন পড়ে। এভাবে খুব সহজেই বাইপাস সার্জারির বিকল্প হতে পারে এই মেশিন। ইউএস এফডিএ স্বীকৃত।

রবিবার, ১ মে, ২০১১

সাইলেন্ট হার্ট এট্যাক – উপসর্গহীন হার্ট এট্যাক

হার্ট এট্যাক তথা এমআই (Myocardial Infraction) সাধারনত বেশ কিছু উপসর্গ সহ দেখা দেয়। যার মধ্যে প্রধানত রয়েছে বুকে ব্যথা হওয়া, বুকে চাপ লাগা, অস্থিরতা বোধ করা, হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলা। বুকের ব্যথা কখনো কখনো বাম ঘাড়ের দিকে বা বাম চোয়ালে যেতে পারে, শুধু তাইনা, বাম বাহুর ভিতরের দিকেও ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এসব উপসর্গ দেখে আমরা দ্রুত বুঝে যাই কারো এম আই হলে, এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করি। আর এমন অবস্থায় বাসায় বা অন্য কোথাও কোনো মানুষকে পাওয়া গেলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, হাস্পাতাল দূরে হলে এস্পিরিন ৪টা ট্যাবলেট একসাথে খায়িয়ে দিতে হবে। পারলে জীহবার নিচে নাইট্রোকার্ড বা নাইট্রোসোল স্প্রে করে দিতে হবে!!

সবই ঠিক আছে, কিন্তু যদি এমন কিছু হয় যখন হার্ট এট্যাকের কিছুই রোগী বুঝতে পারবে না, কিন্তু হার্ট এট্যাক হয়ে হঠাৎ খুব খারাপ অবস্থা হয়ে যেতে পারে এমনকি জীবনাবসান ও ঘটে যেতে পারে!

এমনটা হওয়া অসম্ভব নয়!!এমন অবস্থা হওয়াকেই বলে সাইলেন্ট এমআই বা সাইলেন্ট হার্ট এট্যাক!

সাইলেন্ট কেন? – কারন রোগী এই সময় কিছু বুঝতে পারেনা, আর পারলেও খুব অল্প বা সাধারন ব্যথা হিসেবে মনে করে তেমন পাত্তা দেয় না!

সবার হতে পারে??

না! সাধারনত ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেই প্রধানত এমনটা দেখা যায়।

তবে কি যেকোনো ডায়াবেটিস রোগীর এমনটা হতে পারে?

না, সেটাও নয়। সাধরনত যাদের শরীরে ডায়াবেটিস এর জন্য নানা ধরনের কমপ্লিকেশান তৈরি হয়, তাদের ক্ষেত্রেই এমনটা হয়ে থাকে!

কেন হয়?

ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথী হওয়ার কারনে শরীরের বোধ শক্তি অনেকটাই কমে আসে ফলে হার্ট এট্যাকের সময় তীব্র ব্যথা হলেও মানুষ সেটা বুঝতে পারে না সহজে।

চিকিৎসা - চিকিৎসার ব্যপারে সাধারন হার্ট এট্যাক আর সাইলেন্ট হার্ট এট্যাক এর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।

সচেতন থাকাটা খুবই প্রয়োজন – সাইলেন্ট এম আই থেকে দূরে থাকতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখাটা খুব প্রয়োজনীয়।

কি করা উচিতঃ

* ডায়াবেটিস এর কম্পলিকেশান যার শরীরে তৈরি হবে তাকে সব সময় সাবধানে থাকতে হবে
* নিয়মিত কোনো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বা ডায়াবেটোলোজিস্ট এর তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে
* বুকে অল্প ব্যথা দেখা দিলে কিংবা অস্থিরতা বোধ করতে (যেটা হাইপোগ্লাইসেমিয়া নয়)দ্রুত হাসাপাতালে যেতে হবে!
অস্থিরতা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার জন্য নাকি সাইলেন্ট এম আই এর জন্য কিভাবে বুঝবে?

হাইপোগ্লাইসেমিয়া এর জন্য যখন অস্থিরতা হয়, তখন গ্লুকোজ বা চিনি কিংবা অন্য কোনো খাবার খেলে সেটা দ্রুতই ঠিক হয়ে আসবে কিন্তু সাইলেন্ট এম আই এর ক্ষেত্রে সেটা হবে না। আর ঘরে গ্লুকোমিটার থাকলে সহজেই এটা বোঝা যাবে!!


সাইলেন্ট এম আই এর ব্যপারে নিজে সচেতন হোন এবং অন্যকে সচেতন করুন!!


শুক্রবার, ১১ মার্চ, ২০১১

হৃদরোগ প্রতিরোধের সাত উপায়

হৃদরোগ প্রতিরোধে নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করা উচিত
শরীরে যাদের চর্বি আছে বলে মনে হয় না, তাদেরও শরীরের ভেতরে নানা অঙ্গে চর্বি ঠিকই আছে। শরীরের ভেতরের অঙ্গগুলোর চর্বি কমাতে তাদেরও হাঁটা প্রয়োজন


আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, হার্টের সুস্থতা অনেকটাই নির্ভর করে নিচের সাতটি বিষয়ের ওপর।
* খাদ্যাভ্যাস
* শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম
* শরীরের ওজন এবং চর্বি
* রক্তচাপের মাত্রা
* পেট খালি থাকা অবস্থায় রক্তে গ্গ্নুকোজের মাত্রা
* রক্তে চর্বির মাত্রা এবং
* ধূমপান।
খাদ্যাভ্যাস গড়ূন হৃদবান্ধব : খাবার হতে হবে স্বাস্থ্যকর হৃদবান্ধব। চাই প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল। খাদ্য তালিকার মোট সবজি ও ফলমূলের তিন ভাগের এক ভাগ কাঁচা খেতে পারলে বেশি ভালো। খাবারের মেন্যুতে তেল-চর্বি হতে হবে কম। তবে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড থাকতে হবে খাবারে। মাছের তেলে আছে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড। চিনি, মিষ্টি_ এসব খেতে হবে কম।
ব্যায়াম করুন নিয়মিত : শারীরিক ব্যায়াম জরুরি অবশ্যই। হাঁটতে হবে দৈনিক ৩০ মিনিট ধরে। এক সঙ্গে সম্ভব না হলে ১০ মিনিট করে তিনবার সকালে, দুপুরে ও রাতে। যাদের শরীর মোটা নয়, শরীরে যাদের চর্বি আছে বলে মনে হয় না। তাদেরও শরীরে ভেতরের নানা অঙ্গে চর্বি ঠিকই আছে। শরীরে ভেতরের অঙ্গগুলোর চর্বি কমাতে তাদেরও হাঁটা প্রয়োজন।
সঠিক রাখুন শরীরের ওজন ও চর্বি : শরীরের অতিরিক্ত ওজন এবং চর্বি হৃদরোগ ঘটাতে সহায়ক। শরীরের ওজন আর উচ্চতা অনুপাতকে বডিমাস ইনডেক্স, সংক্ষেপে 'বিএমআই' দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 'বিএমআই' ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ হলে তা স্বাভাবিক। ২৫ থেকে ৩০ হলে বোঝা যাবে শরীরের ওজন বেশ বেশি। 'বিএমআই' ৩০-এর বেশি হওয়া মোটেও ভালো নয়। 'বিএমআই' দিয়ে অবশ্য শরীরের চর্বির মাত্রার সঠিক নির্দেশ হয় না। এ জন্য কোমরের বেড় মেপে দেখাই উত্তম। বয়স্ক পুরুষের ক্ষেত্রে কোমরের বেড় ৩৬ ইঞ্চি আর মহিলার ক্ষেত্রে ৩১ ইঞ্চির বেশি হওয়া হৃদবান্ধন নায়। বেশি 'বিএমআই' বা বেশি কোমরের বেড়_ দু'ক্ষেত্রেই কম ক্যালরির খাবার আর ব্যায়াম খুবই জরুরি। এতে শরীরের চর্বি কমবে, 'বিএমআই' সঠিক হবে।
গ্রহণযোগ্য রাখুন রক্তচাপের মাত্রা : অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ হৃদরোগ ও স্ট্রোকের কারণ হতে পারে। এ জন্য নিয়ন্ত্রণে রাখা চাই রক্তচাপ। রক্তচাপকে রাখতে হবে ১২০-৮০-এর আশপাশে। প্রয়োজন লাইফস্টাইলে পরিবর্তন।
খালি পেটে রক্তের গ্গ্নুকোজের মাত্রা রাখুন সঠিক : খালি পেটে প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে গ্গ্নুকোজের মাত্রা থাকতে হবে ১০০ মিলিগ্রামের নিচে। এর জন্য করতে হবে নিয়মিত ব্যায়াম। চিনি, মিষ্টি খেতে হবে কম।
সঠিক রাখুন রক্তের চর্বির মাত্রা : প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে মোট কোলেস্টেরলের মাত্রা থাকতে হবে ২০০ মিলিগ্রামের নিচে। পাশাপাশি এইচডিএল/ কোলেস্টেরল অনুপাত এবং এইচডিএল/ট্রাইগ্গি্নসারাইড অনুপাত নিয়েও ভাবতে হবে। এইচডিএল/কোলেস্টেরল অনুপাত ২৪ শতাংশের বেশি হলে তা হার্টের জন্য ভালো। ১০ শতাংশের কম হলে তা হৃৎপিণ্ডের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অনুরূপভাবে এইচডিএল/ট্রাইগ্গি্নসারাইড অনুপাত ২ শতাংশের কম হলে তা হৃদবান্ধব। কম চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া আর নিয়মিত ব্যায়াম_ রক্তে চর্বির মাত্রা ঠিক থাকবে।
বর্জন করুন ধূমপান : ধূমপান কোনোমতেই হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো নয়। এ বদঅভ্যাসের জন্য হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বেড়ে যায়। হৃদরোগ হওয়ার কমাতে চাইলে ধূমপান বর্জন করতে হবে।

বুধবার, ২ মার্চ, ২০১১

বুকে ব্যাথা - হার্ট অ্যাটাক(এম আই)/গ্যাস্ট্রিক/নিউমোনিয়া/মাংসপেশীর ব্যাথা

'রাত তখন সাড়ে দশটা, রাতের খাওয়া মাত্র শেষ হলো, খাওয়ার পর থেকে রহিমের বুকের মাঝে ব্যাথা অনুভব হয়। কারনটাও রহিমের জানা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাটা বেড়ে যাওয়াই এর কারন,দ্রুতই ঔষধ খেয়ে নেয়া, ঔষধ খেয়ে রুমে গেল রহিম, মিনিট দুয়েকের মাঝেই আবার ছেলেকে ডেকে পাঠানো, ব্যাথাটা যে কমছেনা, বরং এর সাথে ঘাড়ে ব্যাথা আর বার হাতের দিকেও ব্যাথা শুরু হয়েছে...... ছেলে কি করবে বা কোনো ডাক্তারকে ফোন দিবে কিনা ভাবার আগেই ব্যাথাটা হঠাৎ আরো বেড়ে যায়, পরিবারের সবাই মিলে তাকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করে, রহিমের ছেলে ভাবে গ্যাস্ট্রিকের ইনজেকশান দিলেই দ্রুত ব্যাথা কমে আসবে, সি এন জি তে করে স্কয়ার হাসপাতালের ফিকে রওনা দেয়া, কিন্তু মাঝ পথ থেকেই রহিম আর কথা বলে না... হাসপাতালে পৌছুতেই আর বুঝার কিছু বাকি থাকে না, মাত্র ৫০ বছর বয়সেই হাজারো স্বপ্ন অপূর্ণ রেখে রহিম সবাইওকে ছেড়ে যায়, আর কারন ছিলো হার্ট অ্যাটাক!!!'

এই ঘটনার ব্যবহৃত নাম কাল্পনিক হলেও ঘটনা বাস্তব। শুধু মাত্র বোঝার ভুলের জন্য আর সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না নেয়ার জন্যই এই পরিনতি!

বুকে ব্যাথা আমাদের জীবনের সাধারন সমস্যা গুলোর একটা, যার সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত, কিন্তু এই বুকে ব্যাথা কখনো হয়ে উঠতে পারে সাংঘাতিক – আর তখন দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে তার পরিনতি যে কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, তার নমুনা ইতিমধ্যে আপনা পেয়েছেন।

সাধারনত কি কি কারনে বুকে ব্যাথা হতে পারে?
প্লুরাইটিক বুকে ব্যাথা - সাধারনত নিউমোনিয়া বা অন্য শ্বসন তন্ত্র বিষয়ক সমস্যার সাথে সম্পর্কৃত
ইশকেমিক কার্ডিয়াক ব্যথা - হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশান (এম আই) জনিত সমস্যার জন্য
গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যার কারনে
বুকের মাংসপেশীতে ব্যাথা হওয়ার কারনে

কিভাবে এই ব্যাথা গুলোকে আলাদা করা যায়?
যদিও সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠেনা কিন্তু তারপরও এই প্রত্যেকটা ব্যাথারই বিশেষ বিশেষ কিছু ফিচার আছে, যার মাধ্যমে এগুলোকে আলাদা করা সম্ভব এবং দ্রুত রোগীকে ম্যানেজমেন্ট করা সম্ভব।

প্লুরাইটিক বুকে ব্যাথা
এই ব্যাথা সাধারনত শ্বসন তন্ত্রের যে কোনো সমস্যার কারনে হয়, নিউমোনিয়া বা শ্বাস নালীর কিংবা প্লুরার ইনফেকশানের কারনে এটা হতে পারে।
সাধারনত বুকের বিশেষ কোনো অংশে এটা হয় আর সাধারনত বুকের মাঝে এই ব্যথা হয় না, বা কম দেখা যায়।
ব্যাথার ধরন অনেকটা স্টাবিং(ঐ অংশে ছুরি চালানোর মতো) ধাচের হয়, যা সাধারনত অন্য কোথাও ছড়ায়না, যদিও ক্ষেত্র বিশেষে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়

ইশকেমিক কার্ডিয়াক ব্যাথা
এই ব্যাথা সাধারনত হার্টের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারনে দেখা যায়।
ব্যাথা বুকের মাঝে হয় যা পরবর্তিতে ঘাড় এবং বাম বাহুর ও হাতের দিকে ছড়িয়ে যায়, তবে এই ব্যাথা পেটের উপেরের অংশে ও দেখা যেতে পারে।
ব্যাথার ধরন চেপে ধরার মতো, বা অনেক সময় এমনও মনে হয় বুকের উপর কোনো বড় বোঝা তুলে দেয়া হয়েছে

গ্যাস্ট্রিক জনিত ব্যাথা
এই ব্যাথা সাধারনত পেটের উপরের অংশে দেখা যায়
ভাজি বা মসলাদার খাবার খেলে ব্যাথা বেড়ে যায়
ব্যাথা সাধারনত পেটের পিছনের দিকে যেতে পারে
এই ধরনের রোগীর অনেকদিনের ব্যাথার হিস্ট্রি থাকে

বুকের মাংসপেশী জনিত ব্যাথা
এই ব্যাথা বুকের যে কোনো স্থানে কিংবা সকল বুক জুড়েও হতে পারে
বুকের কোথাও সরাসরি ব্যাথা লাগা কিংবা ভারী কিছু তুলতে যাওয়ার হিস্ট্রি থাকতে পারে
জোরে শ্বাস নেয়ার কারনে বা হাটা চলা করে মাংসে টান পড়লেই ব্যাথাটা বেড়ে যেতে পারে


হার্টের জন্য ব্যাথা হলে কি করবেন??
যেহেতু এই ব্যাথার ফলাফল সবচেয়ে খারাপ, এটাই সবার আগে জানা প্রয়োজন।

যদি বুঝতে পারেন হার্টের জন্যই বুকে ব্যাথা তবে 'গ্লিসারাইল ট্রাইনাইট্রেট স্প্রে/অ্যারোসল' কিনে জিহবার নিচে(জিহবা উল্টিয়ে) দুই চাপ দিয়ে দিবেন, আর এস্পিরিন ৭৫ মিগ্রা এর ৪ টি ট্যাবলেট একসাথে রোগীকে খাইয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিবেন।

রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

হঠাৎ হার্ট এট্যাক হলে কি করবেন?

সারাদিনের কর্মব্যস্ত কাজের শেষে বিকেলে যখন আপনি বাসায় ফিরছেন তখন হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন সাথে খুব ঘাম এবং অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা । সেই তীব্র ব্যথা ক্রমাগত মুখের চোয়াল হয়ে আপনার বাম হাতে ছড়িয়ে পড়ছে। আপনি খুব অস্থির অনুভব করছেন। যারা হার্ট এট্যাকের রোগী তাদের নিকট এই অভিজ্ঞতা খুব সাধারণ। হার্ট এট্যাক হলে হাসপাতালের নেবার পূর্ব পর্যন্ত যদি কিছু টিপস মেনে চলা যায় তাহলে অপ্রত্যাশিত মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। তাই হার্ট এট্যাকের রোগীদের জন্য এবং যাদের হার্ট এট্যাকের মত এরকম অভিজ্ঞতা হতে পারে তাদের জন্য কিছু করনীয় বিষয় উল্লেখ করছি।
হার্ট এট্যাক হলে ভয় পাবেননা। আমাদের হার্ট যখন অপর্যাপ্ত এবং অনিয়মিতভাবে রক্তসঞ্ছালন করে তখনই হার্ট এট্যাক হয়। হার্ট এট্যাকের ১০ সেকেন্ডের মধ্যে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে আপনি খুব দ্রুত জোরে এবং ঘন ঘন কাশি দিবেন যেন কাশির সাথে কফও বের হয়ে আসে। প্রতিবার কাশি দেবার পূর্বে দীর্ঘশ্বাস নিন। এভাবে ঘন ঘন কাশি এবং দীর্ঘশ্বাস প্রতি দুই মিনিট পর পর করতে থাকুন। এতে করে আপনার হার্ট কিছুটা হলেও নিয়মিতভাবে রক্তসঞ্চালন করবে।
হার্ট এট্যাকের প্রত্যেক রোগীর জন্য এই টিপস জেনে নেওয়া আবশ্যক। কারণ হাসপাতালে নেবার পূর্বে এই টিপস অনেকখানি সাহায্য করবে রোগীকে। কারণ দীর্ঘশ্বাসের ফলে আমাদের শরীরে অক্সিজেন পরিবহন বেশি হয়। আর ঘন ঘন এবং জোরে কাশি দেবার ফলে বুকে যে চাপের সৃষ্টি হয় এতে করে হার্ট পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ভাবে রক্তসঞ্চালনের জন্য প্রস্তুত হয়।
কেবল ত্রিশ বছরের বেশি বয়স্কদের জন্য হার্ট এট্যাকের ঝুঁকি নয়, বরং আজকাল জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হওয়াতে যেকারও হার্ট এট্যাকের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাই সবারই এব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।

শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক প্রতিরোধ

বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি হƒদরোগ। কোন রকম পূর্বাভাস ছাড়াই যে কোন সময় এটি কেড়ে নিতে পারে আমাদের জীবন। বিশ্বের মোট মৃত্যুর অর্ধেকই হয় হার্টের রোগ ও স্ট্রোকে। হƒদরোগে আক্রান্তদের ২৫ ভাগের মৃত্যু হয় হাসপাতালে পৌঁছার আগেই। হার্ট অ্যাটাক হয়েও অনেক সময় বেঁচে থাকতে হয় নানা অক্ষমতা এবং হঠাৎ মৃত্যুর ভয় নিয়ে।
কার্ডিও ভাস্কুলার রিস্ক এনালাইজার একটি যন্ত্র যার মাধ্যমে আপনি ৫-৮ বছর আগেই জানতে পারবেন হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকের আগাম সতর্ক সংকেত, সে অনুযায়ী প্রতিরোধ করুন হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি।
বাংলাদেশে ৩০ বছর বয়সের পর হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছে এমন লোকের সংখ্যা কম নয়; ৪০-৫০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের হƒদরোগ তো অজানা নয়।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইন্সটিটিউট সম্প্রতি জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি ১০ জনে ১ জনের হার্টের সমস্যা আছে। এদের সমস্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও জটিল হয়। তারা আরও জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর নতুন করে ১৫-২০ শতাংশ জনগোষ্ঠী উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হচ্ছে। এদেশে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব যতই থাকুক না কেন রোগভীতি ও এ থেকে মৃত্যু ভয় কিন্তু কম নয়।
বাংলাদেশে হƒদরোগ বাড়ার কারণ
বর্তমানে আমাদের জীবনধারা পশ্চিমা ধাঁচে পরিবর্তন হচ্ছে। ফাস্টফুডের সঙ্গে দ্রুততালে বাড়ছে ফ্যাট খাওয়ার প্রবণতা। কমেছে শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস এবং টাটকা খাবার খাওয়ার ঝোঁক।
জীবনের গতি বাড়তে বাড়তে জেটগতির জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে একশ্রেণীর মানুষ। ফলে ইঁদুর-দৌড়ের জীবনে বাড়ছে টেনশন, মানসিক চাপÑ মন হয়ে পড়ছে ক্ষত-বিক্ষতÑ এভাবে বেড়ে চলছে হƒদরোগ। অবিশ্বাস্যভাবে বাড়ছে ধূমপান। এর বিপক্ষে সচেতনতা সৃষ্টি ও মোটিভেশনও যেন রুখতে পারছে না এর অগ্রযাত্রাকে। ধূমপান এখন আর শুধু বড়দের সঙ্গী নয়, ছোটদেরও বন্ধু। অতীতে বাঙালি ছিল কর্মমুখর, পরিশ্রম নির্ভরতায় চলছিল জীবন। জীবনযাপনের এ পদ্ধতি থেকে সরে এসেছে মানুষ। গ্রামের একশ্রেণীর মানুষ এখন মোটরসাইকেলে চড়েন বেশি, সাইকেলে চড়েন কম, হাঁটেন আরও কম। শহরাঞ্চলে লাফ দিয়ে বাড়ছে গাড়ি চড়া, বসে বসে কাজ করা ও আয়েশী জীবনযাপনের মানসিকতা। কমছে শরীরের ব্যায়াম, বাড়ছে স্থূলতা। ব্যায়াম মানে তো হার্টরেট উঠবে ১৪০-এ আর ঘাম ঝরবে টপটপ করে।
কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোক
শুধু নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আর কিছু নিয়ম অনুসরণ করলেই কঠিনতর হƒদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কোনও ওষুধ গ্রহণ ছাড়াই কেবল খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচারণে পরিবর্তন, যোগ ব্যায়াম, প্রাণায়াম, মেডিটেনশন, নিউরোবিক্স জিমের মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোক সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১১

পেঁয়াজ কমায় হৃদরোগ

পেঁয়াজ কমায় হৃদরোগ
প্রতিদিন পেঁয়াজ খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটা কমে। একটি গবেষক দল জটিল ধরনের যৌগ 'কের্সেটিন' নিয়ে গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন এই যৌগ পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। কের্সেটিন শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। দেহে কের্সেটিন যৌগ ভেঙে যাওয়ার পরই এর প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের ক্রমবর্ধমান প্রদাহ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এ ধরনের গবেষণার পর গবেষকরা সিদ্ধান্তে উপনীত হন, রক্ত প্রবাহে কের্সেটিন প্রবেশ করার পরই এটি বিপাক ক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে শোষিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কম মাত্রায় এ ধরনের যৌগসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণে এর প্রভাব বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ধরনের খাবার গ্রহণের ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কমে আসে।

শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১১

হৃদরোগের বিকল্প চিকিৎসা

হার্টের ব্লকেজের বিকল্প চিকিৎসা একদিকে সফলতা অর্জন করছে, অন্যদিকে এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও করোনারি আর্টারি ব্লকেজের চিকিৎসা পদ্ধতি এনজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস সার্জারি, কিন্তু বাইপাস সার্জারি অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। কাটাছেঁড়া ছাড়া হৃদরোগের বিকল্প চিকিৎসা ঝুঁকিহীন এবং তাতে সাফল্যের ইতিহাসও রয়েছে হৃদরোগের অনেক আধুনিক চিকিৎসা এখন বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। কিন্তু এনজিওপ্লাস্টি ও বাইপাস অপারেশনসহ এসব চিকিৎসা ব্যয়বহুলও বটে। এছাড়া ওষুধের পেছনেও হৃদরোগীদের খরচ খুব একটা কম নয়। আর এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তো আছেই। তাই হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে মেডিটেশন এবং লাইফস্টাইলভিত্তিক বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি এখন জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। আমেরিকার ডা. ডিন অরনিশের চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ব্যায়াম ও মেডিটেশনের মাধ্যমে হাজারও হৃদরোগী অপারেশন ও এনজিওপ্লাস্টি ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
'বাইপাসিং বাইপাস সার্জারি' বইয়ে ডা. অ্যালমার ক্র্যান্টন একজন হার্ট-সার্জন হয়েও বিনা অপারেশনে এই চিলেশন থেরাপির গুণগান গেয়েছেন। আমেরিকার জন এফ কেনেডি মেডিকেল সেন্টারের কার্ডিওভাসকুলার সার্জারির প্রধান রালক লেফ এমডি এমএস চিলেশন থেরাপির মাধ্যমে তার সার্জারি অনুপযুক্ত এক আত্মীয়কে এই চিলেশন থেরাপি দেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি হওয়ায় চিলেশন থেরাপি সম্বন্ধে জানা ও ফল লাভের পর এখন তিনি খুব ঘনঘনই তার রোগীদের বাইপাস সার্জারি না করে এই চিলেশন পদ্ধতি গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ এতে কোনো ঝুঁকি নেই। আর উপকারের দিক দিয়ে বিচার করতে গেলে বাইপাস সার্জারির তুলনায় এই থেরাপির গুণ কোনো অংশে কম নয়।
নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল বায়োমেডিকেল সেন্টারের কার্ডিয়াক সার্জন ও ডিরেক্টর পিটার জে ভান্ডের স্কার মন্তব্য করেছেন, 'কার্ডিয়াক সার্জন হিসেবে ক্যারিয়ারের শুরুতে আমি এই থেরাপি সম্পর্কে জানতাম। ঝুঁকি কমানোর জন্য এখন আমি প্রায়ই অপারেশন পরিহার করি এবং তার বদলে আমার রোগীদের চিলেশন থেরাপি দিয়ে থাকি। আমরা এখানে হৃদরোগের বিকল্প চিকিৎসার কার্যকারিতা এবং যুক্তিপ্রমাণ তুলে ধরার চেষ্টা করব।
আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারি করার জন্য অনেক রোগীকে অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়। তাহলে কি তারা বিকল্প চিকিৎসার উপায় অনুসন্ধান না করে মৃত্যুর অপেক্ষা করবেন? আবার এমনও বহু রোগী আছেন, যাদের এনজিওপ্লাস্টি করার পরও আবার ব্লকেজ ধরা পড়েছে। সে ক্ষেত্রে এনজিওপ্লাস্টির ওপর কি তারা কিছুটা আস্থা হারিয়ে ফেলবেন না? এই লেখা যারা পড়ছেন তাদের অনেকেরই আশপাশে এমন রোগী রয়েছেন, যাদের বাইপাস সার্জারি করার পরও পুনরায় ব্লকেজ ধরা পড়েছে। সে ক্ষেত্রে সমাধান কী হবে? সত্যি বলতে কী, এনজিওপ্লাস্টি করাতে গিয়ে ফেইলিওরের ঘটনাও ঘটে থাকে। আবার এনজিওপ্লাস্টি বা বাইপাস সার্জারি করাতেও অনেকে ভয় পান; কিন্তু মৃত্যুঝুঁকি থেকে বাঁচার জন্য চিকিৎসা করানো ছাড়া তো কোনো বিকল্প নেই। সে জন্যই বলা হয়েছে বিকল্প চিকিৎসার কথা। হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে প্রথাগত চিকিৎসা করানো এবং না করানো_ উভয় ক্ষেত্রে যেসব অপশন নিয়ে আমরা এখানে কথা বললাম, তার প্রত্যেকটির জলজ্যান্ত প্রমাণ রয়েছে।
ইসিপি থেরাপি ইউএস এফডিএ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। বর্তমানে আমেরিকা ও ভারতসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই নামকরা হাসপাতালে এই ইসিপি পদ্ধতি চলছে। চিলেশন থেরাপির আমেরিকায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ সেন্টার। ভারতের শুধু মহারাষ্ট্রেই ৪৫টির মতো, অন্যান্য প্রদেশে তো আছেই। তাছাড়া কানাডা ও ইউরোপের সব দেশসহ সিঙ্গাপুর, জাপান, কোরিয়াসহ প্রায় দেশেই এ চিলেশন পদ্ধতি চলছে।
চিলেশন থেরাপি ও ইসিপি মেশিনের চিকিৎসা ছাড়াও হৃদরোগের বিকল্প চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ হলো মেডিটেশন, প্রাণায়াম, যোগব্যায়াম, নিউরোবিক্স, আকোপ্রেসার এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন। ধাপে ধাপে এর সব পদ্ধতি গ্রহণ করলে হৃদরোগের যে ব্যাপক উন্নতি ঘটে, তার প্রচুর প্রমাণ রয়েছে। সম্মিলিতভাবে এই চিকিৎসা পদ্ধতিকে হলিস্টিক চিকিৎসা বলা হয়। সুখবর হলো বাংলাদেশেও এখন এই চিকিৎসা সহজলভ্য।

শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১০

রহস্যঘেরা হার্ট অ্যাটাক

হৃদপিণ্ড কীভাবে সুস্থ রাখা যায় সে সম্পর্কে সচেতনতা এখন অনেক বেড়েছে। কিন্তু হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কে আমাদের আরও জানা দরকার। হার্ট অ্যাটাকের রহস্য নিয়ে কয়েকটি বিষয় আলোচনা করব।

হৃদরোগ হলেও অনেকেই বোঝেন না

শুনতে অবাক লাগলেও হৃদরোগে আক্রান্ত প্রতি দশজনের মধ্যে চার থেকে ছয়জন বুঝতে পারেন না যে তাদের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তাদের বুকে ব্যথা, দম আটকে আসে, শরীর ঘামে তারপরেও তারা সন্দেহ করেন না। অনেকেই জানেন বুকের বাম দিকে হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা হয় এবং তা বাম হাতে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এমন আদর্শ প্রকৃতির হার্ট অ্যাটাক কমই দেখা যায়। অনেকেই হার্ট অ্যাটাকে ভুগছেন কিন্তু বলেন, কিংবা মনে করেন তাদের বুকে জ্বালাপোড়া হয়েছে কিংবা তারা অতিরিক্ত দুর্বলতায় ভুগছেন। মেয়েদের হার্ট অ্যাটাকের প্রকৃতি আরও বিচিত্র। হার্ট অ্যাটাক হলেও অনেক মহিলা বুকে ব্যথার কথা বলেন না। বরং তারা পেটে ব্যথা, পিঠ ব্যথা, চোয়াল কিংবা ঘাড়ে ব্যথার অভিযোগ করেন। অতএব প্রশ্নটা যদি হৃদপিণ্ড সংক্রান্ত হয় তা হলে লক্ষণ-উপসর্গ যত বিচিত্রই মনে হোক না কেন, হৃদরোগের সম্ভাবনার কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয়।

ট্রান্সফ্যাটমুক্ত খাবার হৃৎপিণ্ডের জন্য নিরাপদ

বর্তমান সময়ে খলনায়ক এ ট্রান্সফ্যাট। অনেক খাবারের বোতল কিংবা মোড়কের গায়ে লেখা দেখা যায় ‘এটা ট্রান্সফ্যাট মুক্ত।’ বড় বড় হোটেল রেস্তোরাঁতে সাইনবোর্ড ঝোলানো থাকে ‘আমরা রান্নার জন্য ট্রান্সফ্যাট মুক্ত তেল ব্যবহার করি।’ ট্রান্সফ্যাট আসলেই হৃদবান্ধব নয়। কিন্তু ট্রান্সফ্যাটমুক্ত খাবার খুঁজে পাওয়া কঠিন। কাজেই যে কোনও তেল, চর্বিজাতযুক্ত খাবার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। খাবার ট্রান্সফ্যাট মুক্ত হলেই যে ভালো তাও কিন্তু নয়। এর ভেতরে সম্পৃক্ত চর্বি থাকতে পারে। সম্পৃক্ত চর্বি হৃৎপিণ্ডের চির শত্র“ কাজেই আপনি মোড়কজাত যে খাবার কিনেছেন তার গায়ে ট্রান্সফ্যাট এবং তেল চর্বির পরিমাণ সম্পর্কে পুরো বৃত্তান্ত পড়ে নেয়া ভালো। অবশ্য আমাদের দেশে কয়টা খাবারের মোড়কেই বা এমন তথ্য দেয়া থাকে?

হৃদরোগ নাকি দুশ্চিন্তা-উদ্বেগ

হৃদরোগের অনেক লক্ষণ-উপসর্গ দুশ্চিন্তা-উদ্বেগের ছদ্মবেশে আসে। আপনি কাজ করেছেন; হঠাৎ হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল। আপনার হয়তো মনে হতে পারে এটা উদ্বেগ কিংবা দুশ্চিন্তার কারণে হচ্ছে। মনে রাখতে হবে অনেক সময় এটা হৃদরোগের জন্যও হতে পারে। অনেকের মধ্যে হৃদস্পন্দনে ছন্দ ব্যাহত হতে দেখা যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে এটা গুরুতর এবং ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে।

আজকের প্রতিযোগিতামূলক ব্যস্ত জগতে উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা যেন আমাদের প্রাত্যহিক সঙ্গী! তারপরেও কথা রয়ে যায়। আপনার হৃৎপিণ্ডের গতি যদি সব সময় বেশি কিংবা ছন্দহীন থাকে; তাকে হালকাভাবে নেয়া যাবে না। এটা যদি উদ্বেগ কিংবা দুশ্চিন্তার জন্যও হয়ে থাকে, শেষ পর্যন্ত তা কিন্তু হৃদপিণ্ডের জন্য ক্ষতিকারক। অতএব উদ্বেগ লাঘব করতে হবে; দুশ্চিন্তানাশক ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ হৃদস্পন্দন দীর্ঘদিন ধরে থাকলে অবশ্যই তা হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেবে। উদ্বেগ কমানোর জন্য যোগ ব্যায়াম, ধ্যান কিংবা শিথিলায়ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে এবং নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হবে।

বয়স বেশি না হলে কি হৃদপিণ্ড নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই
অনেকের কুড়ি বছর বয়সেও হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে। বয়স বাড়লে, হৃদরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, এটা অবশ্যই সত্য। কিন্তু অনেকের কৈশোরেও হৃদরোগ হয়। আজকাল ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সে হৃদরোগ হওয়ার সংখ্যা বেড়ে চলছে। তাই হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো শৈশব থেকেই গড়ে তোলা উচিত। অন্যথায় কু-অভ্যাসগুলো বয়সকালেও রয়ে যায়। শিশুদের হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি তাদের খেলাধুলা করতে উৎসাহ দিতে হবে; টেলিভিশন কিংবা কম্পিউটারের সামনে যত কম সময় থাকা যায় ততই মঙ্গল। কিন্তু আমাদের শিশুরা কি তা করছে?
স্বাস্থ্য ভালো থাকলে কি

হৃদরোগের ভয় নেই

বংশগতির প্রভাব অস্বীকার করা কঠিন। পিতা-মাতার হৃদরোগ ছিল বিধায় আপনারও  হৃদরোগ হবে, এটা সবসময় সত্য নয়। তবে সম্ভাবনার কথা স্বীকার করতে হবে। আপনার স্বাস্থ্য সুঠাম এবং ওজন সঠিক মাত্রায় আছে, তার মানে এটা নয় আপনার হৃদরোগ হবে না। বংশগতি, হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত কলেস্টেরল কিংবা উচ্চরক্তচাপ নীরবে আপনার হৃদপিণ্ডকে ঘায়েল করতে পারে। এছাড়া বয়সের কথা মনে রাখতে হবে। পুরুষরা হৃদরোগের সমূহঝুঁকির মধ্য থাকে। অবশ্য রজঃনিবৃত্তির পর মেয়েদেরও পুরুষদের মতোই হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
মোদ্দাকথা হচ্ছে বিনা মেঘে বজ্রপাত হওয়াটা যেমন সত্য; কোন ঝুঁকি উপাদান না থাকা সত্ত্বেও হার্ট অ্যাটাক হয়। অতএব সচেতন থাকুন, সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে।

মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১০

হৃদরোগ এবং ব্যক্তিত্ব

প্ৃথিবীতেএমন কিছু লোক আছেন যাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রায় সময় নেতিবাচক। ছোট কাজ করতে গিয়ে, ঘেমে নেয়ে একশত, গ্লাসের অর্ধেক পানি থাকলে সবসময় একে অর্ধেক খালি গ্লাস দেখতে অভ্যস্ত, বন্ধু বান্ধব নেই, বন্ধুর করতেও পরেননা লোকের সঙ্গে, মনের অনুভূতি সবসময় ভেতরেই পুষে রাখেন। চরিত্রে এমন সব নেতিবাচক জিনিষের মিশেল থাকলে হ্নদপিন্ডের জন্য এটি বড়ই খারাপ। গবেষকরা ইদানীং বলছেন ‘হ্নদরোগ ব্যক্তিত্ব’ বলে একটি কথা থাকতে পাবে। আশির দশকে নব্বই এর দশকে যথাক্রমে টাইপ এ ও টাইপ বি ব্যক্তিত্ব নিয়ে বেশ তেলপাড় হয়েছিল। পরে এ ধরনের ব্যক্তিত্ব তেমন গুরুত্ব পায়নি। ‘টাইপ ডি’ ব্যক্তিত্ব ওগুলোর মত এত সরল সহজ ব্যাখা দেয়না।
এক দশক ধরে নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীরা ডি টাইপ ব্যক্তিত্ব নামে এক ধরণের লোক চিহ্নিত করেছেন এবং এদের সঙ্গে হৃদরোগের বিভিন্ন ধরনের সম্পর্ক সন্ধান করছেন।
নেদারল্যান্ডের টিলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিজ্ঞানী জোহান ডেনোল্লেট বলেন, ’D মানে ’distressed’।” D টাইপ মানে তাহলেত বিপর্যস্ত মানুষ, বলা যায়। জোহান ডেনোল্লেট এনিয়ে গবেষণাকরছেন। টাইপ ডি লোক থাকেন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, বদমেজাজি এবং এরা নিরাপত্তার অভাবে ভুগেন। এরা সবকিছুতে সমস্যা খুঁজে পান, আনন্দ খুঁজে পাননা। তাঁরা চান সবাই তাদের ভালোবলুক, পছন্দ করুক। তাই অন্যে পছন্দ করবে না এজন্য সত্য কথাও মুখ ফুটে অনেক সময় বলেন না বা সঠিক কাজটি করেন না। এজন্য সব সময় যেন তারা ঝিইয়ে থাকেন, টেনসনেও ভোগেন।
টাইপ ডি ও হৃৎপিন্ড
ডাঃ ডেনোল্লেট এবং সহকর্মীরা হ্নদপিন্ডের উপর  ডি টাইপ ব্যক্তিত্বের প্রভাব নানা দৃষ্টিকোন থেকে লক্ষ্য করেছেন। বছর দশেক আগে তাদের প্রথম রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, এদের রিপোর্টে অন্তর্ভূক্ত ছিলেন ২৮৬ জন নারীও পুরুষ। তিনমাসের একটি কার্ডিয়াক পনুর্বাসন প্রোগ্রামে এদের চুকিয়ে একটি ব্যক্তিত্ব প্রশ্নাবলির মাধ্যমে যাচাই করা হলো। এদের এক তৃতীয়াংশ ছিলেন ডি টাইপ ব্যক্তিত্ব।
আটবছর পর, গবেষকরা এদের মধ্যে কাঁরা বেচে আছেন এবং কারা মারা গেলেন সে খতিয়ান বের করলের। টাইপ ডি যারা এদের মধ্যে মৃত্যুহার ছিলো ২৭%, যারা ডি নন এদের মধ্যে মৃত্যুহার ছিলো ৭%। বেশিরভাগ মৃত্যু হয়েছিলো হার্ট এটাক অথবা স্ট্রোকে। তখন থেকে টাইপ ডি ব্যক্তিত্বের লোকদেরকে সম্পর্কযুক্ত করা হলো আগাম মৃত্যু হার্টএটাকের পর হ্নদপিন্ড রক্তবাহ সমস্যা হওয়ার ঝুকি বেড়ে যাওয়া হ্নদরোগের প্রচলিত ও প্রমাণিত চিকিৎসায় বালো সাড়া না দেওয়া হঠৎ হ্নদরোগ জনিত মৃত্যু। এসব বিষয়ের সঙ্গে সর্বশেষ রিপোর্টে ভিন্ন একটি ডাচ বিজ্ঞানীর দল ৯০০ নারী-পুরুষের তথ্য অনুসরণ করলেন যাদের ক্ষেত্রে অবরুদ্ধ একটি করোনারি ধমনী খোলার জন্য একটি নবউদ্ভাবিত ড্রাগ রিলিজিং স্টেন্টস ব্যবহার করা হয়েছিল। মাত্র নয়মাস পরে টাইপ ডি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন বেশ কিছু লোক হার্টএটাকে মারা গেলেন অথবা হৃদরোগে আক্রান্ত হলেন।
সম্পর্কটি কি? কেউ স্পষ্ট করে জানে না। গবেষকরা বলছেন, টাইপ ডি ব্যক্তিত্বের লোকদের ইম্যুন ব্যবস্থা খুব বেশি সক্রিয়। এদের প্রদাহ হয় খুব বেশি। ফলে হ্নদপিণ্ডে রক্তনালীতে এমনকি সারা শরীরে আরো বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এদের রক্তচাপও হঠাৎ বেড়ে যায় এর মানসিক চাপে বেশ বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়।
আরো গবেষণা প্রয়োজনঃ টাইপ ডি ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। ডাঃ ডেনোল্লেট একে নিয়ে কাজ করছেন। ব্যক্তিত্বের ভিন্ন ভিন্ন উপকরণ যেমন বিষণ্নতা, উদ্বেগ, বিরূপ মনোভাব, সামাজিকভাবে নিঃসঙ্গতা আলাদা আলাদা বিবেচনা না করে গোটা ব্যক্তিত্বের ধাতকে বিবেচনা করা হ্নদরোগের ঝুঁকিপূর্ণ লোক সনাক্ত করা দ্রুততর ও কার্যকর হবে।
তবে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যা হলো, ব্যক্তিত্বের বিশেষ ধাত যেমন বিরক্তভাব, মেজাজ- যেমন বিষন্নতা বদলে ফেলা সহজ। ব্যক্তিত্বের ধরন পাল্টানো সহজ না হলেও।
তবে ডাঃ ডেনোল্লেট গবেষণার সীমাবদ্ধতা সম্বন্ধে সজাগ ও সচেতন, ভবিষ্যৎ ফলাফল দেবে এর উত্তর।

রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১০

বুকে ব্যাথা - হার্ট অ্যাটাক(এম আই)/গ্যাস্ট্রিক/নিউমোনিয়া/মাংসপেশীর ব্যাথা

'রাত তখন সাড়ে দশটা, রাতের খাওয়া মাত্র শেষ হলো, খাওয়ার পর থেকে রহিমের বুকের মাঝে ব্যাথা অনুভব হয়। কারনটাও রহিমের জানা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাটা বেড়ে যাওয়াই এর কারন,দ্রুতই ঔষধ খেয়ে নেয়া, ঔষধ খেয়ে রুমে গেল রহিম, মিনিট দুয়েকের মাঝেই আবার ছেলেকে ডেকে পাঠানো, ব্যাথাটা যে কমছেনা, বরং এর সাথে ঘাড়ে ব্যাথা আর বার হাতের দিকেও ব্যাথা শুরু হয়েছে...... ছেলে কি করবে বা কোনো ডাক্তারকে ফোন দিবে কিনা ভাবার আগেই ব্যাথাটা হঠাৎ আরো বেড়ে যায়, পরিবারের সবাই মিলে তাকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করে, রহিমের ছেলে ভাবে গ্যাস্ট্রিকের ইনজেকশান দিলেই দ্রুত ব্যাথা কমে আসবে, সি এন জি তে করে স্কয়ার হাসপাতালের ফিকে রওনা দেয়া, কিন্তু মাঝ পথ থেকেই রহিম আর কথা বলে না... হাসপাতালে পৌছুতেই আর বুঝার কিছু বাকি থাকে না, মাত্র ৫০ বছর বয়সেই হাজারো স্বপ্ন অপূর্ণ রেখে রহিম সবাইওকে ছেড়ে যায়, আর কারন ছিলো হার্ট অ্যাটাক!!!'

এই ঘটনার ব্যবহৃত নাম কাল্পনিক হলেও ঘটনা বাস্তব। শুধু মাত্র বোঝার ভুলের জন্য আর সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না নেয়ার জন্যই এই পরিনতি!

বুকে ব্যাথা আমাদের জীবনের সাধারন সমস্যা গুলোর একটা, যার সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত, কিন্তু এই বুকে ব্যাথা কখনো হয়ে উঠতে পারে সাংঘাতিক – আর তখন দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে তার পরিনতি যে কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, তার নমুনা ইতিমধ্যে আপনা পেয়েছেন।

সাধারনত কি কি কারনে বুকে ব্যাথা হতে পারে?
প্লুরাইটিক বুকে ব্যাথা - সাধারনত নিউমোনিয়া বা অন্য শ্বসন তন্ত্র বিষয়ক সমস্যার সাথে সম্পর্কৃত
ইশকেমিক কার্ডিয়াক ব্যথা - হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশান (এম আই) জনিত সমস্যার জন্য
গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যার কারনে
বুকের মাংসপেশীতে ব্যাথা হওয়ার কারনে

কিভাবে এই ব্যাথা গুলোকে আলাদা করা যায়?
যদিও সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠেনা কিন্তু তারপরও এই প্রত্যেকটা ব্যাথারই বিশেষ বিশেষ কিছু ফিচার আছে, যার মাধ্যমে এগুলোকে আলাদা করা সম্ভব এবং দ্রুত রোগীকে ম্যানেজমেন্ট করা সম্ভব।

প্লুরাইটিক বুকে ব্যাথা
এই ব্যাথা সাধারনত শ্বসন তন্ত্রের যে কোনো সমস্যার কারনে হয়, নিউমোনিয়া বা শ্বাস নালীর কিংবা প্লুরার ইনফেকশানের কারনে এটা হতে পারে।
সাধারনত বুকের বিশেষ কোনো অংশে এটা হয় আর সাধারনত বুকের মাঝে এই ব্যথা হয় না, বা কম দেখা যায়।
ব্যাথার ধরন অনেকটা স্টাবিং(ঐ অংশে ছুরি চালানোর মতো) ধাচের হয়, যা সাধারনত অন্য কোথাও ছড়ায়না, যদিও ক্ষেত্র বিশেষে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়

ইশকেমিক কার্ডিয়াক ব্যাথা
এই ব্যাথা সাধারনত হার্টের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারনে দেখা যায়।
ব্যাথা বুকের মাঝে হয় যা পরবর্তিতে ঘাড় এবং বাম বাহুর ও হাতের দিকে ছড়িয়ে যায়, তবে এই ব্যাথা পেটের উপেরের অংশে ও দেখা যেতে পারে।
ব্যাথার ধরন চেপে ধরার মতো, বা অনেক সময় এমনও মনে হয় বুকের উপর কোনো বড় বোঝা তুলে দেয়া হয়েছে

গ্যাস্ট্রিক জনিত ব্যাথা
এই ব্যাথা সাধারনত পেটের উপরের অংশে দেখা যায়
ভাজি বা মসলাদার খাবার খেলে ব্যাথা বেড়ে যায়
ব্যাথা সাধারনত পেটের পিছনের দিকে যেতে পারে
এই ধরনের রোগীর অনেকদিনের ব্যাথার হিস্ট্রি থাকে

বুকের মাংসপেশী জনিত ব্যাথা
এই ব্যাথা বুকের যে কোনো স্থানে কিংবা সকল বুক জুড়েও হতে পারে
বুকের কোথাও সরাসরি ব্যাথা লাগা কিংবা ভারী কিছু তুলতে যাওয়ার হিস্ট্রি থাকতে পারে
জোরে শ্বাস নেয়ার কারনে বা হাটা চলা করে মাংসে টান পড়লেই ব্যাথাটা বেড়ে যেতে পারে


হার্টের জন্য ব্যাথা হলে কি করবেন??
যেহেতু এই ব্যাথার ফলাফল সবচেয়ে খারাপ, এটাই সবার আগে জানা প্রয়োজন।

যদি বুঝতে পারেন হার্টের জন্যই বুকে ব্যাথা তবে 'গ্লিসারাইল ট্রাইনাইট্রেট স্প্রে/অ্যারোসল' কিনে জিহবার নিচে(জিহবা উল্টিয়ে) দুই চাপ দিয়ে দিবেন, আর এস্পিরিন ৭৫ মিগ্রা এর ৪ টি ট্যাবলেট একসাথে রোগীকে খাইয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিবেন।