চুল ও চুলের যত্ন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চুল ও চুলের যত্ন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই, ২০১২

খুশকি চিকিৎসা ও প্রতিকার করবেন কিভাবে


খুশকি একটি অতি পরিচিত চর্মরোগ যা মাথার খুলির ত্বকে হয়। প্রত্যেক মানুষই জীবনের কোন না কোন সময় খুশকিতে আক্রান্ত হয়। যার ফলে অনেকেই এই রোগটিকে খুব হালকাভাবে নেয়, এমনকি এটি যে একটি রোগ এবং এর যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন সে সম্বন্ধে সচেতনতার বড্ড অভাব রয়েছে।
তিনটি কারণে মাথায় খুশকি হয়ে থাকেঃ

বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১২

চুলের নানারকম সমস্যা


শীত এলে শুরু হয় চুলের নানারকম সমস্যা। এ সময়ে চুলে খুশকি, রুক্ষতা, চুল পড়াসহ সব ধরনের সমস্যা সমাধানে চাই বাড়তি পরিচর্যা। আজকাল বিউটি পার্লারে চুলের নানারকম ট্রিটমেন্ট করা যায়। সেটা নানা কারণে সবার পক্ষে সবসময় সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে আপনি ঘরে বসেই করতে পারেন চুলের পরিচর্যা। কীভাবে করবেন সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন রূপবান ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার ও রূপবিশেষজ্ঞ সাবিনা ইমতিয়াজ

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১১

খুশকির সহজ সমাধান

শীতের শুরুতে সবার চুলে একটি প্রব্লেম সবার ই দেখা যায় তা হলো খুশকি।একটি সহজ উপায় খুশকি থেকে দূরে থাকার জন্য মেহেদি ও সরিষার তেল এর মিশ্রন নিয়মিত ব্যবহার করা।এর জন্য যা লাগবে তা হল ২৫০ml

শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১০

চুল পড়া সমস্যা

একটা বয়সের পর পুরুষদের কমন দুশ্চিন্তা টাক হয়ে যাবে না তো? মেয়েরাও চুল নিয়ে কম ভোগে না। চুল পড়া রোধ, চুল ঘন ও সুন্দর করতে কত কিছু যে করে মানুষ! চুল পড়ার সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ, কসমেটিক সার্জারি সেন্টারের কনসালট্যান্ট ডা. ফেরদৌস কাদের মিনু-এর পরামর্শ তুলে ধরেছেন ডা. সাবরিনা শারমিন
সেই প্রাচীনকাল থেকেই চুল পড়া, চুল উঠে যাওয়া বা চুল পাতলা হয়ে যাওয়া খুব কমন সমস্যা। আমেরিকার একাডেমী অব ডার্মাটোলজির রিপোর্ট অনুসারে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৫-১৬ শতাংশই চুল ঝরে যাওয়া সমস্যায় ভুগছেন। শুধু ছেলেরা নয়, মেয়েরাও এর শিকার। চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা আবার ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের বেশি।
মানুষের চুল প্রতি মাসে আধ ইঞ্চি করে বড় হয়। স্বাভাবিকভাবে একটি চুল দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত বড় হতে থাকে। এর পর বৃদ্ধি থেমে যায় ও কয়েক দিনের মধ্যে আপনা-আপনি পড়ে যায়। যদি কোনো কারণে বেশি পরিমাণে চুল বর্ধনশীল অবস্থা থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় (পরিণত অবস্থায়) চলে আসে তবে চুল পড়ার পরিমাণ চুল তৈরি হওয়ার চেয়ে বেশি হবে। জানা যাক, কী কী কারণে চুল পড়ে।

অ্যান্ড্রোহেনের কারণে চুল পড়া
অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন, যেমন টেস্টোস্টেরন, অ্যান্ড্রোস্ট্রেনডিয়ন, ডিএইচটি হরমোনগুলো সাধারণত পুরুষের বেশি ও মহিলাদের কম পরিমাণে থাকে। এ হরমোনগুলো হেয়ার ফলিকলের ওপর কাজ করে ও চুল পড়া ত্বরান্বিত করে। সে কারণে পুরুষের চুল বেশি পড়ে। তবে সবারই যে পড়বে তা নয়, যাদের এসব হরমোনের প্রভাব বেশি তাদের বেশি করে চুল পড়ে। পুরুষের চুল পড়া বা টাক পড়া সাধারণত ২০ বছর থেকেই শুরু হতে পারে। এটিকে বলে মেল প্যাটার্ন অব হেয়ার লস বা পুরুষালী টাক। অর্থাৎ কপাল থেকে শুরু করে পেছন দিকে চুল উঠতে থাকে।
মহিলাদের মেনোপজের সময় ও পরে অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোনগুলো আনুপাতিক হারে বেড়ে যায়, তখন চুল বেশি করে পড়তে শুরু করে। তবে এ ক্ষেত্রে ফিমেল প্যাটার্ন অব হেয়ার লস হয়ে থাকে। শুধু কপালের দিক থেকে নয়, চুল পড়া শুরু হয় পুরো মাথা থেকেই। ধীরে ধীরে চুলের ঘনত্ব কমে যায়। অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোনই মেয়েদের চুল পড়া ও ছেলেদের টাকের সবচেয়ে বড় কারণ।

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ
দুশ্চিন্তায় ভুগলে বা মানসিক সমস্যা থাকলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি করে চুল পড়তে পারে। তবে এ চুল পড়া সাময়িক এবং পুনরায় চুল গজায়। তবে দীর্ঘদিন মানসিক দুশ্চিন্তায় থাকলে বা দুশ্চিন্তা কাটিয়ে উঠতে না পারলে অনেক বেশি চুল পড়ে যেতে পারে।

হরমোনাল পরিবর্তন
হরমোনের কমবেশি হওয়ার কারণে চুল উঠে যেতে পারে। যেমন থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কম বা বেশি হলে, গর্ভবতী অবস্থায় এবং বাচ্চার জন্মের পর হরমোনাল ভারসাম্য পরিবর্তিত হয় বলে তখন চুল বেশি পড়ে। হরমোনের এ পরিবর্তন আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলে পুনরায় চুল গজায়। তবে তা আগের অবস্থায় যেতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কেমোথেরাপির পর
ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি দেওয়ার পর চুল উঠে যায়। এর কারণ কেমোথেরাপিউটিক ড্রাগসগুলো বর্ধনশীল কোষের ওপর কাজ করে। কেমোথেরাপির প্রথম ডোজ দেওয়ার দুই-তিন সপ্তাহ পর চুল পড়া শুরু হয় এবং কেমোর সর্বশেষ ডোজের তিন-চার মাস পর পুনরায় চুল গজানো শুরু হয়।

ট্রাকশন অ্যালোপেসিয়া
চুলের বিশেষ কোনো স্টাইলের জন্য যদি দীর্ঘদিন খুব টেনে চুল বাঁধা বা টাইট করে খোঁপা বা ব্যান্ড করা হয় তবে এ ধরনের চুল পড়া শুরু হয়। দীর্ঘদিন এক রকম চুল বাঁধার কারণে চুল পড়া পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যায় না। ফলে টেনে বাঁধার কারণে এ চুল পড়া স্থায়ীভাবে হেয়ার লসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হেয়ার প্রোডাক্টের জন্য
খুব বেশি পরিমাণ কালারিং এজেন্ট, বি্লচিংসামগ্রী, চুল সোজা করা বা ক্রমাগত রিবল্ডিং করানো ও ঘন ঘন চুল পার্ম করার সামগ্রী ব্যবহার করলে চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। বিশেষ করে প্রোডাক্টগুলো যদি উন্নতমানের না হয় সে ক্ষেত্রে চুল বেশি করে পড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই আবার চুল ওঠে; কিন্তু অনেক সময় হেয়ার ফলিকলের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে গেলে চুল আবার নাও গজাতে পারে।

টিনিয়া ক্যাপাইটিস
এটি এক ধরনের ফাঙ্গাল ইনফেকশন, যা স্কাল বা মাথার খুলিতে হয়ে থাকে। এ ফাঙ্গাল ইনফেকশনের জন্য ওই অংশের চুল পড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে নাইজোরাল শ্যাম্পু (কিটোকোনাজল) চুলে ব্যবহার করতে হয়। কখনো কখনো দিনে একটি করে এন্টিফাঙ্গাস ওষুধ আট থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত খেতে হতে পারে। ইনফেকশন ভালো হয়ে গেলে চুল আবার গজায়।

অপারেশনের পর
শরীরে বড় কোনো সার্জারি বা অপারেশনের পর অনেক ক্ষেত্রেই চুল পড়ে যায়। এটি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, অপারেশনের কারণে শারীরিক পরিবর্তন অথবা মানসিক উদ্বেগের জন্য
হতে পারে। সুস্থ হওয়ার পর চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে চুল আগের অবস্থায়
ফিরে যায়।
অসুখের কারণে চুল পড়া
কিছু অসুখে, যেমন অ্যানিমিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, ম্যালেরিয়া, ডায়াবেটিস ইত্যাদিতে চুল পড়ে যেতে পারে। অনেক সময় অসুখ ভালো হওয়ার পরও চুল আর আগের অবস্থায় ফিরে যায় না।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কোনো কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়তে পারে; যেমন জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি, প্রেশারের ওষুধ, রক্ত তরলীকরণের ওষুধ, হরমোন, অ্যান্টিসাইকোটিক বা মানসিক অসুস্থতার ওষুধ ইত্যাদি।

রেডিওথেরাপি
ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি দেওয়ার পর চুল পড়ে এবং তা আর গজায় না।

খাদ্যাভ্যাস
শারীরিক নিউট্রিশনাল স্ট্যাটাসের ওপর চুলের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। দৈনিক খাদ্য তালিকায় প্রোটিন, কার্বহাইড্রেট, ফ্যাট, মিনারেলস ও ভিটামিন পরিমিত পরিমাণে না থাকলে চুল পড়ে যায়। এছাড়া দীর্ঘদিন শরীরে কোনো একটি উপাদানের অভাবে চুল পড়ে যায়।

চুল পড়ার ধরন
অ্যালোপেসিয়া অ্যারিয়াটা
এ ক্ষেত্রে মাথার কোনো একটি স্থানের চুল একেবারে উঠে যায় এবং ওই স্থানে টাক হয়ে যায়। এটি অটোইমুইন ডিজিজ এবং এর কারণ এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনেরই বংশে এ ধরনের চুল পড়ার ঘটনা থাকে। কিছু অসুখেও এটি হতে পারে। যেমন অ্যাজমা, একজিমা, থাইরয়েড ডিজিজ, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস ইরাইথ্রোম্যাটোসাস, ভিটিলিগো, এডিসনস ডিজিজ ও পরিনিশাস অ্যানিমিয়া।
এ ক্ষেত্রে কোনো ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন হয় না, পুনরায় চুল গজানো শুরু হয় অন্তত ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই।
অ্যালোপেসিয়া টোটালিস
এ ক্ষেত্রে পুরো মাথার চুলই পাতলা হয়ে যায় বলে এটি অ্যালোপেসিয়া টোটালিস নামে পরিচিত। পুষ্টির অভাব, কেমোথেরাপি অপারেশন বা কোনো অসুখের পর এ ধরনের চুল পড়ে থাকে।
এছাড়া অ্যালোপেসিয়া ইউনিভার্সালিসে পুরো শরীরের চুল উঠে যায় ও অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়ায় টাক পড়ে।

চুল সম্পর্কে ভুল ধারণা
চুল সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। যেমন_
* প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে চুল পড়ে যায়। আসলে শ্যাম্পু করলে মাথার চামড়া পরিষ্কার থাকে। তবে সব শ্যাম্পু প্রতিদিন ব্যবহার করা যায় না। প্রতিদিন ব্যবহারের কিছু শ্যাম্পু আছে, যা ব্যবহার করলে কখনোই চুল পড়ে না।
* দিনে ১০০ বার চুল আঁচড়ালে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে বলে অনেকেই বলেন। চুল বেশি আঁচড়ালে টান লেগে বরং চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। দিনে পাঁচ-ছয়বার আঁচড়ানোই যথেষ্ট।
* চুল বারবার কামালে ঘন চুল ওঠে বলে ছোটবেলায় আমরা অনেকেই মাথা ন্যাড়া করেছি। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বেশি বার কামালে হেয়ার ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে বরং চুল কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
* তেল দিলে চুল ঘন হয় বলে মনে করেন বেশির ভাগ মানুষ। বাস্তবে চুল ঘন হওয়ার সঙ্গে তেলের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে চুল তেল দিয়ে মসৃণ রাখলে জট লেগে চুল ছেঁড়ার আশঙ্কা কম থাকে।
* গরম তেল মালিশ করলে চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল থাকে বলেও কারো কারো ধারণা। কিন্তু গরম তেল হেয়ার ফলিকলে ক্ষতি করতে পারে। অবশ্য সাধারণ তাপমাত্রার তেল দিয়ে মাসাজ করলে চুলের গোড়ার রক্তসঞ্চালন খানিকটা বাড়ে।
* চুল টাইট করে বেণী করে ঘুমালে চুলের বৃদ্ধি বেশি হয় বলে মেয়েরা মনে করে। কিন্তু বেশি টাইট করে না বাঁধাই ভালো। এতে চুল উঠে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কিভাবে বুঝবেন চুল পড়ছে
দৈনিক ১০০টা পর্যন্ত চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু এর চেয়ে বেশি পড়লে তা অবশ্যই উদ্বেগের কারণ। বালিশ, তোয়ালে বা চিরুনিতে লেগে থাকা চুল গুনতে চেষ্টা করুন। অন্তত পরপর তিন দিন।
অথবা অল্প এক গোছা চুল হাতে নিয়ে হালকা টান দিন। যদি গোছার চার ভাগের এক ভাগ চুলই উঠে আসে তবে তা চিন্তার কারণ।

চিকিৎসা
ওষুধের মাধ্যমে
বাজারে চুল পড়া রোধের জন্য মিনোক্সিডিল নামের ওষুধ পাওয়া যায়। এটি যেখান থেকে চুল পড়ছে সেখানে লাগাতে হবে। এটি নারী ও পুরুষ উভয়েই ব্যবহার করতে পারেন। এতে কাজ না হলে অন্য চিকিৎসা নিতে হবে।
লেজার থেরাপি-এলএইচটি
লেজার থেরাপি হেয়ার ফলিকলগুলোকে আবার সজীব করে। এমনিতে প্রতিদিনই চুল পড়ে ও নতুন চুল গজায়।
কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে বা অন্য কোনো অসুস্থতার ফলে যে পরিমাণ চুল পড়ে যায়, সেই পরিমাণ গজায় না। লেজার থেরাপি চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয় ও ফলিকলগুলোকে পুনর্জীবিত করে। চুলের গোড়া ও কাণ্ডের গঠন দৃঢ় করে। চুলের অকাল পতন রোধ করে।
এটি আধঘণ্টা পরে প্রতি সপ্তাহে এক দিন হিসেবে, সাধারণত ছয় মাস পর্যন্ত নিতে হয়। লেজার থেরাপির পাশাপাশি মিনোক্সিডিলও ব্যবহার করতে হয়।
হেয়ার ফলিকল রিপ্লেসমেন্ট
এটি একধরনের মাইক্রোসার্জারি বা সূক্ষ্ম অপারেশন। এতে চুল পড়ে যাওয়া অংশে হেয়ার ফলিকল ইমপ্লান্ট করা হয়। অপারেশনটিতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। অপারেশনের পরদিনই রোগী বাসায় চলে যেতে পারেন। সাধারণত মোট তুই-তিনটি সিটিং লাগে।
হেয়ার স্কাল্প রিপ্লেসমেন্ট
এ ক্ষেত্রে অক্সিপুট বা মাথার পেছনের অংশ যেখানে চুলের ঘনত্ব বেশি থাকে তা ফ্ল্যাপ করে কেটে এনে টাক হওয়া অংশে রিপ্লেস করা হয় বা বসানো হয়।
কখনো কখনো নিজের স্কাল্প হেয়ারের পরিবর্তে আর্টিফিশিয়াল হেয়ার পিস আক্রান্ত স্থানে ইমপ্লান্ট করা হয়।
চুল পড়া রোধের প্রায় সব চিকিৎসাই বাংলাদেশে আছে।
তবে অপেক্ষাকৃত ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখনো উন্নততর চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। এ ছাড়া এসব চিকিৎসা এখন পর্যন্ত ঢাকায়ই সীমাবদ্ধ। ঢাকার বিভিন্ন কসমেটিক সার্জারি সেন্টারে সাত-আট বছর ধরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর খরচও এখন
অনেক কমে এসেছে।

ছেলেদের চুল পড়ে কেন?

ছেলেদের চুল পড়া খুব স্বাভাবিক এবং বেশি বয়সে টাক পড়া কোনো ব্যাপার নয়। তবু যেন টাক পুরুষের আতঙ্কের কারণ। জুলিয়াস সিজার কিংবা নেপোলিয়ানসহ অনেকেরই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তারা চুল লম্বা রেখে-তারপর টেনে সামনে আঁচড়াতেন টাক ঢাকার জন্য।
অ্যানড্রোজেনিস অ্যালোপিসিয়া
অ্যানড্রোজেন এক ধরনের হরমোন। এই হরমোন পুরুষালি স্বভাবের জন্য দায়ী। আর জেনেটিক অর্থ হচ্ছে বাবা কিংবা মায়ের কাছ থেকে পাওয়া। চুলে ফলিকলে ফাইভ আলফা রিডাকটেজ নামের অ্যানজাইম থাকে। আর চুলের ফলিকলে থাকা অ্যাড্রোজেন তখন ফাইভ আলফা রিডাকটেজের সঙ্গে বিক্রিয়া ডাইহাইড্রোটেসটেরন তৈরি করে। হেয়ার ফলিকল ডাইহাইড্রোটেসটেরনের প্রতি সংবেদনশীল। আর তাই তখন চুল পড়ে যায়।
অ্যালোপিসিয়া অর্থ চুল পড়ে যাওয়া। পুরুষের চুল পড়ে যাওয়া মহিলাদের থেকেও বড় সমস্যা, মহিলাদের পুনরায়চুল গজানোর সম্ভাবনা বেশি। পুরুষের বয়স, হরমোন ও জেনেটিক কারণে চুল পড়ে। চুল পড়ার কারণ ও রোধের উপায় নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে।
হেয়ার রিপ্লেসমেন্ট, নানা ধরনের সার্জারিও এখন টাক আড়াল করার কাজ করছে। চুল পড়ছে এমন ধারণা হলে বা সন্দেহ হলে ত্বক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে চুল পড়ার ধরন, কারণ ও নির্ণয়ের পরে সুচিকিৎসা প্রয়োজন।
চুল পড়ার অন্যান্য কারণ
অ্যালোনিসিয়া এরিয়েটা সাধারণত অটোইমিউন রোগে এমন হয়। মাথার বিভিন্ন স্থানে গোল হয়ে সম্পূর্ণ চূল পড়ে যায়।
অ্যালোপিসিয়া টোটানিস
সম্পূর্ণ মাথার চুল পড়ে যাওয়া, অ্যালোপিসিয়ার পরবর্তী একটি ধারা।
অ্যালোপিসিয়া ইউনিভার্সালিস
সমস্ত শরীরের চুল পড়ে যায়।
ট্রাকশন অ্যালোপিসিয়া-
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা চুল খুব বেশি টেনে বাঁধলে, টানাটানির কারণে চুল পড়ে যেতে পারে।
টেলোজেন ইফফ্লুডিয়াম-
এটি সাময়িক, শরীরিক ও মানসিক চাপ, ওষুধ, হরমোনজনিত সমস্যার কারণে হয়।
অ্যানাজেন ইফফ্লুভিয়াম-
কেমোথেরাপির কারণে যখন চুল পড়ে।
উপরোলি্লখিত কারণে মাত্র পাঁচ ভাগ পুরুষের চুল পড়ে। বাকি ৯৫ ভাগ চুল পড়ে অ্যানড্রোজেনিক অ্যালোপিসিয়ার কারণে।
অ্যানড্রোজেনিক অ্যালোপিসিয়ার চিকিৎসা
* চুল পড়াকে বড় সমস্যা মনে না করে টাক মাথা মেনে নিতে চেষ্টা করা।
* টাক আড়াল করার জন্য নানা রকম পদ্ধতির ব্যবহার। চুলের ছাঁটকাটের ধরন পাল্টে ফেলুন।
* ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শনুযায়ী মিনক্রিডিল ব্যবহার করুন।
* সুষম খাবার খাবেন।
* হেয়ার রিপ্লেসমেন্ট করতে পারেন।

বংশগত টাক পড়া সমস্যা

বংশগত টাককে মেডিক্যাল ভাষায় মেল প্যাটার্ন হেয়ার লস অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের মাথার মাঝখানে ও কপালের দুই পাশ থেকে আস্তে আস্তে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া এবং একটা পর্যায়ে চুল পড়ে মাথা খালি হয়ে যাওয়াকে বোঝায়। এ জাতীয় টাক হওয়ার কারণ, টেস্টোস্টেরন নামক হরমোন মাথার ত্বকের ওই স্থানগুলোতে ডাইহাইড্রো টেস্টোস্টেরনে (ডিএইচটি) পরিণত হয় এবং এই ডিএইচটি’র প্রভাবে মোটা চুল প্রথমে পাতলা চুল এবং এক পর্যায়ে হেয়ার ফলিকল (চুলের গোড়া) শুকিয়ে গিয়ে চুল সম্পূর্ণভাবে ঝরে যায়।

টেস্টোস্টেরন হরমোন ডিএইচটিতে পরিণত হতে একটি এনজাইমের প্রয়োজন ছিল। সেই এনজাইমের নাম ৫-আলফা রিডাকটেজ। সুতরাং এই ৫ আলফা রিডাকটেজের কার্যকারিতা যাদের মাথার ত্বকে বেশি তাদেরই এ জাতীয় টাক পড়ে। এ কার্যকারিতা বেশি বা কম হওয়াটা নির্ভর করে জেনেটিকের ওপর অর্থাৎ বংশগত প্রভাবের ওপর। তাই এ জাতীয় টাককে বংশগত টাক বলা হয়, অর্থাৎ বাবার মাথায় টাক থাকলে ছেলের মাথায় টাক পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে যে নতুন চিকিৎসার ব্যবস্থা এসেছে তা হচ্ছে ৫ আলফা রিডাকটেজ এনজাইমকে কার্যকর হতে না দেয়া। ফলে টেস্টোস্টেরন থেকে ডিএইচটি তৈরি হতে না পারা এবং ডিএইচটি তৈরি হতে না পারলে চুলের গোড়া শুকিয়ে যাবে না এবং টাকও পড়বে না। ওষুধটির বৈজ্ঞানিক নাম ফিনাস্টেরয়েড। এই ফিনাস্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ কিন্তু কয়েক বছর আগে থেকেই বাজারে আছে যেমন-প্রোস্টেট গ্ল্রান্ড বড় হয়ে যাওয়ার চিকিৎসায় (তবে ডোজ ভিন্ন ব্যবহৃত হতো)। এত দিন একটি ধারণা ছিল, এ জাতীয় ওষুধ যৌনশক্তি কমাতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, যৌনশক্তি রক্ষার জন্য যে রিসেপ্টর (এন্ড্রোজেন রিসেপ্টর) রয়েছে তার ওপর এর কোনো প্রভাব নেই। তবে পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, এ জাতীয় সমস্যা ১-৩ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে- যা কিনা ওষুধ বন্ধ করে দিয়ে অথবা ওষুধ চালিয়ে গিয়েও কাটিয়ে উঠেছেন অনেকে। রোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে চিকিৎসা নেয়াই মঙ্গল। কাজেই বংশগত টাক পড়ার আশঙ্কা থাকলে এই ওষুধ সেবনে তা থেকে রক্ষা পাওয়ার আশা রয়েছে। যত দিন মাথায় চুল প্রয়োজন তত দিন ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে। তবে ইতোমধ্যে যাদের টাক পড়ে গেছে তাদের ক্ষেত্রে কি এ ওষুধ কোনো উপকারে আসবে? হ্যাঁ আসবে, তবে সামান্য। অর্থাৎ প্রতিদিন এক মিলিগ্রামের একটি ট্যাবলেট অš-ত পক্ষে তিন মাস সেবনের পর থেকে টাক পড়া স্থানে চুল গজাতে শুরু করবে।

মহিলাদের কি কখনো ছেলেদের মতো টাক হতে পারে? হ্যাঁ হতে পারে। মেনোপজ হওয়ার পর অর্থাৎ ৪০-৫০ বছর বয়সের মহিলাদের মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে তখন ফিমেল হরমোনের পরিমাণ কমে যায় এবং মেল হরমোন বা টেস্টোস্টেরন/ এন্ড্রোজেনের আধিক্য বেড়ে যায় ও একই নিয়মে ছেলেদের মতো টাক পড়ে। ঠিক একই কারণে সব ছেলের যেমন টাক পড়ে না, তেমনি সব বয়স্ক মহিলারও টাক পড়ে না। সে ক্ষেত্রে কি ওই একই কারণে সব ছেলের যেমন টাক পড়ে না, তেমনি সব বয়স্ক মহিলারও টাক পড়ে না। সে ক্ষেত্রে কি ওই একই চিকিৎসা ব্যবস্থা নেয় যাবে? হ্যাঁ, নেয়া যাবে এবং উপকারও পাবে। তবে খুব সাবধান, অর্থাৎ মাসিক হচ্ছে গর্ভধারণ করার ক্ষমতা বা বয়স রয়েছে এমন মহিলারা যেন চুলপড়া রোধে এ জাতীয় ওষুধ সেবন না করেন। তাদের ক্ষেত্রে এটি সেবনে গর্ভের শিশু জন্মগত ক্ষতির ঝুঁকি থাকে এমনকি গর্ভধারণে সক্ষম বয়সের মহিলাদের খালি হাতে এ জাতীয় ওষুধ ধরাই নিষেধ, খাওয়া তো দূরের কথা। ওষুধটি শিশুদের নাগালের বাইরেও রাখতে হবে। সর্বোপরি এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি বিরাট সাফল্য। টাক পড়তে না দেয়া এবং টাক পড়া মাথায় চুল গজানোর এটিই প্রথম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন উন্নতমানের ওষুধ। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের নির্দেশমতো ব্যবহার করতে হবে।