চুল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চুল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ৭ মে, ২০১১

টাক মাথায় চুল

যৗবনে অনেকের যখন চুল পড়া শুরু হয়, নারী-পুরুষ সবাই অসহায় হয়ে পড়ে। কসমেটিক চিকিৎসার মাধ্যমে টাক মাথায় চুল গজানো সম্ভব।
টাক : টাক শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ এলোপেসিয়া। অর্থাৎ টাক বলতে মাথা বা শরীরের লোমশ যে কোন অংশ হতে আংশিক বা ছড়ানো-ছিটানো চুল পড়ে যাওয়াকেই বোঝায়।
শ্রেণী বিভাগ
* স্কারিং ও নন-স্কারিং
* হেরোডিটারি ও নন-হেরোডিটারি
* এলোপেসিয়া এরিয়াটা, টোটালিস ও ইউনি ভার্সালিস


টাকের কারণ : প্রধান কারণগুলো হল
* ইডিওপ্যাথিক অর্থাৎ কারণ অজানা
* অটোইমিউন
* ইনফেকশনজনিত
* জন্মগত
* সিস্টেমিক কিছু রোগ
* টিউমারজনিত
* ফিজিওলজিক্যাল
* ফিজিক্যাল
* আঘাতজনিত
* হরমোনজনিত
* পুষ্টিজনিত
* ওষুধজনিত
* কিছু চর্মরোগ
* সাইকোলজিক্যাল

ল্যাব পরীক্ষা : বিশেষ পরীক্ষাগুলো হল
* মাইক্রোসকপি
* হরমোন-এনালাইসিস
* রক্তের বিশেষ কিছু পরীক্ষা
আধুনিক কসমেটিক চিকিৎসা
প্রচলিত চিকিৎসাগুলোর সাফল্য টপকিয়ে আধুনিক বৈজ্ঞানিক কসমেটিক পদ্ধতিতে সিস্টেমিক ফিনেস্টেরাইড ও টপিক্যাল মিনাক্সিডিল প্রচলন বর্তমান টাক চিকিৎসায় সাফল্য এনেছে।

শুক্রবার, ৮ এপ্রিল, ২০১১

স্বাস্থ্যসম্মত চুলের যত্ন

Long Hair  
Style 9  1এক-একজনের চুল এক-এক ধরনের। চুলের ধরন বুঝে যত্ন নিতে হয়।

তৈলাক্ত চুলের যত্নঃ

তৈলাক্ত চুল নানা কারণে হতে পারে।

জন্মগত বা বংশগত কারণে। ঢ় অতিমাত্রায় হরমোনের কারণে।

খুব বেশি চুল আঁচড়ানোর ফলে সেবাশিয়াস গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে উঠলে।

চুল খুব কম পরিষ্কার করলে।

যত্ন

ব্রাশের বদলে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াবেন। ঢ় তৈলাক্ত চুলের জন্য উপযোগী শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোবেন ও কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন।

চুল ধোয়ার সময় শেষবার লেবুর রস মিশ্রিত পানি দিয়ে চুল ধোবেন।

মাথায় স্কার্ফ ব্যবহার প্রয়োজন না হলে করবেন না।

সুষম খাদ্য গ্রহণে সচেষ্ট হবেন।

মিশ্র চুলের যত্ন

কিছু চুল আছে যার গোড়ায় তেলতেলে কিন্তু চুলের আগা রুক্ষ।

রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে চুলের স্টাইল যেমন পার্মিং ইত্যাদি করতে গিয়ে এমনটা হতে পারে।

যত্নঃ

তৈলাক্ত চুলের মত ব্রাশের বদলে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ান।

শুষ্ক ও তৈলাক্ত দুই ধরনের শ্যাম্পু এক দিন অন্তর অন্তর ব্যবহার করবেন। ঢ় শুধু চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন।

রাসায়নিকদ্রব্য চুলে ব্যবহার করবেন না।

স্বাভাবিক চুলের যত্ন

স্বাভাবিক চুল খুবই ভাগ্যের ব্যাপার।

বংশগত কারণে চুল স্বাভাবিক সুন্দর হতে পারে।

চুলের সঠিক যত্নের কারণেও চুল স্বাভাবিক থাকে।

নির্দিষ্ট সময় পরপর চুলের আগা কাটতে হবে।

সঠিক কন্ডিশনার ও শ্যাম্পু ব্যবহার প্রয়োজন।

রাসায়নিক উপাদান পরিহার করতে হবে।

সপ্তাহে এক দিন ম্যাসাজ করা ভালো।

চুল খুব টেনে বাঁধবেন না, দিনে দু থেকে তিনবার চুল আঁচড়াবেন।

ভেজা চুল কখনো বাঁধবেন না।

চুলে শ্যাম্পু করাঃ

চুলের যত্নে চুল পরিষ্কার রাখার জন্য শ্যাম্পু অপরিহার্য উপাদান। হিন্দি শব্দ চ্যাম্পু থেকে শ্যাম্পু এসেছে। এর অর্থ মালিশ বা ম্যাসাজ। এর মানে বোঝা যায় শ্যাম্পু করার সময় আপনার মাথা ম্যাসাজ বা ঘষতে হবে।

চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু বেছে নিতে হবে। তৈলাক্ত চুলে যেমন প্রায় প্রতিদিন শ্যাম্পু করা প্রয়োজন আবার শুষ্ক চুলে তা নয়। হেয়ার স্টাইল, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ দূষণ, আবহাওয়া এগুলোর ওপরে নির্ভর করে আপনি সপ্তাহে কতবার শ্যাম্পু করবেন।

তৈলাক্ত চুল, প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম, দূষণ, প্রতিদিন বাইরে যাওয়া এমনটা যদি হয় আপনার জীবনযাত্রা তবে প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে হবে। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে দু’দিন শ্যাম্পু ব্যবহার যথেষ্ট। চুলে ময়লা ভাব, মাথা চুলকাচ্ছে এমন হলে সাথে সাথে শ্যাম্পু করবেন। প্রতিদিন প্রয়োজনে শ্যাম্পু করলে চুল পড়ে এটা ভুল ধারণা। তবে অপ্রয়োজনে শ্যাম্পু করলে চুল শুষ্ক হয়ে ওঠে ও চুল ভেঙে যায়।

এছাড়া সূর্যতাপ, লবণ পানি, ক্লোরিনযুক্ত পানি চুলের ক্ষতি করে। এরকম হলে যথাযথ শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুলের লবণ ভাব, ক্লোরিন ইত্যাদি দূর করতে হবে।

শ্যাম্পু করার পদ্ধতিঃ ঢ় হালকা গরম পানিতে সম্পূর্ণ চুল ভিজিয়ে নিন।

হাতে শ্যাম্পু ঢেলে নিন এবং দু’হাতে ঘষে নিয়ে তারপর পুরো মাথায় লাগান। ঢ় আঙুলের ডগা দিয়ে ম্যাসাজ করে শ্যাম্পু লাগান।

প্রয়োজনে চুল লম্বা হলে আবার শ্যাম্পু নিয়ে হাতে ঘষে তারপর চুলে লাগান। ঢ় এভাবে কিছুক্ষণ হালকাভাবে ঘষার পরে চুল প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ঢ় প্রয়োজনে পুনরায় শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন।

চুল পরিষ্কার হয়েছে কি না, তৈলাক্ত ভাব কেটেছে কি না, আপনি হাত দিয়েই তা বুঝবেন।

শ্যাম্পু পরিষ্কার করার জন্য প্রচুর পানি দিয়ে ধোবেন যাতে শ্যাম্পুর অবশিষ্ট অংশ চুলে লেগে না থাকে।

শ্যাম্পু করার পর চুল খুব বেশি ঘষাঘষি না করে নরম তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে রাখবেন।
মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে হালকাভবে চুল আঁচড়ে রাখবেন। ব্রাশ ব্যবহার করবেন না।

শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

চুল পাকা সমস্যা ও করণীয়

অনাদিকাল থেকে মানুষ চুলের পরিচর্যা করে আসছে। সুন্দর চুলের জন্য মানুষের প্রচেষ্টার বিরাম নেই। কিন্তু অনেক সময় তাকে হতাশ করে দিয়ে সুন্দর চুলগুলো পাকতে শুরু করে। প্রকৃতির নিয়মে একটি নির্দিষ্ট বয়সে মানুষের চুল পাকে; কিন্তু কখনও কখনও অল্প বয়সেও কারও কারও চুল পাকতে দেখা যায়। তখন দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২৪ থেকে ৩৫ বছর বয়সের মধ্যে শতকরা প্রায় ২৫ জনের চুলে পাক ধরে। পরে বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল পাকার সংখ্যা আরও বেড়ে ৫০-এ দাঁড়ায়।
রোগের কারণ : আমাদের ত্বকে মেলানোসাইট নামে এক ধরনের কোষ থাকে, যা মেলানিন উৎপাদন করে। যাদের কম মেলানিন উৎপাদন হয় তাদের রঙ সাদা হয় এবং বেশি উৎপাদন হলে রঙ কালো হয়। চুলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদি কোনো কারণে চুলের গোড়ার মেলানোসাইট কোষ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় তাহলে বন্ধ হয়ে যায় মেলানিনের উৎপাদন। ফলে চুলের রঙ সাদা হয়ে যায় এবং আমরা সেটাকে চুল পাকা বলি। যে কোনো বয়সেই এটা ঘটতে পারে।
মেলানোসাইট কোষ কেন নিষ্ক্রিয় হয় সে ব্যাপারে অনেক গবেষণা হয়েছে। দেখা গেছে, বংশগত কারণে অনেকের মধ্যে এ সমস্যাটি ঘটে। অল্প বয়সে যাদের চুল পাকে তাদের কারও কারও মধ্যে অটোইমিউন ডিজিজের কারণে মেলানোসাইট কোষ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। ফলে চুলে মেলানিন না পেঁৗছানোর কারণে চুল পাকে। এই অটোইমিউন ডিজিজে ত্বকের মেলানোসাইটের বিরুদ্ধে তৈরি হয় অ্যান্টি মেলানোসাইট অ্যান্টিবডি, যা মেলানোসাইট কোষকে ধ্বংস করে দেয়। এছাড়া গবেষকরা খুব বেশি জ্বর, দীর্ঘমেয়াদি কোনো অসুখ এবং মানসিক দুশ্চিন্তাকে অল্প বয়সে চুল পাকার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অল্প বয়সে কিংবা বেশি বয়সে চুল পাকার ব্যাপারটি হঠাৎ করে ঘটে না। প্রথমে কয়েকটি চুল পাকতে শুরু করে, পরে ধীরে ধীরে অন্যান্য চুল পাকে।
চুলের প্রধান পুষ্টি প্রোটিন ও ভিটামিন। এই পুষ্টির অভাবে চুল পাকতে পারে। শরীরে যখনই প্রোটিন কিংবা ভিটামিনের তীব্র অভাব ঘটে তখনই চুলের পরিবর্তন চোখে পড়ে। প্রোটিনের অভাবে চুল শুষ্ক, পাতলা, ভঙ্গুর ও বিবর্ণ হয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে ম্যারাসমাস ও কোয়াশিওরকর নামক দুটি রোগে চুল পাকা দেখা দেয়। হৃদরোগীদের চুল খুব দ্রুত পেকে যায়, বিশেষ করে যারা উচ্চরক্তচাপ কিংবা করোনারি হার্ট ডিজিজে ভুগছেন তাদের চুল পেকে যাওয়ার ঘটনা বেশি। এছাড়া থাইরয়েড গ্রন্থিতে সমস্যা দেখা দিলে চুল পাকে। প্রোজেরিয়া নামক রোগে বারো বছরের আগেই শিশুর চুল পাকতে শুরু করে।
রথম্যান থমসন সিনড্রোম এবং ডিস্ট্রফিক মায়োটোনিয়া রোগেও চুল খুব তাড়াতাড়ি পেকে যায়। শরীরে ভিটামিন বি ১২-এর অভাবেও চুল পাকে।
এছাড়া বিভিন্ন চর্মরোগ, বিশেষ করে সোরিয়াসিস ও শ্বেতীরোগে চুল পাকতে পারে।
চুল পাকলে করণীয় : অনেকের ধারণা চুলে নিয়মিত তেল না মাখলে চুল পেকে যায়। কিন্তু ধারণাটি ভ্রান্ত। চুল পাকার সঙ্গে চুলে তেল দেওয়া-না দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। সত্যিকার অর্থে পাকা চুল কালো করার স্থায়ী কোনো উপায় নেই। একমাত্র কলপ ব্যবহার করে বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। তবে যেসব রোগের জন্য চুল পেকে যায়, যদি রোগটি নির্ণয় করা সম্ভব হয় এবং রোগের চিকিৎসা করা যায় তাহলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাকা চুল কালো হয়ে ওঠে। এছাড়া পাকা চুল কালো করার কোনো ওষুধ আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। কলপ মাখার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারও কারও ক্ষেত্রে কলপে অ্যালার্জি হতে পারে। সেজন্য কলপ মাখার আগে ত্বকে একটু ঘষে নিয়ে, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে যদি অ্যালার্জি না দেখা দেয় তবে চুলে মাখা যেতে পারে। কিছু কিছু কোম্পানি চুল কালো করার তেল বা ওষুধের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ওইসব তেল বা ওষুধ চুলে মাখলে চুলে কালো একটা ক্ষণস্থায়ী প্রলেপ পড়ে মাত্র কিন্তু তা স্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারে না। বরং ওইসব তেল বা ওষুধ চুলে মাখার কারণে মাথার ত্বকে অনেক সময় অ্যালার্জিজনিত সমস্যা দেখা দেয়। তাই চুলে পাক ধরলে প্রথমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখিয়ে চুল পাকার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা উচিত।

রবিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১০

ঠোঁট, চুল ও ত্বক

ত্বকের কাজ শুধু শরীরের হাড়, মাংসকে আগলে রাখাই নয়; মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করাও। তাই ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া আবশ্যক। অন্যদিকে চুলের কাজও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। তবে অযত্ন অবহেলায়, অসময়েই চুলে পাক ধরতে পারে অথবা চুল ঝরে যেতে পারে। পাশাপাশি এই উৎসবে আপনার ঠোঁটে চাই বাড়তি যত্ন। আসুন জেনে নিই সেই যত্নের ব্যাকরণ।

ত্বকের যত্ন

ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি যে বিষয়টি তা হলো নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করা। সে জন্যে নির্দিষ্ট একটা বিরতি দিয়ে দিয়ে মুখ ধুতে হবে। বিশেষ করে যখন বোঝা যাবে ত্বকে কোনো ময়লা লেগেছে তখন অবশ্যই ধুয়ে নিতে হবে। আর এ ধোয়া যেন শুধু পানি দিয়ে ধোয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। ধুতে হবে ফেসওয়াশ দিয়ে। বিশেষ করে সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া আবশ্যক। বিজ্ঞাপনে কোনো সাবানকে যত ভালোই বলা হোক না কেন, এছাড়া সাবানটি এমনিতে যত নরম কোমলই হোক না কেন, তাতে ত্বকের জন্যে ক্ষতিকর অনেক উপাদান থাকে। ফলে নিয়মিত সাবান ব্যবহারের কারণে মুখের ত্বকে বলিরেখা পড়তে পারে। তাই মুখের ত্বকে খুব বেশি সাবান ব্যবহার না করাই ভালো। সাবানের পরিবর্তে ফেসওয়াশ ব্যবহার করলেও, ফেসওয়াশটি আসলেই মানসম্পন্ন কিনা যাচাই করে নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন যেকোন স্ক্রাব দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। ত্বক তৈলাক্ত হলে সেটি আরেক সমস্যা। তাই খেয়াল রাখুন ত্বকে যাতে তেল না জমে। মনে রাখবেন, ত্বকে তেল জমলে সেখানে সহজেই ময়লা লেগে যায়। তখন পুরো মুখ ভরে যায় ব্রণে। তবে যাদের ত্বক এমনিতেই তৈলাক্ত তারা এই তেলতেলে ভাব কাটাতে কমপ্যাক্ট পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। বরফ দিয়ে ম্যাসাজ করলেও উপকার পাবেন। খেয়াল রাখবেন ত্বকে ব্যবহূত সামগ্রী যেন ভালো ব্র্যান্ডের হয়।



চুলের যত্ন

প্রতিদিন ভালোভাবে চুল ধুতে হবে। যারা বাইরে কাজ করেন তাদের চুলে বেশি ধুলোবালি লাগে। তাই তারা প্রতিদিনই শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোবেন। সম্ভব হলে কন্ডিশনারও ব্যবহার করবেন। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন চুলে গরম তেল ম্যাসাজ করুন। নারকেল তেল চুলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। তাই এই তেল সারারাত চুলে লাগিয়ে রেখে পরদিন ধুয়ে ফেলুন। এতে রাতে আপনার ভালো ঘুম হবে। তেলের সঙ্গে যেকোনো প্রোটিনসমৃদ্ধ প্যাকও লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে ডিম, আমলা, টকদই এসব দিয়ে তৈরি প্যাক চুলের জন্যে খুব উপকারি। রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে চুল ভালোভাবে আচড়ে নিন। চুল ভেজা থাকলে সেটা ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে তবেই ঘুমুতে যান। নইলে ঠান্ডা লেগে যাবে। চুল বেশি লম্বা হলে পাতলা স্কার্ফ দিয়ে মুড়িয়ে নিতে পারেন। এতে চুল নিরাপদ থাকবে। খুশকি থেকে বাঁচতে চুল সবসময় পরিষ্কারও শুকনো রাখুন। দিনে যখন কোথাও বের হবেন, চুল বেঁধে রাখবেন। এতে চুল কম ময়লা হবে। চুল অপরিচ্ছন্ন থাকলে উকুনও হতে পারে। উকুন আবার অন্য কারো মাথা থেকেও আসতে পারে। তাই অপরিচ্ছন্ন চুলের কারো সাথে মেশার সময় সাবধান থাকতে হবে। আপনি যে বালিশে ঘুমুবেন, চুলের যত্নের কথা ভেবে হলেও সেই বালিশটি পরিষ্কার রাখবেন। কারণ অপরিচ্ছন্ন বালিশ থেকেও চুলে ধুলো ময়লা লেগে থাকে।

শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১০

খুশকিমুক্ত চুল


শীতের এই শুষ্ক হাওয়ায় খুশকির যন্ত্রণায় অস্থির সবাই। মাথা থেকে মরা চামড়া ওঠাকে খুশকি বলে। এ ক্ষেত্রে মাথার চামড়া থেকে ছোট ছোট মরা চামড়া উঠতে থাকে। ফলে মাথার চামড়া চুলকায় এবং চিরুনির সঙ্গে খুশকিগুলো বেরিয়ে আসতে থাকে। খুশকি যদি খুব বেশি হয় তবে তাকে সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের বহিঃপ্রকাশ বলে ধরে নিতে হবে। কিন্তু খুশকির সঙ্গে সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের পার্থক্য হলো এই যে, খুশকিতে মাথা থেকে আইশযুক্ত মরা চমড়া উঠবে, তবে মাথায় কোনো প্রদাহ থাকবে না। আর যদি মাথায় খুশকি অর্থাৎ মরা আইশের মতো চামড়া উঠে সে সঙ্গে মাথায় প্রদাহও থাকে, তবে তখন আমরা তাকে খুশকি নয় বরং সেবোরিক ডার্মাটাইটিস বলে চিহ্নিত করব। মনে রাখতে হবে, খুশকিকে সব সময় নির্মূল করা সম্ভব হয় না। কতগুলো খুশকি নিবারক শ্যাম্পু দিয়ে দমিয়ে রাখা যায়। আর তাই দমিয়ে রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, একে দমিয়ে না রাখলে এর থেকে মাথার চুল ঝরে যেতে থাকবে। অনেকে আবার মনে করেন, খুশকি হলে মাথায় বেশি করে তেল দিতে হবে। ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ এই তেল দেওয়ার কারণে মাথা সব সময় তৈলাক্ত ও ভেজা থাকে, ফলে মাথায় একশ্রেণীর ছত্রাকের আক্রমণ হতে থাকে এবং এ রোগ ক্রমেই আরো বাড়তে থাকে। আবার একশ্রেণীর রোগী এই খুশকি দমাতে মাথায় খৈল ব্যবহার করে। খৈল আর কিছুই নয়, সরিষা থেকে তেল বানাতে বর্জ্য হিসেবে এ খৈল পাওয়া যায়। এটিও একটি ভুল ধারণা। খৈল ব্যবহারে খুশকি দূর হয় এমন কোনো কথা নেই। খৈল ব্যবহারের ফলে খুশকিগুলো ভিজে মাথার ত্বকে লেগে থাকে। ফলে অনেকেরই হয়তো মনে হতে পারে যে, খুশকি দূর হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। যাদের মাথায় খুশকি হয় তারা মাথা ভেজা রাখবেন না, বরং মাথা যেন সব সময় পরিষ্কার থাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং ভেজা অবস্থায় মাথার চুল বাঁধাও উচিত নয়। তাতে চুলের নিচে পানি আটকা পড়ে ত্বক ভেজা থাকে, যা কি-না এই রোগ বাড়াতে সাহায্য করে। আর একটি কথা, যাদের খুশকি আছে তাদের ব্যবহার করা চিরুনি অন্য কারও ব্যবহার করা উচিত নয়। এর মাধ্যমে খুশকিজনিত ছত্রাক একজনের মাথা থেকে অন্যজনের মাথায় চলে যেতে পারে। অনেক সময় সেবোরিক ডার্মাটাইসকে আমরা সাধারণত খুশকি বলে মনে করি। তাই মনে রাখতে হবে দেহের তেল গ্রন্থিযুক্ত স্থান যেমন মাথার ত্বক, বুকের মধ্যখানে, কানের পেছনের দিক, বগল ইত্যাদি লোমযুক্ত স্থানে যদি খোসাযুক্ত লালচে দাগ দেখা যায় সেক্ষেত্রে আমরা সেবোরিক ডার্মাটাইটিস বলে ধরে নেব।
চিকিৎসা : খুশকি আর সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের চিকিৎসা প্রায় একই রকম। খুশকি নিবারক শ্যাম্পু যেমন জিঙ্ক পাইরিথিওন, সেলেনিয়াম সালফাইড অথবা কেটোকোনাজল শ্যাম্পু ব্যবহারে খুশকি দমন করা সম্ভব।