রোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রোগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১১

প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয় ল্যাপটপ

ল্যাপটপ ব্যবহার পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ল্যাপটপে ইন্টারনেট (ওয়াই-ফাই) ব্যবহার করেন, এমন কিছু ব্যক্তির ওপর গবেষণাটি করা হয়। উচ্চ তাপমাত্রা যাতে গবেষণাকে প্রভাবিত করতে না পারে সেজন্য সবাইকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়। পুরো ৪ ঘণ্টা ধরে তাদের ল্যাপটপে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। গবেষকরা একমত হন, অণ্ডথলির কাছাকাছি ওয়াই-ফাই সংবলিত ল্যাপটপের ব্যবহার শুক্রাণুর গুণাগুণ কমিয়ে দেয়, গর্ভসঞ্চারের হারও এতে কমে যেতে পারে এবং এ প্রভাব উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কহীন। এজন্য কোলে রেখে ল্যাপটপ ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১০

অ্যাজমা - সাবধানতা আর সচেতনতাই যথেষ্ট

অ্যাজমা (Asthma) নামের সাথে আমরা সকলেই কম বেশি পরিচিত। কেননা আমাদের ভিতর অনেকেরই অথবা আমাদের অনেক কাছের আত্মীয়ের কারো কারো রয়েছে এই রোগ।

অ্যাজমা একটি রেস্পিরেটরি সিস্টেমের তথা শ্বাসতন্ত্র এবং ফুসফুস ও শ্বাস নালী জনিত সমস্যা। আর সাধারনত ছোট বেলাতেই ধরা পরে যায় এই রোগ, কিন্তু মাঝে মাঝে বেশ দেরিতেও ধরা পরে।

কি সমস্যা দেখা যায় – উপসর্গ -
কাশি (বিশেষ করে রাতে),
শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা,
কফ হওয়া,
বুকে চাপ অনুভব করা,
শারীরিক কর্মকান্ড করার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া - কিছুক্ষন হেঁটে বা সিড়ি ভেঙ্গে শ্বাস কষ্ট শুরু হওয়া।

কেন হয়?
সাধরনত শ্বাস নালীর ইনফ্লেমেশান এর জন্য,
শ্বাসনালীতে সিকরেশান বেড়ে যাওয়ার জন্য।


কি কারনে অ্যাজমা বেড়ে যেতে পারে -

অ্যালার্জেন(যার সংস্পর্শে অ্যালার্জি বেড়ে যায়) এর সংস্পর্শে আসা,
অন্য ঔষধের পার্শপ্রতিক্রিয়া হিসেবে,
শ্বাস নালীতে অন্য কোনো রোগ কিংবা ইনফ্লেমেশান এর জন্য,
হঠাৎ শীতের সংস্পর্শে আসা কিংবা ঠান্ডা বাতাসের জন্য,
কল কারখানা, গাড়ী নিঃসৃত গ্যাসের জন্য

অ্যাজমা জনিত সমস্যা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের ভিতর থাকতে পারে, বিশেষ করে বাবা - মা এর থাকতে পারে, কারন এটি একটি জেনেটিক্যালি ট্রান্সমিটেড (জেনেটিক ম্যাপের মাধ্যমে তথা বংশ পরম্পরায় যে রোগ ছড়ায়) রোগ। সে জন্য কারো ফ্যামিলিতে অ্যাজমা সমস্যা থাকলে অন্য সদস্যদের ও অ্যাজমার ব্যপারে সচেতন হয়ে ওঠা উচিত এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত!

অ্যাজমা একটি ক্রনিক (যে রোগ অনেকদিন ধরে মানুষের শরীরে থাকে) রোগ, আর অ্যাজমা এর চিকিৎসা এটা থেকে মুক্তি দেয় না, বরং এর ইফেক্ট একটা নির্দিষ্ট গ্রহনযোগ্য সীমার ভিতরে রাখে!

অ্যাজমা রোগীর উচিত সবসময়ই এই ব্যপারে খেয়াল রাখা এবং চিকিৎসিকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এবং প্রযোজনমতো ঔষধ গ্রহন করা!

আর অ্যাজমা যে কোনো সময় বড় ধরনের কোনো সমস্যা নিয়ে ধরা দিতে পারা - হঠাৎ শ্বাস প্রশ্বাসে খুব সমস্যা হওয়া, কিংবা শ্বাস নিতেই না পারা - কিংবা লাংস (ফুসফুস) ফেইলর এর মতো সমস্যা হতে পারা, তাই অ্যাজমার ব্যপারে সকলকেই সচেতন থাকা উচিত!


প্রধানত এন্টি ইনফ্লামেটিরি এবং ব্রঙ্কো ডাইলেটর এর মাধ্যমে অ্যাজমা এর অবস্থা বুঝে এর চিকিৎসা দেয়া হয়!

ইনহেলার (সাল্বিউটামল) ব্যবহার করে সাময়িক ভাবে অ্যাজমা থেকে মুক্তি মিলতে পারে কিন্তু যদি হঠাৎ করে খুব বেশি সমস্যা নিয়ে দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে।


সাবধানতা আর সচেতনতাই সবচেয়ে বড় ব্যপার -
সাবধান থেকে আর সচেতন থাকার মাধ্যমে অ্যাজমাকে স্বাভাবিক সীমার ভিতর রাখা যেতে পারে,
ডাস্ট এলার্জি জনিত কারনে অ্যাজমার জন্য ধূলাবালি থেকে ধূরে থাকা জরুরী,
আবার কারো কারো খাবার জনিত এলার্জিও অ্যাজমাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে - এব্যপারেও সাবধান থাকতে হবে।
কারো অ্যাজমা সমস্যা বেড়ে গেলে বা নিত্য ব্যবহার করা ইনহেলার দিয়ে সমস্যা না ঠিক হলে দ্রুত চিকিৎসকেওর শরনাপন্ন হতে হবে!!

শনিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১০

কিডনি রোগ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

কিডনি রোগ অনেক ধরনের হতে পারে। কিন্তু এই কিডনি, কিডনি রোগ, এর চিকিত্সা নিয়ে অনেকেরই কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। স্বল্প পরিসরে সেগুলো আলোকপাত করা হলো।

ভুল ধারণা : কিডনি বিকল মানে একটি বা দুটি কিডনি বিকল
সঠিক ধারণা : কিডনি রোগে একটি কিডনি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা খুবই কম। বিশেষ করে কিডনি বিকল বলতে দুটি কিডনিই বিকল বোঝায়। কারণ, যখন একটি কিডনি বিকল হয় তখন শরীরের তেমন কোনো উপসর্গ দেখা দেয় না। কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেও কোনো তারতম্য ধরা পড়ে না। শরীরে যখন কিডনি রোগের উপসর্গ ধরা পড়ে তখন দু’টি কিডনিই আক্রান্ত হয়েছে বলে বুঝতে হবে। বিশেষ করে কিডনি বিকলের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি সত্য।

ভুল ধারণা : ডায়ালাইসিস একবার শুরু করলে তা স্থায়ীভাবে করতে হবে
সঠিক ধারণা : ডায়ালাইসিস হচ্ছে রক্ত পরিশোধনের একটি আধুনিকতম প্রক্রিয়া। কিডনি অতিমাত্রায় বিকল হলে এটি করতে হয়। যখন ডায়ালাইসিস করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তখন রোগীর চিকিত্সার জন্য কিডনি সংস্থাপন ছাড়া অন্য কোনো উপায় আর হাতে থাকে না। এ অবস্থায় রোগীকে বাঁচানোর জন্য ডায়ালাইসিস করা হয়। কাজেই ডায়ালাইসিস করা শুরু করলে পরবর্তী সময়ে সেটি করা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর নেই। আর তখন ডায়ালাইসিস না করা মানে অকালে মৃত্যুর প্রহর গোনা। কাজেই এখানে ডায়ালাইসিস শুরু করার মধ্যে কোনো ভুল নেই। তবে হঠাত্ কিডনি বিকল হলে তখন যদি কারও ডায়ালাইসিস লাগে সেটি হবে সাময়িক। কিডনি সঠিকভাবে কাজ শুরু করার পর আর তা করার দরকার পড়ে না।

ভুল ধারণা : কিডনি দান করা নিরাপদ নয়
সঠিক ধারণা : ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত নয় এমন ব্যক্তি যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন তাহলে তার জন্য কিডনি দান কোনো ঝুঁকির বিষয় নয়।

ভুল ধারণা : বেশি পানি খেলে কিডনি ভালো থাকে
সঠিক ধারণা : কিডনির জন্য কখনোই অতিরিক্ত পানি ভালো নয়। পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই হচ্ছে সঠিক কাজ। শুধু কিডনিতে খুবই ছোট কোনো পাথর থাকলে তখন সেটিকে পানি প্রবাহের তোড়ে বের করে আনার জন্য একটু বাড়তি পানি পান করতে বলা হয়। কিন্তু কিডনি রোগ হলে বরং পানি পানে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে তখন কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শক্রমে পানি পান করাই শ্রেয়।

ভুল ধারণা : বিয়ার খাওয়া কিডনির জন্য ভালো
সঠিক ধারণা : বিয়ার খেলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে কিন্তু তাতে বিকল কিডনির কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে এই পদ্ধতি কোনো কাজে আসবে না। আর বিয়ার খেয়ে প্রস্রাব বাড়ানোর মাধ্যমে কিডনির কার্যকারিতাকে বাড়ানো সম্ভব নয়।

ভুল ধারণা : কিডনিতে পাথর হওয়ার বিষয়টি বিরল
সঠিক ধারণা : কিডনিতে পাথর কোনো বিরল ঘটনা নয়। এটি কিডনির সবচেয়ে সচরাচর ঘটনা। আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস-এর সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রায় ১০ ভাগ আমেরিকানের তাদের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যাদের বয়স ২০-৪০ বছরের মধ্যে।

ভুল ধারণা : কিডনি পাথরের সঙ্গে কিছু খাবারের সম্পর্ক রয়েছে
সঠিক ধারণা : সব সময়ে এটি হয় না। যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে তাদের বেলায় এটি কিছুটা প্রযোজ্য। তবে সুস্থ স্বাভাবিক লোকের বেলায় নয়। এ বিষয়ে আমেরিকার একজন কিডনি বিশেষজ্ঞের অভিমত হলো, যারা অতিরিক্ত আমিষ গ্রহণ করেন তাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। কারণ, বাড়তি আমিষের কারণে শরীর থেকে বাড়তি ক্যালসিয়াম বেরিয়ে যায়। ফলে প্রস্রাবে অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি ঘটে। যা কিডনি পাথর তৈরিতে সহায়ক। আবার অনেকের ধারণা, যেহেতু বেশিরভাগ কিডনি পাথরই ক্যালসিয়ামের তৈরি তাই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার কম খেলে কিডনিতে পাথর হবে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম ক্যালসিয়াম শরীরে অন্যান্য বিপর্যয় ডেকে আনে। তাই স্বাভাবিক মাত্রার ক্যালসিয়াম খেতে হবে। তবে যাদের ইতোমধ্যে কিডনিতে পাথর আছে তারা কম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে কম ক্যালসিয়াম গ্রহণ কখনোই কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা কমায় না।

ভুল ধারণা : কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট মানে কিডনি প্রতিস্থাপন
সঠিক ধারণা : অনেকেরই ধারণা কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট মানে আক্রান্ত কিডনিকে ফেলে দিয়ে সেখানে নতুন একটি কিডনি জুড়ে দেয়া বা প্রতিস্থাপন করা, আসলে বিষয়টি তা নয়। কিডনি বিকল হওয়া রোগীকে কিডনি সংস্থাপনের সময় বিকল কিডনিকে আগের স্থানেই রেখে দেয়া হয়। বিকল কিডনি দু’টির সঙ্গে নতুন সুস্থ একটি কিডনিকে জুড়ে দেয়ার বিষয়টিই হচ্ছে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বা কিডনি সংস্থাপন বা সংযোজন। বিকল কিডনিকে ফেলে দেয়ার ঘটনা খুবই বিরল।

ভুল ধারণা : কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করলেই কিডনি নিয়ে আর কোনো দায়িত্ব নেই
সঠিক ধারণা : অনেকেরই ধারণা কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার পর রোগীর সুস্থ জীবনযাপনে আর কোনো বাধা নেই। আসলে এ ধারণা একদম ঠিক নয়। কারণ, কিডনি সংস্থাপনের পর কিডনিটি যাতে শরীরের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে অর্থাত্ কিডনিটি যাতে শরীর থেকে বিয়োজিত হয়ে না যায় সেজন্য রোগীকে সারা জীবন বিশেষ কিছু ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। এই ওষুধ গ্রহণ করা অনেকেরই সামর্থ্যের বাইরে থাকে। এছাড়া রোগীর যাতে সহসা কোনো ইনফেকশন না হয় সেজন্য রোগ জীবাণু থেকে দূরে থাকতে হবে। এগুলো না বুঝলে সংযোজিত কিডনি শরীর ত্যাগ করতে পারে।

আপনার ডায়াবেটিস হয়নি তো?

জীবনে ঝুঁকি নিতে হয়। সে জন্য ডায়াবেটিসের লক্ষণকে অগ্রাহ্য করার মতো ঝুঁকি নেওয়ার মধ্যে বাহাদুরি নেই।

নীরব ঘাতক এই ‘ডায়াবেটিস’, ঠিকমতো চিকিৎসা না হলে কেড়ে নেয় মানুষের অর্থ, স্বাস্থ্য, সময় ও স্বপ্ন। নীরব ঘাতক বলছি এ জন্য যে এ রোগ শরীরের ভেতরে থেকে যেতে পারে অনেক বছর, অজান্তে। অসংখ্য মানুষ পৃথিবীজুড়ে ডায়াবেটিস হওয়ার অপেক্ষায় আছে, একে বলা হচ্ছে ‘প্রি-ডায়াবেটিস’। এদের রক্তে সুগারের মান স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলেও ডায়াবেটিস হিসেবে ঘোষণা করার পর্যায়ে আসেনি।

যার ডায়াবেটিস হয় কেবল তাকেই যে ডায়াবেটিসের আক্রমণ সইতে হয় তা নয়, যে শিশুর ডায়াবেটিস, তার মা-বাবাকেও পরিচর্যার অংশীদার হতে হয়, যে জীবনসঙ্গী সাথির পরিচর্যা করেন, যে ছেলে বা মেয়ের মা বা বাবা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদেরও অংশীদার হতে হয়।

যে ধরনের ডায়াবেটিস বেশি হচ্ছে সেটি হলো টাইপ-২ ডায়াবেটিস। ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ লোকের এ ধরনের ডায়াবেটিস হয়।

এ ধরনের ডায়াবেটিসে শরীর কিছুটা কম ইনসুলিন তৈরি করে বা তৈরি করলেও শরীর তা ব্যবহার করতে পারে না। ইনসুলিন হরমোনটি নিঃসৃত হয় অগ্ন্যাশয়ের বিটাকোষপুঞ্জ থেকে। খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তর করতে এর প্রয়োজন। রক্তে সুগারের মান মেপে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।

এজন্য স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। সহজে আঙুলের ডগায় ল্যানসেট দিয়ে রক্তের ফোঁটা বের করে একটি টেস্ট স্ট্রিপে লাগানো এবং গ্লুকোমিটার যন্ত্রে যথাস্থানে বসানো, অবিলম্বে স্ক্রিনে ভেসে উঠবে রক্তের গ্লুকোজের মান। আট ঘণ্টা উপবাসের পর এ রক্ত নিলেই হলো।

কী জানা যাবে?

রক্তের সুগার বেড়েছে কতখানি? মাঝারি বৃদ্ধি, নাকি বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে?

– গ্লুকোজের মান যদি প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ১০০ মিলিগ্রামের কম থাকে, তাহলে তা স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে, রক্তের গ্লুকোজের মান হলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকির একটি সূচক মাত্র। এ ছাড়া ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস, গোষ্ঠীগোত্র, বয়স, রক্তচাপের মান, কোলেস্টেরলের মান-ডায়াবেটিসের সামগ্রিক ঝুঁকি বিবেচনার সময় এসব ঝুঁকিকেও গুনতে হয়।

– গ্লুকোজের মান যদি ১০০ থেকে ১২৫ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকে, এটিও স্বাভাবিক নয়। একে বলে প্রি-ডায়াবেটিস, যে অবস্থা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। যাদের প্রি-ডায়াবেটিস, তাদের হৃদরোগ ও রক্তনালির রোগের ঝুঁকিও বেশি। অথচ জীবন যাপনে পরিবর্তন এনে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোধ করা যায়, নিদেনপক্ষে ডায়াবেটিস হওয়াকে দেরি করিয়ে দেওয়া যায়।

তাই কারও প্রি-ডায়াবেটিস হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, যাতে সামগ্রিক ঝুঁকির মূল্যায়ন করা যায়।

– উপবাসী রক্তে গ্লুকোজের মান যদি ১২৬ মিলিগ্রাম বা এর বেশি হয়, তাহলে এটি ডায়াবেটিস নির্দেশ করে। এর ত্বরিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। চিকিৎসা না করে থাকলে হতে পরে পরিণতিতে নানা জটিলতা। যেমন-মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক), হৃদরোগ, অন্ধত্ব-এ রকম নানা ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়। একে ব্যবস্থাপনার জন্য পরামর্শ নিতে হয় চিকিৎসকের।

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ৪৫ এবং এর ঊর্ধ্ব যাঁরা, এঁদের রক্তের গ্লুকোজ মাপা উচিত তিন বছর অন্তর অন্তর। পূর্ণবয়স্ক লোক, যাঁদের রক্তচাপ বেশি বা যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, এঁদেরও ডায়াবেটিসের জন্য স্ক্রিন করা উচিত। আছে কি ডায়াবেটিস হওয়ার মতো ঝুঁকি? বের করতে হবে। আট ঘণ্টা উপবাসে থেকে সকালে গ্লুকোজ পরিমাপের জন্য রক্ত দিতে হবে।

সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১০

'সাইকেল চালনা শুক্রাণু স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে'

নিয়মিত সাইকেল চালালে পুরুষের শুক্রাণু স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বোস্টন ইউনিভার্সিটি পরিচালিত এক গবেষণায় এমন আভাসই পাওয়া গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ ব্যায়ামের সাথেই শুক্রাণুর পরিমাণ অথবা মানের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু যেসব পুরুষ সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচ ঘণ্টা সাইকেল চালান তাদের শুক্রাণুর পরিমাণ ও সক্ষমতা কম পাওয়া গেছে।

গবেষক দলের প্রধান লোরেন ওয়াইস জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতামূলক সাইকেল চালনার সাথে জড়িত ক্রীড়াবিদদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের পুরুষাঙ্গে অথবা মূত্রঘটিত সমস্যা রয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নিয়মিত সাইকেল চালানো শুক্রাণুর সমস্যা সৃষ্টি করে এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলার সময় এখনো আসেনি।

২ হাজার ২শ' পুরুষের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে যারা ব্যায়াম করেন না তাদের তুলনায় যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, এমনকি কঠিন ব্যায়ামও করেন তাদের শুক্রাণুর পরিমাণ ও মানে তেমন কোন সমস্যা নেই ।

কিন্তু গবেষকেরা যখন ব্যায়ামের ধরন অনুযায়ী অনুসন্ধান চালান দেখতে পান, সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচ ঘণ্টা যারা সাইকেল চলিয়েছেন তাদের শুক্রাণুর পরিমাণ ও কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।

যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না এমন পুরুষের মধ্যে ২৩ শতাংশের শুক্রাণুর পরিমাণ কম পাওয়া গেছে। আর সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টা যারা সাইকেল চালিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে এই হার ৩১ শতাংশ।

'ফার্টাইলিটি অ্যান্ড স্টেরিলিটি' জার্নালে এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

রবিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১০

"তেঁতুল" দেহে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী



তেঁতুল বা তিন্তিড়ী হল একপ্রকার টক ফলবিশেষ। হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে খুব উপকারী তেঁতুল বসন্ত-কালের ফল হলেও সারা বছর পাওয়া যায়। অনেকেরই ধারণা তেঁতুল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং রক্ত পানি হয়। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর ভেষজ ও পুষ্টিগুণ। তেঁতুল দেহে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী। রক্তে কোলস্টেরল কমানোর কাজে তেঁতুলের আধুনিক ব্যবহার হচ্ছে। ভেষজবিদদের মতে, নিয়মিত তেঁতুল খেলে শরীরে সহজে মেদ জমতে পারে না। এতে টারটারিক এসিড থাকায় খাবার হজমে সহায়তা করে। পেটের বায়ু, হাত-পা জ্বালায় তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী। তাই সরাসরি তেঁতুল না খেয়ে তিন-চার দানা পুরনো তেঁতুলের এক কাপ রসের সঙ্গে চিনি বা লবণ মিশিয়ে খাওয়া ভালো। যাদের পেটে গ্যাস জমে তারা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তেঁতুলের শবরত খেলে পেটে গ্যাস জমা থেকে রক্ষা পাবেন। হাঁপানি ও দাঁত ব্যথায় তেঁতুলগাছের ছাল চুর্ণের রস খেলে উপশম পাওয়া যায়।



তেঁতুল দিয়ে কবিরাজি, আয়ুর্বেদীয়, হোমিও, এলোপ্যাথিক ওষুধ তৈরি করা হয়। স্কার্ভি রোগ, কোষ্ঠবদ্ধতা, শরীর জ্বালা করাসহ প্রভৃতি রোগে তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী। তেঁতুল রক্তের কোলেস্টেরল কমায়। মেদ-ভুঁড়ি কমায়। পেটে গ্যাস হলে তেঁতুলের শরবত খেলে ভালো হয়। পাকা তেঁতুল কফ ও বায়ুনাশক, খিদে বাড়ায় ও উষ্ণবীর্য হয়। তেঁতুল গাছের বাকল, ফুল, পাতা, বীজ ও ফল সবই ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তেঁতুল বীজের শাঁস পুরনো পেটের অসুখে উপকারী। তেঁতুল পাতার রস কৃমিনাশক ও চোখ ওঠা সারায়। মুখে ঘা বা ক্ষত হলে পাকা তেঁতুল জলে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায়। বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরানো ও রক্তের প্রকোপে তেঁতুল উপকারী। কাঁচা তেঁতুল বায়ুনাশক। কাঁচা তেঁতুল গরম করে আঘাত পাওয়া স্থানে প্রলেপ দিলে ব্যথা সারে। তেঁতুল গাছের শুকনো বাকলের প্রলেপ ক্ষত স্থানে লাগালে ক্ষত সারে। পুরনো তেঁতুল খেলে আমাশয়, কোষ্ঠবদ্ধতা ও পেট গরমে উপকার পাওয়া যায়। পুরনো তেঁতুল খেলে কাশি সারে।পাকা তেঁতুলে মোট খনিজ পদার্থ সব ফলের চেয়ে অনেক বেশি।


খাদ্যশক্তির পরিমাণ নারিকেল ও খেজুর ছাড়া সব ফলের চেয়ে বেশি। ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ১৭ গুণ বেশি। আয়রণের পরিমাণ নারিকেল ছাড়া সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ২০ গুণ বেশি। অন্যান্য পুষ্টি উপাদান স্বাভাবিক পরিমাণে আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তেঁতুলে মোট খনিজ পদার্থ ২.৯ গ্রাম, খাদ্য-শক্তি ২৮৩ কিলোক্যালরি, আমিষ ৩.১ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৬৬.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৭০ মিলিগ্রাম, আয়রন ১০.৯ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৬০ মাইক্রোগ্রাম ও ভিটামিন সি ৩ মিলিগ্রাম।

হার্নিয়া

হারনিয়া অতি কমন একটি রোগ। জন্ম থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত যে কারও এই রোগ হতে পারে। আসলে হারনিয়া একটি সার্জিক্যাল রোগ অর্থাৎ অপারেশন ছাড়া এ রোগ ভাল হবার নয়। সাধারণভাবে হারনিয়া হলো পেটের মধ্যস্থ খাদ্যনালী বা অন্য যে কোন অঙ্গ পেটের দুর্বল স্থান দিয়ে বাইরে চলে আসাকে বুঝায়।
হার্নিয়ার কারণ কি কি?
পেট বা এবডোমেন ওয়ালের দুর্বলতাই হারনিয়ার একমাত্র কারণ। এই দুর্বলতা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন ১) জন্মগত, ২) অপারেশন, আঘাত এবং ইনফেকশন ইত্যাদি।
সবচেয়ে কমন যে হারনিয়া আমরা পেয়ে থাকি তার মধ্যে (১) ইনগুইনাল হারনিয়া এবং (২) ইনসিসনাল হারনিয়া বা অপারেশনের জায়গায় হারনিয়া।
এবার আমরা ইনগুইনাল হারনিয়া নিয়ে আলোচনা করবো :
ইনগুইনাল হারনিয়া কোথায় হয়?
কুচকির মাঝামাঝি ইঞ্চি উপরে এই হারনিয়ার প্রাথমিক অবস্থান।
ইনগুইনাল হারনিয়ার উপসর্গ :
* যে কোন বয়সেই এ রোগ হতে পারে
* বেশিরভাগ রোগীই পুরুষ।
* প্রাথমিক পর্যায়ের রোগীরা বলবে হাঁটা চলা করলে, ভারি বস্তু ওঠালে কিংবা হাঁচি-কাশি দিলে আমার কুচকির উপরটা গোলাকার বলের মতো ফুলে উঠে এবং শুয়ে থাকলে এটা চলে যায়। মাঝে মাঝে শক্ত হয়ে যায় এবং ব্যথা হয়। কিছুদিন এভাবে চলার পর গোলাকার ফোলাটি ইসক্রুটামে (অ-কোষ থলিতে) নেমে আসে এবং শুয়ে থাকলে আপনা আপনি পেটের ভেতর শব্দ করে চলে যায়। এভাবে ফোলাটি বড় হতে থাকে এবং মাঝে মাঝে চাপ দিয়ে ভেতরে ঢোকাতে হয়। তারপর ধীরে ধীরে এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছতে পারে যে, এটি আর চাপ দিলেও পেটের ভেতরে ঢুকছে না। এই অবস্থাকে ইনটেন্সিটিনাল বা খাদ্যনালীর অবস্ট্রাকশন বলা হয়। এই অবস্থায় জরুরীভাবে অপারেশন না করলে জীবন-মরণ সমস্যা হতে পারে।
চিকিৎসা :
অপারেশনই হচ্ছে এই রোগের একমাত্র চিকিৎসা। ছোট এবং প্রাথমিক পর্যায়ে অপারেশন করানোই উত্তম। কারণ এতে খরচ কম, ডে কেইস হিসাবে চিকিৎসা করা যায়। মেস লাগানো ছাড়া করা যায় এবং জীবনের ঝুঁকি কম।
অপারেশন না করলে কি কি অসুবিধা হতে পারে?
১। ধীরে ধীরে হারনিয়া আকার বড় হবে।
২। চিকিৎসা করা কঠিন ও ব্যয়সাধ্য হবে।
৩। বড় হারনিয়ার ক্ষেত্রে মেস লাগানোর প্রয়োজন হবে।
৪। অবস্ট্রাকটেড হারনিয়া হলে এমার্জেন্সি অপারেশন লাগবে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে।
ইনসিসনাল হারনিয়া/অপারেশনের স্থানে হারনিয়া
অপারেশনের পর অপারেশনের স্থানে ইনসিসনাল হারনিয়া দেখা দেয়। রোগী বলবে আমার অপারেশন লাইনটির সম্পর্ণ স্থানে অথবা আংশিক জুড়ে ফুলে উঠে। বিশেষ করে হাঁটা-চলা, হাঁচি-কাশি বা ভারি বস্তু উত্তোলন করলে এবং শুইলে দেখা যায় না।
ইনসিসনাল হারনিয়া কেন হয় :
১) এমার্জেন্সি অপারেশন করলে (২) অপারেশনের জায়গা পেকে গেলে এবং (৩) অদক্ষ সার্জন দ্বারা অপারেশন করলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
উপসর্গ :
ইনসিসনাল হারনিয়ার রোগীর ইনগুইনাল হারনিয়া রোগীদের মতো একই কম উপসর্গ ও জটিলতা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসে।
চিকিৎসা :
সার্জারিই একমাত্র চিকিৎসা এবং অপারেশন না করলে ইনগুইনাল হারনিয়ার মতো জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।
অপারেশনের পর আবার হতে পারে কিনা?
অভিজ্ঞ সার্জন দ্বারা অপারেশন করিয়ে নিলে আবার হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।
অতএব হারনিয়া হলে জরুরী ভিত্তিতে সার্জনের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।

শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০১০

শিশুর অটিজম: বিদেশে চিকিৎসা

বাংলাদেশে অটিজমের চিকিৎসা (শনাক্তকরণ ও নিবিড় পরিচর্যা) সুবিধা অপ্রতুল বলে কেউ কেউ উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরী-
১. অটিজম আছে এমন তথ্যের উল্লেখ থাকলে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য ভিসা পেতে অসুবিধা হতে পারে, বিশেষত অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউএসএ, ইউকে'র মতো দেশে। তাই সঙ্গতি থাকলে শিশু যথাসম্ভব ছোট থাকতেই ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
২. দীর্ঘ মেয়াদের জন্য উন্নত কোন দেশে অবস্থানের সুযোগ পেলেও মনে রাখবেন, সাধারণ হেলথ ইন্সুরেন্স অটিজমের চিকিৎসার খরচ বহন নাও করতে পারে।
৩. সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হলে চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমান তালিকায় থাকার সম্ভাবনা আছে।
৪. কিন্ডারগার্টেন/প্রি-স্কুল এবং বিশেষায়িত প্রাথমিক স্কুলে ভর্তিও ব্যয়সাপেক্ষ।
যে কোন দেশে চিকিৎসার জন্য যাবার আগে এসব বিষয়ে নিশ্চিত হোন।
এই সাইটে মাঝেমধ্যে কোন কোন পাঠক বিদেশে অটিজমের চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চান। তাদের জ্ঞাতার্থে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কিছু তথ্য সন্নিবেশিত করে দিচ্ছি। মনে রাখতে হবে, সংশ্লিষ্ট দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা, শিশুর বয়স, ভিসার ধরণ, নাগরিক সুবিধার প্রাপ্যতা এমন কিছু বিষয়ভেদে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি হয়তো অভিন্ন থাকবে না।
অস্ট্রেলিয়ায় ভিক্টোরিয়া প্রদেশে ৩ থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা প্রিস্কুল বা কিন্ডারগার্টেনে যায়। স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত প্রিস্কুলের পাশাপাশি সরকারী কাউন্সিল পরিচালিত কিন্ডারগার্টেনের সংখ্যাই বেশি।
প্রথাগত লেখাপড়া নয়, বরং ছবি আঁকা, ব্লক দিয়ে কোন মডেল তৈরি, আকৃতি ও রং চেনা, সমবেত খেলাধূলা, ছড়াগান, নিজস্ব স্কুলব্যাগ-টিফিনবক্স ইত্যাদি সামলে রাখা, দৈনন্দিন সামাজিকতা-সম্ভাষণের মতো কাজে শিশুকে অভ্যস্ত করার জন্য কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা প্রশিক্ষিত থাকেন। অটিজম থাকলে শিশু সামাজিক যোগাযোগসহ অন্যান্য যেসব সীমাবদ্ধতায় ভোগে, সচেতন শিক্ষক সেটা আন্দাজ করে শিশুর পরিবারকে অবহিত করেন। পাশাপাশি প্রি-স্কুল ফিল্ড অফিসারকে অবহিত করেন।
প্রি-স্কুল ফিল্ড অফিসার কিন্ডারগার্টেন এবং বাসায় বিভিন্ন অবস্থায় (situation) শিশুটিকে দীর্ঘসময় ধরে পর্যবেক্ষণ করেন। তারপর বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ-রিপোর্ট প্রদান করেন। রিপোর্টের কপি শিশুর পরিবারকে দেয়া হয়, যাতে পরবর্তী করণীয়ের দিকনির্দেশনাও থাকে। একইসঙ্গে হাসপাতালে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে শিশুটিকে Developmental Assesment-এর জন্য রেফার করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রি-স্কুল ফিল্ড অফিসারের পত্রপ্রাপ্তি সাপেক্ষে শিশুর অভিভাবককে প্রয়োজনীয় ফর্ম প্রেরণ করেন। এগুলোর মধ্যে থাকে Background Information Form, Consent to Exchange Information Form ইত্যাদি। এসব ফর্ম পূরণ করে হাসপাতালে Assesment Teamকে সরবরাহ করতে হয়। প্রক্রিয়ার শর্ত অনুযায়ী শিশু বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে শিশুর শারীরিক অবস্থা, পথ্য, টিকা ইত্যাদির রিপোর্ট সংগ্রহ করে Assesment Teamএর কাছে জমা দিতে হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে অ্যাসেসমেন্ট টিম শিশুকে পর্যবেক্ষণ করেন। এই অ্যাপয়েন্টমেন্টটি বিভিন্ন কারণে দীর্ঘসূত্রিতায় গড়াতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমান তালিকায় থাকার চেয়ে কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে অ্যাসেসমেন্ট করিয়ে থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হতে পারে।
অ্যাসেসমেন্টের প্রথম পর্যায়ে দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি যাচাই করা হয়। এরপর পেডিয়াট্রিশিয়ান, স্পিচ প্যাথোলজিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্টসহ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত অ্যাসেসমেন্ট টিম শিশুকে কয়েক ঘন্টা ধরে পরীক্ষা করে যেসব বিষয় যাচাই করেন সেগুলো হলো-
মোটরস্নায়ুর ক্ষমতা,
বাকশক্তি ও ভাষাগত দক্ষতা,
খেলাধূলা ও আগ্রহের বিষয়,
সামাজিক আচরণ, ব্যবহার, নিজস্ব দেখভালের দক্ষতা
ইন্দ্রিয়ানুভূতি,
কাজের রুটিনে অভ্যস্ততা ইত্যাদি।
বিশেষজ্ঞদের নিজ নিজ রিপোর্টসহ সমন্বিত অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট তৈরি হতে কিছুদিন সময় লাগে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণের বিবরণসহ CARS (Childhood Autism Rating Scale) স্কোর উল্লেখপূর্বক মন্তব্য ও পরামর্শ থাকে। অটিজম শনাক্ত করা হলে প্রয়োজনীয় থেরাপি ও অটিস্টিক শিশুদের জন্য বিশেষায়িত স্কুলে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়।

শুক্রবার, ৫ নভেম্বর, ২০১০

ল্যাথাইরিজম রোগ এবং এর প্রতিকার

আমাদের খাদ্য তালিকায় ডাল একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ডালে আছে বেশ পরিমান শরকরা , তেল, ভাইটামিন, এবং খনিজ পদারথ। আর আমিষের পরিমানে মাংস এবং মাছ এর সাথে ডাল তুলনীয় বলে ডালকে "গরিবের মাংস" বলা হয়ে থাকে।সব ডাল উৎপাদনকারী উদ্ভিদ Fabaceae পরিবারের Papilionaceae উপ-পরিবারের আন্তগত। এসব উদ্ভিদ এর মুলে নাইট্রজেন স্তিতিকারক নডিউল ব্যাক্টেরিয়ার সমাবেশ ঘটে এবং নডিউল তৈরীর মাধ্যমে বায়ুমন্ডলের নাইট্রজেন সংবন্ধন করে।যার কারনে জমের মাটি উরবর হয়।ডালের শুধুমাত্র উপকারী দিক নাই কিছু অপকারী দিকও আছে। আমরা খেসারী নামে যে ডাল খাই তার বৈঘানিক নাম Lathyrus sativus. এই ডাল এ BOAA নামক এক প্রকার এমিনো এসিড তৈরী হয়। এই এমিনো এসিড "ল্যথাইরিজম" নামক পায়ের প্যারালাইসিসের জন্য দায়ী।অধিকদিন এই ডাল খেলে এই রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে।কিন্তু আমরা যদি খেসারী ডালকে ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানিকে ফেলে দিয়ে ডাল গুলো রান্না করি তবে আর "ল্যথাইরিজম" রোগ হবার সম্ভাবনা থাকবে না।

মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১০

ব্রণ ও ব্রণের দাগ যেভাবে দূর করা সম্ভব


আমাদের ত্বকের তৈল গ্রন্থি ব্যাটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে এর আকৃতি বৃদ্ধি পায় তখন এর ভিতরে পুঁজ জমা হতে থাকে, যা ধীরে ধীরে বর্ন পরিবর্তন করেব্রণের আকার ধারণ করে। এটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বংশগত। ব্রণকে অনেকেই pimple, zit বা spot বলে থাকে।
সাধারণত টিনেজার মেয়েরাইব্রণের সমস্যায় বেশি ভোগে।বাজারে ব্রণ দূর করার জন্য নানারকম কসমেটিক্স/ঔষধ পাওয়া যায়।সেগুলো ব্যবহার করারআগে নিচের ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অনুসরন করতে পারেন।
ঘরোয়া পদ্ধতি্তে ব্রণ এবং ব্রণেরদাগ দুর করার কিছু সহজ উপায়ঃ

১। কাঁচা হলুদ এবং চন্দনকাঠের গুঁড়ো ব্রণের জন্য খুবই কার্যকর দুটো উপাদান। সমপরিমাণ বাটা কাঁচা হলুদ এবংচন্দন কাঠের গুঁড়ো একত্রে নিয়ে এতে পরিমাণ মত পানি মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করতে হবে।মিশ্রণটি এরপর ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষন পর শুকিয়ে গেলে মুখঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

এই মিশ্রণটি শুধুমাত্র ব্রণদূর করার কাজ করে না বরং ব্রণের দাগ দূর করতেও সাহায্য করে।

২।আপেল এবং মুধ এর মিশ্রণহচ্ছে ব্রণের দাগ দূর করার সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া পদ্ধতি। প্রথমে আপেলের পেষ্ট তৈরিকরে তাতে ৪-৬ ফোঁটা মধু মিশাতে হবে। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষন অপেক্ষা করেএরপর মুখ ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখেএবং কমপ্লেকশন হালকা করে।সপ্তাহে ৫-৬ বার এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনিকয়েকদিনের মধ্যে পরিবর্তনটা অনুভব করতে পারবেন।

৩।ব্রণের জন্য তুলসি পাতাররস খুব উপকারী।কারণ তুলসি পাতায় আছে আয়ূরবেদিক গুণ।শুধুমাত্র তুলসি পাতার রস ব্রণআক্রান্ত অংশে লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।এরপর কুসুম গরমপানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

৪।প্রথমে চন্দন কাঠের গুড়োঁরসাথে গোলাপ জল মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করুন। এরপর এতে ২-৩ ফোঁটা লেবুর রস মিশাণ। গোলাপজল অনেকের ত্বকের সাথে এডজাষ্ট হয় না।তারা সেইক্ষেত্রে গোলাপ জলের পরিবর্তে মুধব্যবহার করতে পারেন।এই পেষ্ট আপনার ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করবে।সপ্তাহে ৩-৪দিন ব্যবহার করতে পারলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

৫।এছাড়া রাতে শোয়ার আগেডিমের সাদা অংশ ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় মেসেজ করে সারারাত রাখতে পারেন।এটি আপনারত্বকের খসখসে ভাব দূর করে।সবচেয়ে ভাল হয় যদি এর সাথে লেবুর রস যোগ করা যায়।আপনিএটি সারারাতও রাখতে পারেন আবার আধ ঘন্টা পরও ধুয়ে ফেলতে পারেন।

৬।প্রতিদিন ৯-১০ গ্লাস পানিখান।

৭।প্রতিদিন রাতের খাবারের পরযেকোন ধরনের মৌসুমি ফল খান। এটি আপনার ত্বককে সতেজ রাখবে।যতটা সম্ভব তেলযুক্ত বাফাষ্ট ফুড জাতীয় খাবার পরিহার করুন।

৮।সবসময় বাহির থেকে আসামাত্র মুখ ফেসওয়াস দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া হালকা গরম পানির স্টীম নিতে পারেন।এতেকরে ত্বকে জমে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

যারা বহুদিন যাবত ব্রণসমস্যায় ভুগছেন,কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না,তারা আর দেরি না করে কোন অভিজ্ঞডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।