চুলকানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চুলকানি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৪

পুরুষের উরুর সংযোগস্থলে অস্বস্তিকর চুলকানিঃ জানুন এর কারণ ও ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে

cure_jock_itch (6)
রাস্তায় প্রায়ই কিছু ভ্রাম্যমাণ ওষুধ বিক্রেতা দেয়া যায়, যারা হাজারো রোগের ওষুধের পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট রোগের ওষুধ বিক্রি করে। আর তা হচ্ছে চুলকানির ওষুধ। এই চুলকানির ওষুধ বিক্রেতার সামনে বেশ বড় মাপের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। যদিও খুব মানুষই ওষুধগুলো কিনেন, কিন্তু আগ্রহের কমতি থাকে কারো মধ্যেই। এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝে গেছেন কোন ধরণের চুলকানির কথা বলা হচ্ছে।
দুই রানের বা উরুর মধ্যবর্তী স্থানে অস্বস্তিকর চুলকানিতে আক্রান্ত হন অনেক মানুষই। সাধারণত আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি থাকে। এই চুলকানিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় হয় “জক ইচ” (Jock itch) বা “টিনিয়া ক্রুরিস” (tinea cruris)

বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

চুলকানি

সম্ভবত এমন কোনো ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যার চুলকানির (ITCHING) অভিজ্ঞতা নেই। এটি কোনো রোগ নয় বরং রোগের লক্ষণ। রোগের ধরনের ওপর এর তীব্রতা নির্ভর করে। শরীরের কোনো এক নির্দিষ্ট জায়গা বা পুরো শরীরে দেখা দিতে পারে। চুলকানি একটি অনুভূতি যা আপনাকে শরীরের কোনো স্থানে আঁচড় কাটতে উদ্বুদ্ধ করে। প্রায় শতাধিক রোগের লক্ষণ হিসেবে চুলকানি দেখা দেয়। ত্বকের রোগ ছাড়াও শরীরের অন্যান্য জটিল রোগের লক্ষণ হিসেবে চুলকানি হতে পারে।
ত্বকের রোগ : ত্বকের প্রদাহজনিত বিভিন্ন রোগ যেমন একজিমা, বিভিন্ন ধরনের ডার্মাটাইটিস্ ইত্যাদি - ব্যাকটেরিয়াজনিত ত্বকের সংক্রমণ যেমন ইমপেটিগো, সেলুলাইটিস্, ফারাংকুসিস ইত্যাদি - ছত্রাক বা ফাংগাসজনিত ত্বকের সংক্রমণ যেমন ছইদ, দাদ ভাইরাসজনিত ত্বকের সংক্রমণ যেমন জলবসন্ত, হাম, হারপিজ ইত্যাদি ত্বকে পরজীবী বা প্যারাসাইটজনিত সংক্রমণ যেমন খোসপাচড়া বা স্ক্যাবিস, উকুন বিশেষ কোনো কিছুর সংস্পর্শে এলার্জিজনিত কারণ যেমন কসমেটিক, ব্যবহার্য পোশাক, খাবার ইত্যাদি - আবহাওয়াজনিত কারণে গরমে ঘামাচি এবং শীতে শুষ্ক ত্বকের কারণে - বয়সজনিত কারণ যেমন ষাটোর্ধ্ব বয়সে এবং মহিলাদের মাসিক বন্ধ হওয়ার পর বিশেষ কিছু ওষুধ সেবন এবং পোকার কামড় সোরাইয়াসিস্, পেমফিগয়েড, ইকথায়োসিস, লাইকেন প্রানাস, জেরোসিস ইত্যাদি ত্বকের রোগ।

লিভারজনিত কারণ : লিভারজনিত বিভিন্ন রোগে শরীরে চুলকানি অনুভূত হতে পারে। যেমন জন্ডিস, লিভার সিরোসিস, হেপাটাইটিস্ এ, বি, সি, ডি এবং ই এর সংক্রমণ, পিত্তথলিতে প্রদাহ ও পাথর, পিত্তনালীতে পাথর ইত্যাদি।

রক্ত রোগজনিত কারণ : বিভিন্ন ধরনের রক্তের রোগ যেমন থ্যালাসেমিয়া, লিউকোমিয়া বা রক্তের ক্যান্সার, পলিসাইথেমিয়া, লিম্ফোমা, হেমোলাইটিক এবং সিকেল্ সেল অ্যানিমিয়া ইত্যাদি রোগে শরীরে চুলকানি হতে পারে।

কিডনিজনিত রোগ : কিডনির বিভিন্ন রোগ যেমন সংক্রমণ, কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া বা রেনাল ফেইলুর, ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগে চুলকানি লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে।

এছাড়াও থাইরয়েডজনিত রোগ, ডায়াবেটিস, পানক্রিয়াটাইটিস, স্কেলোডার্মা, সারকয়ডোসিস, সিফিলিস এবং গর্ভাবস্থাজনিত কারণে চুলকানি পরিলক্ষিত হয়। মানসিক রোগের কারণেও চুলকানি অনুভূত হতে পারে।

চিকিৎসা : খাবারের ওষুধ যেমন এন্টিহিস্টামিন এবং ময়েশ্চারাইজার ভ্যাসলিন, প্যারাফিন, তেল ইত্যাদি ব্যবহার করার পর পরিত্রাণ না পেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে সঠিক চিকিৎসার পর পরিত্রাণ পাবেন। আপাত দৃষ্টিতে চুলকানি (ITCHING) সাধারণ সমস্যা মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রেই এটি জটিল রোগের লক্ষণ হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং সময়মতো ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ না করলে জটিলতা দেখা দেয়। কাজেই অবহেলা বা অপচিকিৎসা না করে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।