মেয়েলী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মেয়েলী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১২

প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিন্ড্রোম


প্রতিমাসে মহিলাদের পিরিয়ড বা মাসিকের ৭-৮ দিন আগে থেকে এক বা একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। যেমন- মাথা ব্যথা, পিঠে ও কোমরে ব্যথা, পেটের সমস্যা ইত্যাদি। এসব উপসর্গকে বলা হয় প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিন্ড্রোম, সংক্ষেপে পিএমএস। শতকরা ৮৫ ভাগ মহিলাই পিএমএস সমস্যায় কমবেশি ভুগে থাকেন।
পিএমএস-এর শারীরিক লক্ষণ

শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১১

মুখে অস্বাভাবিক লোম


মহিলাদের মুখে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লোম দেখা দিলে তাকে ‘হিরসুটিজম’ বলে। যে কোন বয়সের মহিলার ক্ষেত্রেই বিষয়টি অত্যন্ত বিরক্তিকর। এটি কোন কোন ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ বলেও ধরে নেয়া হয়। তবে অনেক সময় কোন রোগ ছাড়াও মুখে বাড়তি মাত্রায় লোম থাকতে পারে। 
 বংশগত কারণেই এমনটি বেশি হয়ে থাকে। মহিলাদের শরীরে ‘এন্ড্রোজেন’ নামক হরমোনের আধিক্যই এ রোগের কারণ। এ জন্য দুটি গ্রন্থিকে দায়ী করা হয়। একটি হল অ্যাডরিনাল এবং অপরটি নারীর ডিম্বাশয় বা ওভারী। অবিবাহিত মহিলাদের এ সমস্যা হলে তার অনিয়মিত মাসিক থেকে এমনটি হতে পারে। বিবাহিত হলে অনিয়মিত মাসিক এবং এর সঙ্গে সন্তান হওয়া বা না হওয়ার সম্পর্ক জড়িত। এ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় লোমকে ইলেকট্রিক মেশিনের সাহায্যে স্থায়ীভাবে নির্মূল করার পদ্ধতি ‘ইলেকট্রইপিলেশন’ করা হয়ে থাকে। যদিও লেজার প্রযুক্তি আসার পর এখন অনেকের আর এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় না। লেজার পদ্ধতি ব্যবহার করা এখন সময়ের দাবি। এতে সফলতা শতভাগ। 


লেজার দিয়ে চিকিৎসা : এটি একটি কসমেটিক চিকিৎসা। অত্যাধুনিক এ পদ্ধতি বাংলাদেশেও সফলভাবে করা হচ্ছে। এটি লোমের আস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধ করে চুলকে অঙ্কুরেই নষ্ট করে দেয়। এ থেকে নির্গত আলোকরশ্মি ত্বকের কোন ক্ষতি না করে ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে চুলকে ধ্বংস করে। 


ইনটেন্স পালস লাইট : এটি আইপিএল নামে পরিচিত। এ লেজার দুটি ভিন্ন ধরনের মিশ্রিত রশ্মির সৃষ্টি করে যা ত্বকের গভীরে ও উপরিভাগে অবস্থিত চুলকে অঙ্কুরেই নষ্ট করে। এ পদ্ধতিতে সময় অনেক কম লাগে। কারণ এ যন্ত্রের চিকিৎসা স্পট অনেক বড়। সাধারণত ৪ সপ্তাহ পরপর ৪টি সিটিংয়ের প্রয়োজন হয়। এটি ব্যথামুক্ত, রক্তপাতবিহীন পদ্ধতি। এটি লোম দূরীকরণে শতভাগে কার্যকর একটি লেজার চিকিৎসা পদ্ধতি। বর্তমানে এ পদ্ধতি একটি যুগান্তরকরী কার্যকর পদ্ধতি। 


কিউসুইচড, এনডিইয়াগ : এটিও উপরের নিয়মে কাজ করে এবং সমানভাবে কার্যকরী। 
নেট থেকে

শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০১১

জরায়ুর মুখে ক্যান্সার

বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ১৮ জন নারী মারা যায় জরায়ু-মুখ ক্যান্সার বা সার্ভাইকাল ক্যান্সারে। বিশেষ সমীক্ষায় (বিএমএমএস-২০১০) দেখা গেছে, পূর্ণবয়স্ক নারীর মৃত্যুর কারণ হচ্ছে এ ক্যান্সার। সার্ভিক্স জরায়ুর নিুতম অংশ, অনেক সময় মেয়েরা আঙ্গুল দিয়ে এটা স্পর্শ করতে পারে যোনীপথ দিয়ে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার ৯৩১ জন নারী নতুন করে জরায়ু-মুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। বর্তমানে বিশ্বে প্রতি দুই মিনিটে একজন নারী জরায়ু-মুখ ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন এবং প্রতিবছর প্রায় অর্ধকোটি নারী নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হন।
কাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
যে কোন নারীরই জরায়ু-মুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ যারা


× অল্প বয়সে যাদের বিয়ে হয়,  জরায়ু পরিপক্বতা লাভের আগেই ইনফেকশন বা ঝুঁকিতে চলে আসে।
× শারীরিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব যেখানে একই কারণে জরায়ু-মুখে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।
× একের অধিক পুরুষের সঙ্গে মিলনের ফলে।
× ঋতুস্রাবের পরপরই অ্যাবরশন বা প্রসবের পর জরায়ু যে কোন ইনফেকশনের (প্রদাহ) ঝুঁকিতে থাকে।
× যাদের অধিক সন্তান আছে তাদের জরায়ু-মুখ ক্যান্সার বেশি হয়।
জরায়ু-মুখ ক্যান্সারের কারণ হিসেবে এক ধরনের ভাইরাস দায়ী। একে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বলে। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস আবিষ্কারে চিকিৎসা বিজ্ঞানে যিনি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন, তিনি ২০০৮ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
এ জীবাণু (ভাইরাস) যে কোনভাবে, অথবা দৈহিক মিলনের ফলে সংক্রমিত হয় জরায়ু-মুখে। তবে শারীরিক মিলনের আগ পর্যন্ত বেশিরভাগ মেয়েরা নিরাপদে থাকে। শতকরা ৮০ ভাগ নারী জীবনের যে কোন সময়ে ঐচঠ ভাইরাস দ্বারা এক বা একাধিক বার আক্রান্ত হতে পারে। জরায়ু-মুখ ক্যান্সার ২৫-৬৫ বছর বয়সের নারীদের মধ্যে বেশি দেখা দেয়। তবে ক্যান্সারের লক্ষণ প্রকাশের ২-২০ বছর আগেই একজন নারী এ রোগের ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হন।


জরায়ু-মুখ ক্যান্সারের লক্ষণ


×দুর্গন্ধযুক্ত প্রদাহ বা সাদাস্রাব
× ফোঁটা ফোঁটা বা অনিয়মিত রক্তস্রাব বিশেষ করে যৌন মিলনের পরপর যোনীপথে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত দেখা বা অধিক পরিশ্রম বা কোষ্ঠকাঠিন্যের পর হঠাৎ রক্ত দেখা।
× অনেকদিন ধরে ক্যান্সার থাকলে , বিভিন্ন রকম উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন:
× সব সময় পচা পানির মতো দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব দেখা
× সব সময় রক্ত যাওয়া
× প্রস্রাব বা পায়খানার রাস্তায় অসুবিধা হওয়া
×কোমর বা মেরুদণ্ডে প্রচণ্ড ব্যথা
× তলপেটে চাকা অনুভব করা
  প্রাথমিক পর্যায়ে জরায়ু-মুখ ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে সম্পাদন করা যায়। দেরি হয়ে গেলে সবকিছুরই কঠিন সমস্যা দেখা দেয়,  তখন কেমো বা রেডিওথেরাপি শুধু ভরসা।
কিভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়
প্রথমে দেখা যাক প্রতিরোধ করা যায় কিভাবে। বর্তমানে জরায়ু-মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে অতি কার্যকর টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে। টিকা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত জরায়ু পরীক্ষা ও সচেতনতা জরায়ু-মুখ ক্যান্সারের আক্রান্তের হার কমিয়ে দেয় বা খুব প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার প্রাথমিক লক্ষণ ধরা যায়।
১০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সের সব মেয়ে বা নারী জরায়ু-মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে টিকা নিতে পারেন। এ টিকার তিনটি ডোজ নিতে হয়।
১ম ডোজ যে কোন দিন, ২য় ডোজ ১ম ডোজের ১ মাস পর, ৩য় ডোজ ১ম ডোজের ৬ মাস পর
এ টিকা দীর্ঘমেয়াদি জরায়ু-মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম।
জরায়ু-মুখ ক্যান্সার প্রারম্ভিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ পদ্ধতি বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে আছে।
× পেপস স্মিয়ার টেস্ট
× ভায়া টেস্ট ও কলপোস্কপি টেস্ট
× বায়োসপি
প্রজননক্ষম মেয়েদের (১৫-৪৫ বছর) বা যাদের কোনরকম সন্দেহ হচ্ছে যে, ক্যান্সার টেস্ট করা দরকার ; বছরে ১ বার বা নেগেটিভ ক্ষেত্রে ৩ বছর পর পর এ টেস্ট করতে হবে।
আমাদের দেশে প্রতিটি মেয়ে বা নারীকে সচেতন হতে হবে এবং পরিবারের সদস্যরা এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন যাতে এ ঘাতকের হাত থেকে তার প্রিয়জনকে রক্ষা করতে পারেন

শনিবার, ১১ জুন, ২০১১

মেয়েদের মাসিক কালীন ব্যথায়...


মাসিকের সময় তলপেটের ব্যথায় নীল হয়নি এমন মেয়েদের সংখ্যা খুব কম। সাধারণত মাসিক শুরু হওয়ার পর থেকেই কোনো কারণ ছাড়াই মাসিককালীন ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়াও কিছু রোগের কারণে মাসিক হতে পারে ব্যথাযুক্ত। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ডিসমেনোরিয়া। ডিম্বাণু নিষিক্ত না হলে অনিষিক্ত ডিম্বাণু ও জরায়ুর ভেতরের স্তর মাসিকের সময় জরায়ুর সংকোচনের মাধ্যমে দেহের বাইরে চলে আসে। এ সংকোচনের ফলে জরায়ুর রক্তনালিগুলোও সংকুচিত হয়। জরায়ুর কোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। এ সময় জরায়ু থেকে কিছু কিছু কেমিক্যাল নিঃসৃত হয়। এগুলো ব্যথার জন্য দায়ী। আবার সংকোচন বাড়ানোর জন্য দেহ প্রোস্টাগ্গ্নান্ডিন নিঃসরণ করে। এটিও ব্যথা বাড়ায়। এটি কিন্তু স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাই মাসিকের সময় ব্যথা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যথা চরম আকার ধারণ করে।

 ডিসমেনোরিয়া বা মাসিককালীন ব্যথা দু'প্রকার। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়াতে জরায়ুতে কোনো রোগ থাকে না। মাসিক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা শুরু হয়। ২-৩ দিন ব্যথা থাকে। বেশিরভাগ মেয়েই এ ধরনের ব্যথায় ভোগেন। জীবনের প্রথম মাসিকের সময় থেকেই এ ব্যথা শুরু হয়। সেকেন্ডারি ডিসমেনোরিয়া সাধারণত সন্তান জন্মদানের পর মেয়েদের প্রজননতন্ত্রে ইনফেকশনের কারণে দেখা যায়। এ ছাড়াও ফাইব্রয়েড, অ্যান্ডোমেট্রিওসিস, অ্যাডেনোমায়োসিসও হতে পারে সেকেন্ডারি মাসিককালীন ব্যথা। এ ক্ষেত্রে মাসিকের আগে ও পুরো মাসিকের সময়জুড়ে ব্যথা থাকে। মাসিকের পর ধীরে ধীরে ব্যথা কমতে থাকে। সাধারণত প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়ায় আক্রান্তদের তেমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে না। সেকেন্ডারিতে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় করার জন্য হাই ভ্যাজাইনাল সোয়াব সিএস, সারভাইক্যাল সোয়াব, ইউরিন কালচার, আলট্রাসনোগ্রামের প্রয়োজন পড়ে।
 

চিকিৎসা :  প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সন্তান ধারণ করলে এ ব্যথা আপনাআপনি ভালো হয়ে যায়। ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত, তারা প্রতি সাইকেলে ব্যথা হলে ব্যথানাশক এনএসআইডি যেমন আইবুপ্রোফেন সেবন করলে ভালো ফল পাবেন। এ ছাড়াও ৩-৪ সাইকেল ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল সেবন করে এ সমস্যা মুক্ত হওয়া সম্ভব। ওজন বেশি থাকলে তা কমাতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে। ধূমপান বা মদপানের অভ্যাস থাকলে পরিত্যাগ করতে হবে। সেকেন্ডারি ক্ষেত্রে কোন কারণে মাসিকের সময় ব্যথা হচ্ছে, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে।